ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

জ্বালাও পোড়াও এর নাম কি হরতাল? ( ছবি দৈনিক ভোরের কাগজ)

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো বাকি প্রায় আড়াই বছর। সেইটি খুব কম সময় নয়। কিন্তু এর মধ্যে দেশের রাজনীতি এক চরম সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল আইন টি সংসদে পাস হবার পর পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে আসছে। দিনের পর দিন এক অজানা এক অচেনা শংকার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করছে এই দেশের অতি সাধারন মানুষ। কি হচ্ছে বা কি হতে যাচ্ছে এইরূপ অনেক প্রশ্নের মধ্য দিয়ে সাধারন মানুষগুলী তার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছে। দেশের এই চরম অ-স্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে কেবল সাধারন মানুষ ই নয়, দেশের ব্যাবসায়ি মহল গুলী ও চরম আর্থিক উৎকণ্ঠার মধ্যে কঠিন এক দুঃসময় পার করছেন। বিবেক বান, দেশ প্রেমিক, সাধারন মানুষ গুলির প্রশ্ন, “ আমার প্রান প্রিয় দেশ টি কোথায় যাচ্ছে”?

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল হবার পরই মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী প্রেস সম্মেলনে বলেছিলেন,

সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠলো

আপাত দৃষ্টিতে তো তাই ই মনে হচ্ছে। তবে যেই সংঘাত এর কথা মাননীয় বিরোধী নেত্রী বলেছিলেন সেই সংঘাত এর সূত্রপাত কি হরতাল এর মধ্য দিয়েই শুরু হবে? হরতাল নামের এই শব্দটি আমরা ভুলতে বসেছিলাম ২০০৭ সালের ১/১১ এর পর থেকে। ঐ সময় এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টি এই দেশের রাজনীতিবিদদের কাছে কাম্য না হলেও হরতাল নামের এই মরন ব্যাধি থেকে দেশ ও জাতী মুক্ত ছিল। তাই মইন আর ফখরুদ্দিন এর আমলে যদি কোন একটি পূর্ণ কাজ হয়ে থাকে তবে আমি বলবো সাধারন মানুষ আরামে ঘুমিয়েছিল ঐ সময়টিতে। ঐ অবৈধ সরকার হরতাল নামের একটি ব্যাধি থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছিলেন।

গত ১২-১৩ জুন টানা ৩৬ ঘন্টা হরতাল ডেকেছিল বিএনপি তথা চারদলীয় জোট। সেই রেশ কাটতে না কাটতে বিরোধী দলের সাথে তাল মিলিয়ে হরতালসহ মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তেল-গ্যাস বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। গভীর সমুদ্রের ১০ ও ১১ নং ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত ১৬ জুন পেট্রোবাংলার সঙ্গে মার্কিন কোম্পানি কনোকো ফিলিপসের উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি) সম্পাদনের প্রতিবাদে গত ৩ জুলাই ঢাকায় অর্ধদিবস হরতালসহ ২০ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত টানা কর্মসূচি ডেকেছিল জাতীয় কমিটি।সেই কর্মসূচী শেষ হতে না হতে ই আবার আজকের বিরোধী দলের টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল এর কর্ম সূচি চলছে। আবার এই কর্ম সূচি যখন শেষ হবে ঠিক তার পর ১২ টি ইসলামি দলের ডাকা আগামী ১০ ও ১১ জুলাই তারিখের ৪৮ ঘণ্টার হরতাল। এই যেন হরতাল এর মিলন মেল। পালা করে বিরোধী দল গুলী যেই ভাবে একের পর এক হরতাল কর্ম সূচি দিচ্ছেন, তাতে দেশ টা রসাতলের একেবারে গভীরেই গিয়ে ঠেকছে।

বিএনপি বলেছেন-২০১১ সাল হবে আন্দোলন-হরতালের বছর। তারা ২০১১ সাল আন্দোলন এবং হরতালের বছর হিসেবে ঘোষনা দিয়েছে।একটি সভ্য গনতন্ত্র কামি দেশের সভ্য রাজনীতি বিদদের মুখ থেকে এই ধরনের মন্তব্য শুনলে মনে হয় সভ্যতার আড়ালে মুখোশ পরা কত বড় অসভ্য মানুষ।যারা এই দেশের রাজনীতিতে মদদ দেয়। হরতাল সাংবিধানিক অধিকার নয়, হরতাল গণতান্ত্রিক অধিকার ও নয়।অনেক রাজনীতিবিদরা বলে থাকেন ‘হরতাল নাকি কী সাংবিধানিক অধিকার?’ সেই সব রাজনীতিবিদদের কাছে প্রশ্ন আমাদের সাধারন মানুষদের, সংবিধানের কোনো পাতায় হরতাল নামক কথাটি লিপিবদ্ধ আছে?। যদি না থাকে তাহলে কেন এই হরতাল? এই হরতাল কি রাজনীতিবিদদের জন্য নাকি জনগনের জন্য? রাষ্ট্রের জনগন এর জন্য যদি হরতাল নামের এই নিয়ামক দেওয়া হয় তবে সেই রাষ্ট্রের জনগন হরতাল নামের এই অপয়া শব্দটি চায় কিনা তার জন্য একটি জনমত নেওয়া যেতে পারে। হরতাল এর জন্য প্রয়োজনে হ্যাঁ বা না ভোট এর ব্যাবস্থা করা হোক। তাতে যদি হরতালের পক্ষে মানুষ এর সমর্থন থাকে সেই হরতাল দেশ ও জাতী মেনে নেবে। আর যদি উত্তর না হয় তবে এখনই সময় এটিকে প্রতিহত করার।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই পর্যন্ত কত বার হরতাল হয়েছে তার সূ স্পষ্ট তথ্য কারো কাছে যানা নেই। স্বৈরাচার এরশাদ পতন এর ৯০ এর যেই আন্দোলন সেটি ছিল গনতন্ত্র ফিরে পাবার আন্দোলন। কিন্তু গনতন্ত্রের জন্য ৯০ এর আন্দোলনের সেই ভয়াবহ দিন গুলি আজও ঘুরে ফিরে আসছে বার বার। তবে এখন কার হরতাল কি গনতন্ত্র মুক্তির অস্ত্র হিসাবে ব্যবহিত হচ্ছে, নাকি রাজনীতির মাঠে বিরোধী দলের শক্তি প্রদর্শন এর জন্য সিংহ আর নেকড়ের লড়াই দেখছি আমরা? বরাবর ই দেখেছি যারা ক্ষমতায় থাকেন তারা সিংহ আর ক্ষমতার বাইরে চলে গেলেই নেকড়ে হয়ে হাউ মাউ করে রাজনীতিবিদেরা। ক্ষমতায় থাকলে হরতাল হারাম, আর ক্ষমতার বাইরে চলে গেলেই হরতাল জায়েজ। কোন কোন অতি নারায়ে তাববীরপন্থীরা হরতালকে ফরজ ও বলেন।১৯৭২ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কমপক্ষে ৪৩৩টি পূর্ণ দিবস ও ৫৭৯টি অর্ধদিবস হরতাল মিলে মোট ১০১২টি হরতাল পালিত হয়েছে। এইভাবে ২০০০ থেকে ২০০৭ এর ১/১১ এর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত এই দেশের রাজনৈতিক দল গুলী অসংখ্য লাগাতার হরতাল পালন করেছেন। তবে গেলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার এর সময় এই দেশের রাজনীতিবিদেরা হরতাল এর মত কোন কর্মসূচী দেখানোর সাহস তারা পাননি।

একদিনের হরতালে রাষ্ট্রের কত শত হাজার কোঁটি টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন হয় সেই ফিরিস্তি দেশের সকল হরতাল পালনকারী রাজনৈতিক দল গুলী জানে।ইউ এন ডিপির একটি রিপোর্টে ২০০৫ সালে প্রকাশিত এক তথ্য অনুযায়ী ১৯৯০-১৯৯১ অর্থ বছর থেকে হরতালের কারণে প্রতি অর্থ বছরে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গড়ে ক্ষতি হয়েছে ৮৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের মত একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের পক্ষে একটি বিরাট ঝুঁকি। হরতালে ক্ষয়ক্ষতি হয় রাষ্ট্রের, হরতালে ক্ষয়ক্ষতি হয় দেশের জনগনের। আর এ থেকে ফায়দা লুটে রাজনৈতিক দলগুলো। সময় এর দিকে ফিরে তাকালে দেখা জায় হরতাল করেছে সবাই। আওয়ামীলীগ কখানো বা বিএনপি অথবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দল। এসব দল গুলী ক্ষমতায় থাকলে হরতালকে প্রতিহত করে আবার বিরোধী দলে থাকলে হরতালকে প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে ব্যাবহার করে। মাঝ খান দিয়ে যেই ক্ষতি সেইটি হয়ে জায় দেশের। আর জনগণকে সেই ক্ষয়ক্ষতির দায়ভার বহন করতে হয়। হরতাল মানেই জন দুর্ভগ, হরতাল মানেই গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, যোগাযোগ ব্যাবস্থা বিচ্ছিন্ন। এই যেন স্বাধীন দেশে বাস করে পাকিস্থান নামক সেই পরাধীন দেশে বাস করার মত পরাধীনতার দাসত্বে বন্দী জীবন।

বুধবার ভোর থেকে শুরু হতে যাওয়া ৪৮ ঘণ্টার হরতাল সফল করার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য এই হরতাল দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আরও বলেন

বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য এই হরতাল দেওয়া হয়েছে।

আজ এই বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার চাইতে আর কোন বড় দেশ প্রেমিক কি আছে? দেশের প্রতি কত ভালবাসা তার! তিনি আজ ক্ষমতায় যাবার জন্য নয়, গণতন্ত্রের জন্য হরতাল আহ্বান করেছেন। তার মুখে এই কথা শুনলে ভুতের মুখে রাম রাম এর সেই প্রচলিত শব্দটির কথা মনে পড়ে জায়। দেশের সবচাইতে বড় স্ব ঘোষিত এই গনতন্ত্র কামি নেত্রী একদা ছিলেন গণতন্ত্র হত্যাকারী! এই খালেদা জিয়া একদা নিজের হাঁতে গনতন্ত্র ধংস করেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বিতর্কিত করতে এমন কোন অবৈধ পন্থা নেই যে তিনি সেইটা করেন নি। ৯৬ এর ১৫ ই ফেব্রুয়ারীর সেই কলংকিত নির্বাচন দেশ ও জাতী আজও ভুলেনি। আজকের এই গনতন্ত্র কামি নেত্রী সেই দিন বলেছিলেন “ পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ ই নিরপেক্ষ নয়” আর আজ তিনি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার খুজতে হরতাল আহ্বান করেছেন! ১/১১ এর পূর্বে ক্ষমতার আসনে এই বি এন পি সরকার থাকা কালিন অবস্থায় আজ্ঞাবাহী কাউকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধান করার জন্য বিচারক দের বয়স বাড়ানোর ধূর্ত সেই খেলা কি মানুষ ভুলে গেছে? কে এম হাসান, আজিজ গংদের পুতুল বানিয়ে সুতা নিজেদের হাঁতে রেখে পুতুল নাচন ও জাতী দেখেছে। নির্লজ্জ, বেহায়ার মত হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন এর জন্য কত টাল বাহানা! সেই কারনে গন বিক্ষোভ। এবং ১/১১ এর প্রেক্ষাপট সৃষ্টি কারী এই বি এন পি আজ দেশের সব চাইতে গনতন্ত্র প্রেমী!

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়ের সম্পাদিত চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন,

ওই সব চুক্তিতে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। ২৫ বছরের গোলামি চুক্তি দেশের স্বাধীনতাবিরোধী চুক্তি ছিলো। এবারও বর্তমান সরকার যেসব চুক্তি করেছে তাতে দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়নি।

জনগণ জেনে যাবে- এই ভয়ে তারা ওইসব চুক্তি সংসদে উপস্থাপনও করেনি। এসব চুক্তি করে সরকার শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছে।

হাসি পায় আবারো এই নেত্রীর ভারত ভিতি দেখে। সেই সাথে ও লজ্জা ও লাগে শহীদ দের রক্তের প্রতি তার কৃত্রিম ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখে। ক্ষমতার জন্য যেই জোট বেধেছিলেন জামাতের সাথে সেইটি অপরাধ নয়। কিন্তু ঘাতকের গাড়িতে যখন আমার মা বোন আর লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ এর বিনিময়ে অর্জিত দেশের স্বাধীন পতাকা যখন উড়িয়ে দিলেন তখন শহীদদের রক্তের উপর কি খ্যামটা নাচ নেচেছেন? নাকি শহীদদের রক্তের প্রতি শ্রদ্ধাভরে মাথা নত করেছিলেন? আপনারা পারেন ও। একজন সেক্টর প্রধান বীর মুক্তি যোদ্ধার হাঁতে সৃষ্টি দলের মন্ত্রী সভায় রাজাকারদের অধিপত্য, আর সেই রাজাকার দের গাড়িতে পতাকা বেঁধে দিয়ে যেই পাপ আপনি করেছিলেন তার জন্য আগে ক্ষমা চেয়ে নিন। তারপর না হয় শেখ হাসিনা ক্ষমা চাইবে ভারতের সাথে গোলামির চুক্তি বাস্তবায়ন এর অপরাধে!আজকের হরতাল গণতন্ত্রের জন্য নয়। আজকের হরতাল দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য নয়। দেশের মানুষ কেউ হরতাল চায়না। আজকের হরতাল বিরোধী শিবিরের নিজেদের ক্ষমতার পথ আবিস্কারের জন্য নিজেদের শক্তি, কর্মীদের মনোবল, বৃদ্ধি, সেই সাথে জামাতের যুদ্ধ অপরাধ মামলা গুলী স্থবির করার জন্য এক রাজনৈতিক অপ কৌশল।

একটি বিষয় বেশ উদ্বেগ এর সাথে লক্ষ করা যাচ্ছে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধী দলগুলো যেই হরতাল দিচ্ছে সেইটি সাপ্তাহিক ছুটির আগের এবং পরের দিনগুলোতে। অর্থাৎ রবি সোম বার অথবা বুধ বৃহস্পতি বার। এতে দেশটা কয়েক দিন স্থবির থাকবে; স্থবির থাকবে দেশের অর্থনীতি, পুরা সপ্তাহ হরতাল এর এই কৌশল যদি গনতন্ত্র রক্ষার জন্য হয়ে থাকে এবং জনগনের কল্যাণে হয়ে থাকে তবে জনগন কি ফল পাচ্ছে সেইটি কি এই দেশের রাজনীতিবিদেরা বুঝতে পারছে? প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সব জায়গাতে হরতাল এর জন্য জনগনের যেই ভোগান্তি সেই চিত্র গুলী কি হরতাল আহভান কারীরা দেখতে পায়না? আমাদের দেশের মতো উন্নয়ন শীল একটি দেশকে যদি হরতালের ফাঁদে ফেলে কয়েক দিন আটকে রাখা যায়, তবে দেশের অর্থনৈতিক গতি নষ্ট হয়ে একটি ব্যার্থ অকার্যকর তলাবিহীন সেই ঝুড়ির মত একটি পঙ্গু রাষ্ট্র বিশ্বের দরবারে মাথা নিচু করে দাঁড়াবে! এটি কি দেশ প্রেম নাকি দেশদ্রোহিতা?

হরতাল নামক কথাটি সত্যিকার অর্থে অমঙ্গল ও অপয়া এর বৈশিষ্ট্য বহন করে। বিভিন্ন দাবি আদায় এর জন্য প্রতিবাদ করা আমাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু সেই মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য জালাও, পোড়াও করে অন্য কারো মৌলিক অধিকারকে খর্ব করে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া অবশ্যই আমাদের কারো কাম্য নয়। অনেক ত্যাগ এর বিনিময়ে অর্জিত এই দেশ। এ দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার অধিকার রাজনীতিবিদদের কেউ দেয়নি। জাতী আজ বেশ সচেতন। খোদ বি এন পি পন্থিরাই আজ হরতাল চায়না।এমনকি হরতাল আহভান কারী বি এন পি র নেত্রী বৃন্দ ও হরতালের দিনে তাদের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, কল কারখানা খোলা রাখে। যেইটি আজ সবার জানা। আরও জানতে চাইলে এইখানে ক্লিক করতে পারেন।

আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরা যে অনেকটা বিশ্ব বেহায়া হয়ে গেছেন সেইটি আর নুতন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। অনেক বুদ্ধিজীবী, সুশীল ব্যাক্তি রা এক বাক্যে স্বীকার করে বলেন ‘এই দেশের রাজনীতি বিদরা ১/১১ থেকে কোন শিক্ষা নিলনা’। আসলেই তাই। এদের শিক্ষার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সবাই ভুলে গেছেন।

আপাত দৃষ্টিতে যেটি দেখা যাচ্ছে তাতে সামনের দিন গুলিতে অসংখ্য হরতাল আসবে। দেশের ব্যাবসায়ি বৃন্দ অনেক আকুতি মিনতি জানাচ্ছেন হরতাল কর্মসূচী বন্ধ করার জন্য।বনিক সমিতির সভাপতি এ কে আযাদ যেই ভাবে গতকাল মুখটি কালো করে অত্যন্ত বিনয় এর সাথে বিরোধী দল গুলির উপর হরতাল প্রত্যাহার করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানালো, তাতে করে সারা বাংলাদেশের ব্যাবসায়ীরা যে কত অসহায় সেইটি ই প্রমান করে। কোন এক মনিষী বলেছিলেন, “ একটি দেশকে ধংস করতে চাইলে সেই দেশের শিক্ষাকে ধংস করে দাও” সেই মনিষী আজ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট দেখলে বলতেন, “ কোন দেশ কে শেষ করতে চাইলে বেশী করে হরতাল দাও”। হরতাল একটি সামাজিক ব্যধি। হরতাল রাষ্ট্রের ক্যানসার স্বরূপ। প্রতিবাদের ভাষা হরতাল নয়। হরতাল আমাদের অর্থনীতিকে শেষ করে দিচ্ছে। হরতাল গরীবকে আরও গরীব বানাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের চরম এই ঊর্ধ্বগতিতে সাধারন মানুষদের যেই কষ্ট সেই কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা সাধারন মানুষ হরতাল আর চাইনা। যেই সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন আর হরতাল নয়। আমরা মুক্ত ভাবে বাঁচতে চাই। রাস্তায় বের হলে ইট পাটকেল আর বোম মারার যেই ভয় তা থেকে মুক্তি চাই। গাড়িতে উঠলে আগুন লাগানোর ভয়ে আতংক গ্রস্ত হবার ভয় থেকে মুক্তি চাই। রাজনৈতিক হানা হানি থেকে মুক্তি চাই। দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাধাদান কারী এই ব্যাধি থেকে মুক্তি চাই। বিশ্ব দরবারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী রাষ্ট্রের খেতাব থেকে মুক্তি চাই। বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয় এহেন কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি চাই। আমরা একটি অসুস্থ রাষ্ট্র ব্যাবস্থা থেকে মুক্তি চাই। ভায়োলেন্স, ত্রাস, এর রাজত্ব থেকে মুক্তি চাই।

সর্ব পরি এই দেশের কতিপয় রাজনৈতিক দল এবং তাদের কতিপয় নেতা দেশের ১৫ কোটি মানুষের ভাগ্য নিয়ে যেই খেলা খেলছে, এই দেশের মানুষদের অদৃশ্য এক গোলামির শেকল দিয়ে বেঁধে রাখার যেই হীন চেষ্টা তারা করে যাচ্ছে, সেই গোলামির জিঞ্জির ছেড়ে এদের দাসত্ব থেকে চির মুক্তি চাই।

হরতাল বন্ধ হোক!