ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

নাস্তিক মতবাদ-মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী ধরাশায়ী! ধর্মের কাছে অধর্মের পরাজয়! “রোজা সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক”
অতি সম্প্রতি বিডিনিউজ২৪ ব্লগে রোজাকে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও ক্ষতিকর হিসাবে আখ্যায়িত করে মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী নামক জনৈক ব্যাক্তি সবাইকে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। লিংক
তিনি এই লেখার মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনেন। আমি ইতোপূর্বে এক লেখার মাধ্যমে তাকে এই কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করি। লিংক

কিন্তু তিনি তাতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নিজেকে আল্লাহর চেয়েও মহান ও অনুগ্রহশীল এবং জীবন দানকারী নাস্তিকের কাছে আল্লাহর পরাজয় উল্লেখ করে নিজেকে মহান আল্লাহর চেয়েও পরাক্রমশালী দাবী করেন। আর তাই কোন আলেম বা লেখক না হয়েও শুধু বিবেকের তাড়নায় সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে আমাকে আজ আবার লিখতে হল।

রমজান আরবী ক্যালেন্ডারের নবম মাস। এটি মুসলিম বিশ্বে সকল মুসলমানের জন্য পবিত্রতম মাস বলে পবিত্র কোরান-হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, এবং সকল মুসলিম জনগণ তা বিশ্বাস করেন। মুমিন মুসলমানগণ এই এক মাস মহান সৃষ্টি কর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাঁর নির্দেশে রোজা রাখে।

রমজানে পরিমিত সুষম খাবার খেলে ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে রমজান মাস ও অন্য মাসে খাবার গ্রহণের দিক থেকে খাদ্য ও পুষ্টি জনিত দৈহিক কোন পার্থক্য সৃষ্টি হয়না। রমজান মাসের এক মাস রোজা মানব দেহে স্পিরিচুয়াল ফোর্স, ফিজিক্যাল ষ্ট্র্যাংথ, সাইকোলোজিক্যাল স্ট্র্যাংথ এবং সামাজিক শৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটায়। তথ্য সূত্রঃ International Journal of Ramadan Fasting Research 1999.

মহাত্যা ডাঃ স্যামুয়্যাল হ্যানিম্যান স্পিরিচুয়াল ফোর্স বৃদ্ধিকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তাই রোজা রাখার ফলশ্রুতিতে প্রকৃত মুমিনগণ অতিরিক্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লাভ করে থাকেন। ফিজিক্যাল ষ্ট্র্যাংথ, সাইকোলোজিক্যাল স্ট্র্যাংথ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধিতে কি পরিবর্তন হয় সেটা আমরা সবাই বুঝি। সুতরাং ঈমানদারদের রোজা রাখা পুরোপুরী সাইন্টিফিক।

কোরআন হাদিস মোতাবেক রোজা রাখার বিধানে, কোথাও অতি ভোজনের উল্লেখ নাই। সর্ব ক্ষেত্রেই পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের কথা বলা হয়েছে। হযরত মুহম্মদ (সাঃ) অতিভোজনকে পছন্দ করতেন না। তিনি, আদম সন্তানকে পেটের তিনভাগের একভাগ খাবার, একভাগ পানীয় দিয়ে পূরণ করতে বলেছেন ও অপর ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখতে বলেছেন। আর বর্তমান মেডিক্যাল সাইন্সও সেই কথাই বলে। চলুন আমরা দেখি International Journal of Ramadan Fasting Research 1999. এর তথ্য অনুযায়ী রমজানে আমাদের খাদ্য কি রকম হওয়া উচিৎ।

হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর জীবন-চরিত ও সুন্নাহ মোতাবেক International Journal of Ramadan Fasting Research রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য এই খাদ্য তালিকা তৈরী করেন।
১। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রুটি, সিরিয়াল (কর্ণ ফ্যাক্স জাতীয় খাবার), ভাত, পেস্তা, বিস্কুট এবং ক্র্যাকার্স জাতীয় খাবার থাকতে হবে।
২। মাছ, মাংস পরিমাণ মতো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে।
৩। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে।
৪। পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে।
৫। পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলমূল প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে।
৬। পরিমাণ মতো চিনি ও চিনিজাত খাবার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে।
৭। পরিমাণ মতো তৈল ও চর্বি জাতীয় খাবার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে।

ইফতারঃ
তিনটি খেজুর
৪ আউন্স পরিমাণে জুস
১ কাপ ভ্যাজিটেবল স্যুপ (পেস্তা ও গ্রাহাম ক্র্যাকার্সসহ)

ইফতারের সময় জরুরী ভিত্তিতে শরীরে প্রত্যেকটি লিভিং সেল বিশেষ করে ব্রেইন এবং নার্ভ সেলে প্রয়োজনীয় শক্তি, পানি শূন্যতা ও গ্লুকোজ এর ঘাটতি পুরণের প্রয়োজন রয়েছে। খেজুর এবং জুসে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেই উপাদান রয়েছে যা গ্লুকোজের ঘাটতি পুরণে যথেষ্ট। জুস এবং স্যুপ পানি ও খনিজ পদার্থের শূন্যতা রোধ করতে সহায়তা করে। অপরিকল্পিত খাবার এবং অতিরিক্ত সরবত ও মিষ্টি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। সেজন্যই হযরত মুহম্মদ (সাঃ) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন তবে তার অর্থ এই নয় যে তিনি আর কোন কিছু খেতেন না।

রাতের খাবারঃ
রাতের খাবারের জন্য খাদ্য তালিকাকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে পরিমিত পরিমাণে খাদ্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে, যাতে করে সুষম খাদ্য থেকে শরীর বঞ্চিত না হয়।
১। মিট এন্ড বিন গ্রুপঃ মুরগীর মাংস, গরুর মাংস, খাসীর মাংস ভেড়ার মাংস এবং মাছ এই গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। যে কোন একটি ১ আউন্স পরিমাণে সাথে থাকবে গ্রীন পি, চিক পি, গ্রীন গ্রাম, ব্ল্যাক গ্রাম, লিমা বিন আধা কাপ অর্থাৎ আধা কাপ পরিমাণে আমাদের দেশীয় তরি-তরকারী হলেই চলবে। মাছ-মাংস-তরিতরকারী প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও প্রয়োজনীয় ভিটামিনের উৎস। বিন সুষম খাদ্যে আঁশযুক্ত খাবারের অন্যতম অংশ।
২। রুটি ও ক্যারেল গ্রুপঃ ২টি রুটি অথবা এক কাপ ভাত অথবা দুইটির মিশ্রন (ক্ষেত্র বিশেষে পরিমাণ কমবেশি হতে পারে)। এগুলো কার্বোহাড্রেড, প্রোটিন, খনিজ পদার্থ ও শক্তির উৎস এবং আঁশযুক্ত খাবার যা সুষম খাদ্যের অন্তর্গত।
৩। মিল্ক গ্রুপঃ দুধ বা বাটার-মিল্ক (চিনি ছাড়া লাচ্চি), দই, মাখন ১ কাপ। যাদের দুধ হজমে সমস্যা রয়েছে তারা দই খাবেন। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার প্রোটি ও ক্যালশিয়ামের প্রধান উৎস যা শরীরে টিস্যুর কার্যকারিতায় এবং ফিজিওরোজিক্যাল ফাংশনে ভুমিকা রাখে।
৪। ভেজিট্যাবল গ্রুপঃ মিক্সড ভেজিট্যাবল সালাদ ১ কাপ (লেট্টুস, গাজর, শশা, ব্রুকোলী, পার্সেলী, কলিফ্লাওয়ার অথবা অন্যান্য সবজি পরিমাণ মতো হতে পারে), পরিমাণ মতো তেল ও ভিনেগার দিয়ে রান্না করা পর্যাপ্ত পরিমাণে শাক-সবজি খেতে হবে। শাক-সবজি আঁশযুক্ত খাবার, ভিটামিন এ, কেরোটিন, লাইকোপিনেজ এবং অন্যান্য ফাইটোকেমিক্যাল যা এন্টি-আক্সিড্যান্ট এর প্রধান উৎস। এগুলো ক্যান্সার, কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ এবং অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৫। ফ্রুট গ্রুপঃ ১/২ টি সবুজ ফল অথবা অন্য কোন ফল। খাবারের শেষ আইটেম হিসাবে ফল খাওয়া যায় অথবা খাওয়ার পরপরই। তাহলে খাদ্য হজম প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে এবং তা গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল সমস্যা প্রতিরোধ করে। সবুজ ফলে প্রচুর বিটামিন সি রয়েছে। ফল আঁশযুক্ত আদর্শ খাবারের প্রধান উৎস।
ফল ও কিছু স্নেক্স জাতীয় খাবার তারাবীর নামাজের পর বা ঘুমানোর পূর্বেও খাওয়া যেতে পারে।

সেহেরীঃ
সেহেরীতে ভুরি ভোজ একেবারেই অনুচিৎ। শারীরিক চাহিদা পরিমাণে রুটি বা ভাত, মাছ, শাক-সবজি, দুধ অথবা দই, এবং শেষ আইটেম হিসাবে সালাদ বা ফল খাওয়া যেতে পারে। তবে মাংস খাওয়া উচিৎ নয়।

মহান আল্লাহ মুমিনদের বেশি পছন্দ করেন, তা আর বলার প্রয়াস রাখেনা। মুমিন কারা? যারা সারা বছর ইবাদতের ধারে কাছে আসেনা, রমজানে মসজিদে হুমড়ি খেয়ে পড়ে, তারা? নিশ্চই নয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে ওরা ইবাদত করবে না। অবশ্যই করবে, তবে এই করাটা যেন রমজানের পরে থেমে না যায়। মুমিনদের ধৈর্য্য শক্তি এবং মানসিক শক্তি অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি। তাই রমজানে সারাদিন অভুক্ত থেকে একমাত্র মুমিন বান্দাগন ছাড়া অন্য কেউ অতিরিক্ত এবং আবোল তাবোল খাবারের লোভ সামলাতে পারেন না। তাই তারা অখাদ্য খেয়ে ক্ষেত্র বিশেষে অসুস্থ্ হয়ে পড়েন। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগান কিছু মানুষরূপী শয়তান। রোজার ক্ষতিকারক দিকগুলো প্রচার করে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। রমজান এলেই যে ধরণের খাবারগুলো এক্সট্রাভাবে আমাদের দেশে তৈরী হয়, সেগুলো মোটেই স্বাস্থ্য সম্মত নয়। আর অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে যে কেউ অসুস্থ হবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে একটা পরীক্ষা করে দেখবেন- রমজানে যে খাবার গুলো একমাস ধরে খাওয়া হয় ঐ খাবার গুলো যদি রমজান মাস বাদে অন্য কোন মাসে খাওয়া হয় তাহলে ঐ ব্যাক্তি কি হারে অসুস্থ্ হয়। তাহলে এই বিষয়টি কি রমজানের রহমতকে প্রস্ফুটিত করেনা? রমজান আসলেই কিছু লোক ব্যবসায় অধিক মূনাফার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ইফতারী আইটেম হিসাবে যে সকল খাবার তৈরী করে সেগুলো মোটেই স্বাস্থ্য সম্মত নয়। মেডিক্যাল সাইন্স এই আইটেম গুলো সাপোর্ট করেনা। আর কোরআন হাদিসের কোথাও এই ধরণের খাবার রোজায় খেতে হবে, এমন কোন দলিল নেই।

রোজা ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি। অর্থাৎ রোজা রাখা মুসলমানদের জন্য ফরজ। তবে সকল মুসলমানদের জন্য ফরজ নয়। কোরআন-হাদিস এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে ১২ বছরের নীচে কোন ছেলে-মেয়ে, কোন অসুস্থ্য ব্যাক্তি (অনিরাময় যোগ্য কোন রোগ যেমন- HIV, ক্রণিক ডিজিজ যেমন- ডায়াবেটিস, COPD(ক্রনিক রেসপিরেটরী ডিজিজ, এম্পায়েসিমা, হাঁপানী, ব্রঙ্কাইটিস) কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ, ক্রনিক কিডনী ডিজিজ) এবং বয়স্কব্যাক্তির রোজা পালন আবশ্যকীয় নয়। আর মহিলাদের ঋতু চলাকালীন সময়ে, গর্ভবতি এবং মাতৃত্বকালীন সময়ের জন্য রয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। রোজা রাখা অবস্থায় কোন পানাহার রোজা ভঙ্গ করে, তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্লাড টেষ্ট, প্রয়োজনীয় ইনজেক্‌শন যা খাদ্যের পরিপূরক নয়, চোখের ড্রপ রোজা ভঙ্গ করেনা। ইসলামী শরিয়া মোতাবেক প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ইনসুলিন গ্রহন রোজা ভঙ্গ করেনা। তবে ট্যাবলেট ভক্ষণে রোজা ভঙ্গ হয়। আরেক ক্ষেত্রে ইনহেলার ব্যাবহারকে কোন কোন আলেম রোজা ভঙ্গের কারণ হিসাবে আখ্যায়িত করলেও অনেক আলেমগণই বর্তমানে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ইনহ্যালার ব্যবহারকে রোজা ভঙ্গের কারণ থেকে বাদ দিয়েছেন। লিংক

সম্প্রতি রোজা রাখার উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে বহু মতবেদ তৈরী হয়েছে। তবে রোজার উপকারিতার পরিবর্তে অপকারিতার প্রচার কাজেই লিপ্ত রয়েছে মানুষরূপী শয়তানগুলো।
তাদের বক্তব্য-
মেডিক্যাল ফাস্টিং এবং ইসলামিক ফাস্টিং এক নয়ঃ
অবশ্যই এক নয়। ইসলামিক ফাস্টিং এর অণুকরণে মেডিক্যাল ফাস্টিং সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা যারা রোজা রাখতে সমর্থ নয় তাদের জন্য বিশেষ করে অমুসলিমদের জন্য। একজন অমুসলিমের পক্ষে কখনোই একজন মুসলিমের মতো রোজা রাখা সম্ভবপর নয়। কারণ- অমুসলিমের প্রতি আল্লাহর কোন রহমত নেই। মেডিক্যাল রিসার্চারগন অমুসলিমদেরকে ধুমপানের অভ্যাস ত্যাগ করানোর জন্য সর্ব প্রথম মেডিক্যাল ফাস্টিং এর প্রবর্তন করেন।

এটা মিথ্যে যে, অনেকেই তো রোজা করছেন, তাদের দেখা যাচ্ছে তারা সুস্থই আছেন, তাহলে রোজার আবার কুফল কী?
মুমিন রোজাদারদের কুফল ভোগ করার প্রশ্নই উঠেনা। আর যে কুফলের কথা বলা হয়- দিনের বেলা ফাস্টিং এর ক্ষতি, যা রাতের বেলা পূরণ হয়ে যায়। আর দীর্ঘ মেয়াদী কুফল সেটাতো যে কারোর ক্ষেত্রে যে কোন কারণেই হতে পারে।

মেডিক্যাল ফাস্টিং শরীরের জন্য বিশেষ বিশেষ কন্ডিশনে উপকারী কিন্তু ইসলামিক ফাস্টিং উপকারী নয়।
এটার উত্তর প্রথম প্রশ্নেই দেওয়া হয়ে গেছে। ইসলামিক ফাস্টিং শুধুমাত্র মুমিন বান্দাদের জন্য আর মেডিক্যাল ফাস্টিং অমুসলিমদের জন্য। আলাদা কন্ডিশনে আলাদা ফরমেটেই এই দুই ফাস্টিং এর সৃষ্টি।
রোজা করতে বয়োবৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদেরকে নিষেধ বা সতর্কতার সাথে রাখতে বলা হয় কেন ?

কোন বয়স্ক মুমিন মুসলিম গুণ পোকায় খাওয়া অসুস্থ রোগী এটা কোন মেডিক্যাল রিসার্চার প্রমাণ করতে পারেন নি। এই কন্ডিশনে সতর্কতার সাথে রোজা রাখার নির্দেশ এসেছে কোরআন-হাদিস থেকে। কারণ- প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া সুন্নত। চিকিৎসার স্বার্থেই এই সাবধানতা।

এবার আসুন আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞান দিয়ে বিচার বিশ্লেষন করে দেখি রোজার উপকারী এবং ক্ষতিকারক দিকগুলো।
প্রকৃত মুমিনগণ, যারা কোরআন হাদিসের আলোকে, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রমজান মাসে পুরু একমাস রোজা রাখেন, তারা নিম্নলিখিত উপকারগুলো পেয়ে থাকেন। কিন্ত যারা রমজান এলেই রোজার নামে অতিভোজন শুরু করেন, আবোল-তাবোল খাবার খেতে শুরু করেন, তারা মৃত্যুকে তড়াম্বিত করেন মাত্র। পবিত্র কোরআনেও এ সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ আছে- “যারা কোরআন হাদিস মোতাবেক রোজা পালন করল না তারা শুধু উপোসই করলো।”

রোজা ফ্যাট বা কোলেস্টেরল কমায়, এজিং প্রসেস ব্যহত করেঃ
রোজা শরীরের ডিটক্সিফিকেশন করে ও ইম্যুনিটি বৃদ্ধি করে
রোজা হজমতন্ত্রের এসিড নিঃসরণ কমায়
রোজা কিডনী স্টোন হওয়ার ঝুঁকি কমায়
নন ইনসুলিন ডিপেন্ডেন্ট ডায়াবেটিস কমায়
হার্ট আর্টারি প্রেশার এবং লিভার আর্টারি প্রেশার কমায়
হার্ট ডিজিজ, এজমা, আর্থরাইটিস, লুপাস , ডাইজেস্টিভ ডিজঅর্ডার

এগুলো কারোর মূখের কথা নয়। আধুনিক মেডিক্যাল সাইন্স ধারা প্রমাণিত। ১৯৯৪ সালে মরোক্কোর ক্যাসাবলাঙ্কায় আন্তর্জাতিক কন্ফারেন্স অনুষ্ঠিত হয় যেখানে সারা বিশ্ব থেকে বহু মুসলিম ও নন-মুসলিম মেডিক্যাল রিসার্চারগণ উপস্থিত হন। সেখানে ৫০টি রিসার্চ পেপার উপস্থাপন করা হয়। আর রমজানে রোজার এই বেনিফিটগুলোকে সমর্থন করা হয়।
লিংক দেখুনঃ

