ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলকে কেন্দ্র করে জামাত ইসলামি আগামী ৬ই জুলাই ভোর থেকে ৮ই জুলাই ভোর পর্যন্ত হরতাল ডেকেছেন। সেই আগুনে আবার ঘি ঢেলেছেন বি এন পি। যুগপৎ ও অভিন্ন আন্দোলনের যেই ঘোষণা দিয়েছিলেন মির্জা ফকরুল ইসলাম তার বাস্তবায়ন হচ্ছে আগামী ৪৮ ঘণ্টার হরতাল! হরতাল সফল করার জন্য কিছুক্ষণ আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে জামাতের এক নেতা জাতিকে হরতাল পালন এর জন্য আহবান জানান। সেই সাথে এটি যখন লিখছি তখন পর্যন্ত বি এন পি কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে কিছু খন এর মধ্যেই জানাবেন বলে ইটিভির এক নিউজে যানা জায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল কে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ যে গরম হয়ে উঠলো এবং আবার ও যে সেই মহা প্রলয় এর অপেক্ষা করছে জাতীর জন্য, এটি বোধ হয় ইতিমধ্যেই সবাই বুঝে গেছেন। রমজান এর বাকি আর অল্প কিছু দিন। এর পূর্বে ই হরতাল এর আগমন! যদিও গেলো বৎসর ও এমনটি করেছিল এই বি এন পি। এবার তার ব্যাতিক্রম হবে এটি বা ভাবি কি ভাবে?

জামাত এর বহুদিনের একটি স্বপ্ন পুরন হতে চলেছে। গেলো নির্বাচনে ভরাডুবি, সেই সাথে শীর্ষ নেতাদের বন্দী দশা থেকে মুক্তি লাভ এর জন্য এতদিন রাজপথে একেবারে দাড়াতে পারেনি এই জামাত। হরতালে পিকেটিং তো দূরে থাক কোন হরতাল সফল মিছিলে ২০ জন কে ও খুঁজে পাওয়া যাইনি। বহুদিনের লালিত স্বপ্ন যদি বি এন পির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে একটি কোঠর কর্মসূচী দেওয়া জায় তবে যুদ্ধ অপরাধীদের ইস্যু কিছুটা বিলম্বিত হবে বলে জামাত মনে করেন। ইতি মধ্যেই তারা সারা দেশে তাদের বন্দী নেতা নিজামি, সাইদি, মুজাহিদ, কামরুজ্জামান দের ছবি দিয়ে পোস্টার বের করেছেন। আর তাতে লিখেছেন বিনা দোষে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। এই প্রহসনের বিচার নাকি জাতি মানেনা!

যাই হোক প্রহসনের এই বিচার জাতী মানবে কি মানবে না সেটি জাতী বুঝবে। তবে বি এন পির ঘাড়ে বন্দুক রেখে যে জামাত আবার ও গুলী করতে চাচ্ছে সেটি বুঝবার আর বাকি কিছু নেই। এবার দেখা যাক কি করতে পারে জামাত আর বি এন পি এবারের হরতালে? তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল আবার পুনরুদ্ধার করতে পারে কিনা জামাত বিএনপি। সেই সাথে এটি ও দেখার বিষয় যুদ্ধ অপরাধী দের বাঁচানোর অন্নতম কৌশল করছে কি না এই জামাত? এটি কি জামাতের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থা বাতিল এর প্রতিবাদে হরতাল নাকি যুদ্ধ অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য হরতাল? সেই সাথে জামাতের এই কর্মকাণ্ড কতখানি বি এন পি পরোক্ষ সমর্থন দিচ্ছেন সেটিও দেখার বিষয়! কারন আদর্শ আর নীতিগত কারনে বি এন পি তো সরা সরি যুদ্ধ অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান করতে পারেনা! তাই বি এন পি এই দাবিটিও করতে পারেনা যে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার বন্ধ করা হোক। তাই ডিপ্লোম্যাটিক চাল চালতে চায় কি বি এন পি এটি ও দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার হরতালে জাতী কি পাচ্ছে এটি দেখার জন্য তীর্থের কাক হয়ে প্রতীক্ষায় রইলাম!

***
ফিচার পোস্ট: দৈনিক সমকাল, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক সকালের খবর, দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার ০৩ জুলাই ২০১১ অনলাইন সংস্করণ থেকে তৈরী গ্রাফিক্স