ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

সভ্য সমাজে অসভ্য, জংলি, বর্বর সৌদির হত্যা উৎসব!

সৌদির শরিয়া আইনে বাংলাদেশের ৮ নাগরিকের শিরচ্ছেদ হয়ে গেছে। নিষ্ঠুর আর চরম মানবতা বিরোধী এই দৃশ্য দেখে গোটা বিশ্ব থমকে গেছে। নিন্দার ঝড় এখন টর্নেডো হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে তামাম বিশ্বে। তার প্রভাব ব্যপক ভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাংলাদেশেও।সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেস বুক এবং কমিউনিটি ভিত্তিক বিভিন্ন ব্লগেও চলছে আলোচনা সমালোচনা। কেউ কেউ সৌদির পক্ষে সাফাই গেয়ে বলছে আল্লার আইন বাস্তবায়ন হয়েছে। আবার কেউ কেউ এহেন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। মজার ব্যাপার হল যারা পক্ষে সাফাই গাচ্ছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই ইসলাম প্রীতি কিংবা শরিয়াহর উপর অবস্থান প্রকাশের পরিবর্তে সৌদি প্রীতি দেখাচ্ছে বেশি।প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার বদলে হত্যার যেই অনুপম দৃশ্য তারা দেখিয়েছে সেটি দেখে গা শিউরে ওঠে। সব কিছু নাকি শরিয়া আইনে চলছে। আল কোরআনের আইনে চলছে। ঐশী গ্রন্থের দোহাই দিয়ে বিচারের নামে যেই শিরচ্ছেদ সেটিকে বর্বর হত্যাযজ্ঞ বললে ভুল হবেকিনা জানিনা। তবে ওই দৃশ্য দেখে মনে হবে সৌদিরা আজও সেই মধ্য যুগীয় বর্বরতা থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। আর যেই জাতির সূচনা হয়েছিল বর্বরতা আর হত্যার মধ্য দিয়ে সেই জাতি সেই জংলিপনা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে কিনা এটি সময় বলে দেবে।

চমৎকার শরিয়া আইন সৌদিতে! একই অপরাধে ধনী ও শক্তিমত্ত দেশের নাগরিকদের বিচার হয় ভিন্ন ’শরীয়ায়’। আর নিজেদের রাজ পরিবারের কেউ হলেতো কোন কথাই নেই। সকল আইন ই অচল! এক শরিয়ায় দুই ব্যবস্থা! বিচিত্র সব আইন কানুন। সৌদির সিংহ ভাগ সাধারন জনগণ মনে প্রানে ইসলামি চেতনায় বিশ্বাসী। তবে সাশক শ্রেণী কতটা ক্ষমতা লোভী সেটি কিছু বিশ্লেষণে বের হয়ে আসে। বাংলাদেশের ৮ জন অপরাধী বাঙালি তাদের অপরাধের শাস্তি পেয়েছে। তবে যেই বিচারের মাধ্যমে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হল সেই বিচার ব্যবস্থা নিয়ে চলছে মূল সমালোচনা। সৌদিতে বিচার কাজ সম্পাদিত হয় ইসলামি শরিয়াহ আইনে। তবে সেই আইনের খড়গ প্রয়োগ চলে সেই দেশের মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ ভিনদেশী নাগরিকদের উপর। যেমনটি বলেছিলাম শেখ পরিবারের জন্য আইন অনেকটা শিথিল। যারা অবৈধ শাসন ব্যবস্থায় অধিষ্ঠিত তারা শরিয়াহ আইনে চলে! ব্যাপার টা হাস্যকর। যেমন টি আমাদের দেশের বিভিন্ন মাওলানারা রমজান মাস এলে যারা রোজা না রাখে তাদের কে উদ্দেশ্য করে বলে, “ নামাজ পড়লাম না, রোজা রাখলাম না কিন্তু ইফতার না করে জাহান্নামে যাব নাকি?” এইখানে সৌদিরা শরিয়াহ কে ব্যবহার করছে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। বিষয়টির ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

