ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

হাসছো কেন? হাহা! হাসির কী? হাসছি কারন রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে চলছে নানা রকম যাত্রাপালা। রাজনীতির মাঠ ও বেশ উত্তপ্ত। চলছে ছোট ছোট রাজনৈতিক দল গুলিকে বড় দলের কাছে টানার এক জীবন বাজি রাখা আপ্রান প্রচেষ্টা। আর এই দৌড়ে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি কেউ কারো চাইতে পিছিয়ে নেই। এই ফাকে নাম সর্বস্ব ঐ সব রাজনৈতিক দলগুলির বাজার দর ও বেশ চড়া। ছোট ছোট ঐ দলগুলিকে নিয়ে বৃহৎ ২ টি দল যেই জোট গঠনের স্বপ্ন দেখছেন তাতে করে ক্ষমতার স্বাদ না পাওয়া অনেক ভুঁইফোড় রাজনৈতিক দল আগামীতে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করার এক দিবা স্বপ্ন দেখছেন। বিশেষ করে ১২ টি তথাকথিত ইসলামি দল তো ইতি মধ্যেই গোঁফে তা দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন। আর ছোট ছোট কিছু বাম দল গুলি ও আগামীতে কোন জোটে বাধিব আমারো ঘর এই নিয়ে চুল চেরা বিশ্লেষণ করছেন। তবে ঐ সব দল গুলির চাইতে বর্তমান ক্ষমতাসীন এবং বি এন পি এই দুই দল অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন এক সময়ের ৩ প্রতাপশালী রাজনীতিবিদ মিঃ কাদের সিদ্দিকি ( বঙ্গবীর ও বীর উত্তম), মিঃ বি চৌধুরি এবং মিঃ অলি আহমেদ কে। ইতি মধ্যেই এই তিন রত্ন! দের সঙ্গে আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি যোগাযোগ করেছেন। এই ক্ষেত্রে বিএনপি মনে হয় সফল হয়েছেন বেশি। কেননা অলি সাহেব ইতিমধ্যেই হ্যা সুচক জবাব দিয়েছেন। বি চৌধুরীর ও হ্যা বলার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু মিঃ কাদের সিদ্দিকি সাহেব বোধ হয় বি এন পির সেই আশায় ঘি ঢেলেছেন! আজকের পাঠকের কাঠ গড়ায় দাঁড়াচ্ছি মিঃ বঙ্গবীর সিদ্দিকি সাহেব কে। বঙ্গবীর ক্ষমা করবেন। কাঠগড়া শব্দটি আপনার জন্য একেবারে বে মানান। তবুও রুপক অর্থে আমি ব্যাবহার করছি এটি।

বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করতে তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। আসুন একটু চোখ বুলাই সেই দিকে।

১। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকীর দিন খালেদার জন্মদিন পালন না করা।

২। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো কটূক্তি না করা।

৩। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যারা এখনো তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চায়নি তাদের জোটে না রাখা।

এবার আসা যাক এক নম্বর শর্তে

আমাদের প্রান প্রিয় এই নেত্রী যিনি ২ বারের প্রধান মন্ত্রী সেই সাথে একজন প্রয়াত রাষ্ট্রপতির পত্নী তার জন্মদিন চরম বিতর্কিত।হাস্যকর এবং বেহায়াপনার সামিল। আলোচিত এবং সমালোচিত ১৫ই অগাস্ট এর জন্মদিন নিয়ে তিনি হাসান নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া বিরল। ( এক মাত্র কট্টরপন্থী বিএনপি এবং চামচা ছাড়া)। আর খালেদা জিয়ার জন্মদিন কবে এই নিয়ে প্রচুর ডকুমেন্ট সংবলিত একটি সস্তা আর্টিকেল আমি লিখেছি অনেক আগেই। যাই হোক ফিরে আসি প্রসঙ্গে। বঙ্গবীর সাহেব যে বীরের মতন খালেদা জিয়াকে তার হাস্যকর রসাত্মক বাঙ্গারত্তক এবং বিতর্কিত জন্মদিন পালন না করবার জন্য শর্ত জুড়ে দিয়েছেন সেই জন্য বঙ্গবীর আপনাকে আমার ছালাম। বঙ্গবীর আপনি বীরের মতন কথাটি বলেছেন।

অন্য দৃষ্টি।

খালেদার জন্মদিন যদি আদৌ ১৫ ই অগাস্ট হোতো তবে বঙ্গবীরের এহেন উক্তিতে তেলে বেগুনে জ্বলে যেতেন খালেদা জিয়া। কেননা আমি নাদান দিন ভিকারি আমাকে কেউ যদি বলে ৭ই অগাস্ট জন্মদিন তুমি পালন করবেনা, আমি কি মানবো? যদিও আমি জন্মদিন পালনের নামে কেক কাটা কুটি করেছি কবে তা মনে নেই। তার পর ও ৭ই অগাস্ট আমার জন্ম এটি সত্য। তাই খালেদার জন্ম যদি ১৫ ই অগাস্ট আদৌ হোতো তবে তিনি কাদের সিদ্দিকি কে ঐ খানে বিট লবন দিয়ে শসার মতন চিবিয়ে খেত। আর সেই শসার বিচি আর নীল খোসা গুলি খেত ঐ সব পাজি আর চামচা ছাগল গুলি যারা বলে ১৫ই অগাস্ট কি এই দুনিয়ায় কেউ জন্ম নিতে পারেনা। কত্ত বড় আহম্মক আর চামচা এরা! বঙ্গবীরের এই কথার কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া কিন্তু খালেদা জিয়া দেখান নি। এমন টি হলে মিডিয়া আমাদের জানাত। তার মানে নিরবতা সম্মতির লক্ষণ। ১৫ ই অগাস্ট যে খালেদার জন্মদিন নয় এটি তিনি মেনে নিলেন। বিকৃত আর নিচু মন মানসিকতার অধিকারিণী এই নেত্রী যে তার ভুলটি বুঝতে পারবেন এটি সবার কাম্য। ধন্যবাদ মিঃ সিদ্দিকি( বীর উত্তম)।

