ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

টানা ৩৬ ঘণ্টার ঢিলে ঢালা হরতাল শেষ হয়ে গেল। মোটামুটি শান্তি পূর্ণ বলা চলে এবারের হরতাল। আমরা ও হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। একটা গুমট ভাব, একটা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে জাতী পার করলো মূল্যবান ৩৬ টি ঘণ্টা।মির্জা ফকরুল সাহেব জাতিকে স্বতস্ফূর্ত ভাবে হরতাল পালনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।যাই হোক আমরা অনেকেই ধন্য বাদ গ্রহন করতে পারিনি, পারব ও না। কেননা যেই সরকারই আসুক না কেন, আমরা হরতাল এর বি পক্ষে সব সময়। তাই জবাব স্পষ্ট, ব্যাক্তি গত ভাবে আমি হরতাল পালন করিনি। তাই ধন্যবাদ ও গ্রহন করতে পারলাম না বলে আন্তরিক ভাবে আমি দুঃখিত। কিন্তু যারা ধন্য বাদ গ্রহন করলেন তাদের কাছে কিছু প্রশ্ন রয়েছে আমার।আমরা প্রায় সময় জাতির প্রধান ২ নেত্রীর নিকট প্রশ্ন করি। আজ অভ্যাসটা একটু পরিবর্তন করলাম। ব্লগ এর সকল পাঠক ও ব্লগার দের নিকট আমার ছোট্ট কিছু প্রশ্ন।

অনেক গুলী বিষয় নিয়ে এবারের হরতাল। তবে মেজর বিষয়টি হচ্ছে “ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলকে কেন্দ্র করে” এবারের হরতাল। বাকি বিষয় গুলী নিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনায় নাই বা গেলাম। বি এন পি ও তার শরিক জামাত বলেছে এক তরফা ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। আমি যদি ভুল না জানি তবে যত দূর জানি এই আইন টি বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ রায়ের ফলে দীর্ঘ দিন যাবত এ নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটেছে। এখন ক্ষমতাসীন দলের উপর অর্থাৎ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের হাতেই নির্ভর করছে আগামী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন ও রূপরেখার পরিধি। কারণ আপীল বিভাগ তার রায়ে সংসদের উপর ছেড়ে দিয়েছে পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন তা নির্ধারন করার দায়িত্ব। বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগ সকারের দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।এর ফলে তারা যেভাবে চাইবে সেভাবেই পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল আওয়ামীলীগ কি মেজরিটির দোহাই দিয়ে এই ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন এনেছেন? নাকি সামনে আনবেন?

বি এন পি ও জামাত বলছেন আদালতের ঘাড়ের উপর বন্দুক রেখে এই সরকার পদ্ধতির বাতিল করেছেন আওয়ামীলীগ। আসলে কি তাই? আদালতের উপর ওনাদের আস্থা নাই একেবারে। অবশ্য এমনটি না হবার কারন ও আমি দেখছি না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটিকে ব্যর্থ অথবা বিকৃত করার জন্য এহেন চাতুরী ও অসাধুতা নেই, যা বিএনপি করেনি। প্রধান উপদেষ্টা পদে যাতে তাদের আজ্ঞাবাহী কোনো বিচারপতিকে বসানো যায়, সে জন্য লোকলজ্জার কোনো ধরনের তোয়াক্কা না করে বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়স নিয়ে ধূর্ত খেলা শুরু হয় গেল বি এন পি সরকারের সময় থেকে। আর তার সঞ্চালক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহন করেন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের নির্লজ্জ,ক্ষমতা লভি, পালটি বাজ নেতা ব্যারিস্টার মউদুদ। খোদ বি এন পির আর এক নেতা সা কা চৌধুরি এক সময় বলে ছিলেন ওয়ান ইলেভেন এর জন্ম দাতা ছিলেন মউদুদ।কেউ কেউ বলেন, এ জন্য ড. ইউনূসের পর ব্যারিস্টার মওদুদকেই একটা নোবেল পুরস্কার দেওয়া উচিত।

গত কাল(১২ই জুন) সংসদে বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেছেন সুন্দর একটি কথা।“ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে আদালত, আওয়ামীলীগ না, আপনারা সেইটা মানেন না। বলেন আগামী দুটি নির্বাচন এই সরকার করতে পারবে আদালত এইটা বলেছে, যদি এই ব্যবস্থায় আগামী নির্বাচন হয় তবে প্রধান উপদেষ্টা হবেন এ বি এম খাইরুল হক , আপনারা তাকেও মানবেন্ না , তবে আপনারা মানবেন টা কি?” তিনি আরও বলেন “ আপনাদের রাস্তায় জেয়ে কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়ে আসবেনা” এই প্রশ্নের জবাব বি এন পি জামাত কি ভাবে দেবে? ক্ষমতাসীন দলের সেক্রেটারি সৈয়দ আশরাফুল বলেছেন “ আন্দোলন সংগ্রাম দিয়ে আওয়ামীলীগ কে পরাজিত করা যাবেনা। আর এই গুলি আওয়ামী লীগ ভয়ও পায়না। আলোচনার মধ্যে দিয়ে ই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই আলোচনায় আসুন, জ্বালাও-পোড়াও বাদ দিন”। এখনও বলা হচ্ছে আসুন, আলোচনা করি। কিন্তু বি এন পি কেন যাচ্ছে না? হরতাল দিয়ে কি লাভ হবে? ক্ষতি যা হবার সেটা আমাদেরই হবে। হচ্ছেও।