শুধু তাই নয়, জর্ডানের আম্মান ইউনিভারসিটি হসপিটালের ডাঃ সোলেমন ১৯৮৪ সালে রমজানের পুরু একমাস ১৫-৬৪ বছর বয়সের ৪২ জন পুরুষ এবং ১৬-২৮ বছর বয়সের ২৬ জন মহিলার মধ্যে পরীক্ষামূলক গবেষনা চালিয়ে এই উপকারিতা গুলোর প্রমাণ পান।
লিংক দেখুনঃ

সৌদি মেডিক্যাল জার্নালে একদল রিসার্চার ২০০৩ সালে গবেষনা করে এই উপকারিতার সত্যতা প্রমাণ করেছেন। লিংক দেখুন

আরো আছে, আমেরিকার ওয়েষ্ট ভার্জিনিয়া ইনিভারসিটি, বাংলাদেশের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও ঢাকার মহাখালীর ইনস্টিটউট অব পাবলিক হেল্থ এন্ড নিউট্রিশন যৌথ এক গবেষনায় এই বিষয়গুলোর সত্যতা প্রমাণ করেন।
লিংক দেখুনঃ

অথচ মানুষরূপী কিছু শয়তান এই সত্যগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য কিছু অবান্তর ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতি দিয়ে থাকে যে ওয়েবসাইটগুলোর আসলে কোন মেডিক্যাল ভিত্তি নেই। কোন মেডিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটউটের ওয়েবসাইটও এগুলো নয়। কোন মোনাফেক মনগড়া কিছু যুক্তি দিয়ে অবান্তর কিছু ওযেবসাইটের উদ্ধৃতি দিলেই মেডিক্যাল রিসার্চে প্রমাণিত সত্যটা মিথ্যে হয়ে যায়না।

ঐ শয়তানগুলো সাধারণ যে যে ক্ষতিকারক দিকগুলো প্রচার করে মুসলিম ভাইদেরকে বিভ্রান্ত করছে সেগুলো নিম্নরূপ-

রোজার ক্ষতিকারক দিক গুলো হচ্ছে-
** পানি শূন্যতা
পানি শূন্যতার কুফলগুলো নিম্নরূপ-
১) হৃদস্পন্দনের উচ্চহার
২) ক্লান্তি
৩) অস্থিরতাবোধ
৪) কিডনীতে পাথর
৫) বমিভাব
৬) ইউরিক অ্যাসিড আধিক্য এবং ক্লিয়ারেন্স না হওয়া
৭) গাউট
৮) হেমাটোক্রিট, সেরাম প্রোটিন, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিনের আধিক্য
৯) ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা
১০) গাঢ় হলুদ রঙের প্রস্রাব এবং ডিফিক্যাল্ট ইউরিনেশন ।

অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে উল্লেখ করা হয়-
১) ইরিটেবিলিটি এবং মুড সুইয়িং
২) উদ্বিগ্নতা এবং রেস্টলেসনেস
৩) বডি ও জয়েন্ট পেইন
৪) ইরেগুলার মেন্সট্রুয়েশন এবং স্পটিং
৫) সাইনাস প্রেশার এবং ন্যাজাল ডিসচার্জ
৬) ডায়রিয়া
৭) ডিপ্রেশন ও স্যাডনেস
৮) ঘেমে যাওয়া
৯) মাসল সোর
১০) ফ্লু লাইক সিন্ড্রোম
১১) মাথা ঘোরা ও মূর্ছা যাওয়া
১২) অ্যাবডোমিনাল ফুলনেস বা পেট ফাঁপা এবং ফ্ল্যাটুলেন্স বা পায়ুপথ দিয়ে অত্যাধিক বায়ু নিঃসরণ
১৩) বেলচিং
১৪) কোষ্ঠকাঠিন্য
১৫) কুইন্সিস
১৬) রেনাল ক্লিচ
১৭) স্পাইনাল পেইন
১৮) মাসল পেইন
১৯) ঠান্ডা জনিত সমস্যা
২০) গায়ে দুর্গন্ধ ( দিনের বেলায় গোসল না করা এবং পানিশূন্যতার কারণে) ।
(গোসল না করা কোন ইসলামী বিধান নয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ)

