ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য


কিছুতেই যেন এস্টাবেল হচ্ছেনা দেশের ২ পুঁজি বাজার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে গেল বছর ডিসেম্বর মাসে যেই ভয়াবহ ধস নেমেছিল, সেই থেকে আজ পর্যন্ত দেশের পুঁজি বাজার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। প্যারালাইসড এর মত নির্বাক হয়ে পড়ে আছে দেশের ২ পুঁজিবাজার। শেয়ার বাজার এখন শুধু একটি স্লোগান এর উপর দাঁড়িয়ে আছে। পতন পতন আর পতন! আর কত পতন? আর কত পতন হলে মানুষ সর্বশান্ত হবে? আর কত পতন হলে লুটেরাদের লুটতরাজ বন্ধ হবে? আর কত পতন হলে আরিফ, সুমন, বাসারদের মত আরও মানুষ আত্মহত্যা করবে? আর কত পতন হলে অর্থমন্ত্রীর বোয়াল মাছের মত বড় গাল ভরা হাসি বন্ধ হবে? শেয়ারবাজার যেন আজ রাক্ষস পুরিতে পরিনত হয়েছে! সেই যে ছোট্ট বেলার গল্প! রাজ কুমারি আরামে রাক্ষস পুরিতে ঘুমিয়ে আছে, আর রাজ্যের সবার ঘুম হারাম হয়ে গ্যাসে। আমাদের দেশের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগকারীদের ঘুম হারাম হয়ে গ্যাসে। বপাম, রিভট্রিল, কযিয়াম ১০ এম জি করে ৫ টা খেলেও বিনিয়োগকারীদের ঘুম হয়না শেয়ার বাজার নামের এই রাক্ষস পুরিতে! আর সেইখানে নাকে সুরেশ খাঁটি সরিষার তেল মেখে আমাদের দেশের সরকার, রেগুলেটরটি বোর্ড ঘুম যাচ্ছে সেই রাজ কন্যার মতন!

পৃথিবী জুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। সেই সাথে আমরা আছি এই মন্দার ভিতরে। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে কোন স্টক এক্সচেঞ্জে টানা ৭ মাস দরপতন চলছে বা অতীতে চলেছে ? এমন নজির কি আছে? শুধু এই বাংলাদেশ ছাড়া? ডি এস ই’র জেনারেল ইনডেক্স ৫৭০০ এর কম। ছি এস ই’র ইনডেক্স ১০১৪৭। তার মানে ৫ বৎসর আগের যেই শেয়ার বাজার, সেইখানে চলে গেছে বর্তমান শেয়ার বাজার! কিন্তু এই পাচ বছরে শত শত কোটি টাকার আই পি ও, লক্ষ লক্ষ শেয়ার বাজারে আসলো তার হিসাবটা বিনিয়োগ কারি করবে কি ভাবে? নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ, বম্বে সেনসেক্স, সাংহাই স্টক,হাং সাং, এস টি আই, ড্যাক, জাপানের নিকি সহ তামাম দুনিয়ার শেয়ার মার্কেট শুধু সামনের দিকে অর্থাৎ আপার ট্রেন্ড এর দিকে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের দেশের অর্থনীতিতে কোন ছুনামি লেগে গেল যে আমাদের শেয়ার বাজার কেবল লোয়ার ট্রেন্ড এর দিকে প্রতিনিয়ত ধাবিত হচ্ছে? ৫ হাজার কোটি টাকার লেনদেন এখন ৩০০ কোটিতে থেমে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা এখন শেয়ারবাজারে যায় শেয়ার এর দাম কত বেড়েছে এইটা দেখতে নয়। গত কাল থেকে আজ কত লস হোল সেইটা দেখতেই তারা শেয়ার মার্কেট এর পোর্ট ফলিও দেখতে যায়। প্রতি দিন কেবল লস আর লস। কোন আস্থা নেই যেন। মনে হচ্ছে ধর্মের ষাঁড় এর মত ( যেই গরু হিন্দু ধর্মের লোকেরা ভগবানের নামে সত্ত্ব ত্যাগ পূর্বক রাস্তায় ছেড়ে দেয়) দেশের ৩৫ লাখ বিনিয়োগ কারি এদিক সেদিক ঘোরা ঘুরি করছে। কোন অভিভাবক নেই। দেখার কেউ নেই। অথচ এই পুঁজি বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করার জন্য, তাদের বিনিয়োগ করার জন্য রোড-শো, শেয়ার মেলা, শাকিল রিজভির প্রেস কনফারেন্স, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান কোন কিছুই থেমে ছিলনা এক সময়। আর আজ সব হাওয়া কে ঝুঁকা! কলকাতার ভাষায় ( ছব ছালারা ভেগে গেল দাদা বাবু!)

একুশে টিভিতে একুশে বিজনেস নামে একটি অনুষ্ঠান হয় প্রতি রবিবার থেকে বৃহস্পতি বার পর্যন্ত। শেয়ার বাযার নিয়ে দর্শক সরা সরি প্রশ্ন করে ঐ অনুষ্ঠানে। আর সেই প্রশ্নের জবাব দেন আমন্ত্রিত অতিথি। যাই হোক আজ দুপুরে দেখ ছিলাম অনুষ্ঠান টি। ( ২০ জুন, সোমবার) আজকের অতিথি ছিলেন পুজি বাযার বিশ্লেষক হাসান মাহামুদ বিপ্লব। যথারিতি অনুষ্ঠান শুরু হোল। একে একে প্রশ্ন আসতে লাগলো। আর অতিথি তার জবাব দিচ্ছিলেন। এক দর্শক ফোন দিয়ে বল্লেন, আমার শরির দিয়ে এক ফোঁটা রক্ত ও যদি ঝরে সেই রক্ত বিন্দু ও বলবে আমি আওয়ামিলিগার। তবে আমি বলছি আগামী নির্বাচনে এই দল যদি ২৫ টির বেশী আসন পায়, আমি হাঁতে চুরি পড়ে ঘুরবো” আর এক দর্শক ফোন করে বল্লেন, “ আমি ঢাকা মহানগর ছাত্র লীগ এর একজন নেতা, তাই আমার নাম বলতে আমি চাচ্ছি না। তবে আমি বলছি গত কাল বি এন পি শেয়ার বাযার এর ধস এর জন্য যেই প্রতিবাদ সভা করলো এবং তারা যদি হরতাল ও দেয় আমি সেই হরতাল পালন করবো” এইরুপ বিব্রত কর প্রশ্নের উত্তর অতিথি কি ভাবে দিবেন? লাইভ অনুষ্ঠান চলছিল। তাই সেন্সরড করার কোন উপায় ছিলনা। যাই হোক অতিথি বাধ্য হয়ে বল্লেন অর্থ মন্ত্রী অনেক উদাসিন এই শেয়ার বাযার নিয়ে। বিপ্লব ভাই আমি যানি আপনি আরও কিছু বলতে চাইছিলেন। কিন্তু লাইভ প্রোগ্রামে এর চাইতে বেশী কি আর বলা যায়? আসলে মানুষের পেটে যখন লাঠি মারা হয়, তখন মানুষ আর আবেগের ঘোর এর মধ্যে থাকতে চায়না। এটা চরম সত্যি। চোখের সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত কষ্টার্জিত অর্থ গুলী শেষ হয়ে যাচ্ছে, এটা মানা অনেক কঠিন। কারন ডিসেম্বর – জানুয়ারী মাসের শেয়ার এর দাম বর্তমানে ৬০% এর বেশী কমে গেছে। পুরাতন বিনিয়োগ কারী আজ ও বের হতে পারেনি। বর্তমান বাযারের ৯৫% বিনিয়োগ কারিই পুরাতন বিনিয়োগ কারী যারা ৬০% লস খেয়ে বসে আছে।

বর্তমান বাযারের পি রেসিও ১৫ এর নিচে! ভাবা যায়। ব্যাংক এর পি ১৫ সেভ ধরা হয়। আর অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এর পি ৪০ নিরাপদ। অথচ টোটাল বাজারের গড় প্রফিট আরনিং রেসি ও এখন ১৫ এর নিচে। তার পর ও কেন এই ধস? প্রতিদিন কেবল দর নামছে আর নামছে। ভয়া বহ এক তারল্য সংকটের মাঝে দেশের ব্যাংক গুলী ভুগছে। অথচ আতিউর সাহেব বাঁকা মুখের হাসি সুধায়ে বলে “ কোন তারল্য সংকট নেই দেশে!” ব্যাংকে ৫ লাখ টাকা আনতে গেলে বর্তমানে ২ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এটা চরম সত্ত, একমাত্র ঢাকা ছিটি ছাড়া। বড় বড় এল ছি বন্ধ! এটা ও কি মিথ্যা?

শেয়ার বাযারের ধস এই প্রথম নয়। ১৯৯৬ সময় শুরু হয় প্রথম ধস! হাযার হাযার মানুষ সেবার পথে বসে গেসেন। তত কালিন অর্থ মন্ত্রী কিব্রিয়া সাহেব বলেছিলেন “ তিনি শেয়ার বাযার বুঝেন না” সেই বার ধস এর পেছনে আরও একটি যুক্তি ছিল। সেটি হচ্ছে তখন সব শেয়ার ছিল কাগুজে। ডাকের মাধ্যমে তখন শেয়ার বেচা কেনা হোতো। কাযেই অনেক ভুয়া শেয়ার তখন বাযারে সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এইবার? এখন তো অন লাইনে ট্রেডিং হয়। ছি ডি বি এল আছে। কাগুজে শেয়ার বাযার নেই। যদি থাকে সেইটি ও টি ছি মার্কেটে পাঠান হয়। এবারের ধস কেন? গত বার এর মতন এবার পি এম বলেছেন “ আমি শেয়ার মার্কেট বুঝিনা”। বোঝার কোন দরকার নেই। প্রধানমন্ত্রী সব বিষয় বুঝবেন্না বলেই উপদেষ্টা নিয়োগ দেন। কিন্তু তার অর্থ উপদেষ্টা ডক্টর মশিউর রহমান যখন বলেন “ শেয়ার বাযার দেশের অর্থ নীতিতে কোন অবদান রাখেনা” তখন রাস্তার মুচি ও হাসে! হায়রে অর্থ উপদেষ্টা! হাযার হাযার কোটি টাকা হাউয গুলী ট্যাক্স দিচ্ছে, লক্ষ লোকের কর্ম সংস্থান হচ্ছে এই দেশে, যেইখানে চাকরি নামের সোনার হরিন টি ধরতে জুতার তলানি খুয়ে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে চাকরি তো দিতে পারেন নি আমাদের এই সরকার! তবে সেই সব দিন আনে দিন খায় মানুষ দের রুজির উপর শকুনির ললুপ দৃষ্টি কেন ?

