ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

প্রকৃতির কি কোন কিছুর সংস্কার করে উন্নয়ন ঘটানর ক্ষমতা আছে? আমিতো মনে করি, যে প্রকৃতির কোন কিছু উন্নয়ন করার ক্ষমতা নেই। বরং প্রকৃত সত্য তার উল্টোই বটে। কীভাবে? আপনি আপনার সাধের গাড়িটি প্রকৃতির কাছে অর্থাৎ মরুভূমি, বন অথবা কোন নির্জন এলাকায় রেখে আসুন। কয়েক বছর পর আপনি কি কি উন্নয়ন পেতে পারেন? হয়ত দেখবেন, গাড়িটির রং উঠে গেছে, জানালা ভেঙে গেছে, ময়লার পুরু স্তর পড়ে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রকৃতিকে সংস্কারের জন্য যত বেশি সময় দিবেন, সে আপনকে উপরোক্ত ধরনের আরও অনেক উন্নয়ন উপহার দিবে। একই বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর তথা সমস্ত বিশ্বের প্রতি প্রযোজ্য। যেকোন কিছুর উপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখতে পারেন। সমস্ত কিছুই প্রাকৃতিক অবস্থায় উন্নততর অবস্থা থেকে অনুন্নততর অবস্থা প্রাপ্ত হয়। সচেতন হস্তক্ষেপ ব্যতীত কোন কিছুই উন্নততর অবস্থা প্রাপ্ত হয়না।

আমি আবারও বলছি, নিজেই চিন্তা করুন। প্রকৃতি আপনার কোন কোন জিনিষের উন্নয়ন ঘটিয়েছে? আমি জানি, আপনার যুক্তিবাদী মন আমার সাথে একমত।

কেউ কেউ বলতে পারেন, ‘এই কথা জীবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কেননা, জীব জন্ম থেকে বড় হতে থাকে, বংশ বিস্তার করে; অর্থাৎ উন্নততর অবস্থায় আসতে পারে।’ আপনি আসল বিষয়টির কাছাকাছি চলে এসেছেন। কারণ, আপনি বুঝতে পেরেছেন যে চেতনশীলই কেবল কোন কিছুর পরিবর্তন করে ভালোর দিকে নিতে পারে।

পৃথিবী ছিল প্রাণহীন। যদি কেউ প্রাণ সৃষ্টি করে না থাকেন তবে তা অবশ্যই প্রকৃতির কাজ। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এটা প্রমাণ করেছে যে, জীবকোষ অনেকগুলো জৈব অণুর দ্বারা নির্মিত একটি অত্যন্ত সুগঠিত অবস্থা। সুতরাং, এই জীব কোষ জৈব অণুর চেয়ে উন্নত তর অবস্থা। একটি কোষ পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাতে প্রাণ ধারণ অসম্ভব। জৈব অণু কাকতালীয় ভাবে যদি প্রটিন তৈরিও করে, তা কোষে রূপান্তরিত হওয়ার পূর্বেই অন্য পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করে ভিন্ন পদার্থে পরিণত হবে। কারণ এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আমার কথা বুঝতে কষ্ট হলে কিছু প্রটিন অণু নিয়ে প্রকৃতির কাছে দিয়ে আসুন। কয়েক দিন পর গিয়ে কোন প্রাণবান কোষ তো দুরের কথা, আপনার প্রটিন অণুগুলোও অক্ষত অবস্থায় পাবেননা। আপনাকে বুঝতে হবে, অচেতন কোন কিছু সৃষ্টিশীল হতে পারেনা। মহান স্রষ্টাই এই সৃষ্টির কাজ করেছেন। একমাত্র তিনিই কতক জড় পদার্থকে জড় করে নতুন পদার্থের উন্নয়ন সাধন করেছেন।