ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

তথ্য অধিকার আইন VS বেসরকারি সম্প্রচার নীতিমালা = তথ্য সম্প্রচার নীতিমালা’২০১২। এটা সংবাদমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ইন্টারনেট মিডিয়ার উপর মুগুর মারবে ! কিন্তু আসলে মাথাটা ফাটবে সর্বস্তরের জনগনের ! ১৯৯১-৯৮ সালে দেখতাম মানুষ দেশের কোন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নির্ভরযোগ্য খবর শুনতে রেডিওতে বিবিসি বাংলা‘র খবর শোনার জন্য হুমড়িখেয়ে পড়তো কারন দেশের পত্র-পত্রিকা গুলো টিকে থাকার জন্য নেতা নেত্রীদের সুবিধা মতো লিখে যেতো আর রেডিও টেলিভিশন ‘উন্নয়নের জোয়ার’এর খবরে ২৪ ঘন্টা ভাসিয়ে রাখতো ! আমাদের নেতা-নেত্রী’রা তখন খুব আরামে দেশ শাসন করতে পারতেন। কিন্তু এখন পুরুনো স্টাইলে দেশ চালানো কতো জটিল তা বিরোধী ও সরকারী দল হয়তো চিন্তাও করতে পারেনা, তবে এখন তারা মহা-চিন্তিত ; কারন এখন সারাবিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির অবিশাস্য উন্নতি ও ব্যবহারের ফলে নেতারা তাদের কোন ছল-চাতুড়ি লুকাতে পারছেন না, গোপনে পাহাড়ের গুহায় বসে মিটিং করলেও কিছুক্ষন পর দেশের পাবলিক শুধু না সারা দুনিয়ার সবাই সব জেনে যায় ! প্রতি ঘন্টায় সচিত্র খবর থাকে টিভি চ্যানেলগুলোতে, প্রতি ১০ মিনিট পরপর ছবি/ভিডিও ফুটেজ সহ তরতাজা খবর আপডেট হয় অনলাইনে দৈনিক পত্রিকা গুলোর ওয়েবসাইটে ! ২ ডজনের উপরে বেসরকারী বাংলা টিভি চ্যানেল ও জাতীয় দৈনিকের অকুতোভয় সাংবাদিকেরা মাল্টিমিডিয়া ক্যামেরা নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ায় সারাক্ষন, শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম,হাওর,বিল,চর,নদী,বনবাদার কিছুই কেয়ার করেনা এসকল সংবাদ-সেনা’র দল ! সব সত্য-অসত্য তুলে এনে ফাঁস করে দেয় প্রতিদিন ! আর ইন্টারনেটে তো রীতিমতো প্রতি মূহুর্তের আপডেট খবরের মেলা বসে দেশের প্রথম সারির পত্রিকা ও অন্য অসংখ্য ওয়েবসাইট গুলোতে ! তার উপর ‘উইকিলিকস’ তো যেনো গ্রেনেড হামলাই করে বসলো আমাদের সৎ, পয়-পরিষ্কার রাজ নীতিক’দের উপর ! এ অবস্থায় মনে হয় এখন বিরোধী দল ও সরকার দুজনই চায় কোন আইন করে হলেও তথ্যের অবাদ প্রবাহ বন্ধ হোক। কেউ যেন কিচ্ছু জানতে না পারে, তাঁরা দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে নোংরা রাজনীতির খেলা খেলবেন একে অপরের বিরুদ্ধে আর দেশ চালাবেন চা-কফি খেতে খেতে ! আগের মতো আরামে-নিশ্চিন্তে ! হায় ! যদি তারা বুঝতেন…….!

-আব্দুল ওয়াহাব/২৮/০৯/২০১১ইং

***
ফিচার ছবি: আন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত