ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাংলার এক অবিসংবাদিত নেতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে নয় মাসের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর, পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এত অল্প সময়ে পৃথিবীতে আর কোন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভের রেকর্ড নেই। এই অসম্ভব কাজটি বাঙ্গালী সম্ভব করেছে বাংলার ঐ মহানায়ক, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে। ইতিহাস তাই স্বাক্ষ্য দেয়। নেতা হিসাবে বঙ্গবন্ধুর সমকক্ষ আর কোন নেতা বাংলাদেশ আবার কোনদিন পাবে কিনা সন্দেহ। কিন্তু সেই অবিসংবাদিত সফল নেতা, শাসক হিসাবে ইতিহাসের পাতায় ব্যার্থ রাষ্ট্রনায়কের খাতায় নাম লেখান। স্বপ্ন পূরণে ব্যার্থ হন তিনি। বাংলাদেশের সেই জন্মলগ্ন থেকে শুনে আসছি স্বপ্নের কথা। বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। স্বাধীনতার ৪০ বছর পার হয়ে গেল, সোনার বাংলাদেশ আজো আমরা পেলাম না। সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো।

আজ তাঁরই উত্তরসূরি সেই মহান নেতার কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রনায়ক। তিনিও পিতার মতো স্বপ্ন দেখিয়েছেন বাঙালী জাতিকে। দিন বদলের কথা বলে, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নে বাঙালী জাতিকে উজ্জীবিত করে ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হন তিনি। নির্বাচনের আগে মহাজোট ১০ টাকা কেজির চাল, দ্রব্যমূল্য সহনশীল রাখা, সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার, কৃষকদের বিনামূল্যে সার, প্রতি পরিবারে একজনের চাকরি, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়া, সবার জন্য বাসস্থানসহ নানা স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা ও লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সুশাসনসহ দিনবদলের স্লোগান দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলেও মাত্র দু’বছরের মাথায় মানুষ আশাহত হয়েছে। লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং শেয়ার কেলেঙ্কারি নিয়ে দেশে এক জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কথাটা ঘনঘন উচ্চারিত হতো প্রধানমন্ত্রীর মুখে। কিন্তু এখন আর হয় না। তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ শব্দ দুটো প্রতিদিন অজস্রবার উচ্চারিত হচ্ছে- চায়ের দোকানে, বাড়ির দহলিজে¬ মোট কথা কোথাও একাধিক ব্যক্তি জড়ো হলে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নিয়ে টিটকারি ও হাসাহাসি হয়। যখন তখন ‘পাওয়ার কাট’ হলে দীর্ঘকালের ভুক্তভোগী মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে টিটকারি করে, গালাগালি দিয়ে গায়ের ঝালও মেটায় কেউ কেউ। ৩৩ মাসের এই মহাজোট সরকারের শাসনকালে ব্যর্থ মন্ত্রীদের কারণে দেশে যে দুরাবস্থা ও জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এখন শুধু বিরোধীদল নয়, মহাজোটের নেতা-কর্মীসহ সিনিয়র আওয়ামী নেতাগণ, সাংসদগণও এহেন বিরাজমান পরিস্থিতিতে ঐ মন্ত্রীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করছেন, পদত্যাগ দাবী করছেন। কিন্তু এই ব্যর্থতা, কলঙ্কের কালিমা ডিজিটাল মন্ত্রীদের গায়েই লাগে না। টেনেছিচ্‌ড়ে, জুতা মেরে গদি থেকে নামানোর আগে কেউ গদি ছাড়ে না, এটাই বাংলাদেশের সংস্কৃতি হয়ে দাড়িয়েছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপির বেপরোয়া আচরণের চরম মূল্য গোটা দলকে দিতে হয়েছিল পরবর্তী নির্বাচনে। ওই ঘটনা থেকে এবার দলটি শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

তাহলে কি পিতার ব্যর্থতা ঘুচাতে ব্যার্থ হবেন তার কন্যাও। নাকি আওয়ামী সরকার শুধু স্বপ্ন দেখতেই ভালবাসে। বিজ্ঞজনদের মতে, অনেক আওয়ামী নেতাগণও মনে করেন, আওয়ামীলীগ বিরোধী দলেই শুধু সফল, ক্ষমতায় সবসময়ই ব্যর্থ। তাহলে ডিজিটাল স্বপ্নের কি হবে? স্বপ্ন দেখতে দেখতে যে, জাতি আজ বড়ই ক্লান্ত।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নামক ডিম্বানু নিষিক্ত হওয়ার পূর্বেই প্রথম আক্রান্ত হয় মরণ ভাইরাসে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার কথা একটি উচ্চ শিক্ষিত জাতি দিয়ে। এই উচ্চ শিক্ষার ডিম্বানু যেখানে নিষিক্ত হয়, সেটা হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুরোতে কি আজ উচ্চ শিক্ষার যাত্রা সঠিক পথে আছে?

আওয়ামী সরকার গদি পাওয়ার প্রায় গোড়ার দিন থেকেই শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার তুলকালাম কাণ্ড শুরু হয়। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার ‘বারোটা বেজে’ গেছে। ‘বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ের’ পরিকল্পনা অনুসারে ছাত্রলীগকে অথবা ছাত্রলীগের ছদ্মবেশে সরকারের অতি পরিচিত ক্যাডারদের শিক্ষাঙ্গনে ছেড়ে দেয়া হয়। তারা অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সদস্য, এমনকি নির্দলীয় ছাত্রছাত্রীদেরও হত্যা ও মারধর করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানে নিজেদের মধ্যে এবং অন্য সংগঠনের সঙ্গে হানাহানিতে জড়িয়ে পড়ে সরকারি ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এখন তারা লাভজনক দুর্নীতির ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি-খুনাখুনি করছে নিজেদের মধ্যে।

তারা ছাত্রলীগের নামে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরগুলো ভর্তিবাণিজ্য, টেন্ডার সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজির জন্য ব্যবহার করছে। রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকদের অপমান, এমনকি মারধরও করা হয়েছে। এইতো মাত্র কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন অধ্যাপক প্রহৃত হয়েছেন। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীর হনুমান রামচন্দ্রের অপহৃত রানী সীতাকে উদ্ধার করার জন্য লঙ্কা জয় করেছিল, কিন্তু তার লেজের আগুনে লঙ্কাদ্বীপ জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। ছাত্রলীগের ‘বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ের’ অভিযানে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্খার অনেকটা সে রকমেরই অবস্খা হয়েছে। এ রকম পরিবেশে যে সত্যিকারের উচ্চশিক্ষা সম্ভব নয় সে কথা শিশুও আপনাকে বলে দেবে।

এই মরণ ভাইরাস দ্বিতীয় আক্রমণটি করে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পের হৃদপিন্ড আদালত পাড়ায়, যা সাধারণ জনগণের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। সেই আদালত পাড়ার রাজনীতি আজ দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নামে দেশে হচ্ছেটা কি? আদালতের কাঁধে বন্দুক রেখে সরকারের সংবিধান সংশোধন পুরু জাতিকে আজ অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতির ভাষায়, বিচার বিভাগ আজ শিকলে বাঁধা স্বাধীনতা ভোগকারী। টিআইবি’র রিপোর্টে জানা যায়, বিচার বিভাগ চারটি মন্ত্রণালয় দ্বারা শৃঙ্খলিত। বিচার বিভাগে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলী বাণিজ্য আইন মন্ত্রনালয়ের এখন রুটিন ওয়ার্ক্। তাছাড়া বিচার বিভাগ অর্থ মন্ত্রনালয়, সংস্থাপন মন্ত্রনালয় (জনপ্রশাসন) ও স্বারাষ্ট্র মন্ত্রনালয় দ্বারা প্রভাবিত। আদালতের রায়ের উপর মহামান্য রাষ্ট্রপতির দলীয় হস্তক্ষেপে ন্যায়বিচার আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। তারই স্রোতধারা আজ সারাদেশে প্রবাহিত। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে। এ যেন ভাইরাসের দ্বি-ভাজন ফিউশন প্রক্রিয়ায় ক্রমবৃদ্ধি।

অভাগা জনগণ ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে ডিজিটাল খাবার কখনও প্রত্যাশা করেনি। দুবেলা, দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সে স্বপ্নও যে এখন “পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”র মতো। উপরন্তু খান মন্ত্রীর তামাশায় বাঙ্গালী জাতির স্বপ্ন ভেঙ্গে খানখান হয়ে যায়। প্রতিবারই একেকটি তামাশা নিয়ে টিভি পর্দায় আবির্ভাব ঘটে এই মিস্টার খানের, আর তখনই লম্ফ দিয়ে পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটে চলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। তিনি যেদিন বাজারের যে পথ দিয়ে হাঁটেন, সেদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। কি আজব ক্ষমতার অধিকারী তিনি। মুজিব সরকারের সময়ে লবণ কেলেঙ্কারির সাথে এখনো যেমন আমুর নামটি জড়িয়ে আছে, তেমনি করে তেল ও চিনি কেলেঙ্কারির সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছেন এই মিষ্টার খান। খুব শীঘ্রই হয়ত তিনি মিস্টার চিনি খান নামেই ইতিহাসের পাতায় ঠাই করে নেবেন। চিনি কেলেঙ্কারীর জন্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হলো। তারপরও থামেনি খানের তামাশা। মাত্র ১৫ দিনের মাথাই চিনির জাহাজ নিখোঁজ করে দিলেন এই খান। আরেক দফা চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়ে কোন অজানা কারিশমায় নাকে তেল দিয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়েছেন তিনি। এখন লাখো পাবলিকের আর্তচিৎকার আর তার কানে পৌঁছাবে না। না খেয়ে থাকা এই হতভাগ্য জনগণকে আরো না খেয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়ার পর এইবার নতুন কোন পরামর্শ প্যাকেজ নিয়ে আসছেন তিনি, জাতি এখন তারই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের আবুল যোগাযোগমন্ত্রী প্রতিনিয়ত অবোধ জনগণকে উড়ালপথ আর পাতাল পথের ডিজিটাল স্বপ্ন দেখাতে দেখাতে আবুলের মতো কান্ড ঘটিয়ে এখন বাইরে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন ডিজিটাল উড়াল পথে উড়াতো দূরের কথা এনালগ পথে বের হওয়ারও আর কোন উপায় নেই পাতালে যাওয়া ছাড়া। কারণ সারাদেশে রাস্তা-ঘাটের যে করুণ অবস্থা, যেন প্রতিনিয়তই এখন পাতালের কবর জনগণকে ডেকে চলেছে। কবরের ক্ষুধা যেন আর মিটতে চায়না। জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে তোফায়েল আহমেদসহ সরকার দলীয় অন্যান্য সাংসদ এই আবুল মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করলেও, দেঁতো হাসি বন্ধ হয়না ঐ আবুলের। মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ব্যার্থ হলেও তৈলমর্দনের এক অদৃশ্য শক্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে ঠিকই গলাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তার বাকবাকুমে বেজায় খুশি। প্রধানমন্ত্রীকে ঠিকই বুঝিয়ে ছেড়েছেন- যত দোষ ঐ নন্দ ঘোষের, তার নিজের কোন দোষই নেই।

দুর্বিঃসহ যানজটে নাকাল দেশবাসী। যানজট সমস্যার সমাধানের নতুন নতুন আশার কথা প্রায়ই বলছেন প্রধানমন্ত্রী ও অন্য মন্ত্রীরা। কিন্তু যানজট বেড়েই চলেছে দুটো কারণে। প্রথমত, প্রকৃত সমাধান কোথায় নিহীত আছে, সে সম্বন্ধে এ সরকারের মন্ত্রীদের সামান্যতম ধারণাও নেই। দ্বিতীয়ত, কোনো ব্যবস্খা ঘোষণা করা হলে সে ব্যবস্খা কার্যকর তারা করতে পারছেন না, নীতি ও সিদ্ধান্তে অটল থাকতে ব্যর্থতার কারণে। কোন পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়না তদবীরবাজদের কারণে। নেতা-নেত্রীদের আত্মীয়স্বজন এত বেশি যে, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে জনগণের উন্নয়নের চেয়ে তাদের ক্ষতিই বেশি হয়ে যায়। তাই তাদের তদবিরের ফলে সেসব পরিকল্পনা স্খগিত হয়ে যায়।

যানজট ও রাস্তাঘাটের এই করুন পরিস্থিতির কারণে এবারের ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা একেবারেই অনিশ্চিত। অচিরেই সরকারের কোন মন্ত্রী হয়তো বলে বসবেন- এবারের ঈদে কেউ বাড়ি না ফিরে, আসুন সাড়ম্বরে সবাই জাঁকজমকপূর্ণভাবে ঢাকায় ঈদ উৎসব করি।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এখন টক অব দ্যা কান্ট্রি। তার গোয়ার্তুমি এখন বাঙ্গালী জাতির হাসির খোরাক। মন্ত্রিত্ব ক্ষণস্থায়ী, কতদিন থাকেন ঠিক নাই, তাই শ্রমিকদের পক্ষে ঢালাওভাবে মানুষ মারার লাইসেন্স দিয়ে তিনি শ্রমিক নেতার পদটি চীরস্থায়ী করতে চাচ্ছেন। গত ২১ আগষ্ট ঢাকার গাবতলী এলাকায় বিআরটিএ’র ভ্রাম্যমান আদালত কয়েকজন লাইসেন্সবিহীন বাস চালককে শাস্তি দিতে গিয়ে শ্রমিকদের আক্রমণের শিকার হলে, মেজিস্ট্রেট পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ২১ আগষ্ট বাঙালী জাতির কাছে শোকাবহ একটি দিন। সবাই ২০০৪ সালে এই দিনের ঘৃণ্যতম হত্যাযজ্ঞের ন্যায় বিচার আশা করছেন। এমন দিনে অপরাধীর ভয়ে মেজিস্ট্রেটের পলায়ন যেন ন্যায় বিচারেরই পলায়ন। বিজ্ঞজন মনে করছেন- ঐ অবৈধ বাস চালক ও শ্রমিক গণ তাদের পিছনের শক্তির বলেই এই কাজটি করার সাহস পেয়েছেন। আর এই শক্তি হচ্ছে মন্ত্রী শাজাহান খান।

সরকার ভাগ্যের উন্নয়ন করে দিবে সেই চিন্তা বাদ দিয়ে অবোধ জনগণ পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু মরণ ভাইরাসের আক্রমণে রেকর্ড দরপতনের কারণে হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়েছে। অসহায় ৩২ লাখ বিনিয়োগ কারী হাতের শেষ সম্বল হারিয়ে যখন অঝোর কান্নায় বিলাপরত, তখনই সরকারের ডিজিটাল মাল মন্ত্রী তাদেরকে ফটকাবাজ বলে গালিগালাজ করে, ভাইরাসের সাঁড়াশী আক্রমণ কাকে বলে বুঝিয়ে দিলেন তিনি। সাথে দ্রব্যমূল্যের জন্যও বোকা জনগণকে দায়ী করে সপ্তাহে একদিন বাজারে যেতে নিষেধ করে পরামর্শ দিতে ভুল করেন নাই। সরকারের দু’বছরের মাথায়ই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ারবাজার এখন এক আতঙ্কের নাম।

শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ সঙ্কট এবং তার সব ব্যর্থতার জন্য খালেদা জিয়ার ওপর দোষারোপ করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। প্রধানমন্ত্রীর উক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথের কবিতার এক চরণ মনে করিয়ে দেয়- “যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন কেষ্ট ব্যাটাই চোর।” খালেদা জিয়া গদি ছেড়েছেন পাঁচ বছর হতে চলল। এ দিকে বর্তমান সরকার গদি দখল করেছেন ৩৩ মাস আগে। তার আগে সংবিধানবিরোধী অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গদিতে ছিল দু’বছর। তারা কি ঘাস কাটছিল? নিজের সরকারের ত্রুটি স্বীকার তো দূরের কথা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপরও কোনো দায়িত্ব চাপাচ্ছেন না বর্তমান সরকার। তত্ত্বাবধায়ক তথা সেনা সমর্থক সরকারকে অবৈধ সরকার বললেও ফকরুদ্দিন, মঈনউদ্দিনের ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ। কেন? ভয়টা কোথায়? কারণটা অবোধ জনগণ আস্তে আস্তে বুঝতে শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ নিয়ে খান পরিবারের কারিশমার কথা আজ জনগণের মূখে মূখে। ডিজিটাল সরকারের দেখানো স্বপ্নে বিদ্যুৎ নিয়ে খাম্বা রাজনীতির অবসান চেয়েছিল অবোধ জনগণ। কিন্তু মহাশক্তিধর খান পরিবারের কাছে জিম্মি বিদ্যুতের তেলেসমাতিতে জাতি আজ অন্ধকারে নিমজ্জিত। কাগজে কলমে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের মেগাওয়াট বেড়েই চলেছে, কিন্তু অন্ধকার দূর হচ্ছেনা। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অকুতোভয় মুজিব সেনা তোফায়েল আহমদের তাই প্রশ্ন- বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রনালয় আসলে চালায় কে? কোন অশরীরী শক্তির আঙুল হেলুনীতে বিদ্যুত, খান পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে থাকছে, তা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীরও হয়তো জানা নেই।

বাঙালী জাতি স্বপ্ন দেখেছিল অকুতোভয় রাস্তায় চলাফেরা করবে। নিরাপত্তায় শান্তিতে একটু ঘুমাতে পারবে। অতর্কিত আক্রান্ত হওয়ার ভয় বুঝি এবার দূর হলো। আইনশৃঙ্খলার কথা বলছিলাম আরকি। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত আল্লাহর মহান সৃষ্টি কারিশমায় প্রায় একই রকম চেহারা প্রাপ্ত দুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাস্ট্র-প্রতিমন্ত্রী কাজে-স্বভাবেও প্রায় একই রকম। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হ্যা, ঢেলে সাজিয়েছেন, ডিএমপির ৪১ থানার মধ্যে ১৩ থানার ওসি গোপালগঞ্জের, বাকী থানায় কিশোরগঞ্জ, শরীয়তপুর অথবা ফরিদপুর জেলার না হয় পরীক্ষিত আওয়ামী লীগার। উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) শহিদুল হকের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়ায়, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার বেনজির আহমেদের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরে, ডিবির ডিসি মনিরুল ইসলামের বাড়ি গোপালগঞ্জ, ডিবির এডিসি মোল্লা নজরুলের বাড়ি গোপালগঞ্জ, ডিসি হেডকোয়ার্টার হাবিবুর রহমানের বাড়ি গোপালগঞ্জে। ডিবি, সিআইডি, ডিজিএফআইসহ পুলিশ বাহিনীতে সারা দেশে এই রকম দলীয় নিয়োগের ফলে পুলিশ প্রশাসনে বিরাজ করছে নীরব অস্থিরতা আর চেইন অব কমান্ড বলে এখন কিছু নেই বললেই চলে। আর তারই প্রভাব পড়ছে জনগণের উপর। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য জাতি আজ চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই, ইভটিজিং, ধর্ষণ, হামলা-মামলা, চাঁদাবাজি, খুন-খারাপি, ক্রস ফায়ার, অপহরণ, গুপ্তহত্যা তথা সর্বশেষ গণপিটুনির শিকার হয়ে লাশ হওয়ার ভয়ে জড়োসড়ো। দেশী বিদেশী মানবাধিকার সংস্থা এমনকি সরকার গঠিত মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানও বলছেন, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। অথচ প্রতিদিন মন্ত্রীদ্বয় সেই মূখস্ত একই ডায়লগ বলে চলেছেন বারবার- দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক ভাল। এমন বাস্তববিমূখিতা বাংলাদেশে আগে কখনো দেখা যায়নি। সর্বশেষ উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যেও ক্রসফায়ারে র্যা বের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে র্যা বকে ডেথ স্কোয়াড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের ক্রসফায়ারের নামে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১১ মাসে ১৪৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এ সরকার। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলছেন, দেশে ক্রসফায়ারের কোনো ঘটনা ঘটছে না। বাহ! মন্ত্রীজি! বাহ!

মহাজোট সরকারের গত আড়াই বছরে রাজনৈতিক মামলার তালিকায় আলোচিত খুনের মামলাসহ দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে দায়ের করা প্রায় ৭ হাজার মামলা প্রত্যাহার করে এর আসামিদের মুক্তি দিয়েছে সরকার। বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় আদালতের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২২ খুনিকে ক্ষমা করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। এছাড়াও সাংবিধানিক এখতিয়ারের কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আরও ৮৯৭ জন কয়েদির দণ্ড মওকুফ করেছেন তিনি। অতি সম্প্রতি লক্ষীপুরের মেয়র তাহেরপূত্র খুনী বিপ্লবের মৃত্যুদণ্ডাদেশ মওকুফ করে সারাদেশ তথা বিশ্ব-দরবারে তিনি আজ নিন্দিত রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি কর্তৃক যেভাবে ভাইরাসদের (খুনীদের) অবমুক্ত করে দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, তাতে ডিজিটাল স্বপ্ন আর কতদিন আয়ু ধারণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

একের পর এক চুক্তি করেই চলেছে মহাজোট সরকার। কিন্তু বাস্তবে এই সব চুক্তির ফলাফল একেবারেই অন্ধকারে। পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে সাম্প্রতিক হতে যাওয়া চুক্তির ব্যপারেও বাংলাদেশ একেবারে অন্ধকারে। বিরোধীদল সংসদে এসব চুক্তি প্রকাশের দাবি জানালেও সংবিধান অনুযায়ী আজও এসব চুক্তি প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের আলোকে ভারতকে ট্রানজিট ও করিডোর দেয়ার আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ট্রানজিট দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে লাভবান হওয়ার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত নামমাত্র ফি দিয়েই ভারত সড়ক, রেল ও নৌ ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করেছে বলে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল বছরজুড়েই। ভারতকে ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে, বছরে আয় হবে বিলিয়ন ডলার—ট্রানজিটের পক্ষে এ প্রচারণা যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই চলছিল তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট। এখন প্রমাণিত ট্রানজিটের আয় এক শুভঙ্করের ফাঁকি। ট্রানজিট থেকে বাংলাদেশ তেমন কিছুই পাচ্ছে না। এছাড়া ভারত থেকে উচ্চ সুদে ও কঠিন শর্তে এক বিলিয়ন ডলার ঋণ ভারতের ট্রানজিট সুবিধা নিশ্চিত করতেই ব্যয় হবে নিশ্চিত হওয়ার পর সুধীসমাজে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ধরে রাখতে সক্ষম হলেও গত দু’বছরে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ফলে মুসলিম দেশে শ্রমবাজার হারিয়েছে সরকার। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন হলেও এ সম্পর্ক একতরফা ভারতের স্বার্থে কাজে লাগছে বলে মনে করেন ওয়াকিবহাল মহল। পরনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির কারণে এ দেশ কোনো কোনো পশ্চিমা বৃহৎ শক্তিরও প্রতিপক্ষ হতে শুরু করেছে এখন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত সারা বিশ্বে জনপ্রিয় পত্রিকা ইকোনোমিস্ট এর সাম্প্রতিক কালের কয়েকটি রিপোর্টই তার প্রমাণ। প্রতিবেশী একটি দেশ যা চায়, তা বাস্তবায়ন করাই যেন সরকারের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সমুদ্রসীমা বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থকে প্রাধান্য না দেয়া, সমুদ্রবক্ষে ৮০ ভাগ গ্যাস রফতানির সুবিধা রেখে তিনটি ব্লক কনকো ফিলিপস্ নামক বহুজাতিক কোম্পানিকে ইজারা দেয়াসহ নানা ইস্যুতে সরকার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে ব্যর্থ হয়েছে। টিপাইমুখ ইস্যুতে যেখানে সিলেটসহ সারাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে, সেখানে সরকার আধিপত্যবাদের দালালিপনায় ব্যস্ত রয়েছে। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতীয় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগের প্রস্তাবের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ভূলুণ্ঠিত করার উদ্যোগকেও সরকার ইতিবাচকভাবে দেখে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের করুণার ওপর নির্ভর করছে আমাদের সীমান্ত নিরাপত্তা। এমনকি স্বাধীনতার ৩৮ বছরেও বিএসএফ সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড অতিক্রম করতে যেখানে সাহস পায়নি, সেসব জায়গায় বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন নির্মাণ কাজে বাধা দেয়, আর একের পর এক বাঙ্গালী নিধন করে তারা যেন পাখি শিকারের সখ মিটায়। অহরহ ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ঢুকে পড়ে বাংলাদেশ সীমান্তে। এগুলো কিসের আলামত?

মহাজোট সরকার স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি নাম দিয়ে বাঙ্গালী জাতিকে আজ দুইটি ধারায় বিভক্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। স্বাধীনতা লাভের ৪০ বছর পরও একটি দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি হয়ে জাতি দুইটি ধারায় বিভক্ত হয়ে যাবে, এটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? জনগণ বুঝতে শুরু করেছে- এটা ব্যার্থতা ঢাকার অপকৌশল মাত্র। আওয়ামীলীগের বিপক্ষে কেউ কথা বললেই তাকে রাজাকার বানানো হয়। কাদের সিদ্দিকী রাজাকার, জেনারেল জিয়াউর রহমান রাজাকার, জেনারেল কে এম শফিউল্লাহকে রাজাকার বানানো প্রক্রিয়াধীন। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ করল কারা? জাতিকে যুদ্ধমান দুই কাতারে বিভক্ত করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা, অলীক চিন্তাভাবনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা বলে ও দলের পুরনো নেতাদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ, অপরিচিতদের, টেকনোক্র্যাটদের মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়ে, একঝাঁক উপদেষ্টা মন্ডলীকে মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি মূল্যায়ন করে, চমক দেখিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। একপাল চাটুকার হাততালি দিয়ে এই সিদ্ধান্তকে বাহ্‌বাও জানিয়েছিল। তখন আওয়ামী ঘরানার অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ সাংবাদিক এ বি এম মূসা বলেছিলেন- শিক্ষানবিস দিয়ে দল চালানো যায়, দেশ চালানো যায়না। সেই বাণীটাই হালে সত্য হতে চলেছে।

