ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

ওয়েবস্ফিয়ার কিংবা ভার্চুয়াল শব্দ দুটো আমাদের কাছে বেশ পরিচিত । বিশ্বব্যাপী মত ও নিজের চিন্তা চেতনার বহিঃপ্রকাশ এর মাধ্যম হিসাবে ব্লগ দিনের পর দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চিন্তারাজিকে মনের মাঝে লালন না করে সেটি প্রকাশ করার মাঝে এক ধরনের মহাত্ব আছে বলে ব্লগাররা নানান ভাবে তাদের চিন্তা কিংবা চেতনাকে ব্লগে প্রকাশ করে থাকেন। সহ ব্লগাররা সেই সব প্রকাশিত ভাব কিংবা লেখাগুলোর বিশ্লেষণ করেন ভিন্ন ভাবে। একজনের মতের সাথে অন্যজনের মতের মিল থাকবে এমনটি হয়তো ভাবা ঠিক নয়। তাই দেখা যায় ব্লগিং করার পর একজন ব্লগার এর লেখাগুলো বিভিন্ন ভাবে আলোচিত কিংবা সমালোচিত হয়। আর আলোচনা কিংবা সমালোচনা যেইটাই হোক না কেন ব্লগিং যে হৃদয়ের ভাব কিংবা ভাষা গুলো প্রকাশ করার ভিন্ন একটি মাধ্যম হিসাবে আমাদের কাছে একটি দর্পণ হিসাবে ব্যবহিত হচ্ছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখেনা। কাজেই এই ব্লগ কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নানা রটনা কিংবা ঘটনাও আমাদের চোখে পড়ছে।

দেশের জনপ্রিয় অনেক গুলো ব্লগের মধ্যে প্রথম আলো, বি ডি, শব্দ নীড়, সামহোয়্যার ইন, আমার ব্লগ, সোনার বাংলা, চতুর্মাত্রিক উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন মতের ব্লগার যেমন- আস্তিক, নাস্তিক, ধর্ম ভীরু, ধর্ম হীন, স্বাধীনতা বিরোধী চক্র কিংবা স্বাধীনতা স্বপক্ষ শক্তি ব্লগার রা ব্লগিং করছেন এই সব বাংলা জনপ্রিয় ব্লগ সাইটে। মজার ব্যাপার হল এর মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা বিশেষ কিছু এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য ব্লগে আসেন। অর্থাৎ নিজের ভেতরকার চিন্তা কিংবা নিজের অনুভূতি গুলো সুন্দর ভাবে ব্যক্ত করার পরিবর্তে কোন বিশেষ দল বা বিশেষ গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা এদের মূল উদ্দেশ্য। কেউ কেউ আবার বিশেষ দলের পে ব্লগার হিসাবে কাজ করে বলেও কথিত রয়েছে। ওপেন প্লাটফর্ম হিসাবে এইখানে ব্লগ ব্যবহার করার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ব্লগারের রয়েছে বিধায় যার যার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তার নিজস্ব স্টাইলে। কেউ হচ্ছেন আলোচিত, কেউ হচ্ছেন সমালোচিত। কেউ হচ্ছেন সফল আর কেউ বিফল। কেউ ব্লগিং করে সহ ব্লগারের কাছ থেকে পজিটিভ সাপোর্ট পাচ্ছেন আর কেউ নেগেটিভ কমেন্ট পেয়ে ধরাশায়ী হচ্ছেন। তবুও ব্লগিং থেমে থাকছে না। যার যার মত করে এগিয়ে যাচ্ছে।