অনেক আশা ছিল তদন্ত রিপোর্ট আসবে। আসলো কিন্তু কত টাল বাহান! এইবার বিচার করুন! কার বিচার করবেন। ফালু, বাদল এর? নাকি সাল মান এফ রহমান, লোটাস কামা ল, ইকবাল, না ফারুক খান ও তার ভাই আজিজ খানএর। কিনা ধংসারতক কর্ম কাণ্ড চালিয়েছেন? বুক বিল্ডিং এর মাধ্যমে ১০০ টাকার শেয়ার ১৮০০ টাকায়। হায় রে এস এ ছি! ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে কাদের পারপাস সারভ করলেন? কত বিক্ষোভ কত আন্দোলন কত হা হা কার এমন কি আত্মহত্যা! কোন কিছু কি কঠোর প্রোটকল ভেদ করে প্রধান মন্ত্রীর কান পর্যন্ত পউছাইনি?

ছোট্ট একটি হিসাব দিচ্ছি। একজন এম পি কত ভোটে নির্বাচিত হন? ৩৩ লাখ বিনিয়োগ কারী দের সাথে তার পরিবারের ৪ জন সদস্য ও যদি থাকেন তবে কত দাড়ায়? ১২০০০০০০ এর বেশী। এর মধ্যে অর্ধেক ভোট ও যদি কেটে যায় তবে আওয়ামীলীগ এর জন্য এটি কি হুমকি হয়ে দাড়ায়? অনেকে বল্বেন এমনটি হবেনা। কিন্তু আমি বলি যেই ব্যাক্তি সর্ব শান্ত হলেন সেই ব্যাক্তির সাথে তার পরিবার ও শেষ হয়ে গেলন। তারা কি ভোট এর সময় দীর্ঘশ্বাস একটি বার ও ফেল বেন্না? অন্তত ৪০ লাখ ভোট কি ক্ষমতাসীন দের বিপক্ষে যাবেনা?
চরম সত্য হচ্ছে এই যে, ২ বার ই বাংলাদেশের ইতিহাসে শেয়ার বাযার এর যেই আগ্রাসী ধস, সেই দুই বার ই ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ! এরা যে ক্ষমতায় এলে শেয়ার বাযার শেষ হয়ে যায়, এটি রবি বারের পরে সোম বার যেমন সত্য, ঠিক এটি ও তেমন সত্য। কেন তারা বাযার কন্ট্রোল করতে পারলনা? বি এন পির সময় হাযার ও অপ কর্ম ছিল। কিন্তু পুজি বাযার টি ঠিক ছিল। এই সরকার এলেই কেন পুজি বাযার বাবল হয়ে যায়? আবার বাবল হয়ে ফেটে যায়? প্রধান মন্ত্রী কি আগামী ভোটের হিসাব টি একটু ভেবে দেখ বেন? অর্থ মন্ত্রী বিরোধী দলের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বলেন বোগাস! কেন পদ ত্যাগ এর কথা বলবেন না বিরোধী দল। আপনাদের ভুল ধরার জন্য তো খাপ পেতে বসে থাকবে বিরোধী দল। বিরোধী দলের অনেক যুক্তি অ যৌক্তিক। তবে শেয়ার বাযার নিয়ে তাদের লজিক কি ভুল? তাদের সময় তো পুজি বাযার অনেক ভাল না থাকলেও বাবল হয়ে ফেটে যায়নি? কাযেই এই বাহা দুরি তারা তো করতেই পারে।

আসলে আওয়ামী পাপে ভুগছে দেশের পুজি বাযার। কেমন যেন একটি পাপ করেছে এই ক্ষমতাসীন দলটি। এরা ক্ষমতায় এলে পুযি বাযার দিয়ে মা লক্ষি মুখ ফিরেয়ে নেয়। শনি আর রাহু গ্রাস করে পুযিবাযারে। এরা ক্ষমতায় এলে পুজি বাযার শেষ হয়ে যায়, যায় ই এটা ইতিহাস হয়ে গেল। ৯৬ এর ধস এর ৫০ গুন ধস এবারের ২০১০ ও ২০১১ এর শেয়ার বাযারে। কেন? তবে কি আওয়ামী পাপে পাপিষ্ঠ দেশের পুজি বাযার?