ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

তোমায় সালাম।

চরম পত্র ও অস্ত্রহীন এক বীর “ এম আর আক্তার মুকুল”

‘স্বাধীনতা – মুক্তিযুদ্ধ – স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র’ একই সুতায় গাথা।স্বাধীনতা যুদ্ধ যারা দেখেছেন,তাদের পক্ষে এম আর আখতার মুকুলের অবদানের কথা ভুলে যাওয়া কোন ভাবে ই সহজ নয়। ‘স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র’ এর রঙ্গ ব্যাঙ্গাত্মক প্রচার “চরমপত্র” বাঙ্গালী মনোবল সুদৃঢ় করনে রেখেছে অবিস্মরনীয় ভূমিকা।স্বাধীন বাংলাদেশ বেতার মুক্তিযুদ্ধের প্রধান প্রচার মাধ্যম। দেশাত্মবোধক গান প্রচার ও মুক্তিযুদ্ধের খবর পরিবেশন করে স্বাধীনতায় বিরাট ভূমিকা রাখে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।কিন্তু যে অনুষ্ঠানটির জন্য প্রতিটা দিন দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতো তার নাম ছিল “চরম পত্র”। পাঠক এম আর আক্তার মুকুল। পাকসেনা আল বদর, আল সামস, রাজাকারদের দিকে একরাশ ঘৃনা,থু থু মিশ্রিত বিকৃত কন্ঠে তিনি পড়তেন – “আইজ ভেড়ামারার কাছে আমাগো বিচ্চু পোলাপাইনরা এমুন মাইর দিচে, কমসে কম তেরজন পাকি সৈন্য প্যাঁকের মধ্যে পইড়্যা কাঁতরাইতাছে”। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে তিনি বিচ্চু বলতেন।

এই দেশে স্বাধীনতার শুরুর দিকে স্বাভাবিক কারণেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময়ের দরকার হয়।অর্থাৎ ঐ সময় টিতে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে জোট গত ভাবে কোন যুদ্ধ শুরু করার মত জনমত তৈরি হইনি। পুরো দেশে মুক্তিযুদ্ধের অস্তিত্ব তখন অনেকটা স্তিমিত।সারা দেশে জরুরী অবস্থা। পাক সেনারা ঘুরে বেড়ায়, স্থানে স্থানে চেকপোস্ট। স্বাধীনতা সংগ্রাম বুঝি স্তব্ধ। চরম একটা হতাশার মধ্যে গোটা জাতি। এরকম হতাশাব্যঞ্জক সময়ে চরম পত্রই দেশবাসীকে চাঙ্গা করে রেখেছিল।স্বপ্ন দেখাল,মুক্তি যুদ্ধের বীজ বুনতে লাগলো বাঙালির মনে। “ বর্ষা আগত। সারাদেশ জলমগ্ন হবে। পাকিরা সাঁতার জানেনা। বিচ্ছুরা শুধু ওদের স্পীড বোট ফুটো করে দেবে। তারপরই কেল্লা ফতে। শত শত পাকসেনা ডুবে মারা পড়বে”। চরমপত্রের এরকম আরব্য রজনির মত কল্প কাহিনী হতাশার মাঝে নিয়ে আসত সাহস আর আশার আলো। সাহস যোগাত মুক্তি যোদ্ধা দের মনে। মনে হত যুদ্ধ জয়ের বুঝি আর দেরী নেই!সেই মহেন্দ্র ক্ষণ বুঝি এলো!

চরম পত্র স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের যেমনি শক্তি, সাহস, মনোবল বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে তেমনি যুবকদেরকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছে। জয় সুনিশ্চিত জেনে অনেক বিপথ গামী রাজাকারের দলে নাম লিখাতে বিরত থেকেছে।

আজ এম আর মুকুল আমাদের মাঝে নেই।অস্ত্র হীন এই কণ্ঠ বীর এর “চরম পত্রের” কথা জাতী ভুল বেনা কোনদিন।কিন্তু আমরা কি তাঁর যথাযোগ্য মূল্যায়ন করতে পেরেছি?আমরা নূতন প্রজন্ম কি জানি, এম এর মূকূল কে?। তার চরম পত্র টা কি? তাঁর চরম পত্র গুলো কোথাও সংরক্ষিত আছে? মুক্তিযুদ্ধের সময় এম আর আক্তার মুকুলের কন্ঠে ‘চরমপত্র’ ছিল একটি জনপ্রিয় এবং আলোচিত বিষয়।চরমপত্র’ এর অডিও ভার্সন কোথাও কারো কাছে যদি থেকে থাকে তবে লিঙ্ক করার জন্য অনুরোধ রইল। আমার কাছে টেক্সট আকারে সংকলিত আছে সেটা শেয়ার করলাম।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর।
কি পোলারে বাঘে খাইলো? শ্যাষ। আইজ থাইক্যা বঙ্গাল মুলুকে মছুয়াগো রাজত্ব শ্যাষ। ঠাস্ কইয়্যা একটা আওয়াজ হইলো। কি হইলো? কি হইলো? ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পিঁয়াজী সাবে চেয়ার থনে চিত্তর হইয়া পইড়া গেছিলো। আট হাজার আষ্টশ চুরাদি দিন আগে ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট তারিখে মুছলমান-মুছলমান ভাই-ভাই কইয়া, করাচী-লাহুর-পিন্ডির মছুয়া মহারাজরা বঙ্গাল মুলুকে যে রাজত্ব কায়েম করছিল, আইজ তার খতম্ তারাবি হইয়া গেল।

বাঙ্গালি পোলাপান বিচ্চুরা দুইশ পঁয়ষট্টি দিন ধইড়া বাঙ্গাল মুলুকের ক্যাদো আর প্যাকের মইদ্দে World- এর Best পাইটিং ফোর্সগো পাইয়া, আরে বাড়িরে বাড়ি। ভোমা ভোমা সাইজের মছুয়াগুলা ঘঁত্ ঘঁত্ কইরা দম ফ্যালাইলো। ‘ইরাবতীতে জনম যার ইছামতীতে মরণ।’ আত্কা আমাগো চক বাজারের ছক্কু মিয়া ফাল্ পাইড়্যা উডলো, ‘ভাইসা’ব, আমাগো চক বাচারের চৌ-রাস্তার মাইদ্দে পাথর দিয়া একটা সাইনবোর্ড মছুয়া নামে এক কিছিমের মাল আছিলো। হেগো চোটপাট বাইড়া যাওনের গতিকে হাজারে হাজার বাঙ্গালি বিচ্চু হেগো চুটিয়া-মানে কিনা পিঁপড়ার মতো ডইল্যা শেষ করছিল। এই কিছিমের গেনজামরেই কেতাবের মাইদ্দে লিইখ্যা থুইছে ‘পিপীলিকার পাখা উঠে মরিবার তরে।’ টিক্কা-মালেক্যা গেল তল, পিঁয়াজ বলে কত জল?

২৫ শা মার্চ তারিখে সেনাপতি ইয়াহিয়া খান বাঙ্গালিগো বেশুমার মার্ডার করনের আর্ডার দিয়া কি চোটপাট। জেনারেল টিক্কা খান হেই আর্ডার পাইয়া ৩০ লাখ বাঙ্গালির খুন দিয়া গোসল করলো। তারপর, বঙ্গাল মুলুকের খাল-খন্দক, দরিয়া-পাহাড়, গেরাম-বন্দরের মাইদ্দে তৈরি হইলো বিচ্চু। ‘যেই রকম বুনোওল, সেইরকম বাঘা তেঁতুল।’ গেরামের পোলাপান যেমতে কইর্যা বদমাইশ লোকের গতরের মাইদ্দে চোত্রা পাতা ঘইস্যা দেয়, বিচ্চুগো হেই রকম কাম শুরু হইয়া গেল। হেই কাম Begin. ঢাঁই-ই-ই-ই। কি হইলো কি হইলো? ঢাকার মতিঝিলে বিচ্চুগো কারাবর হইলো।

ঘেটাঘ্যাট, ঘেটাঘ্যাট। কি হইলো? কি হইলো? অংপুরের ভুরুঙ্গামারীতে ভোমা ভোমা সাইজের মছুয়ারা হালাক হইলো। কেইসটা কি? কই না তো’ আমাগো মানিকগঞ্জ মুন্সীগঞ্জে কোনো টাইমেই মছুয়া আছিলো না তো? মেরহামত মিয়া অক্করে চিক্কুর পাইড়া উঠলো, ‘বুঝছি, বুঝছি, পুরা মছুয়া রেজিমেন্টরে আলাদা না পাইয়া প্যাক আর দরিয়ার মাইদ্দে গায়েব কইরা, কী সোন্দর দুই হাত ঝাইড়া বিচ্চুরা কইতাছে, কই না তো? এইদিকে কোনোদিন মছুয়ারা আহে নাই তো?