এগুলো আসলে কোন সমস্যাই নয়। এই সমস্যা শুধু রোজা রাখলেই হবে আর অন্য কারোর হবেনা এর কোন মেডিক্যাল ভিত্তি নাই। যে কারোরই এই সমস্যাগুলো হতে পারে, তার অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে। তাছাড়া, রোজা রাখলে এই সমস্যাগুলো হতে পারে বলে যে ওয়েবসাইটের উল্লেখ করা হয়ে থাকে, সেগুলো কোন মেডিক্যাল ওয়েবসাইট নয় এবং কোন রিসার্চের রিসাল্ট নয়। তদুপরি ঐ ওয়েবসাইটগুলোতেই এই সমস্যাগুলো থেকে কিভাবে পরিত্রান পাওয়া যায়, সে কথাগুলোও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ধুরন্ধর অপপ্রচারকারীরা সেই পরিত্রানের বিষয়গুলো তুলে না ধরে, শুধু ক্ষতিকারক দিকগুলোকেই হাইলাইট করার চেষ্টা করেন।

পানি শূন্যতা ও এর ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো থেকে খুব সহজেই পরিত্রান পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ কোরআন, হাদিস তথা বিজ্ঞান কোনটাই সমর্থন করেনা। সুর্যাস্ত থেকে সুর্যোদয় পর্যন্ত খাওয়ার সময়। এই সময় টুকুতে একটু হিসাব করে খেলেই সকল সমস্যা দূর করা সম্ভব। ইফতারের সময় ফলফ্রুট ও পানীয় জাতীয় খাবার দিয়ে ইফতার করলে অসুস্থতার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। ইসলামের বিধানে তাই উল্লেখ আছে। বাংলাদেশে তৈরী বাহারী ইফতার আইটেমের কথা কোন হাদিস কোরআনে উল্লেখ নাই। তাই রমজানের মহত্ব পেতে হলে আমাদের লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করতে হবে সবার আগে। পরিমিত সুষম খাবার প্রত্যেককে সম্পূর্নরূপে স্বাস্থ্যবান রাখবে পুরো রমজান মাস। যদিও আমাদের সমাজে কিছু মাওলানা হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে বলেন আল্লাহ এই রমজান মাসে খাওয়ার কোন হিসাব নিবেন না। তার অর্থ এই নয় যে যা খুশি তাই খেতে হবে। এটা তারা তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে।

১। রমজানে খাওয়ার সময় পাওয়া যায় খুবই অল্প ঐ সময়টুকুতেই ইফতারের পর এবং ঘুমানোর পূর্বে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে। তাহলে পানি শূন্যতা দূর হয়ে যাবে, ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা রক্ষা পাবে, প্রশ্রাবের সমস্যা হবে না এবং রোজার ফলে পরিপাকতন্ত্রের ডিটক্সিফিকেশন দূর হবে।
২। খাবারের সাথে অধিক পরিমানে শাক-সব্জি খেতে হবে। ফলে, স্থুলতা, কোষ্টকাঠিন্য, রেনাল ক্লিঞ্চ ইত্যাদি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
৩। ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় যেমন- চা, কফি, কোকা-কোলা জাতীয় পানীয় ইত্যাদি যথা সম্ভব পরিহার করতে হবে। কারণ ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার প্রশ্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে অতিরিক্ত প্রশ্রাবের কারণে দিনের বেলা শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে মাথা ব্যাথা, ইরিটেবিলিটি, মুড সুয়িইং ইথ্যাদি সমস্যা হবে না।
৪। সরাসরি চিনি ও চিনি জাতীয় খাবার, মিষ্টি, পরিহার করতে হবে।
৫। ভাজা-পোড়া ও অতিরিক্ত ঝালযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
৬। ধুমপান পরিহার করতে হবে। ধুমপান চীরতরে পরিহার করার মোক্ষম সুযোগ এই রোজায়।
৭। ইফতারে হযরত মুহম্মদ (সাঃ) খেজুর ও পানি খেতেন। অতিভোজন করতেন না। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, চিনি, কার্বোহাইড্রেড, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম যা খুব দ্রুত খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে।
৮। আঁশযুক্ত খাবার, গমের রুটি, ভাত, শাক-সবজি, ফলমূল গ্যাস্ট্রিক-এসিডিটি কমিয়ে আনে, এই ধরণে খাবার এসিড নিঃস্বরণ কমাতে সহায়তা করে।
৯। পরিমিত ব্যায়াম(দিনের বেলায় নয়), হাটাচলা, ইবাদত আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে।
সর্বোপরি লেখার প্রথম দিকে উল্লেখিত খাবারের তালিকা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
লিংক

