ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ


ছেলে আমার বড় হবে
মা কে বলতো সে কথা
হবে মানুষের মত মানুষ এক
লেখা ইতিহাসের পাতায়
নিজ হাতে খেতে পারতাম না
বাবা বলতেন- ও খোকা,
যখন আমি থাকবো না
কি করবিরে বোকা?
এ যে রক্তের সাথে রক্তের টান
স্বার্থের অনেক উর্ধ্বে——

প্রতি বছর জুন মাসের ৩য় রবিবার পালিত হয় বিশ্ব বাবা দিবস। সেই হিসাবে আজ “বিশ্ব বাবা দিবস” যুক্তরাষ্ট্রে সর্ব প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয়। তবে ঠিক কবে থেকে সেটি সঠিক জানা যায়নি। কেউ কেউ বলেন, ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় চার্চের মাধ্যমে দিনটির প্রচলন। অন্যরা বলেন, ওয়াশিংটনের ভ্যাঙ্কুবারে প্রথম বাবা দিবস পালন করা হয়।

বাবা দিবসের প্রবক্তা হচ্ছেন সোনার স্মার্ট ডোড। ১৮৮২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তার জন্ম। পিতা উইলিয়াম জেকসন ছিলেন কৃষক।১৬ বৎসর বয়সে ডোড তার মা কে হারান। ষষ্ঠ সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে তিনি মারা যান বলে যানা যায়। ৬ ভাই বোন এর মধ্যে সোনারই ছিলেন একমাত্র কন্যা। সোনার একসময় অনুভব করেন তাদের মানুষ করতে তার বাবাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। সোনার এর চোখে তার বাবা ছিলেন সাহসী, নিঃস্বার্থ একজন ভালো বাবা-যিনি সন্তানদের জন্য নিজের সব সুখ-শখ, আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছিলেন। সোনার স্মার্ট বিয়ে করেন জন ব্রোস ডোডকে। তাদের সন্তান জ্যাক ডোড জন্মের কিছুকাল পরে সোনারের স্বামীও মারা যায়। এ অবস্থায় বাবা আর মেয়েতে মিলেই পুরো জীবন পার করে দেন।

বাবার প্রতি ভাল বাসা আর সন্মান যানাতে বাবা দিবস পালনের চিন্তা সোনার এর মাথায় আসে ১৯০৯ সালে। সেই বছর মা দিবসের এক অনুষ্ঠানে সোনার অংশ গ্রহন করেন। এবং তিনি ভাবতে থাকেন মা দিবস এর মত বাবা দিবস নামে একটি দিন পালন করা যায়কিনা। যেখানে মা দের পাশাপাশি বাবাদের ও ভাল বাসা যাবে, শ্রদ্ধা জানান যাবে। এই চিন্তা নিয়ে মূলত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্পোকেন মন্ত্রীজোটের কাছে তার পিতার জন্মদিন ৫ জুনকে বিশ্ব বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব পাঠান। তার প্রস্তাবের প্রশংসা করলেও মন্ত্রীজোট ৫ জুনকে বাবা দিবস ঘোষণা করতে রাজি হয়নি। তারা জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।

১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথম বাবা দিবস উদযাপিত হয় স্পোকেনস শহরে। শহরের তরুণ-তরুণীরা দুটি করে গোলাপ নিয়ে যান চার্চে। একটি লাল, অন্যটি সাদা। লাল গোলাপ জীবিত পিতাদের শুভেচ্ছার জন্য, আর সাদা গোলাপ মৃত পিতাদের। এইভাবে শুরু করেন তামাম বাব জাতীর প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসার প্রচলন। কিন্তু এই টিকে অনুমদনের জন্ন কংগ্রেস নানা দ্বিধা, দন্দে ভুগতে থাকেন। ১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বিষয়টি অনুমোদন করেন। ১৯২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কোলিজ এটিকে জাতীয় দিবসে রূপ দেন। ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন রাষ্ট্রীয়ভাবে জুনের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস উদযাপনের ঘোষণা দেন। সোনারা ডোড মারা যান ১৯৭৮ সালে। তখন তার বয়স ৯৬ বছর।

আজ বাবা দিবস। যাদের বাবা আছেন অন্তত এক বার প্রান খুলে বলুন “ বাবা আমার বাবা, বড় বেশী ভাল বাসি তোমায়। চিৎকার করে বলুন বাবা ভাল বাসি!” কিন্তু যার বাবা নেই আমার মত , আমরা কি বলবো?
বাবা তুমি নেই বলে কোন কিছু হয়তো বা থেমে নেই। বাবা তুমি নেই তবে তোমার খোকা আছে। বাবা, তুমি নেই আমার মাথার উপর ছাদ নেই, আমি একা বাবা বড় একা। তবুও বাবা বলছি তোমাকে, অনেক ভাল বাসি তোমাকে। বাবা শুনতে কি পাচ্ছ ? বড় বেশী ভাল বাসি তোমাকে। বড় বেশী। পৃথিবীর সকল বাবাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, আর ভালবাসা।