ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

 

গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে বল কি হবে? জীবন খাতার ছিন্ন পাতায় শুধু বে হিসাবে ভোরে রবে!

গাজী মাজহারুল আনোয়ার এর কথায়, সুবল দাসের সুরে, প্রয়াত মাহামুদুন্নবির গাওয়া গান টি আজ ভোরে শুনছিলাম। প্রতি ভোরে আমার হোম থিয়েটার টি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কোনদিন রবীন্দ্র সঙ্গীত আবার কোনদিন পুরনো দিনের বাংলা গান শুনেই ঘুম ভাঙ্গে। কেন যে আমি এতো বেশি সঙ্গীত প্রেমী নিজেও জানিনা। তবে এই জানি যে সারাদিন গান শুনেই কাটিয়ে দিতে পারি। বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না একদম। এমন কি খাওয়া দাওয়া ও ভুলতে পারি। কিন্তু গান ভোলা সম্ভব নয়! আমি মনে মনে গান কে লালন করি। গানের ফেরিওয়ালা আমি! বহু গান সংগ্রহে আছে আমার। শত বছরের পুরানো গ্রামোফোনের সেই রেকর্ড সময় কালিন ভাঙ্গা ভাঙ্গা গানের স্বর্ণ যুগের মদন মোহন, শচিন দেব বর্মণ, থেকে শুরু করে ভারতের বর্তমান শ্রেয়া ঘোষাল পর্যন্ত। অন্যদিকে আব্বাস উদ্দিন থেকে বর্তমান হৃদয় খান! কি নেই? আমার সংগ্রহে বর্তমান কপিরাইট ছিডির সংখ্যা প্রায় সাত হাজার। আর পাইরেট গানের তো হিসাবই নেই। ডেস্কটপের কয়েক হাজার গিগাবাইট শুধু ভোরে ফেলেছি শুধু গান আর গান দিয়ে। ৩২০ গিগার ল্যাপটপ টি ও উদর পূর্ণ করে ফেলেছি আবারো সেই গান দিয়ে।কেউ চাইলেই আমি তাকে কপি করে দেই প্রিয় সেই গান গুলি। আর এজন্যই বলি আমি গানের ফেরিওয়ালা। ফেরি করে গান বিলাই। তবে বিনিময় নেইনা। সব গান ই আছে। তার পর ও কি যেন নেই?

বিশ্ব সঙ্গীত ভুবনে সব চাইতে সমৃদ্ধ হচ্ছে বাংলা গান। শুধু বাংলাদেশী গান নয়। বলেছি বাংলা গান। অর্থাৎ কোলকাতার বাংলা গান ও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। অনেকেই বিষয় টি গুলিয়ে ফেলেন। আবার অনেকে না বুঝেই নাক সিটকায়। ভারতীয় গান! কিন্তু ভাষায় কোন পাপ নেই! গানের ভাষার কোন দেশ নেই। তাই গানের ও কোন ভাষা নেই। বাংলা ভাষার গানের এতো ব্যপ্তি পৃথিবীর অন্য কোন দেশের সঙ্গীত ইতিহাসে বিরল। জারী, সারী, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদি, পল্লিগীতি, লোক সঙ্গীত, সূফী, লালন, রবীন্দ্র, নজরুল, ভাটিয়ালী, আধুনিক, ব্যান্ড কি নেই আমাদের এই বাংলা সঙ্গীতে। তবে বাংলা আধুনিক গানের জনক কিন্তু কোলকাতা। ওদের দেশের আধুনিক গানের কয়েক কাল অতিক্রান্ত হবার পর আমাদের দেশের বাংলা গানের আধুনিকতার ছোঁয়া দ্যাখা যায়লতা, আশা, মান্না, হেমন্ত, সুচিত্রা মিত্র, সুবির সেন, ভুপেন হাজারিকা, সন্ধ্যা, গীতা দত্ত, কিশোর কুমার, অজয় চক্রবর্তী, আরতি মুখপাদ্ধয়, হৈমন্তী শুক্লা, সতিনাথ, গায়ত্রী বসু, জাবেদ ইকবাল, সহ অসংখ্য শিল্পী সমৃদ্ধ করেছেন ঐ দেশের বাংলা সঙ্গীত কে। আর সেই ধারার সাথে আমাদের দেশের আধুনিক সঙ্গীত যুক্ত হয় ৭০ দশকের পর।যাই হোক আজ ভিন্ন একটি প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করতে চাইছি। আমাদের বাংলাদেশের এক সময়ের কিছু চলচ্চিত্রের গান এবং আধুনিক গান নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

প্রিয় পাঠক। আজ আমি আপনাদের একটি গল্প শুনাই। এই গল্পের চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিবিড় পরিচয় সেই ছোট্ট বেলা থেকে। সেই যে সেদিনের অলস দুপুর বেলায় রেডিওর বুক চিরে যখন তাদের গান গুলো ইথারে ভেসে আসতো তখন লক্ষ হাজার মানুষের মত আমিও কান পেতে থাকতাম মন্ত্রমুগ্ধের মতন! স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলোতে তাই সব সময় গান ই লালন করে যেতাম হৃদয়ে শুধু তাদের সুরের আহবানে। দিন যায় দিন আসে। আমি অর্বাচীন কি করে যেন বিধাতার অশেষ কৃপায় সেই সব গান ওয়ালাদের অনেকের স্নেহ ধন্য হয়ে গেলাম। আমার চেয়ে ভাগ্যবান আর কে ছিল সেই সময়? যেই শাহনাজ রহমতুল্লাহ ছিল আমার বাংলাদেশি গানের স্বপ্ন রানী তার জন্য গান লেখা ছিল অনেক বড় দুঃসাহস! কিন্তু আজ আর লিখিনা। সময় যে নেই একদম। পেটের তাগিদে চাকরি করা আর হিসাব শাখার অসহ্য যন্ত্রণায় মনের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেয়েযাই। সেইখানে গভীর রাতে দক্ষিণা জানালা খুলে বিশাল আকাশের দিকে চেয়ে চেয়ে মনের মাঝে ভাব এনে গীতিকবিতা লেখার সময় যে আর নেই। তবুও মনেতে গান লালন পালন করি। সঙ্গীত আমার প্রেম। সঙ্গীত আমার প্রেরনা। সঙ্গীত আমার একাকীত্বের সাথী। যখন হৃদয় মাঝে কোন যন্ত্রণা অনুভব করবেন তখন চোখ দুটি বন্ধ করে হোম থিয়েটারে বা ছি ডি প্লেয়ারে জগজিৎ সিং আর চিত্রার গজল ছেড়ে দিন। সম্ভব হলে পুরা রুমের লাইট গুলি বন্ধ করে দিন। আর চোখ বুঝে শুনতে থাকুন জগজিৎ এর দিল ক্যা আওয়াজ

গাম কা খাজানা তেরা ভি হে মেরা ভি

আর দেখুন অনেক হালকা হয়ে যাবেন। যদি আপনি সঙ্গীত প্রেমী হন তবেই এটি সম্ভব।

আসি এবার আমাদের দেশিয় সঙ্গীতে। ওল্ড ইস গোল্ড। চিরন্তন সত্য কথা এটি। কোন সন্দেহ নেই যে পুরাতন ই আমাদের পথিকৃৎ। পুরাতনই আমাদের পথ দ্যাখায়। তবে সেই পথটিতে আমরা সঠিক ভাবে হাঁটবো কি বিপথে হাঁটবো এটি বিবেচ্য। আমাদের দেশের সত্তর আর আশির দশকের কিছু গান আজও আমাদের মনে দাগ কাটে। কালকে অতিক্রম কারী ঐ সব কালজয়ী গানগুলি আজও আমরা শুনলে নস্টালজিক হয়ে যাই। তেমন কিছু গানের প্রথম কলি আমি নিচে দিচ্ছি। দেখুন তো আমার প্রিয় পাঠক ঐ সব লাইন গুলির সাথে আপনারা পরিচিত কিনা?

আসুন কিছু কলি পড়ি-

সুরের ভুবনে আমি আজও পথচারি ক্ষমা করে দিয়ো যদি না তোমার মনের মত গান শুনাতে পারি, গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে বল কি হবে, তুমি যে আমার কবিতা আমারো বাঁশি রাগিণী, আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে কেন সৈকতে পড়ে আছি, প্রেমের নাম বেদনা সে কথা বুঝিনি আগে, ওগো মোর মধুমিতা, আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন কপোলের কাল টিপ পড়বে চোখে, সালাম পৃথিবী তোমাকে ছালাম দুনিয়াকে করেছো টাকার গোলাম, সজনী গো ভালবেসে এতো জ্বালা, যারে যাবি যদি যা পিঞ্জর খুলে দিয়েছি, ডেকো না আমায় তুমি কাছে ডেকো না দূরে আছি সে ভাল নিয়ে বেদনা, অনেক সাধের ময়না আমার বাধন কেটে যায়, ওরে নীল দরিয়া, তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়, এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি কেন একা বয়ে বেড়াও, পীচ ঢালা এই পথটারে ভাল বেসেছি, অমন করে যেওনা গো তুমি, তারা ভরা রাতে, এই মন তোমাকে দিলাম, আমি রজনিগন্ধা ফুলের মত গন্ধ বিলিয়ে যাই, একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে ওগো বন্ধু, চিঠি দিয়ো প্রতিদিন, অশ্রু দিয়ে লেখা এই গান যেন ভুলে যেওনা, সন্ধ্যার ও ছায়া নামে এলো মেলো হাওয়া, কেউ কোনদিন আমারে তো কথা দিলনা, গীতিময় এই দিন, গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে, এই দুনিয়া এখন তো আর সেই দুনিয়া নাই, আমি তোমার দুটি চোখে দুটি তারা হয়ে থাকবো, আমার সারা দেহ খেও গো মাটি, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, জন্ম থেকে জলছি মাগো, যেওনা সাথী, একবার যদি কেউ ভালোবাস তো, কি করে বলিব আমি আমার মনে বড় জ্বালা, এমনও তো প্রেম হয় চোখের জ্বলে কথা কয়, চলে যায় যদি কেউ বাধন ছেড়ে কাদিস কেন মন, চোখের নজর এমনি কইরা একদিন ক্ষইয়া যাবে, চলনা ঘুরে আসি অজানাতে, খোলা জানালা চেয়ে দেখি তুমি আছো, বুকে আছে মন, সবাই তো ভালোবাসা চায়, আজ রাত সারা রাত জেগে থাকবো, জীবন যেন শুরু হোল আবার নূতন করে, কোথায় স্বর্গ আর কোথায় তারা, আমি ধন্য হয়েছি ওগো ধন্য তোমারি প্রেমেরি জন্য, জীবন আধারে পেয়েছি তোমারে, তুমি ছাড়া আমি একা পৃথিবীটা মেঘে ঢাকা জীবন আমার পায় গো জীবন তুমি যখন দাও দ্যাখা,

আজ আর সেই সব গান গুলির মতন এতো আবেদন ময়ি, বানী নির্ভর আর শ্রুতি মধুর গান হয়না বল্লেই চলে। সেই সব গীতিকার আবু হেনা মস্তফা কামাল, ডঃ মনিরুজ্জামান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আমজাদ হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, এস এম হেদায়েত হোসেন, খন্দকার আব্দুল মোতালেব, আবু হায়দার সাজেদুর রহমান, জিয়া হায়দার, সহ অনীক গীতি কবিদের অনেকেই আজ আর এই পৃথিবীতে নেই। আর যারা আছেন তারা ও আজ তেমন টি লিখেন না। তেমনি অনেক সুরকার সত্য সাহা, সুবল দাস, আনোয়ার পারভেজ, আলাউদ্দিন আলী, শেখ সাদি খান, আলম খান, এ যে মিন্টু, আনোয়ার জাহান নান্টু, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল দের মতন সুরকারদের বিকল্প আজও এই দেশে একটি ও তৈরি হয়নি। সত্যি ঐ সব বরণীয় গীতি কবি, সুরকার আর সঙ্গীত শিল্পীদের স্মরণীয় গানগুলি আজও বেচে আছে মাথা উচু করে। আর আজও আমরা বিমোহিত হই সেই সুখ শ্রাব্য সঙ্গীত শুনে। হারিয়ে যাই কল্পনার অন্য এক জগতে।

আমাদের দেশের আধুনিক গান কোলকাতার মতন অতো বেশি সমৃদ্ধ না হলেও বেশ পক্ত একটি অবস্থানে ছিল একটি সময়। লাকি আখন্দ, হ্যাপি আখন্দ, শেখ ইশতিয়াক, নিয়াজ মোহাম্মাদ চৌধুরী, সহ বহু শিল্পী পুরা ৭০ থেকে ৮০ এর দশক মাতিয়েছেন। কিন্তু ৯০ এর দশকে এই দেশের আধুনিক সঙ্গীতে ভিন্নতা যোগ করেন প্রয়াত সঙ্গীত পরিচালক আমার পরম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব প্রনব ঘোষ। আধুনিক গান যে ক্যাসেট বন্দি হয়ে বাণিজ্যিক ভাবে বাজারজাত করা সম্ভব সেটি তিনি বুঝালেন। পুরা ৯০ এর দশক তিনি একা শাসন করলেন দেশের অডিও জগত। সেই সাথে তিনি ঐ সময় বেশ কিছু গীতি কবির জন্ম ও দিলেন যাদের মধ্যে অন্যতম কবির বকুল, মিলন খান, আহমেদ রিজভি, এইচ এম নিপু, কাম্রুজ্জামান কাজল সহ আমার মতন ক্ষুদ্র এক অর্বাচীন গীতি কবি। আর শুভ্র দেভ, তপন চৌধুরী, মৌটুসি, এস ডি রুবেল, ডলি সায়ন্তনি, বাদশা বুল বুল, হাসান চৌধুরী, রবি চৌধুরী সহ বহু শিল্পীর জন্ম তিনি দেন। তপন চৌধুরী আগে সোলস ব্যান্ডে গান করতেন। সেই তপন কে নূতন করে লাইম লাইটে আনলেন প্রনব ঘোষ। তপন চৌধুরীকে দিয়ে অনুশোচনা নামের অ্যালবাম বের করলেন ৯০ এর মাঝামাঝি। ঐ অ্যালবাম এ তপন কে ভিন্ন এক তপন চিনলো দেশের সঙ্গীত প্রেমীরা।


শুভ্র দেবের মরন যদি হয় তোমার প্রেমের আঘাতে, এই মন আমার পাথর তো নয়, এখন আমার কাছে শুধু সম্বল, সহ বহু জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন প্রনব ঘোষ। মুলত ঐ ৯০ এর পুরা এবং ২০০০ এর মাঝ সময়টি ছিল আধুনিক বাণিজ্যিক গানের স্বর্ণ যুগ। প্রনব ঘোষের মৃত্যুর পর দেশের অডিও জগত মুখ থুবড়ে পড়ে। এর মধ্যে যদিয়ও ইথুন বাবু আসিফ কে দিয়ে ও প্রিয়া তুমি কোথায় শিরোনামে একটি অ্যালবাম বানালেন। কিন্তু প্রনব ঘোষের সেই আবেদন কে চাড়িয়ে যাবার কোন সম্ভাবনা দ্যাখা গেলনা ইথুন এর মাঝে।

২০০৫ এর বছর টি আবারো দেশের অডিও শিল্প কে ঘুরিয়ে দাড় করালেন বর্তমান সময়ের সব চাইতে মেধাবী কম্পোজার হাবীব ওয়াহিদ। প্রবাসী শিল্পী কায়া কে দিয়ে তিনি বানালেন কৃষ্ণ নামের একটি ককটেল অ্যালবাম। শাহ্‌ আব্দুল করিমের কিছু গান কে বিকৃত করে রিমিক্স করলেন। হিট সুপার হিট। আমাদের দেশের শ্রোতা হিন্দি গানের মধ্যে হার্ড মেটাল রক আর পপ এর যে ফ্লেবার পেতেন সেটির কিছুটা পেলেন ঐ কৃষ্ণ নামের অ্যালবাম দিয়ে। আর দ্যাখে কে বাজারে কৃষ্ণ ছাড়া কোন অ্যালবাম ই আর চল্লনা সেই সময়। এই দেশে হাবীব ওয়াহিদ পরিচিত হলেন একজন বিখ্যাত কম্পোজার হিসাবে। তাকে অনুসরন করে তখন কার বেশ কিছু শিল্পী রিমিক্স নামের অখাদ্য কিছু অ্যালবাম বের করতে লাগলেন। এর মধ্যে পান্থ কানাই চুমকি নামের একটি অডিও অ্যালবাম বের করলেন। সেটি ও সুপার হিট। পুরাতন দিনের গান নিয়ে নূতন মিউজিকে বানালেন চুমকি১। এর ব্যপক সফলতার পর তিনি পরে আবার বানালেন চুমকি ২। মোটামুটি আবারো ঘুরে দাঁড়ালো দেশের অডিও বাজার। কিন্তু আধুনিক গান বেশ উপেক্ষিত হতে লাগলো সেই সময়টিতে। সেই অবস্থার হাত থেকে উদ্ধার করলেন বাপ্পা মজুমদার, এস আই টুটুল সহ বেশ কিছু শিল্পী কাম কম্পোজার। আধুনিক গান গুলি কে আরও বেশি ক্লাসিক্যাল করতে থাকলেন তারা। সেই প্রয়াসে তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলেন পার্থ মজুমদার,( বাপ্পা মজুমদারের ভাই)। বেশ চলছিল সেই সময়ের আধুনিক গানের বাজার।

