ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বেশ কিছুদিন পরপর দেশে সংবর্ধনার আয়োজন চলছে। এ সংবর্ধনা কারা দিচ্ছে? কেন দিচ্ছে? রাস্তায় রং বেরংয়ের ব্যনার, ফেস্টুনে সয়লাব। এসব দেখে বোঝার উপায় নাই দেশের মানুষের অভাব আছে। কিসের জন্য এত অর্থ ব্যয়? একবার মনে হলো এই অনুষ্ঠানে জননেত্রী যাবেন না, কিন্তু কিসের বিশ্বাস। উনিতো গেলেনই, গদগদ হয়ে খুশিতে অনেক কিছুই বলে ফেললেন।
অদ্ভুত এক উটের পিঠে চলছে দেশ, এটা সবার কাছে বোধগম্য। সম্ভবত কট্টর আওয়ামী পন্থিরা টের পাননা অথবা টের পেলেও আপাকে খুশি করার জন্য ওনাদের নেতৃত্ব পর্যায়ের ব্যক্তিরা একটা কিছু বলে দেন। গোজামিল দিয়ে ছাত্র পরানোর মতো। গোজামিল দিয়ে ছাত্র পরানোর গল্পটা কারো জানার কথা নয়, আমার নানা বাড়ির সম্পর্কিত এক মামা বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা চলে আসেন। ঢাকা এসে উনি কোনো কাজ খুজে না পেয়ে ছাত্র পড়ান আরম্ভ করেন, সেখানেও বিপত্তি। উনি সাধারন পড়া লেখায় এস,এস,সি পাস কিন্তু পড়াতে হবে আরবী, আরবী পড়ান সম্ভব না। তবুও থামা চলবে না, নতুন আইডিয়া বের করলেন মামা তার ছাত্রের সাথে চুক্তি করলেন যে আমি সুরা ঠিকই শেখাবো কিন্তু আরবি পড়াতে পারবো না কিন্তু সেটা তোমার বাবাকে বলতে পারবেনা। সেটা না বলার জন্য তোমাকে আমার বেতনের অর্ধাংশ দেব। এভাবেই চললো বেশ কিছুদিন কিন্তু সেটা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

মহান নেত্রী ইদানিং সভা সমাবেশে বলেন আমরা আপনাদের যে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, পরেরবার আবার ক্ষমতায় আসলে তা আরো ত্বরান্বিত হবে। উনি আবার সুযোগ পেলেই অপর নেত্রীর গিবৎ করতে শুরু করেন। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা।ওনাদের সব বক্তব্যে বর্নিত হয় উন্নয়নের জয়ের কল্পকথা। ওনারা আবার অন্য কারো ব্যক্তিগত সফলতা সহ্য করতে পারেন না। আমাদের দেশের জন্য ড. ইউনুস, ড.আবেদ, মতিউর রহমান সহ অন্যান্য মহামানব যারা বিরল সম্মান বয়ে এনেছে তারা সবাই ওনাদের ক্রোধের বিষয় বস্তুতে পরিনত হয়েছেন, এ তালিকা থেকে বাদ যায়নি আমাদের সোনার ছেলে ক্রিকেটার সাকিব আল-হাসানও। ওনারা এই তরুনের মূল্যায়নও করতে পারেনি, তবে মূল্যায়ন করতে পারে আওয়ামীলীগের সোনার ছেলেদের।

সম্প্রতিক সময়ে ড. ইউনুস সাহেব কে নিয়ে যা বলছেন তা জাতির জন্য শুধুই দু:খজনক না ওনারা জাতিকে কলংকিতও করেছে। ওনাদের কথায় এটা পরিষ্কার কিভাবে ওনাদের নেত্রী এতসব আন্তর্যাতিক পুরস্কার পেয়েছেন।

আমাদের সমস্যা এত বেশি যে দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গিয়েছে, কেউ যে ঘার তুলে কিছু বলবে এমন অবস্থা নেই, কথার একটু এদিক ওদিক হলেই মামলা হবে বা কোর্টে তলব করবে। ওনারা সামনে আবার ক্ষমতায় এলে তো আমাদের পিঁপড়ার মত পিষে মারবে। উনারা আমাদের বারবার বিভ্রান্ত করছে । চারিদিকে গন বিস্ফোরন ঘটতে শুরু করেছে, সেটা মনে হয় ওনারা টের পাননা।

আমরা প্রতিনিয়ত শংকায় থাকি কখন কি ঘটে আবার প্রতি নিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, ক্রস ফায়ার, খুন, ধর্ষন,গুম ইত্যাদি অনেক কিছু। আশংকায় থাকি কখন দুদল আবার নতুন সংঘাতে জড়ায়, কখন আবার কে গুম হয় কখন আবার বিরোধী দল হরতালের ডাক দেন।এতে জন জীবন অসহায় হয়ে পরবে, তাতে কার কি?
সাধারন মানুষের ইচ্ছেয় কি দেশ চলে?

দেশের মানুষ এক ভয়াভহ অবস্থার মধ্যে অবস্থান করছে, এক কথায় দেশ নৈরাজ্যকর ও অস্থিতিশীল অবস্থায়, এমন অবস্থার জন্য কে বা কারা দায়ী ? এই পরিস্থিতির জন্য কে বা কারা দায়ী এটা সম্ভবত কারো অজানা নয়, কিন্তু এই এমন পরিস্থিতির মধ্যে এক জন দেশ প্রধানের বারবার গণসংবর্ধনা নেয়া কতটুকু যুক্তি যুক্ত বলে মনে করেন?
দেশে আগুন জলছে অন্য দিকে উৎসব হচ্ছে…

ইতিপূর্বে একাধিকবার এই গনসংবর্ধনা দেয়া হয়েছে, যাতে সাধারনের কোনো সম্পৃক্ততা ছিলনা, দেশে এক দিকে জ্বলছে অন্য দিকে বারবার গনসংবর্ধনা বিষয়টা এমন রোম যখন আগুনে পুড়ছে নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছে।