ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

শান্তিপ্রিয় বাঙ্গালী জাতি আজ চরম অশান্ত হয়ে উঠেছে। কারো মনে শান্তির ছিটে-ফোঁটাও নেই। সর্বদা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস। বাইরে বের হলে কেউ আবার বাসায় ফিরতে পারবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। যেকোন মূহুর্তে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে কোন ঘাতক যানবাহন, কোন ছিনতাইকারী, কোন সন্ত্রাসী অথবা আইনপ্রয়োগকারী কোন সংস্থার ক্রসফায়ার। আবার বাসায় ঢুকে কোন সন্ত্রাসী বা ডাকাত সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে প্রাণ বায়ুটাও কেড়ে নেবেনা বা অপহৃত হওয়ার পর লাশ হয়ে ফিরে আসবেনা, তারও কোন নিশ্চয়তা নেই। সর্বদা এরকম মৃত্যু আতঙ্কে থেকে জীবনের চাকা সচল রাখা কতটা কঠিন, তা বোধ করি আর বলার প্রয়াশ রাখেনা। তাহলে, কিভাবে সচল থাকবে অর্থনীতির চাকা? সহসাই মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি। দেশের অবস্থান আজ কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? এমন অবস্থার জন্য দায়ী কারা। ব্যার্থতার দায়ভার বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত কেউ নিয়েছেন এইরকম নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে নাই। এখানে সব সময়ই ক্ষমতাসীনরা সফল আর সমস্ত দায়ভার বিগত সরকারের। আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি আর জনগনের চরম অশান্তির মধ্যেও প্রতিনিয়তই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় ঝাঁঝালো বক্তৃতা দিয়ে বেকুব জনগণকে বুঝ দিয়ে চলেছেন, দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে ভাল। আর নিভৃতে জনগণকে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতকিছুর পরও গাধার মতো শান্ত এই বাঙ্গালী জাতি নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্ত এবার আর নীরব থাকতে পারল না যখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি লক্ষীপুরের ৫ খুনের মামলার আসামী বিপ্লবকে (যার পরিবারের সবাই খুনের মামলার আসামী এবং যার পিতা তাহেরের রয়েছে লক্ষীপুরের গডফাদার হিসাবে বিশেষ খ্যাতি) আগপিছ চিন্তা না করে শুধু দলীয় বিবেচনায় ক্ষমা করে দিয়ে কলঙ্কিত রাষ্ট্রপতির খাতায় নাম লেখালেন। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি। ক্ষমা তিনি করতেই পারেন, কিন্তু কে ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য, সেটি যখন উনার বিচার করার ক্ষমতা থাকে না, তখনই জাতির বিবেক কেঁদে উঠে।

দলীয় বিবেচনায় অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে খুনের মামলাসহ ঘোষিত শীর্ষ-সন্ত্রাসীদের মামলাও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। দলীয় সরকার দলের জন্য এটা করলেও জাতি সেখানে নিশ্চুপ, কিন্তু রাষ্ট্রপতি একি করলেন? এখানেই জাতি নির্বাক। সেই অভাগা নুরুল ইসলামের স্ত্রী মিডিয়ায় প্রশ্ন রেখেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে, তিনি কি উনার স্ত্রীর খুনিদেরও ক্ষমা করে দেবেন? এটা শুধু নুরুল ইসলামের স্ত্রীর প্রশ্ন নয়, এটা আজ বাঙ্গালী জাতিরও প্রশ্ন। তা যদি তিনি পারেন তাহলে জাতি হিসাবে আমরা মহানুভব রাষ্ট্রপতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখব। তাহলে ২১ আগষ্ট নিয়ে এত বাড়াবাড়ির হাত থেকেও জাতি রেহাই পাবে। নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও একটি প্রশ্ন রেখেছেন- তিনি যদি উনার পিতৃহত্যার বিচার চাইতে পারেন, যে বিচার ইতোমধ্যে তিনি পেয়েও গেছেন, তাহলে আমার সন্তান কেন তাদের পিতৃ হত্যার বিচার থেকে বঞ্চিত হল? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি সর্বদাই বলে আসছেন জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিলাম। এই ক্ষেত্রে আপনি কি জবাব দেবেন? এটা কি জনগণের ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার নজির? নাকি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কোন ফর্মুলা? তাই যদি হয় তাহলে এই জাতির কিছু বলার নেই।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমরা বুঝতে পারি আপনাকে এই কাজটি করতে হয়েছে। না করে আপনার উপায় ছিলনা। এইক্ষণে প্রাক্তন মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবউদ্দিনের একটি মন্তব্য মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন- “এই দেশে ফাইলে স্বাক্ষর করা আর মাজার জিয়ারত করা ছাড়া রাষ্ট্রপতির কোন কাজ নাই।” মহামান্য রাষ্ট্রপতি আপনি তো সেটাই প্রমাণ করে দিলেন। তবে আপনার মতো এমন একজন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, এমন একজন জাতীয় নেতা, এই রকম মেরুদণ্ডহীন একটি পদে না থাকলেই কি নয়? জীবণের ক্রান্তিলগ্নে এসে এমন একটি কাজ করে কলঙ্কিত রাষ্ট্রপতির খাতায় নামটি না লেখালে কি হতো না?

বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত খুনের মামলাসহ প্রায় ৭৬ হাজার মামলা দলীয় বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় এযাবৎ অসংখ্য খুনি-সন্ত্রাসী ছাড়া পেয়ে আজ তারা আনন্দ উল্লাসে মত্ত। ধরাকে সরা জ্ঞান করতে তারা স্বীকৃতি পেয়ে গেছে। তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার লাইসেন্স পেয়ে গেছে। তাহলে কিভাবে দেশ থেকে সন্ত্রাস নির্মূলের আশা করা যায়? কিভাবে ইভ টিজিং এর হাত থেকে আমাদের মা-বোনেরা নিষ্কৃতি পাওয়ার আশা করবে? কিভাবে সাধারণ জনগণ জীবনের নিরাপত্তা আশা করবে? কোথায় তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আশা করা যায়? সরকার কি সারা দেশে খুনিদের এভাবে লাইসেন্স দিয়ে দেশটাকে খুনিদের অভয়ারণ্যে পরিণত করছেন না?