২০০৭ এর দিকে অডিও জগতের আর এক বিস্ময় ফুয়াদ বানালেন বন্য শিরোনামে এক অখ্যাত অ্যালবাম। কিন্তু শ্রোতা সেই অখ্যাত খাবার কে খেল ভালভাবে। যৌবন এক লাল টমেটো, আমি বন্য তোর জন্য দেহটা ঝাক্কা মেরে, সহ অশ্লীল কথার বেশ কিছু চটুল গান তিনি কম্পোজ করেন ঐ অ্যালবামে। তার পর মিলা কে দিয়ে বানালেন রুপবানে নাচে কোমর দুলাইয়া মার্কা গান। হিট আবারো। তবে ঐ অ্যালবাম এ চন্দ্র গ্রহন নামের অসম্ভব সুন্দর একটি গান ছিল। তারপর চল্ল ফুয়াদের সময়। তবে আধুনিক গান হয়ে গেল অতি বেশি আধুনিক। যেটিকে বলাযায় এফ এম এর আর যে দের সেই কক্টেল ভাষার মতন সাম বাংলা সাম ইংলিশ! হাবীব বালাম সহ আরও অনেকে যোগ হলেন সেই সময়ে। বর্তমান আরেফিন রুমি, হৃদয় খান, পারভেজ রা ও আছে সেই একি পাইপ লাইনে। কিন্তু সেই আধুনিক গান গুলি আজ আর হয়না। ফিউশন আর রক সফট ধরনের গান ই আজ বাজারে সয়লাব। নিয়াজ মোহাম্মাদ চৌধুরীর মতন

জীবনানন্দ হয়ে সংসারে আজও আমি- তুমি ও তো বেশ আছো ভালই আছো কবিতায় পড়া সেই বনলতা সেন।

সেই সব গান গুলির মতন অতো আবেদন আর বানী নির্ভর গান তৈরির মেধা আজ আর কারো নেই বোধ হয়। সত্যি সেই পুরানো দিনের গান গুলি বড় বেশি ভাল ছিল। আর ভাল থাকার কারনেই আজ রিমিক্স হয় সেই সব গান গুলি। আর এখনকার গান গুলি অ্যালবাম বের হবার ৬ মাসের মধেই হারিয়ে যায়। হারানোর আরও কিছু কারন রয়েছে। আজ চাইলেই যে কেউ ই গাইতে পারে। ভয়েস সফটওয়্যার প্রয়োগ করে গান কম্পোজ করা হয়। শিল্পীর গলা ভাঙ্গা ঢোলের মতন হলেও সমস্যা নেই। প্রযুক্তি সে কণ্ঠ কে মোহাম্মাদ রফি বা লতা বানিয়ে দেয়। আজ আমাদের হাবীব যে গান গায় এটি কি তার স্ব কণ্ঠ? হাবীব কোন লাইভ গান গাইতে পারেনা। আর যদি গায় তবে স্টেজে তার ব্যাক সাইডে থাকে ল্যাপটপ আর তাতেই ইন্সটল করা সফটওয়্যার বেজে তিনি গান করেন। শফিক তুহিন যে নিজে কথা বল্লে মনে হয় অমরেশ পুরির মতন কথা বলছে সেই তুহিন আজ গায়,

চোখ মেল্লে দেখি তোমাকে চোখ বুঝলে পাই আরও কাছে- ভালবাসি বড় ভালবাসি এর বেশি ভালবাসা যায়না, ও আমার প্রান পাখি ময়না।

পাঠক আপনারা শফিক তুহিনের কণ্ঠে যেই গান শুনেন সেটি তার কণ্ঠ নয়। ৮০ ভাগ করে দেয় প্রযুক্তি আর ২০ ভাগ করে সে। লাইভ দেখতে চাইলে আমার সঙ্গে মগবাজারের বাপ্পা মজুমদারের স্টুডিও তে যেতে পারেন। দেখিয়ে দেবো কি গানের হাল তাদের?

আসলে সত্যি ই বলছি সেই সব ৭০ কিংবা ৮০ এর দশকের গান গুলি ই ছিল হৃদয়ের গান। সেই গান গুলি আজও আমাদের কানে বাজে। আমরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে কান পেতে শুনি। সঙ্গীত প্রেমীরা সেই সব পুরানো দিনের বরণীয় শিল্পীর স্মরণীয় গান গুলি আজও অনুভব করে হৃদয় দিয়ে। সেই সব গান গুলি আসলেই কি চাইলেই ভোলা যায়? যারা সুর কে ভালবাসেন, সঙ্গীতকে লালন করেন তাদের কাছে সেই সব পুরানো দিনের গান গুলির আবেদন কে আজকের গানগুলি অতিক্রম করতে পারেনি। পারবেও না হয়তো কোনদিন।