ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে যে কোন দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিজেকে বিকশিত করার প্রয়াসে একজন শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পরে স্বপ্নে বিভোর থাকে একটি মান সম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার জন্যে।

বাংলাদেশে স্বীকৃত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৩৪টি। এই ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় রাতারাতি গড়ে উঠেনি। শুরু হয়েছিল সেই উপনিবেশিক ব্রিটিশ জাঁতাকলের সময় থেকে আর সর্বশেষটি হয় গতবছর। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু এবং এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ২০১১ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। মাঝখানে বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বয়ে গেছে ৯০টি বছর। এরই মাঝে ১৯৯২ সালের ২১ অক্টোবর মহান জাতীয় সংসদে একটি আইন (১৯৯২ সনের ৩৭ নং আইন) পাসের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে দেশের বিভিন্ন কলেজগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও সমমানের বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করত। শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষে বহু আশা নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। পেরিয়ে গেল ২০ টি বছর। কিন্তু সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি আজও বিশ্ববিদ্যালয় নামক অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠ। এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৮০ শতাংশ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান। সারাদেশের কলেজ শিক্ষার (স্নাতক,স্নাতকোত্তর ও প্রফেশনাল ডিগ্রী পর্যায়ে) মানোন্নয়নে, কারিকুলাম ও সিলেবাস প্রবর্তন,মূল্যায়ন ও পরিমার্জন, অধিভুক্তি প্রদান ও বাতিল,কলেজশিক্ষকদের চাকুরিকালীন বুনিয়াদি ও গবেষামূলক প্রশিক্ষণ এবং এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রী প্রদান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার পরিবেশ উন্নয়ন ও মান পর্যালোচনা, শিক্ষক নিয়োগে প্রতিনিধিত্ব,বিভিন্ন অপরাধ ও দুর্নীতির তদন্ত,শিক্ষার্থী ভর্তি,পরীক্ষা গ্রহণ ও ফলাফল প্রকাশ এই বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম গুরুদায়িত্ব।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনস্বল্পতা,বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্রাতিরিক্ত টিউশন ফি এবং প্রত্যাশিত পরিবেশ ও গুণগত মানের অনিশ্চয়তা,বেশিরভাগ মানুষের আর্থিক অস্বচ্ছলতা প্রভৃতি নানাবিধ কারণে গত প্রায় দুই দশকে স্বল্প এবং মধ্য আয়ের অধিকাংশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর কাছে একমাত্র এবং অনেকের কাছে এটি শেষ ভরসাস্থল হিসেবে উচ্চশিক্ষার জন্য নির্ভরতার স্থান হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতি পেয়ে আসছে।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবেই তারকাক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। কারন হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অগ্রগতি না হওয়া,ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, শিক্ষক স্বল্পতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সর্বোপরি সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের হয় সদিচ্ছার অভাব বা অবহেলা কিংবা অযোগ্যতার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই নানান অসুবিধা জর্জরিত অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে আছে। অতিরিক্ত ভার গ্রহণের ফলে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশেও ঘটছে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব,ফলে আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে সেশনজট নামক ভয়াবহ রোগের অযাচিত টেনশন আর অভিভাবক তথা জাতিকে গুনতে হচ্ছে অমানিশা অতিক্রমের অসীম ধৈর্যের প্রহর- কবে ক্লাস শুরু হবে, কবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, কবেইবা তার ফলপ্রকাশ হবে – এসব ব্যাপার এখন রীতিমতো দুর্লভ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধীর অপেক্ষা ছাড়া যেন কারোরই কিছু করার নেই! জাতীয়বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট প্রসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি চলছে,কিন্তু সেশনজট এমনভাবে প্রকট হয়েছে যে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো লক্ষণ মনে হচ্ছে নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষারত শিক্ষার্থীরা কখন তাঁদের শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারবেন,এর কোনো নিশ্চয়তাও নেই,একটা অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে আমরা ঘুরপাক খাচ্ছি। উদাহরন হিসেবে বলা যেতে পারে, আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রথম বর্ষ সম্মান (২০১০) পরীক্ষা ২০১১ এর আগস্টে হবার কথা ছিল যা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়েছিল। ২০১২ সালে আমরা ২য় বর্ষে উঠেছি, যেখানে ২০১২ সালের মে মাসে ও ফলাফল পাই নি অথচ আমাদের সাথে ২০০৯-২০১০ সেশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা এই সময়ে ৩য় বর্ষের মিডটার্ম পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।কিংবা বলা যেতে পারে ২০০৭-২০০৮ সেশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০১২ সালের জানুয়ারিতে সম্মান শ্রেনীর ফলাফল পেয়েছে যেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন ৩য় বর্ষের পরীক্ষাই দিতে পারেনি কবে পারবে তার ঠিক নেই। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সুব্যবস্থা করেছেন। জেএসসি ওপিএসসি পরীক্ষার মতো উন্নতমানের পরীক্ষা পদ্ধতিও চালু করেছেন। শুধু পারেন নি আমাদের মত অভাগা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময়ের অপচয় রোধ করতে। অথচ ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ গেজেটের ৩৭ নম্বর আইন অনুসারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ই সৃষ্টি হয়েছে সমস্যা সমাধানের জন্য। ২০১১ সালের একটি পত্রিকার একটি প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমানত জমা আছে ২৬০ কোটি টাকা। কর্মকর্তারা এটাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতির বদলে নিজেদের উন্নতিতে ব্যস্ত। আশ্চর্যের বিষয় হল, ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি(২৬ জানুয়ারি,২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির সেশনজট ও পরীক্ষার ফল বিলম্বে প্রকাশের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত কমিটি) সেশনজটের একটা কারণ বের করেছে প্রশ্ন ছাপানো নিয়ে। বিভিন্ন পাবলিক ও পিএসসির পরীক্ষার কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় ছাপাখানায় (বিজি প্রেস) নিজেদের সুবিধামতো সময়ে প্রশ্ন ছাপাতে পারে না। বিষয়টা হাস্যকর হলেও চরম সত্য। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলে সরকারি ছাপাখানায় সিরিয়াল ধরে তার লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের সেশনজটে ফেলতে হবে কেন? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১২ লাখ (প্রায়) শিক্ষার্থীর জন্য নিজস্ব ছাপাখানা কেন স্থাপন করছে না তা সতিই প্রশ্নবিদ্ধ। তাহলে কি প্রশাসন ইচ্ছে করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করে রাখছে ? তা না হলে কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০ বছর অবধি এ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না ? বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ফান্ড আছে তা দিয়েই ছাপাখানা করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন সময়মতো প্রশ্ন ছাপানো হবে, অন্য দিকে সরকারি ছাপাখানার ওপর চাপও কমবে। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানে নিজস্ব ছাপাখানা রয়েছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিশ বছর পর আজও আমাদের কেন বিজি প্রেস এ হাত পাততে হবে? কিংবা কেন মুষ্টিমেয় শিক্ষকদের হাতে আমাদের নাজেহাল হয়ে থাকতে হবে যারা পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের নামে মাসের পর মাস অবহেলায় ফেলে রাখে, কেন এ সকল শিক্ষকদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না? আমাদের শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের বদৌলতে শিক্ষাক্ষেত্রে অনেকটা অগ্রগতি সাধিত,তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে সেশনজটে আবদ্ধ রেখে আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে কতটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, তাভেবে দেখার সময় এসেছে। যেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ছয় মাসে ও ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে না সেখানে দেশের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৭ দিনে ফলাফল প্রকাশ করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় চলছে চরম শিক্ষকসংকট। শিক্ষার্থী অনুপাতে যে সংখ্যক শিক্ষক থাকার কথা, এসব কলেজে আছে তার চেয়ে অনেক কম। ফলে বেশির ভাগ কলেজই বাইরে থেকেঅতিথি শিক্ষক এনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে।জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ (প্রায়)এর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৬ হাজার ৭৯৫ জন। ঢাকা কলেজ রয়েছে ২৫ হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র ২৩৫ জন শিক্ষক, অন্য দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩১১২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১৮০৫ জন শিক্ষক, সত্যিই এক আজব ব্যাপার ! একটি সারনীর মাধ্যমে কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ভুক্ত কলেজ শিক্ষক-ছাত্র বৈষম্য তুলনা করা যেতে পারেঃ-