দুর্নীতি রোধের শ্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতাকেই খর্ব করেছে বর্তমান সরকার। প্রথম বছরের তুলনায় দ্বিতীয় বছরে বিরুদ্ধ মতের প্রতি সরকারের অসহিষ্ণু মনোভাব প্রকট হয়েছে। একদলীয় বাকশালের আদর্শ আওয়ামী লীগ পুরোপুরি ত্যাগ করেনি এ কথা দলের যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ হানিফ প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের কথা বলে ক্ষমতায় এলেও সরকারের কাজে কিংবা শাসক দলের নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে এর কোন প্রতিফলন নেই। অশালীন কথাবার্তা ও মিথ্যাচার ভর করেছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকের ওপর। তদুপরি এই অশালীন কথাবার্তা ও মিথ্যাচারের বিপরীতে সুরঞ্জিত বাবু ও ওবাইদুল কাদেরের কথায় কথায় বিবেকের বাণী আউড়ানো জনগণের মনকে আরো বিষময় করে তুলছে। এ যেন কাঁটা গায়ে নূনের ছিটা আরকি।

আমাদের সেই মহানায়ক, বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝুলানো ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরুকে মহাজোট বড় সাফল্য হিসাবে দেখছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কতটা নিরপেক্ষভাবে এই বিচার প্রক্রিয়া চলছে, সেটা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। শুধুমাত্র পিতৃহত্যার প্রতিশোধ আর প্রতিপক্ষ দমনের জন্য জনগণ মহাজোটকে ম্যান্ডেড দেয়নি, এটা কি মহান নেত্রী বুঝেন? সরকারের কার্যকলাপ দেখে তো মনে হয় শুধু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বিরোধীদল দমন আর জনগণকে নিয়ে তামাশা করায় ব্যস্ত এই সরকার। জনদুর্ভোগের কারণগুলো নিয়ে চিন্তা করার মতো সময় তাদের নেই। দেশের প্রতিটা সেক্টরে দলীয় নিয়োগে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ এবং নাম বদলের প্রতিযোগিতায় এই সরকার বলতে গেলে চ্যাম্পিয়ান।

অপরদিকে বিরোধীদলও সরকারের এমন নাজুক অবস্থায় গণ-আন্দোলন গড়ে তোলায় একেবারেই ব্যার্থ। এই ব্যার্থতার কারণ হিসাবে বিজ্ঞজন মনে করেন- বিরোধীদলও এই সব জনদুর্ভোগ নিয়ে চিন্তা করছে না, তারা শুধু ব্যস্ত বিরোধীদলীয় নেত্রীর বাড়ি রক্ষায়, আর তার দুই ছেলের দূর্নীতি ঢাকার অপচেষ্টায়। জনগণের স্বার্থ না দেখে শুধুমাত্র এই সব ব্যাক্তিগত ইস্যু দিয়ে যে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব নয়, এটাও মনে হয় চাটুকার বেষ্টিত জন-বিচ্ছিন্ন বিরোধী দলীয় নেত্রী বুঝেন না।

ডিজিটাল স্বপ্নের নীচে চাপা পড়ে এখন তো, এনালগ জীবন ব্যবস্থাও অচল হওয়ার পথে। দিনবদলের স্বপ্ন দেখানো কি তাহলে চাপাবাজির সাতকাহন? নাকি শুধুই ক্ষমতার পালাবদলের অপকৌশল?

বিগত সরকারের রাজপুত্রদের দুর্নীতির খতিয়ান শুনে, মহাজোটের আহ্বানে সারা দিয়ে, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ পাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল জনগণ। কিন্তু এখন তো দেখা যাচ্ছে কম্পিউটার ভাইরাস আক্রমণের মতো দুর্নীতি নামক ভাইরাস, ডিজিটাল বাংলাদেশ নামক স্বপ্ন প্রোগ্রামকে এমন আক্রমণই করেছে যে, এখন এই প্রোগ্রাম ফরমেট করা ছাড়া ভাইরাস দূর করার সমস্ত রাস্তাই যেন বন্ধ হয়ে গেছে।