ব্লগে গ্রুপিং শব্দটি নূতন নয়। কোন বিশেষ ব্যক্তির পছন্দের কিংবা অপছন্দের হলে তাকে তার সাঙ্গ পাঙ্গ গুলো এক হয়ে অ্যাটাক করে অথবা স্বাগতম জানায় এটিও নূতন নয়। যেমন টি দেখা যায় সামু কিংবা আমার ব্লগে। আস্তিক,নাস্তিক, জামাত শিবির, লীগ, বি এন পি কিংবা বাম ঘরনার ব্লগার দের বিশাল একটি জোট চোখে পড়ে। কারো সাথে কারো আবার ইগো জনিত কারণে মূল বিষয় এর বাইরে এসে ব্লগিং চলে। দুর্বার কিংবা শ্রী হীন ভাষাও কোন কোন ক্ষেত্রে সফল ভাবে ব্যবহিত হয়। আবার ব্লগ টিম বা ব্লগ সঞ্চালক এর সাথে ব্লগার দের বনিবনা না হওয়ায় কিংবা ব্লগ সঞ্চালক এর কাছে কোন ব্লগার যদি হেভি ওয়েট ব্লগার হয়ে যান তবে ব্লগ সঞ্চালক বিনা কারণে তাকে ব্যান করে দেন এমন ঘটনা ও গত ৭ দিনের মধ্যে আমার ব্লগে ঘটে গেছে। যেটি দুঃখজনক। ব্লগ টিম ব্লগারদের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে বসলে সেই ব্লগে ব্লগিং করা আসলে বেশ কঠিন বলে মনে হয়। কাজেই ব্লগ ওপেন প্লাটফর্ম হলেও কোন কোন সময় সেটিতে কিছু প্রতিবন্ধকতা চোখে পড়ে।

ফেসবুকে মাঝে মাঝে কিছু স্ট্যাটাস কিছু কথা জানিয়ে দেয়। জামাত শিবির কিংবা বাম দলের নাকি ব্লগ শেষ আশ্রয় স্থল। এই কথার লজিক কি? তবে ক্ষুদ্র বিশ্লেষণে যেটি মনে হয় একটি দেশের ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া কিংবা অনলাইন ভিত্তিক বার্তা সংস্থা সেই দেশের রাজনৈতিক দল গুলোকে কিছুটা সাপোর্ট না দিলে তারা কিন্তু চলতে পারেনা। কেননা সকল রাজনৈতিক দল গুলোর মূল কর্মকাণ্ড কিন্তু ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে থাকে। কাজেই ফোকাস টি ঠিক রুট লেভেলে পৌঁছানোর জন্য মিডিয়ার ভূমিকা জরুরী। তবে এই ক্ষেত্রে অনেকটা অসহায় হয়ে গেছে জামাত শিবির কিংবা বাম দল গুলো। বাংলাদেশে যতগুলো মিডিয়া রয়েছে সব কয়টি থেকে কিন্তু তারা তেমন কোন অনুকম্পা পাচ্ছেনা। যেমনটি সুবিধা নিচ্ছে আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপি। দেশের অধিকাংশ পত্র পত্রিকা পরোক্ষ ভাবে কোন না কোন দলের লেজুড় হয়ে কাজ করে। টিভি চ্যানেল গুলোরও একি অবস্থা। তাই দেখা গেল ঈদের দিনে কেদ্রিয় শহীদ মিনারে যখন মকসুদ সাহেবারা ঈদ উদযাপন করেন সেটি খবরের শিরোনাম না হয়ে ব্রেকের পরে স্বল্প পরিসরে দেখানো হয় টি ভি চ্যানেলে। অন্যদিকে জামাত শিবিরের মুখপাত্র নয়া দিগন্ত, দিগন্ত টি ভি কিংবা সংগ্রাম কিন্তু বিশেষ শ্রেণীর হাতে ছাড়া শোভা পায়না। কাজেই ব্লগে জামাত কিংবা বামদলগুলোর অনুসারীদের বেশ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। সেই যাই হোক তবুও ব্লগ আসলে মতের মিলন মেলা। যে যাই লিখুক না কেন মানুষ আজ বেশ সচেতন। কাজেই বাকোওয়াস লেখা লিখে নিজে নিজে খুশি হয়ে পিঠ চাপড়ায়ে কিংবা পে টিমের নজরে পড়ে আদৌও কোন লাভ আছে বলে মনে হয়না।

ব্লগে মডারেশন ব্যবস্থা থাকা কতটা জরুরী এটি মার্জিত বোধের ব্লগার রা জানেন। সামুতে কিংবা আমার ব্লগে যখন আপত্তিকর শব্দগুলো [ খা মা, মা, বোন, সু বা, – সংক্ষেপে] ঘুরেফিরে আসে তখন স্বভাবতই ব্লগিং দৌড়ে পালায় আমাদের অনেকের কাছ থেকে। শুধু ওই সব ভাষা নয়। আরও নির্লজ্জ আর জঘন্য ভাষা ও ব্যবহার করা হয়। সামুতে একজন ব্লগার কিছুদিন আগে লিখেছিলেন প্লিজ এই ভাষা গুলো বন্ধ করুন। আমি আমার সন্তান এর সামনে ব্লগে ঢুকতে পারিনা। কতটা অসহায় হয়ে ওই ব্লগার টি এমন কথা বলেছেন এটি উপলব্ধি করা যায়। তবে মজার ব্যাপার হল এই সব ভাষা গুলো যারা ব্যবহার করেন তারা কিন্তু ব্লগ জগতের নামি দামি ব্লগার। কেউ কেউ নিজেকে খোদা বলে দাবি করেন। কেউ কেউ আবার জমাত শিবিরের যমদূত হিসাবে নিজেকে প্রকাশ করেন। আবার কেউ কেউ নাকি পর্ণ সাইটের মালিক! সেই যাই হোক ব্লগে পরিচ্ছনতা বলতে যেটি বুঝায় সেটি প্রথম আলো ব্লগ, বি ডি ব্লগ এবং সম্প্রতি শব্দ নীড়ে দেখছি। শব্দ নীড়ে আমি ২ দিন আগে নিবন্ধিত হয়েছিলাম। এবং বেশ মার্জিত একটি ব্লগ সাইট হিসাবে আমার মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।

আসলে আমরা যারা সুস্থ ব্লগিং করতে চাই তাদের কাছে উপরের ব্লগ তিন টি নির্ভরযোগ্য কিংবা নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে। প্রথম আলোতে কমেন্ট মডারেশন হয়না, শব্দ নীড়েও তাই। অন্যদিকে বিডি তে পুরো বিষয় গুলো সঞ্চালক এর নজরে থাকে। তারপর আপডেট হয়। সেই যাই হোক ব্লগ হোক নিরাপদ। ব্লগ হোক সত্যি আনন্দময়। ভার্চুয়াল এই জগতে আমাদের বিচরণ হোক বাধাহীন। নিজেকে যেন প্রকাশ করা যায় সুচিন্তিত মস্তিষ্কের অনুসারী হিসাবে। ব্লগে যারা লিখি কিংবা পড়ি সকলের একটি নির্দিষ্ট লেভেল রয়েছে বলে মনে হয়। কেননা চায়ের দোকানদার কিংবা রিক্সাওয়ালা কিন্তু চাইলেই ব্লগিং করতে পারেনা। তাই এই ক্ষেত্রে ব্লগারদেরকে সমাজের এলিট শ্রেণীর বাসিন্দা বললে বোধ হয় ভুল হবেনা( বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত, যারা এজেন্ডা বাস্তবায়ন এর জন্য ব্লগিং করে)। আমাদের আগামীর স্বপ্ন গুলো পূর্ণ হোক। আমাদের কথা ব্লগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হোক। আমাদের ম্যাসেজ গুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কিংবা ডিসিশন মেকার দের চোখের কোনে ভেসে উঠুক ব্লগের মাধ্যমে। এই প্রত্যাশা রইলো।

হ্যাপি ব্লগিং।