এক সময় যে বিএনপি ও খালেদা জিয়া ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ঘোরবিরোধী, এখন তারা এই ব্যবস্থার ঘোর সমর্থক ও কাস্টোডিয়ান সেজেছেন। জোর গলায় বলছেন, এই ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।আমি ও বলছি কোন বিকল্প নেই। তবে এর জন্য হরতাল দিলেন কেন? আলোচনার পথ কি শেষ হয়ে গেল?

আপনারা হরতাল দেন। জনগন কে পালন করার জন্য বাধ্য করান। কিন্তু আপনাদের দলের নেতারা হরতাল পালন করেন না। তারা রাজ পথে থাকে, কিন্তু তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়না। দেখুন আপনাদের নেতাদের কাণ্ড! কি ভয়ানক! তারা হরতাল মানেন না!

হরতালে আপনাদের নেতাদের শিল্প প্রতিষ্ঠান কেন খোলা ছিল?

১। ঢাকার ধামরাইয়ে বি এন পির সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান বি এন পি চেয়ার পারসন এর উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ খান এর মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রি ছিল খোলা। তারা কেন হরতাল পালন করেননি?
২। চার দলীয় জোট এর সময় সাবেক হুইপ ও বি এন পি নেতা শহিদুল হোক জামাল এর কোহিনুর স্পিনিং মিলস কেন খোলা ছিল?
৩। ঢাকা ই পি জেড এলাকায় সাবেক অর্থ মন্ত্রী সাইফুর রহমান এর পুত্র এর পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল খোলা ।হরতাল তারা কেন মানে না?
৪। বি এন পির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন এর তেজগাঁও এর আরমনা ফ্যাশন ছিল খোলা। কি জবাব দেবেন?
৫। কুড়িলে বি এন পির কোষাধক্ষ্য সাবেক মন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা এর সিনহা গ্রপ ছিল খোলা।এত বড় পদ নিয়ে কেন তিনি হরতাল পালন করলেন না?
৬। বি এন পির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গিয়াস উদ্দিন কাদের চউধুরির টঙ্গির বাগারের ঢাকা ডাইং খোলা ছিল। তিনি কেমন নেতা! দলীয় কর্মসূচী মানেন না?

(খবর সুত্র: এ টি এন নিউজ)

এই হচ্ছে অবস্থা। স্ব-বিরোধী অবস্থানেই বি এন পি! তারা হরতাল ডেকে তাদের নেতাদের হরতাল পালনে বাধ্য করাতে পারেন না। আর আমদেরকে বলেন হরতাল পালন করুন।

লজ্জা লজ্জা লজ্জা লজ্জা এবং লজ্জা!

কাজেই ভবিষ্যতে হরতাল দেবার আগে ভেবে দেখবেন, হরতাল দিলে আপনার নেতা কর্মীদের প্রতিষ্ঠান গুলো অচল থাকে কিনা। নইলে বাইরে ভাং চুর করার আগে আপনাদের নেতাদের প্রতিষ্ঠান আগে ভেঙ্গে দিন।

যাই হোক আপনাদের এই ভ্যাড়া জ্বরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা বাতিল করনের প্রতিবাদে আওয়ামীলীগ এর ঘুম ভাংবেনা। মানে কিচ্ছু হবেনা। হরতাল দিয়ে বাধ্য করানো সম্ভব নয়। আলোচনার মধ্যেই আছে সঠিক সমাধান। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার জন্য আর হরতাল নয়। একবার আলোচনায় বসে দেখুন। যদি সমাধান না পান, তবে হরতাল দিয়েন।

জাতি তখন পাশে থাকবে আপনাদের। ৩৬ ঘণ্টার হরতালে জাতী কিছুই পাইনি, হরতালে জাতী কিছু পায়না। শুধু ঝড় বয়ে যায় দেশের উপর দিয়ে, টর্নেডোর আঘাতে বিখণ্ডিত হয় দেশের অর্থনীতি। ভাংচুর, অগ্নিসংযোগে রাজ পথ প্রকম্পিত হয়। মনে হয় ঝড়ের পড়ে পড়ে আছে বিরানভূমি।

এবারের হরতালে আমরা কিছুই পাইনি। শুধু প্রাপ্তি বি এন পি আর জামাতের। ওদের নেতা কর্মীরা চাঙ্গা হয়েছে, আগামীতে রাজপথ কাঁপাতে সুবিধা হবে।ওরা ওদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানা ঠিকই খোলা রাখে, আর জাতা কলে পড়ি আমরা আম জনতা। আমাদের হিসাবের খাতায় হরতাল থেকে প্রাপ্তি “ শূন্য”।
<a href=" “>মাননীয় বিরোধী দলিয় নেত্রী, আজকের হরতাল কি জন্ন?