ব্যাস, মেসিন গানের লগে মেসিন গান; মর্টারের লগে মর্টারের বাইড়া-বাইড়ি শুরু হইয়া গেল। গাবুর বাড়ির চোটে জেনারেল টিক্কা খান খাকিস্তানে ভাগোয়াট্ হইলেন। লগে লগে আবার ছদর ইয়াহিয়া নতুন ট্রিকস কইর্যাদ কয়েকটা বাঙ্গালি হারু মালের মুখে লাগাল লাগাইয়া ‘ক্ষেমতা হস্তান্তর করছি’, বইল্যা চিল্লাইতে শুরু করলো। ঠ্যাটা মালেক্যা গবর্ণর, One Man পার্টির ছল্লু মিয়া, মাইনকার চরের আবুল কাসেম, খুলনার খবরের কাগজের হকার মাওলানা ইউসুপ্যা, জয়পুরহাটের মাওলানা আব্বাস, ফেনীর ওবায়দুল্লা মজুমদার আর বরিশালের আখতারউদ্দিন মিনিষ্টার হইলেন। হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী। পালের গোদা ছিয়াত্তর বচ্ছর বয়সের বুড়া বিল্লি আস্তে কইর্যার ছালার মাইদ্দে তবে বারাইলো। স-অ-ব কামই হিসাব মতো চলতাছে। সাতডা হারু পাট্টিরে এক গোয়ালে তুইল্যা মওলবী সাবের পেরধান মন্ত্রী হওনের চিরকিত্ হইলো। পুরানা তপনের ন্যাকড়া দিয়া উরা বাইনদ্যা বেডায় হাওয়াই জাহাজে পিন্ডি যাইয়া ছদর ইয়াহিয়া খানের অক্করে কোলের মাইদ্দে বইয়া পড়লো।

সেনাপতি ইয়াহিয়া খান যখন আন্তাজ করতে পারলো যে, কোনো ট্রিকসেই আর কাম হইতাছে না, তখন পাকিস্তান আর বঙ্গাল মুলুকের লাড়াইডারে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের গেনজাম বইল্যা চালু করণের লাইগ্যা ভট্ কইরা কইয়া বইলো, ‘আমি কিন্তু আর নিজের আটকাইয়া রাখতে পারতাছি না, আমার লগে নতুন মামু রইছে, বুড়া চাচা রইছে। আমি ইন্ডিয়া Attack করমু।’ দিনা দশেকের মাইদ্দে আমি এই কারবার করমু। এইবার আমি নিজেই পিন্ডির থনে বর্ডারে যামুগা।’ যেই কাথা, হেই কাম। মাথার Upper Chamber খালি ছদর ইয়াহিয়া- যা থাকে ডুঙ্গির কপালে কইয়া কারবার কইর্যা বইলো। কিন্তু মওলবী সাবরে আর Border-এ যাইতে হইলো না। আতকা শরাবন তহুরার গিলাস টেবিলের উপর ঠক কইরা থুইয়া দ্যাহে কী? লাড়াই রাওয়ালপিণ্ডির দরজায় আইস্যা হাজির হইছে। পাশে আজরাইল ফেরেশতা খাতা হাতে খাড়াইয়া রইছে। খাতায় লেখা সাদাপাকা মোটা মোটা ভুরু-ওয়ালা আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান, পিতা Unknown.

হ-অ-অ-অ এইদিকার খবর হুনছেন নি? সবই হবুর কারবার। হবু পেরধান মন্ত্রী চুরুল আমীন, হবু দেশরক্ষা মন্ত্রী মিয়া মোমতাজ মোহাম্মদ দৌলতানা, হবু যোগাযোগমন্ত্রী আগায় খান পাছায় খান খান আব্দুল কাইয়ুম খান, হবু পোস্টপিসের মন্ত্রী ইসলামের যম গোলাম আজম আর হবু ফরিন মিনিস্টার মদারু ভুট্টো। কেউই শপথ লইতে পারে নাইকা-টাইম শর্ট। বঙ্গাল মুলুকের বিচ্চুগো গাজুরিয়া মাইর শুরু হইয়া গেছে। ঠ্যাটা ম্যালেক্যার কী কাঁপন! মওলবী সা’বে বাংকারের মাইদ্দে বইস্যা বল পয়েন্ট কলম দিয়া গবর্ণরের পদ থাইক্যা ইসতফা দিছে। এরেই কয় ঠ্যালার নাম জশমত আলী মোল্লা। বেডায় তার স্যাঙ্গাতগো লইয়া কী সোন্দর হোটেল Intercontinental-এর মাইদ্ হান্দাইছে। কিন্তু মওলবী সা’ব বহুত লেটই কইর্যাস ফেলাইছে। আপনার ঘেটুগো খবর কি?

ছহি আজাদ পত্রিকার হরলিকের বোতল ছৈয়দ ছাহাদত্ হোসেন, মর্নিং নিউজের এসজিএম বদরুদ্দিন, ছালাউদ্দিন মোহাম্মদ, সংগ্রাম পত্রিকার মাওলানা আখতার খারুক্যা, দৈনিক পাকিস্তানের আহসান আহম্মদ আশক, পাকিস্তান অবজার্ভারের খাসির গুর্দার শুরুয়া খাওইন্যা মাহবুবুল হাক, নেশন্যাল ব্যুরোর দাড়ি নাই মাওলানা ডা: হাসান জামান-খোন্দকার আবুল হামিদ এসব মালেরা অখন কি করবো? প্রাক্তন ফরিন মিনিস্টার হরিবল হাক্ চৌধুরীর কোনো খবর নাইক্যা- সিলেটের হারু মাল চুষ পাজামা মাহমুদ আলীর কোনো আও-শব্দ পাওয়া যাইতাছে না। কি হইলো? এদ্দিন তো শাহ্ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান আর দরদী সংঘের দালাল সম্রাট এ.টি. সাদ’দীরে লইয়া খুবই তো ফাল্ পাড়াতাছিলা-মাল-পানি জিন্দাবাদ। এলায় হের করবা কি?

আমার সাজানো বাগান হুকায়া গেল। অ্যা: এ্যা: একটিং জাতিসংঘে মদারু ভুট্টো জেনারেল পিঁয়াজীর ছারেন্ডারের খবর পাইয়া একটিং করছে। পয়লা গরম, তারপর নরম হেরপর আরে কান্দনরে কান্দন! পকেটের রুমাল বাইর কইর্যাই চোখ মুইচ্ছ্যা নাক Clear কইরা লইলো। চিল্লাইয়া কইলো, ‘ছারেন্ডার-ছারেন্ডার তো’ Impos-অসম্ভব। আমরা ছারেন্ডার করমু না। আমি পাইট করমু, আমি পাইট করমু। এই না কইয়া মদারু মহারাজ আত্কা গতরের জামাকাপড় থুড়ি-ফ্রান্স-বৃটেনের খসড়া প্রস্তাব টুকরা টুকরা কইর্যার ছিইড়্যা ফেলাইয়া ঘেটমেট কইর্যা্ বাইরাইয়া গেল। বাইরাইনের টাইমে ইন্ডিয়া-রাশিয়ার লগে ফ্রান্স-বৃটেনরে তুফান গাইল। সাদা চামড়ার জেন্টেলম্যানরা খালি কইলো, ‘যার লাইগ্যা চুরি করি, হেই কয় চুর।’

জাতিসংঘ থাইক্যা আগাশাহীর রুমে আহনের লগে লগে ‘মওলবী সা’ব খবর পাইলো, ‘খেইল খতম, পয়সা হজম’। আট হাজার আষ্টশ চুরাশী দিনের সোনার হাঁস, মানে কিনা বঙ্গাল মুলুকসহ পাকিস্তান নামে দেশটা শ্যাষ হইয়া গেছে। আমগো ছক্কু মিয়া একটা গুয়ামরি হাসি দিয়া গালটার মাইদ্দে খ্যাকরানি মারলো। কইলো, ‘ভাই সাব ২৬ শে মার্চ এই মদারু ভুট্টো ঢাকার থনে করাচীতে ভাগোয়াট্ হইয়া এলান করছিল, ‘আল্লায় সারাইছে, ছদর ইয়াহিয়া বেশুমার বাঙ্গালি মার্ডারের অর্ডার দেওনের গতিকে পাকিস্তানডা বাঁইচ্যা গেল।

এলায় কেমন বুঝতাছেন? বিচ্চুগো বাড়ির চোটে হেই পাকিস্তান কেমতে কইর্যা। ফাকিঁস্তান হইয়া গেল? হেইর লাইগ্যা কইছিলাম, কি পোলারে বাঘে খাইলো? শ্যাষে। আইজ থাইক্যা বঙ্গাল মুলুকে মছুয়াগো রাজত্ব শ্যাষ।
আইজ ১৬ই ডিসেম্বর। চরমপত্রের শ্যাষের দিন আপনাগো বান্দার নামটা কইয়া যাই। বান্দার নাম এম আর আখতার মুকুল।

সারাটি জীবন কর্মব্যস্ত সৃষ্টিশীল সরলপ্রাণ অকুতোভয় নির্লোভ এই সাহসী মুক্তিযোদ্ধাকে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি। বন্ধু, তোমায় সালাম।