ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

প্রথম অধ্যায়ঃ
সরকারী কলেজে যে কি পরিমাণ দূর্নীতি হয় তা আজ নিজে উপলব্ধি করলাম। আমার এক বন্ধু ভর্তি হবে কবি নজরুল সরকারী কলেজে মাস্টার্স প্রোগ্রামে, তাই আজ সকাল ১০ টায় গেলাম কলেজে। কলেজে যাওয়ার পর গেলাম ভর্তি ফি দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এ, কাউন্টারে দেখলাম আনুমানিক প্রায় ২৪/২৫ বৎসর বয়সের এক সুদর্শন যুবক ভিতরে কাউন্টারের চেয়ারে বসা। আমি চিন্তা করলাম হয়তোবা তিনি নতুন একাউন্ট অফিসার হিসাবে জয়েন করেছেন, জিজ্ঞেস করলাম “ভাইয়া টাকা কোথায় দিব?” তিনি আমাকে বললেন তিনশত ৩০০ টাকা দিন। তিনশত টাকার বিনিময়ে তিনি আমাকে যে কাগজটি ধরিয়ে দিলেন তাতে আমি হতবাক! তিনি আমাকে ঐ ব্যাংক এর একটি ডিপোজিট স্লিপ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “পাশে গিয়ে পূরন করে ডানপাশের কাউন্টারে টাকা জমা দিন”। অথচ ঐ ডিপোজিট স্লিপটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়ার কথা। পরে জানতে পারলাম উনারা সরকারী দলের তথাকথিত ছাত্রনেতা, উনারা উক্ত ব্যাংক এর সকল ডিপোজিট স্লিপ নিজেদের কাছে নিয়ে নিয়েছেন এবং ৩০০ টাকার বিনিময়ে সেই ডিপোজিট স্লিপ কে ব্যবহার উপযোগী করেছেন। আরও ভয়ংকর ব্যাপার হল, ছাত্রনেতারা এবং ব্যাংক এর অফিসাররা পাশাপাশি বসেই কাজ করছেন, কিন্তু কেউই কিছু বলছেন না।

দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ
যাই হউক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত ২৩৮৭ টাকা জমা দিয়ে ডিপার্টমেন্ট এ আসলাম ভর্তি ফরম জমা দিতে। আমার বন্ধুটি বলল, “আগে যে ব্যাংক এ ৩০০ টাকা আমাদের কাছ থেকে বেশি নিয়েছে চল এখন ডিপার্টমেন্ট এর স্যার কে বলি”। ফরম জমা দিতে গিয়ে যখন স্যারকে বলতে যাব তখন তিনি বললেন ৫০০ টাকা দাও। আমি বললাম “স্যার, ব্যাংক এ তো ২৩৮৭ টাকা দিয়ে এসেছি! এই যে আমার টাকা জমা দেওয়ার স্লিপ”। স্যার বললেন এটা সেমিনার রুম এর চার্য। যারা এই ততাকথিত সেমিনার রুম বাবদ ৫০০ টাকা দিতে পারেনি তাদের ভর্তি নেওয়া হয়নি। অথচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সর্বপ্রকারের চার্য দেখিয়েই ২৩৮৭ টাকা নির্ধারন করেছে। মনে মনে চিন্তা করলাম, “যাই হউক, স্যাররা তাদের মান-সম্মান বজায় রেখেই কাজ করেছেন(!), যদি তারাও ৩০০ টাকাই নিতেন তাহলেতো ছাত্র আর শিক্ষকের মধ্যে কোন পার্থক্যই থাকতো না, তারা বরং একদাপ এগিয়ে আছেন।

তৃতীয় অধ্যায়ঃ
ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন, আমরা দুই বন্ধু বেজায় খুশি। আমি আমার বন্ধুকে বললাম, “তুই যেহেতু সিলেট থেকে আসবি তাহলে ডিপার্টমেন্ট এর পিয়ন যিনি আছেন তার মোবাইল নম্বরটি নিয়ে নে, তাহলে আসার আগে যেকোন বিষয়ে উনাকে কল দিয়ে আসতে পারবি”। ডিপার্টমেন্ট এর পিয়ন মামুন সাহেব, উনাকে বললাম “ভাই, আপনার মোবাইল নম্বরটি দেন, যেকোন প্রয়োজনে যেন যোগাযোগ করতে পারি”। তিনি আমাকে বললেন, “আগে ২০ট্যাকা দেন তারপর নম্বর দিমু”। আমি চিন্তা করে দেখলাম মামুন সাহেব খুব যে যুক্তি ছাড়া টাকা চেয়েছেন তা কিন্তু নয়, বরং তিনি তার জায়গা থেকে ঠিকই আছেন। যে কলেজের ছাত্র আর শিক্ষকরা দূর্নীতি করছে সেখানে পিয়নরা বাদ পরবে কেন!

পরিশিষ্ট:
যে দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এত অব্যবস্থাপনা সেই দেশের ভবিষ্যৎ যে কি হবে তা সজেই অনুমানযোগ্য। আজ যারা ছাত্র তারাই ভবিষ্যৎ এ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে, তখন যদি তারা জনগনের কাছ থেকে ট্যাক্স এর টাকাটি নিয়ে বলেন যে, যান এখন নিজের কাজ নিজে করে নেন তাহলে সাধারন জনগণের কি গতি হবে তা একটু কল্পনা করুন।