******************
মুসলিম উম্মার ধর্ম গ্রন্থ পবিত্র কুরআনের সূরা আল মায়েদাহর ৩২ নং আয়াতে বলা হয়েছে-

[32] مِن أَجلِ ذٰلِكَ كَتَبنا عَلىٰ بَنى إِسرٰءيلَ أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفسًا بِغَيرِ نَفسٍ أَو فَسادٍ فِى الأَرضِ فَكَأَنَّما قَتَلَ النّاسَ جَميعًا وَمَن أَحياها فَكَأَنَّما أَحيَا النّاسَ جَميعًا ۚ وَلَقَد جاءَتهُم رُسُلُنا بِالبَيِّنٰتِ ثُمَّ إِنَّ كَثيرًا مِنهُم بَعدَ ذٰلِكَ فِى الأَرضِ لَمُسرِفو
অর্থাৎ-

এ কারণেই আমি বনী-ইসলাঈলের প্রতি লিখে দিয়েছি যে, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। তাদের কাছে আমার পয়গম্বরগণ প্রকাশ্য নিদর্শনাবলী নিয়ে এসেছেন। বস্তুতঃ এরপরও তাদের অনেক লোক পৃথিবীতে সীমাতিক্রম করে।
[ এই খানে স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায় যে, বোল্ড করা অংশে কিন্তু সরাসরি মানুষ হত্যার বিপক্ষে বলা হয়েছে]

সৌদি সরকার চাইলে নাকি ক্ষমা করতে পারতেন না। কেননা ক্ষমা করার অধিকার তাদের নেই। কেবল মাত্র যেই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে সেই ব্যক্তির পরিবার ক্ষমা করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে ব্লাড মানির বিনিময় ও চলতে পারে। এই খানে সৌদি সরকার আন্তরিক হলে বিষয়টির সুরাহা হতে পারতো। যাই হোক যেহেতু তাদের শরিয়াহ আইনে এমন বিধান নেই সেহেতু তারা তাদের শরিয়াহ আইনের বাইরে যেতে পারেনি। কিন্তু যেই ক্ষমতার মসনদে তারা বসে আছে সেই মসনদ বা তাদের রাজতন্ত্র সম্পর্কে শরিয়াহ আইন কি বলে? তারা কি বৈধ ভাবে ক্ষমতার মসনদে আছেন? তারা কি কেবল বিশেষ ক্ষেত্রে শরিয়াহ আইন মানছেন নাকি সকল ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় তারা নিজেদেরকে পরিচালিত করছেন।

আসুন একটু চোখ বুলানো যাক।

* ইসলামে রাজতন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে কেন রাজতন্ত্র প্রথা চলছে সৌদি আরবে?
* সৌদি আরবে কেন ইসলামী প্রজাতন্ত্র নেই? শরিয়াহ আইন অন্ধ কেন এইখানে?
* সৌদিকে যারা মুসলিম জাহানের তীর্থ স্থান মনে করেন সেই পূর্ণ ভূমিতে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পরম প্রিয় দৌহিত্র ইমাম হোসেন রাজতন্ত্রের জন্য ঐতিহাসিক কারবালা প্রান্তরে শাহাদাৎ বরন করেছিলেন। তাহলে সেই পূর্ণ ভূমিতে আজও কেন রাজতন্ত্র চলছে?
* পবিত্র মাটিতে কেন তারা ইহুদী নাছারা মার্কিনদের ঘাটি করতে দিয়েছে?
* মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দেওয়া ‘আল হিজাজ’ নামটি বাদ দিয়ে সৌদ পরিবার কেন অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখল করলেন এবং কেন তাদের নাম অনুসারে সৌদি আরব নামটি রেখেছেন? শরিয়াহ এইখানে কি বলে?
* লাখ লাখ নিরীহ অসহায় ফিলিস্তিনিদের উপর ইজরাইল যখন একের পর এক আক্রমণ করেছে সৌদি প্রশাসন টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি কেন?
* রাজতন্ত্র এবং পরিবার তন্ত্র ইসলামে হারাম। তবে কোন শরিয়াহ আইনে সৌদিতে পরিবার তন্ত্রের শাসন ব্যবস্থা চলছে?
* সম্প্রতি সৌদি শরীয়া কাউন্সিল ফতোয়া দিয়েছেন, মিশরের হোসনী মোবারকের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা ইসলামের দুষমন। আন্দোলন, বিক্ষোভ ইসলামে নাকি নিষিদ্ধ। বাহ রাজতন্ত্র! বাহ পরিবার তন্ত্র! হারাম হারাম এবং হারাম। সৌদি তার নিজের স্বার্থে কি করছে এই সব?
* ১৯৮৭ সালে হজ্ব মৌসুমে ৩০০ এর বেশী হাজীকে মিছিল করার অপরাধে গুলি করে হত্যা করে সৌদি পুলিশ। ক্বাবা শরীফে পবিত্র হজের সময় সব ধরনের হত্যা আল কোরআনে নিষিদ্ধ! ক্বাবা শরীফ কে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছে। আর সেই ক্বাবার সামনে ৩০০ জন হাজী কে হত্যা করা হল কোন শরিয়াহ আইনে?
* উইকিলিকসের প্রতিবেদনে দেখা যায় সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন ফয়সাল মার্কিন জুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্ট বুশকে বারবার অনুরোধ করেছেন ইরানের পরমানু চুল্লী ধ্বংস করে দিতে ? এই অনুরোধের সঙ্গে ইসলামের কি সম্পর্ক?

এই দশটি প্রশ্নের উত্তর ধর্ম প্রেমীর চাইতে সৌদি প্রেমীরা কি দিতে পারবেন? না আমি বলে দিলাম পারবেন না। কাজেই সৌদি বর্তমান রাজতন্ত্র ও সরকার সম্পূর্ণই ইসলাম শরিয়াহ বিরোধী। ইসলামী শরিয়াহ আইন প্রযোজ্য হবে সেই দেশে যেই দেশের খালিফা হবেন জনগন মনোনীত ।অর্থাৎ সম্পূর্ণ ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে জনগণ মনোনীত খালিফা শরিয়াহ বাস্তবায়ন করবেন। সৌদি আরব প্রকৃত ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্র নয়।এর বাদশা জনগণের মনোনীত খলিফা নয়। কাজেই কিসাস প্রয়োগ করার কোন এখতিয়ার সৌদি প্রসাশনের নেই!

তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ায় সৌদির বর্তমান সরকার ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভাবে অবৈধ। আর অবৈধ সরকার কিভাবে শরিয়াহ আইনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে শিরচ্ছেদ করে? শক্তের ভক্ত হিসাবে সৌদি সরকার একটি কালো দৃষ্টান্ত দেখান ২০০৩ সালে। উইলিয়াম স্যাম্পসন নামে একজন ব্রিটিশ কানাডিয়ান নাগরিককে ২০০০ সালের ডিসেম্বর মাসে সৌদি সরকার সন্ত্রাসবাদ, গোয়েন্দাবৃত্তি ও খুনের দায়ে গ্রেফতার করে। কিন্তু তার প্রায় দুই বছর পর ২০০৩ সালের আগস্ট মাসে সৌদি সরকার ব্রিটিশ ও কানাডিয়ান সরকারের চাপের মুখে উইলিয়াম কে কোনরকম বিচার ছাড়াই তার আরো কয়েকজন সহযোগীসহ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সৌদি সরকার।সেইদিন খুনের দায়ে তাদের শিরচ্ছেদ করার শরিয়াহ আইন কোথায় ছিল? শিরচ্ছেদ তো দূরে থাক, বিচার করার মত সাহস ও তাদের ছিলনা। হায়রে ভণ্ড সৌদি সরকারের শরিয়া আইন!

সৌদি সরকারকে যারা ইমানদার বলেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন।এদের অধিকাংশই ভণ্ড। যার কিছু নমুনা আগেই বলেছি। আরও কিছু বলছি।এরা কিভাবে ধর্মের নামে ধর্মকে অপব্যবহার করে। ইসলামী শরিয়া মোতাবেক তারা আইন কানুন পরিচালিত করেন। সৌদি শাসকরা তবে কেন ইসলামি শাসন ব্যবস্থা চালু না করে নিষিদ্ধ রাজতন্ত্র কায়েম করে রেখেছে? ইরাক যুদ্ধে কেন ইহুদীদের সমর্থনে নিজের মাটি তারা ব্যবহার করতে দিয়েছিল আর আর এক মুসলিম জাতি ইরাককে ধ্বংস করার জন্য কেন তারা মার্কিনীদের মদদ দিল? এক মুছলমান জাতির হাত দিয়ে অন্য মুছলমান জাতি যদি নিরাপদ না থাকেন তবে সৌদি সরকার কিসের মুছলমান? এদের রাজা রা কোন প্রাসাদে থাকেন? আর ইসলামের খালিফারা কোন প্রাসাদে থাকতেন? রাতের আধারে তারা প্রজার দুঃখ কষ্ট দুর্দশা খোজ করে বেড়াতেন। সোমালিয়ায় লাখ লাখ মুসলিম না খেয়ে মারাযায়। মানবেতর জীবনযাপন করে। আর সৌদি তাদের খোজ রাখেনা! এই কেমন শরিয়াহ? এটা।হযরত আবু বকর (রাঃ) খালিফা হয়ে বলেছিলেন-

“আমার শাসন কালে আমার কোন ভুল হলে তোমরা আমাকে শুধরে দেবে”

কিন্তু বর্তমান সময়ে সৌদি সরকারের কোন প্রকাশ্য সমালোচনা কিংবা বাক স্বাধীনতার দাবি করা কিংবা রাজতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ! কেননা সব নাকি শরিয়া আইন! কাবায় প্রতি বছর গিলাফ পরানো, মসজিদের উন্নয়ন এবং হজ্ব মৌসুমে হাজিদের জন্য একটু উন্নত ব্যবস্থা করে দিলেই কি ইসলাম সেবা হয়ে গেল?

ব্লগে অনেক ভাই বাংলাদেশী ৮ জনকে শিরচ্ছেদ করার পর জিকির তুলেছেন আল্লার আইন কায়েম হয়েছে। মেনে নিলাম। তবে এমন একটি দেশে শরিয়ার ধোঁয়া তুলে আল্লার আইন কায়েম করা হল সেই দেশটির সরকার ইসলামী আইন ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ অবৈধ। আর আমার সেই সব ভাইয়েরা সৌদির গীত গাচ্ছেন। ওদের কাছে শরিয়াহ আইন এর চাইতে সৌদি সরকার ও সৌদি প্রেম অনেক বেশি। কেন বেশি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। আসুন একটু বিস্লেশন করা যাক।

১৯৭১ এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের পর একের পর এক বহিঃবিশ্ব বাংলাদেশ কে স্বীকৃতি দিতে থাকে। কিন্তু সৌদি স্বীকৃতি দেয় একেবারে শেষের দিকে। অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট এর পর! ”
সৌদির সেই সময় কার প্রচার ছিল

হিন্দু বাদী ভারতের জন্য ১৯৭০ এর দশকের বৃহৎ মুছলিম দেশ পাকিস্তান ২ ভাগে ভাগ হয়ে যায়

সৌদিদের হারামিপানায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একবার তার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. শাহিদুজ্জামানকে বলেছিলেন

এত বদজ্জাত জাতির জন্যই আল্লাহ এত নবী রাসুল পাঠাইছে।

যাই হোক আমাদের বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি সরকারের কূটনীতিক সম্পর্কের উদয় হয় ৭১ এর কুখ্যাত রাজাকার পুনর্বাসন এর যুগে। বাংলাদেশের সরকার রাজাকার, আল বদরদের উপর যত বেশি ফেইথ দেখিয়েছে তত বেশি ফ্রেন্ডলি হয়েছে সৌদির সঙ্গে এই দেশের কূটনীতিক সম্পর্ক। শেষ নবীর উম্মত হিসাবে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা আমরা খরচ করি পবিত্র হজ্ব পালন করার জন্য। আর এই অর্থের বিরাট একটি অংশ সৌদির অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে। সেই অর্থে বড় একটি ক্লাইন্ট রাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশ। তাছাড়া সেই দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে রাখতে বাংলার লাখ লাখ নবীর উম্মত বলতে গেলে পেটে ভাতে খাটে। সেই সব বাংলাদেশীদের সঠিক পারিশ্রমিক ও দেওয়া হয়না। অনেকটা কৃতদাস বানিয়ে রাখা হয় পাসপোর্ট জব্দ করে কিংবা আকামা নবায়ন না করে। সেই দেশের মদিনা বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়তে গেলে নাকি বাংলাদেশের বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে।সেই দেশের বিভিন্ন যাকাত ফান্ড নাকি এই দেশের সেই রাজনৈতিক দলটি ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার করে। এমন কি বাংলাদেশের জঙ্গি অর্থায়নের জন্য সৌদির যাকাত ফান্ড ব্যবহার করা হয়েছে বলে পত্রিকায় এসেছে বহুবার।

এই আইনে আছে জামাত রক্ষা কবজ!

এই দেশে সৌদি আদলে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম এর কথা বলে জামাত। কেননা একমাত্র সৌদি ই জামাতের পক্ষে বিরাট ভূমিকা রাখছেন যুদ্ধ অপরাধ বিষয়ক আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে। যুদ্ধ অপরাধ বিষয়ক কর্মকাণ্ড শুরু হবার সাথে সাথেই তাদের ( সৌদির) দরদ উথলে পড়েছিল। প্রথমে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করলেন। তারা চাননি এই দেশে যুদ্ধ অপরাধীর বিচার হোক। কিন্তু সরকারের অনমনীয় নীতির কাছে নতজানু হয়ে শেষ পর্যন্ত তারা এই দেশের সরকারের কাছে ’ফেয়ার এ্যন্ড ট্রান্সপেরেন্ট’ ট্রায়াল দাবি করেন। লক্ষ্য করুন সৌদি কিন্তু এইখানে শরিয়া ভিত্তিক বিচার দাবি করেন নি। জামাত যেহেতু নিজেদের কে একমাত্র আল্লার সৈনিক ভাবে। কোরআন আর সুন্নাহর শাসন কায়েম এর জন্য চিৎকার করতে থাকে। এর পেছনে কিন্তু গোপন একটি বিষয় জড়িত রয়েছে। আর সেটি হল

শরিয়াহ আইনে তওবা করলে গন হত্যাকারী আর গন ধর্ষণ কারীর শাস্তি হবেনা!

ভাবছেন কি বললাম। হা ঠিক বলেছি। আসুন দেখি সেই শরিয়াহ আইন।

‘‘হিরাবা’র অপরাধ ব্যতীত অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধী তওবা করিলেও শাস্তি হইতে রেহাই পাইবে না – হিরাবার অপরাধের শাস্তি ব্যতীত তওবা অন্য কোন শাস্তি বাতিল করে না’’ – শরিয়া আইন নং ১৩, বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ১ম খণ্ড পৃষ্ঠা ২১৮ ও ২২২।

হিরাবা কি?

‘‘হিরাবাহ্‌ বলিতে সংঘবদ্ধ শক্তির জোরে আক্রমণ চালাইয়া আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাইয়া জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা বোঝায়। সম্পদ লুন্ঠন, শ্লীলতাহানী, হত্যা ও রক্তপাত ইহাতে অন্তর্ভুক্ত’’।

ইসলাম কায়েম এর নামে ইসলামের সাথে এমন কুকর্ম কে করেছে? নিজেদের বাচাতে কি সুন্দর স্বহস্তে তৈরি কালো আইন! যাতে পূর্ব থেকে ফরমেট করা। সু কৌশলে যুদ্ধ অপরাধ এবং ধর্ষণ সংক্রান্ত ব্যাপার গুলোকে যাতে বিচারের মুখোমুখি না করা যায় সেই জন্য সুন্দর করে জামাতের তত্ত্ব গুরু শাহ্‌ আব্দুল হান্নান এর তত্ত্বাবধানে ৩ খন্ডের বইগুলো লিখেছিলেন জামাতি ৬ পণ্ডিত! আর সেই গুলো প্রকাশ করলো ইসলামিক ফাউন্ডেশন।আহারে শরিয়া আইন হলে জামাতিদের কত যে ভাল হতো! হত্যাকারী আর ধর্ষণকারীরা আজ ইসলামের চরম সেবক সাজতে চায়।শরিয়াহ আইন কায়েম এর একটা বড় সুবিধা কিন্তু ধরিয়ে দিলাম।কাজেই যারা সু কৌশলে শরিয়া আইন শরিয়া আইন বলে গলা দিয়ে রক্ত বের করে ফেলে তাদের শরিয়া আইন কেন জরুরী বুঝা গেল এতক্ষণে! ভূতের মুখে রাম রাম সবাই ধরে ফেলেছে।

আসি বরং আবারো সৌদি প্রসঙ্গে। ৮ জন বাংলাদেশি কে প্রকাশ্যে দিবালোকে শিরচ্ছেদ করে সৌদি যে ধর্ম রক্ষা করেছে সেটি বিচারের নামে চরম প্রহসন। ইসলামে হত্যার বদলে হত্যা বলা হলেও প্রকাশ্যে হত্যার কথা বলা হয়নি। প্রকাশ্যে হত্যা করে নাকি সাধারন মানুষ কে শিক্ষা দেওয়া হয়। হায়রে শিক্ষা! হত্যা মনে হয় যাত্রাপালা! উপভোগ্য একটি বিষয়। গেল রাতে এ টি এন নিউজ এর নিউজ এক্সট্রা আওয়ার নামের একটি লাইভ অনুষ্ঠান চলছিল। এই অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল সৌদিতে ৮ বাঙালিকে শিরচ্ছেদ এই ব্যাপারে। এই খানে অতিথি ছিলেন জামেয়া মদিনা দক্ষিন খান মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মনিরুজ্জামান রব্বানি। তাকে বিভিন্ন বিষয় প্রশ্ন করা হচ্ছিল। তিনি সরাসরি এমন হত্যার জন্য তীব্র নিন্দা জানান।তার কথার কিছু ধারন কৃত অডিও ভার্সন আমি দিয়েছি পডকাস্টে।

শুনুন প্রথম পডকাস্ট এবং দ্বিতীয় পডকাস্ট

তিনি বলেন হত্যার বদলে হত্যা ইসলাম সমর্থন করলেও প্রকাশ্যে এমন হত্যা এটি চরম হিংস্র আচরন। তিনি আরও বলেন ১ জনকে ৮ জন একসঙ্গে হত্যা করতে পারেনা। এই ক্ষেত্রে কেউ অন্যায় টি বেশি করেছেন আবার কারো অন্যায় কম ছিল। কাজেই সকল কে একি দণ্ডে দণ্ডিত করা এটি কোন ভাবেই কেসাস সমর্থন করেনা। তাছাড়া যাদের শিরচ্ছেদ করা হল তাদের শেষ ইচ্ছা পূরণ করা হয়েছিল কিনা এবং তাদের কাছে কারো কোন দেনা পাওনা আছে কিনা এটি মৃত্যু দণ্ড দেবার পূর্বে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে হয়। এবং মৃত্যু দণ্ড দেবার মত রায় ঘোষণার পূর্বে চরম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ ছিল। কিন্তু সৌদি প্রশাসন সেটি করেনি। তিনি আরও বলেন একজন কে যে হত্যা করবে এবং বাকি এক বা একাধিক ব্যক্তি যদি হত্যা না করে অর্থাৎ সরাসরি হত্যা না করে হত্যাকারীকে সাহায্য করে এই দুইজনি একি অপরাধে অপরাধী নয়। কাজেই ৮ জনকে শিরচ্ছেদ করা এটি চরম ইসলাম বিদ্বেষী সিদ্ধান্ত!

সৌদি আসলে সৃষ্টির প্রাক থেকেই একটি বর্বর জাতি হিসাবে চিহ্নিত ছিল। তারা শরিয়াহ কে ব্যবহার করে। কিন্তু তারাই আবার অবৈধ ভাবে রাজতন্ত্র কায়েম করে ক্ষমতার মসনদে বসে আছে। তারা প্রজা দ্বারা খালিফা নির্বাচিত হন না। যাদের প্রশাসন অবৈধ তাদের কিসের শরিয়াহ আইন?

আর আমার দেশে যারা সৌদির পক্ষে এখনও সাফাই গাচ্ছেন, ৮ জনকে শিরচ্ছেদ করার জন্য যারা খুশি হয়ে আল্লার কাছে সৌদির জন্য দুয়া করছেন তাদের জন্য কিছুই বলার নেই। এমন বর্বর প্রশাসন ধ্বংস হোক। জংলি সৌদি প্রশাসন ঘৃণিত হোক সারা বিশ্বে।

****************