শর্ত দুই

বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কোন কুটুক্তি না করার জন্য ম্যাডাম কে শর্ত দিয়েছেন মিঃ সিদ্দিকি। মিঃ বীরউত্তম ১৫ ই অগাস্ট তার বিকৃত জন্মদিন পালন এটি তো বঙ্গবন্ধুর নামের উপর তার চরম অবজ্ঞা। কুটুক্তি তো আলাদা ভাবে করবার দরকার নেই। জুতা মেরে গরু দানের কি প্রয়োজন? হরহামেশা তিনি বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে কোন মন্তব্য না করলেও ১৫ অগাস্ট তার নিচুমনের জন্ম দিন পালন কি এটাই প্রমান করেন না তিনি বঙ্গবন্ধু কে চরম তাচ্ছিল্য করছেন।

অন্য দৃষ্টি

মিঃ বঙ্গবীর বীর উত্তম। আপনি ভাল করে জানেন একজন সামান্য মেজরের স্ত্রীর জন্য বঙ্গবন্ধু কি করেছেন। তার জন্য কোন ডকুমেন্টস, তথ্য দরকার নেই। আপনি এবং কে এম অবায়দুর রহমান কোন এক সময় বলেছিলেন

খালেদা জিয়ার জিয়ার মাজারে ফুল দেবার আগে একবার বঙ্গবন্ধুর মাজারে ফুল দেওয়া উচিৎ।

এই কথা কি আমরা জানিনা যে জিয়ার স্ত্রী না হলে খালেদা কোন দিন এই দেশের প্রধান মন্ত্রী হতে পারতেন না। আর জিয়ার স্ত্রী হবার যোগ্যতা শেষের দিকে যখন খালেদা হারিয়েছিলেন তখন সেই বন্ধন জোড়া লাগিয়েছিলেন কে তা কি জাতির অজানা? ধন্যবাদ সিদ্দিকি বীর উত্তম।

শর্ত তিন

স্বাধীনতা বিরোধীদের জোটে না রাখার যে শর্ত আপনি দিয়েছেন তাতে করে জাতির যেই ভক্তি আর শ্রদ্ধা আপনার উপর ছিল সেই শ্রদ্ধা আর ভক্তি আরও বেড়ে গেল মিঃ সিদ্দিকি। কেননা জামাত বি এন পি জোট সরকারের সময় আপনিই প্রথম ঘাতকের গাড়ীতে পতাকা উড়ানোর প্রতিবাদ যানান। সংসদে দাড়িয়ে বীরের মতন বলেন

মাননীয় স্পীকার এই সংসদে যেমন দেশ প্রেমিক সাংসদ আছেন তেমনি দেশদ্রোহী রাজাকার ও আছেন।

আপনার কথায় সেই দিন ঐ কুকুর গুলি নিজামি- মুজাহিদ কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি। আপনি বলেছিলেন ঐ নিজামি বাহিনী কে আমার কাদেরিয়া বাহিনী মাজায় দড়ি বেঁধে সুপারি গাছে বেঁধে রেখেছিল

অন্য দৃষ্টি

মিঃ সিদ্দিকি রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল কে কেন্দ্র করে এই জামাত আর আওয়ামীলীগ ও একসাথে রাজপথে আন্দোলন করেছেন সেই ১৫ ই ফেব্রুয়ারীর খালেদার নির্লজ্জ আর বিশ্ব বেহায়াপনার নির্বাচন উত্তর এবং নির্বাচন পূর্ববর্তী সময় টিতে। কিন্তু আওয়ামীলীগ তাদের সরকার গঠনে জামাত কে দল ভুক্ত করেনি। বি এন পি জামাতের গাড়ীতে পতাকা বেঁধে শহীদের রক্তের উপর খ্যামটা নৃত্য করেছে। আর ডুগ ডুগি বাজিয়েছে জামাত গং। এদের কে আপনি দল ভুক্ত না করবার জন্য শর্ত দিয়েছেন। যদি এমনটি হয় তবে মিঃ সিদ্দিকি আগামীতে যেই বি এন পি ৩ এর ঘর পেরতে পারিনি সেই বি এন পি বিপুল বিজয় নিয়ে যদি সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে তবে তাতে জাতির অবাক হবার কিছুই থাকবে না।

মিঃ সিদ্দিকি আপনার শর্ত গুলির উপর দেশের সিংহভাগ মানুষের শ্রদ্ধা।
মিঃ বঙ্গবীর আপনার শর্ত গুলি একজন বীরের বীরোচিত হুংকার!
মিঃ বীরউত্তম আপনার শর্ত গুলি সত্যি বীরের মতন উত্তম।

যদি আপনার শর্ত গুলি বি এন পি মেনে নেয় এবং আপনার শর্ত মানার পর যদি আপনি বি এন পি জোটে যোগদান করেন তবে আপনাকে ১৫ কোটি মানুষ স্বাগত জানাবে। বঙ্গবীর আপনাকে আবারো শ্রদ্ধা। কেননা আপনি যেই শর্ত গুলি দিয়েছেন সেটি আমাদের ১৫ কোটি মানুষের হৃদয়ের কথা। আর সেই হৃদয়ের কথা গুলি বীরের মতন আপনি ব্যাক্ত করলেন আর এক বীরের স্ত্রীর কাছে। শুভ কামনা মিঃ বীর উত্তম সিদ্দিকি ( বঙ্গ বীর)

খবর সুত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন