ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের স্পাইনাল কডে এক ধরনের এনেসথেসিয়া দেওয়া রয়েছে বলে মনে হয়। এনেসথেসিয়া দিলে একটি মানুষ অজ্ঞান ও অনুভূতিহীন হয়ে যায়। স্পাইনাল কড আমাদের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সহায়তা করে।সেই খানে এনেসথেসিয়া দিলে ঐ মানুষটি মেরুদণ্ড হীন হয়ে যায়। নিজের উপর ভরসা করতে পারেনা। অন্নের কাঁধের পর ভর করে চলতে হয়। ঠিক তেমনটি অবস্থা যেন আমাদের দেশের কতিপয় রাজনীতিবিদদের।এরা যেই ভাবে মেরুদণ্ডহীন হয়ে যাচ্ছে তাতে করে মনে হয় এই সব রাজনীতিবিদদের স্পাইনাল কডে এক ধরনের এনেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছে।

আমার বিভিন্ন লেখায় আমি বলেছি এই দেশে মাত্র দুই টি রাজনৈতিক দল। একটি স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি। অন্যটি স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি। যাই হোক আমাদের দেশের বাম দল গুলী মুক্তিযুদ্ধর চেতনায় বিশ্বাসী। যদিয় এদের ভোটের হিসাব নিকাশ করলে দেখা যায় ৩০০ টি আসনের মধ্যে একটি আসনেও একক ভাবে জয়লাভ করার কোন যোগ্যতা এদের নেই।তার পর ও এরা কথিত ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং স্বাধীনতা বিরোধী চক্র জামাত গং এর চাইতে অনেক বেশী দেশ প্রেমিক। এবং এদের হাত থেকে দেশ নিরাপদ। অন্তত জামাত এর চাইতে।

বাংলাদেশের একাধিক বামদলের একাধিক নেতার মধ্যে অন্নতম পুরধা মিঃ রাশেদ খান মেনন। এবং মিঃ হাসানুল হক ইনু। তারা যথাক্রমে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদ এর সভাপতি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এই দুটি দল গেলো নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ এর নেত্রীত্বে মহাজোটের অন্যতম শরিক। এবং তারা উক্ত নির্বাচনে ৫ টি আসনে জয় লাভ ও করেন। যথেষ্ট যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এই দুই জন কেউ ই মন্ত্রিত্ব পায়নি। অপেক্ষা কৃত অনুজ্জ্বল সাম্যবাদী দলের দিলিপ বড়ুয়া কিন্তু ঠিক ই পেয়ে গেছেন পুরা মন্ত্রাণালয় এর দায়িত্ব। অন্তত মেনন একটি মন্ত্রনালয় এর দায়িত্ব পাবেন বলে প্রথম দিকে মনে হলেও শেষ পর্যন্ত সেই আশা পূর্ণ হয়নি মেনন এর।

বাম দল গুলির নিজস্ব কিছু নীতি রয়েছে। সেই গুলী ডান দলের থেকে একটু ভিন্ন। আর ভিন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। তা নাহলে ডান আর বাম দুটি পার্থক্য হবে কেন? যাই হোক আজকের আমার লেখার শিরোনাম টি দুই নক্ষত্রের পতন! রাশেদ খান মেনন আর ইনু সাহেব তাদের বাম নীতি থেকে ডান নীতিতে চলে এসেছেন। এটি ডান পন্থীদের দের জন্য সুখবর সেই সাথে বাম পন্থীদের জন্য এটি একটি লজ্জা জনক এবং বিব্রত কর এক অধ্যায় এর সুচনা। জদিয় বা নির্বাচন এর পূর্ব মুহূর্তে আলোচিত আর সমালোচিত ছিলেন এই দুই নেতা। কারন নৌকা প্রতিক ছাড়া নির্বাচন করতে তারা সাহস পাননি।এবং তারা এটি ও জানতেন নৌকা প্রতিক ছাড়া তাদের গ্রহন যোগ্যতা কতটুকু? এবং শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতিক নিয়ে তারা বিজয়ি হয়েছেন।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ বহাল রেখে শেষ পর্যন্ত পাস হয়ে গেলো সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী। এবং এটি শেষমেশ কবুল করলেন মহাজোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। অথচ নৌকা প্রতিক নিয়ে বিজয়ি এই দুই নেতা সংবিধানে বিসমিল্লাহর অন্তর্ভুক্তি ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মঞ্চ কাঁপিয়ে আসছিলেন। উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে শাসক দল আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করলেও বিদ্যমান বাস্তবতায় মুসলিম দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখেন।

কিন্তু নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী মেনন-ইনু এর বিরোধিতা করেন। তারা সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটিতে নোট অব ডিসেন্ট দেন। তারা সংসদে সংশোধনীও দিয়েছিলেন। কিন্তু এই পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে পাসের সময় বিভক্তি ভোট এলে তারা নানান নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্যপদ রক্ষায় শেষ পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন। না ভোটের লবি থেকে হ্যাঁ ভোটের লবিতে ছুটে গিয়ে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ কবুল করলেন মেনন-ইনু। তাদের সঙ্গে যোগ দেন ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, জাসদের মঈনুদ্দিন খান বাদল, শাহ জিকরুল আলম ও ন্যাপের আমিনা আহমেদ। বিলে তাদের দেওয়া সংশোধনীগুলো গৃহীত না হওয়ায় তারা প্রথমে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা তাদের বোঝান ভোটদানে বিরত থাকলে ফ্লোর ক্রসিং হবে এবং সংসদ সদস্যপদ হারাতে হবে। কারণ, সব বাম নেতাই আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা নিয়ে সংসদে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। এ পরিস্থিতিতে বাম নেতারা দোটানায় পড়ে যান। তবে ভোট প্রদানের সময় তারা তাদের সংশোধনীগুলো উল্লেখ করে ভোট দেন। বাম নেতাদের এ আচরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের সিনিয়র নেতাদের বিরক্ত প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বিভক্তি ভোট দানের সময় স্পিকার বলেন, যারা সংশোধনীর পক্ষে ভোট দেবেন তারা হ্যাঁ লবিতে যাবেন, আর যারা না ভোট দেবেন তারা না লবিতে যাবেন। যারা ভোট দানে বিরত থাকবেন তারা সংসদের নিজ আসনে বসে থাকবেন। বাম নেতারা বিভক্তি ভোট চলাকালে নিজ আসনে বসে থেকে ভোট দানে বিরত থাকেন। এতে আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এ সময় দলের সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু মেননের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের সম্পর্ক কাজে লাগাতে চান। তিনি রাশেদ খান মেননকে ভোট দিতে অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছুটে যান বাম নেতাদের কাছে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের অনুরোধও বাম নেতারা প্রত্যাখ্যান করলে শেখ সেলিম ও সৈয়দ আশরাফ প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানান। পরে সংসদ সদস্যপদ হারানোর ব্যাপারে জানানো হলে বাম নেতারা সংসদ লবিতে গিয়ে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ মেনে নিয়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর পক্ষে ভোট দেন।

( উপরক্ত তিনটি প্যারা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন থেকে নেওয়া)

এখন আমার প্রশ্ন সংসদ সদস্য পদ বাঁচানোর জন্য যেই আপোষ করলেন মেনন ও ইনু সেই সাথে ফজলে হোসেন বাদশা, মঈনুদ্দিন খান বাদল, শাহ জিকরুল আলম ও আমিনা আহমেদ। এটি কি সকল বাম দলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হয়ে গেলো? এরা কি এদের বামপন্থী দল ত্যাগ করলেন?নাকি এটি তাদের নিতির সাথে আপোষ?এদের আদর্শ আর ক্ষমতার ঐ মসনদ এই দুটির সাথে অন্য বাম দল গুলী সেতু বন্ধন করবেন কি ভাবে? অন্য ভাবে যদি বলি এই বামদল গুলী পরিস্থিতির স্বীকার হলেন তবে এটির গ্রহন যোগ্যতা ই বা কতটুকু? সাম্রাজ্যবাদ আর বিদেশি প্রভুদের বিরুদ্ধে সর্বদা বিদ্রোহী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এই বাম দল গুলীর একটি অংশ কেন আপোষ করলেন? সংসদ সদস্য পদ কি সত্যি ই বাতিল হয়ে যেত যদি তারা শেখ হাসিনার ঐ নিয়ামক কবুল না করতেন? এইদেশের অধিকাংশ রাজনীতিবিদরা যে মেরুদণ্ডহীন এটি কি বাম দলের এই নেতার আবার ও প্রমান করলেন?