ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

আজ ৬ই অগাস্ট। এই দিনে মানব জাতির ইতিহাসে এক শোকাবহ আর হৃদয় বিদারক ঘটনার জন্ম দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালিন ১৯৪৫ সালের এই দিনে মার্কিন বাহিনী দানবের মতন হুংকার করে জাপানের হিরোশিমা শহরে এক ভয়ংকর পারমানবিক বোমা হামলা চালায়। ইতিহাসের ভয়াবহ, জঘন্য আর নৃশংসতম সেই ঘটনায় আজও ও মানব জাতি কেপে ওঠে। পারমাণবিক বোমার সর্বগ্রাসী তেজস্ক্রীয় আগুনে হিরোশিমা শহরের অধিকাংশই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিলো মুহূর্তেই। হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত সেই কলংকিত পারমাণবিক বোমাটির নাম ছিলো লিটল বয়।

এই সেই লিটল বয়

এই লিটল বয় নামক বোমাটির ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তায় শুধুমাত্র হিরোশিমাতেই ১৯৪৫ সালের শেষের দিক পর্যন্ত এক হিসেবে নিহত হয়েছিলো মোট ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষ! এইখানেই মার্কিনিদের নৃশংসতা থেমে থাকে নি। এর তিন দিন পরেই আবার ৯ আগস্টে জাপানের নাগাসাকি শহরেও ফেলা হয়েছিলো আরেকটি পারমাণবিক বোমা। যার নাম ছিলো দ্য ফ্যাট ম্যান। এই পারমাণবিক বোমাটির তেজস্ক্রিয়তায় ৪৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সে শহরের মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৮০ হাজার!

১৯৪৫ সালের আজকের এই দিনে মার্কিন বোমারু বিমান ২৯ বি থেকে জাপানের হিরোশিমায় যেই লিটল বয় নামক বোমাটি নিক্ষেপ করেছিল তার আঘাতে ঐ দিন সকাল ১১ টায় দেখা গেলো গোটা হিরোশিমা শহর যেন এক মৃত্যু পুরী! মুহূর্তের মধ্যেই শহরের প্রায় ৬০ ভাগ জায়গা এক ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়। সেই ভয়াবহতা দেখে বোমা নিক্ষেপকারী পাইলট টিবেটস্‌ বিমান থেকে শহরের ভয়াবহ ধবংসের দৃশ্য দেখে ভয়ে-আতংকে চিৎকার করে বলে উঠলো –

হায় ঈশ্বর এ কী করলাম !

১৫ শতকের দিকে হিরোশিমা ছিলো একটি জরাজীর্ণ গ্রাম। ১৬ শতকে মরিক্লান হিরোশিমায় একটি মন্দির নির্মাণ করেন। তখন থেকেই হিরোশিমা শহরটি হয়ে উঠেছিলো জাপানের চুগকু-শিককু জেলার সবচেয়ে বড় মন্দিরের শহর। হিরোশিমা শহরটি কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের ভালোবাসায় তিলে তিলে গড়ে তোলা সমৃদ্ধ এই হিরোশিমা মাত্র একটি পারমাণবিক বোমার আঘাতেই মানুষহীন, প্রাণহীন এক ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়। এ যেন এক বেদনার্ত বিরানভূমি!

পৃথিবীর প্রথম পারমাণবিক বোমার শিকার হিরোশিমা । আর সেই শহরের নিরপরাধ অসহায় সব মানুষজন! যার মধ্যে ছিলো অসংখ্য নারী, শিশু, বৃদ্ধ থেকে সব বয়সী মানুষ। আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সেই সব নিরীহ মানব দের। যারা যুদ্ধবাজদের হাতে নির্মম বলীর শিকার হয়েছিল। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। আর সেই সাথে ঐ সব যুদ্ধবাজদের জন্য আমাদের ঘৃণা রইলো। ওদের প্রতি লানত বর্ষিত হোক।