প্রকৃত মুমিনদের কখনো ঘুমের সমস্যা হয়না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান থাকেন। রোগ ব্যাধি অনেক কম থাকে। ইতিহাস তারই স্বাক্ষ্য দেয়। আর রমজানে কম ঘুমিয়ে বেশি ইবাদত করার নির্দেশই রয়েছে কোরআন-হাদিসে।

প্রকৃত রোজাদার কখনো দিনের বেলা ঘুমায়না। কারণ কোরআন ও হাদিস অনুযায়ী দিনের বেলা ঘুমানোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দিনের বেলা ঘুম রোজা ভঙ্গের কারণ সৃষ্টি করে।

“রোজার সময়সহ সারা বছর রাজধানীসহ দেশব্যাপী পাড়ায়-মহল্লায়, অলিতে-গলিতে, হাট-বাজারে, হোটেল কিংবা অনেক নামিদামি বেস্তোরাঁ ও খাবার হোটেলে – ইফতার হিসেবে জিলাপী, সিঙ্গারা, সমুচা, পিঁয়াজু, বেগুনি, পুরিসহ নানা ধরনের ভাজাপোড়া খাদ্য তৈরির জন্য দিনের পর দিন একই সয়াবিন ও সরিষার তেল ব্যবহার করে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগ এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হোটেল ও রেস্তোরাঁর পোড়া তেলের গবেষণা চালিয়ে এই বিষয়টি আবিষ্কার করেন । শুধু তাই নয়, অতি মুনাফালোভী হোটেল ও রেস্তোরাঁর মালিকগণ সিঙ্গারা, সমুচা, জিলাপী, বেগুনি, পুরি ভাজা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী দীর্ঘক্ষণ মচমচা রাখার জন্য গাড়ির পোড়া মবিল পোড়া তেলের সঙ্গে ব্যবহার করেন। জানা যায়, পোড়া তেল কোন কোন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়। পোড়া তেল কমে আসলে ঐ তেলের সঙ্গে নতুন করে তেল দিয়ে ভর্তি করে নেয়। এইভাবে চলতে থাকে হোটেল ও রেস্তোরাঁর পোড়া তেল এবং পোড়া মবিলের ব্যবহার। এসব কড়াইতে ঢাকনাও দেয়া হয় না অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁয়। রাতে পোকামাকড় ও ধুলাবালি ঐ বিষাক্ত তেলে পড়ে বলে জানায় হোটেলে কর্মরত শ্রমিকরা। পোড়া তেল ও মবিলের সংমিশ্রণে তৈরি খাদ্যসামগ্রী মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, এই খাদ্য খেলে হজম হবে না এবং পেটে তেল ও মবিলের বিষাক্ত পদার্থ অক্ষত অবস্থায় থেকে যায়।

গাইনী, শিশু, কিডনী, মেডিসিন, লিভার ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন,
পোড়া তেল ও পোড়া মবিল সংমিশ্রণে তৈরি সিঙ্গারা, সমুচা, জিলাপী, বেগুনি, পুরিসহ নানা খাদ্যসামগ্রী খেলে ক্যান্সার, কিডনী ও লিভারসহ মরণব্যাধি হবেই এবং মায়ের পেটের বাচ্চা বিকলাঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হারুন কে এম ইউসুফ বলেন,
দিনের পর দিন পোড়া তেল খাদ্যে ব্যবহার করার সময় উচ্চ তাপমাত্রা গেলে পারঅক্সাইড ও ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয়। এই খাদ্য খাওয়ার পর মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টোরেল দেহে তৈরি হয়। এছাড়া নানা ধরনের মরণব্যাধি সৃষ্টিতে দ্রুত সহায়তা করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আবম ফারুক বলেন,
পোড়া তেলে খাদ্যসামগ্রী ভাজার সময় উচ্চ তাপমাত্রা গেলে অক্সিডেশন হয়। ঐ খাদ্য খাওয়ার পর লিভারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নষ্ট করে দেয়। মরণব্যাধির পাশাপাশি গ্যাসট্রিক ও আলসার রোগ হওয়ার আশংকা বেশি বলে তিনি অভিমত পোষণ করেন।

একই বিশ্ববিদ্যালয় পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শাহ মোঃ কেরামত আলী পোড়া তেল সম্পর্কে অনুরূপ মতামত পোষণ করেছেন।
সারা বছর এই প্র্যাকটিস চললেও রোজার সময়ে এটি মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে যায়, কেননা পুরো একমাস জুড়ে সারা দেশব্যাপী ডুবোতেলে ভাজা ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটে পরিপূর্ণ ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার ধুম পড়ে যায় । ট্রান্স ফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে কোলেস্টেরল, লো ও ভেরি লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এবং উপকারী হাই ডেনসিটি
লাইপোপ্রোটিনের পরিমাণ হ্রাস করে । ফলে নিম্নলিখিত ডিজিজগুলোর সমস্যা দেখা দেয় –

১) ওবেসিটি ২) করোনারি হার্ট ডিজিজ ৩) মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন ৪) ডায়াবেটিস ৫) এথেরোস্ক্লেরোসিস ৬) পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ ৭) হাইপারটেনশন ৮) কলোরেকটাল ক্যান্সার ৯) ওভারিয়ান ক্যান্সার ১০)প্রোস্টেট ক্যান্সার ১১) স্মল ইন্টেসটাইন ক্যান্সার ১২) আলঝেইমার্স ডিজিজ ১৩) ডিপ্রেশন ১৪) লিভার ডিজফাংশন ১৫) ডিজলিপিডেমিয়া ১৬) ফিমেল ইনফার্টিলিটি ইত্যাদি ।”
এই সমস্যাটি আমাদের সামাজিক ও নাগরিক সমস্যা এবং আইণ প্রয়োগকারী সংস্থার দুর্বলতা। আর এই দুর্বলতার সুযোগ নেয় অতি মুনাফাকারী অসাধু ব্যবসায়ী। এটা আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যাধি। এটা ইসলাম কখনো সমর্থন করেনা।

“রমজান মাসে অপরাধ, ভিক্ষাবৃত্তি এবং পতিতাবৃত্তি রোজার মাসে বেড়ে যায়, খুন (১.৫%) এবং চুরি (৩.৫%) হারে বৃদ্ধি পায়, রোজার মাসে শপিং করা এবং দেশের বাড়িতে ঈদ করতে যাওয়ার দরুণ ছিনতাই ও ডাকাতি বেশ পরিমানে বৃদ্ধি পায় । ”

এটা আমাদের রাষ্ট্রীয় দুর্বলতা। ইসলাম কখনো এগুলোকে সমর্থন করেনা। এগুলোর বিরুদ্ধে সর্বদা ইসলাম সোচ্চার। ইসলামী নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ ভাবে যাকাত প্রদান করার মাধ্যমে দারিদ্র দূর করা সম্ভব, কিন্তু তা আমাদের দেশে করা হয় না। দারিদ্রতার সাথে এই সমস্যাগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ধর্মীয় অহিংসা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাসকে লালিত করছে, তারা প্রকৃতপক্ষে ইসলামের শত্রু।
রমজান মাস ও ট্রাফিক দুর্ঘটনা, জ্যাম সমস্যাঃ এটা ইসলাম ধর্ম সৃষ্টি করেনি। আমাদের দেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ ও দারিদ্র সমস্যাই এজন্য দায়ী। এটাও রাষ্ট্রীয় সমস্যা।
রমজান মাস ব্লাড ডোনেশনের আকাল

এই থিউরি প্রকৃত মুসলিম জনগনের জন্য নয়। মানবিক সহায়তায় দুনিয়ার আর কোন মানুষ একজন প্রকৃত মুসলিমের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারেনা।

রমজান মাস অনুৎপাদনশীলতা এবং ফাঁকিবাজির মাস
রমজান মাসে কাজের চেয়ে ইবাদতের গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়েছে কোরআন-হাদিসে। কাজ একটু কম হলেও পরবর্তী সময়ে তা পুষিয়ে নেওয়া যায় যেমন করে সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের পর খাদ্যাভাব দুর করা যায়। আর ফাঁকিবাজি কোন ইসলামিক কাজ নয়। সম্পূর্ণ অনৈসলামিক।

উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, রোজা রাখার ক্ষতিকারক দিক চিন্তা করা সম্পূর্ণ ভাবে একটি কুসংস্কার ও প্রাচীন ধ্যান ধারণা। কোরআন একটি আধুনিক বিজ্ঞান। ইসলাম একটি আধুনিক ধর্ম। আর তাই ইসলামের প্রতিটি কাজই বিজ্ঞান সম্মত।

তাই রোজাকে বাদ নয়, বাদ দিতে হবে আমাদের এই ক্ষতিকারক কালচারকে। মাথা ব্যাথা হলে মাথাকে কেটে বাদ দেওয়া নয়, ব্যাথার চিকিৎসা করতে হবে। বদলাতে হবে আমাদের লাইফস্টাইল। তাহলেই কেবল সুস্থ, সুন্দর জীবন লাভ করা সম্ভব।

বিঃদ্রঃ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কোন বক্তব্য কোন জাতিই সমর্থন করেনা। কোন প্রকাশনায় এমন লেখায় রেস্ট্রিকশন থাকা উচিৎ।