তথ্য সূত্রঃ- বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট,সংবাদ মাধ্যম, ব্লগ সাইট

উপরের সারনী থেকে নিশ্চয়ই প্রতিয়মান হয় যে আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কতটা অবহেলিত।

২০১১-১২অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা করলেও দেখতে পাই আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কতটা অবহেলিত। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটঃ-


তথ্য সূত্রঃ-সংবাদ মাধ্যম

৩৩১১২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২৭৭ কোটি ২৯ লাখ কিংবা ২০০০০জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৪৮ কোটি ৫০ লাখ অথবা ১১৩৯৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৮৩ কোটি ২৯ লাখ এর বিপরীতে নিশ্চয় ১২০০০০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য প্রদত্ত ১৮০ কোটি ১৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নিশ্চয়ই একটি রুগ্ন সংখ্যা। তারপরও কি কেউ বলবে আমরা অবহেলিত নই।

সবচেয়ে দুঃখজনক ও বিস্ময়কর ঘটনা হলো – প্রতিষ্ঠার প্রায় বিশ বছর পার করলেও আজ পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেনি। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কাছে সমাবর্তন হল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। প্রথা অনুযায়ী সারা দুনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাফল্যের সাথে লেখাপড়া সমাপ্ত-করা শিক্ষার্থীদেরকে সনদপত্র প্রদান করা হয়,দেওয়া হয় বিশেষসম্মাননা ও ডিগ্রী। এসব বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের মত আমাদের দেশেও বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে প্রতিবছর আয়োজন করে আসছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থীকে উচ্চতর ডিগ্রী প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন আজ অবধি একটিও সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারেনি – তা আমাদের মনে রীতিমতো একটি বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্নের সৃষ্টি করে আছে। আজ পর্যন্ত লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক,স্নাতকোত্তর ও সমমান কিংবা উচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রী অর্জনকরেছে যাদের অনেকে দেশে-বিদেশে নানান স্তরের কর্মক্ষেত্রেও প্রবেশ করেছে। কিন্তু তারা কেউই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের অর্জিত ডিগ্রীর সনদ ও সম্মাননা গ্রহণ করতে পারেনি।এই সমস্যার সমাধানকল্পে হয়ত পিএইচডি ডিগ্রী চালু করা যেতে পারে যার কাজ হবে গবেষণা করে সমাধান বের করা!! কাজেই, এ ধরনের সুযোগ থেকে আমাদের বঞ্চিত না করে এবং আর কোনো কাল ক্ষেপণ না করে অনতিবিলম্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে, ক্রমান্বয়ে তাদের অর্জিত ডিগ্রীর সনদপত্র প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।আর, এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে,সমাবর্তন বক্তৃতা প্রদানের জন্য পৃথিবীখ্যাত ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। তাদের অংশগ্রহণের খবর মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও সুনাম সম্প্রসারিত হবে অবধারিতভাবে। এছাড়া এরকম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরের প্রথিতযশা ব্যক্তিদেরকে বিশেষ সম্মাননা ও সম্মানসূচক ডিগ্রী প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার গ্রহণযোগ্যতা ও উপযোগিতার জায়গাটি প্রসারিত করতে পারে সুনিশ্চিতভাবে। দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের সম্মাননা প্রদান কিংবা সংবর্ধনা প্রদানের আয়োজন করছে নির্দ্বিধায় বলা চলে তাদের কাক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে অর্থ্যাৎ সুনামও অর্জন করছে।

আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্ন দ্বারা পরীক্ষা দিতে বাধ্য উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ২০০৫-২০০৬ শিক্ষা সেশনের গণিত চতুর্থ বর্ষের গনিত(ডিসক্রিট ম্যাথম্যাটিকস) পরীক্ষা, আন্দোলন করেও কোন ফয়দা পাওয়া যায় না যা একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কল্পনা করাও সম্ভব নয়। তারা তাদের দাবিগুলো আদায় করে নেয়, কিন্তু আমাদের কোন দাবি কার্যকর হয়েছে বলে শুনি নাই। তাদের কোন আন্দোলন যেখানে ফলাও করে মিডিয়া গুলোতে সম্প্রচার করা হয়, সেখানে আমাদের শত কান্নাও কারো দৃষ্টিগোচর হয় না। আমাদের কান্নাগুলো আমাদেরকেই পরিহাস করে, এই কান্নাগুলো সমাজের নীতি নির্ধারকদের কানে না পৌঁছে আমাদের কাছেই প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসে। যার ভাগিদার শুধু আমরাই, অন্য কেউ আসেনা ভাগ করে নিতে।

সর্বশেষ বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়, পরীক্ষার মান উন্নয়নের মান নির্ধারনে, আমরা যেখানে ৪৫ মার্কসের উপরে পেলে মান উন্নয়ন পরীক্ষা দিতে পারব না, সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে এই মার্কস এর সংখ্যা ৫৫ বা ৬০;আমরা যেখানে “D” গ্রেড(২.২৫) নিয়ে সম্মান শ্রেণীতে পাস করব সেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী “B-” (২.৭৫) কিংবা “B” (৩.০০) নিয়ে বের হবে। কেন এই বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে? একটা সময় হয়ত আমরা চাকরির বাজার হতে ছিটকে পরব, তখন হয়ত কিছুই করার থাকবে না।

সমস্যার কথা বলে হয়ত শেষ করা যাবে না,কিন্তু আদৌ কি এই ১২ লাখ শিক্ষার্থীর কান্না নীতি নির্ধারকদের কর্ণ গহ্বরে কোহরে পৌঁছাবে। আমরা সংখ্যা গরিষ্ঠ বার লাখ শিক্ষার্থী কেন অবহেলায় পড়ে থাকব?

পুনশ্চ- গত ২১-০৩-২০১২ তারিখ ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বাংলা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সোরয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজের হাজার খানেক ছাত্র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও প্রেস ক্লাবে মানব বন্ধন করেছিলাম সেশনজট দূর করার জন্য। মিডিয়া কভারেজের বদৌলতে নিশ্চয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের উক্ত মানব বন্ধনটি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কিন্তু আজও আমরা কোন কার্যকরী পদক্ষেপ দেখতে পাই নাই।দেখা যাক এবার আমরা কি পাই, অবহেলা নাকি অন্যকিছু ?