ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মির্জা ফখরুল ঘুরিয়ে পেচিয়ে কি বলেন এসব ? আপনার কি বিশ্বাস হয়না যে আমরা সাধারন মানুষ সবই বুঝতে পারি ? দেশে এখন শ’খানেক প্রিন্ট ও অনলাইন দৈনিক এবং প্রায় ৩০টি ২৪ঘন্টা সম্প্রচারীত প্রাইভেট টিভি চ্যানেল সাথে ইন্টারনেট সোস্যাল কমিইনিটি তো রয়েছেই। এখন ঘরে বসেই জাতীয় বা আর্ন্তজাতিক যে কোন ঘটনার সত্যতা জানতে সময় লাগে মাত্র ৫/৬ মিনিট। এরূপ বাস্তবতায় ইসলামী নাম’ধারী কোন দল বা গোষ্ঠি সমাবেশের নামে পুলিশ’কে ফাকিঁ দিয়ে আকস্মিক তান্ডব চালায় ! জুময়ার নামাজের দিনে জাতীয় মসজিদের ইমাম’কে লাঞ্চিত করে হাত থেকে মাইক ছিনিয়ে নেয়া, মসজিদে মুসল্লী’দের জায়নামাজে আগুন দেয়, নিরিহ পথচারী, গণমাধ্যমের সংবাদ কর্মী’দের ও পুলিশকে পিটিয়ে মারে আপনি সেই চরমপন্থি ইসলামী(?)দলের পক্ষে দালালী’র করার মহান দায়ীত্ব নিয়েছেন এটা পরিষ্কার করে বলুন।আপনি সেদিন যে উদ্দেশ্যে শহীদমিনারে ফুল দিয়ে আসলেন আজ আপনার জামাতিসলামী মুসল্লীনাতি-পুতি’রা সেই শহীদ মিনার ভেঙ্গে দিয়েছে আর ফুল গুলো পায়ে পিষে ভর্তা করে রেখে গেছে !

প্রারতিটি হরতালে তার আগের দিন রাতে যাত্রী সমেত গাড়ি পোড়ায় আপনার অনুসারী নেকরের দল, তাই আজ প্রজন্ম চত্বরের যুবকেরা সরকার বা আপনার মতো ফন্দিবাজ নেতা’দের পাতা ফাঁদ চেনে। সরকার কাউকেই বিভ্রান্ত করছে না, কোন দিক নির্দেশনাও দিচ্ছে না। সরকার অন্তত তাদের নির্ভর যোগ্য প্রতিনিধি শাহাবাগের প্রজন্ম চত্বরে পাঠিয়ে এ গণআন্দোলনের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করার মাধ্যমে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন । কথা হলো, আপনারা বিএনপি ওয়ালারা কি করছেন ? এই গণআন্দোলনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আপনারা এবং একমাত্র আপনারাই জনগনকে বিভ্রান্ত করার কাজটি করার চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন। আজ ২৫ দিন ধরে অবিরত ভাবে চলমান বৈধ, সৎ, যৌক্তিক ও মৌলিক এ গণআন্দোলন’কে কোন রাজনৈতিক দল নিজেদের দাবি আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চাইলেই পারবেন না, এটা করতে চাইলে সেই দলের নীতি নির্ধারকদের রাজনৈতিক ভাবে কতটা সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ মেধা এবং জ্ঞানের অধিকারী হওয়া প্রয়োজন তা বুঝতে পারেন ? মিঃ ফখরুল মানুষ’কে বিভ্রান্ত করার জন্যও কিন্তু একটি বিশেষ মাত্রার জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার দরকার হয় ।

আপনাদের বক্তব্য-বিবৃতী পর্যালোচনা করলে সেই মানের মেধা আছে বলে মনে হয়না, আপনারা যে রাজনীতি করেন তা থেকে আজকের প্রজন্মের শেখা’র কিচ্ছু নেই ! এ রাজনীতি শুধুই আপনাদের জন্য তৈরী করেছেন আপনারা নিজেরা। আজ দলমত নির্বিশেষে প্রায় ২৫ দিন ধরে চলা, রাত’কে দিন- দিন’কে অন্তহীন করে প্রাণের দাবী নিয়ে আমরা যে অদম্য এক আলোরমিছিল তুলেছি সে আলোর ঝর সারাদেশ ছাপিয়ে বিশ্ব ছুয়েঁছে এখন ! আর তা কোন ভাবেই আপনাদের অসুস্থ রাজনীতির কোন ইস্যু বা এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয় । টেলিভিশনের টকশো গুলোতে যখন প্রজন্মচত্বরের প্রতিনিধি’দের চলমান আন্দোলনের উদ্দেশ্য কিংবা লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তখন আমি একদম টেনশনে থাকিনা যে ওরা প্রশ্নের উত্তর ঠিক ঠিক দিতে পারবে তো ? বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরিয়ে-পেচিয়ে ভুল কিছু বলে বোঝাতে চেষ্টা করবেনাতো ? কারন আমি এবং আমার মতোই দেশের তাবৎ জনসাধারন ঐ অরুনোদয়ের তরুনদল-এর সততা, মেধা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম।আমাদের যোদ্ধা’রা অত্যন্ত সঠিক তথ্যভিত্বিক, যৌক্তিক ও প্রাঞ্জল ভাবে চলমান আন্দোলনের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন।প্রজন্ম চত্বরে আপনি একবার আসুন দেখবেন আপনার রাজনৈতিক দর্শন বদলে যাবে।আর যদি আপনারা বিএনপি’র কেউই না আসেন তবুও আমরা সাধারনের কোন ক্ষতি নেই, আলোকিত জনতার ট্রেন প্ল্যাটফর্মে এসে দাড়িয়েছে সবার জন্যই। স্বচ্ছ মানসিকতা নিয়ে একে একে সবাই উঠে পড়ছে আলোকিত বাংলাদেশের উদ্যেশে। ট্রেন কেউ থামাতে পরবেনা এবং কারো জন্য অনন্তকাল বসেও থাকবেনা, আপনারা শতশত স্যুটকেস আর বাক্স-পেটরা নিয়ে স্টেশনেই দাড়িয়ে থাকুন ! মিঃ ফখরুল, হ্যালি’র ধুমকেতু পৃথিবীর আকাশে ১৫০ বছরে একবার দেখা যায় এটা জানেনতো ?

৮৫’তে দেখেছি আমি, আজ অবাক চোখে আবার দেখছি শাহাবাগে সেই আলোর নাচন ! গত ৪১ বছর যাবত তোমরা নেতা’রা যেভাবে বংলাদেশটাকে সত্য ও ন্যায়ের মৃত্যুপুরী করে তুলেছো, সে দিন আর রাত গুলো একেকটা বছরের মতো কেটেছে আমাদের । এতোদিন যাদের সুশীল ও আলোকিত সমাজ চাওয়ার নামে গলাফাটাতে দেখেছি, কখনোবা বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে মোটা মোটা বয়ান দিতে দেখেছি পত্রিকার কলাম জুড়ে, সেজে-গুজে পরিপাটি করে বসে দুলে দুলে টিভি চ্যানেলের টক-শো’র আসর গরম করতে দেখলাম, আজকের বাস্তবতায় বুঝতে পারছি যে গত ৪১ বছর ধরে জামাতীসলামী’র টাকায় এসব সুশীল’দের ঘর-সংসার চলে, এদের সমজের প্রতি বা দেশ-মাতৃকার জন্য কোন দায় নেই। এসকল কুবুদ্ধিজীবি’রা তাদের পালনকর্তা রাজাকার ‘দের রক্ষায় তৎপর ছিল, আছে এবং থাকবেও ! তাই এখন পত্রিকায় চোখ রাখলে বা টিভি চ্যানেল গুলোর টক-শো দেখে অবাক হতে হয়। যেন সয়ংক্রীয় ভাবেই ঐসব মুখোশধারী সুশীল’রা আসল চেহারায় ফিরে আসছে প্রতিদিন দেখছি এবং নির্লজ্জ মিথ্যাচার এবং বিভ্রান্ত মূলক তথ্য দিয়ে জাতীকে কনফিউজড্ করছে এবং বিভক্ত করছে ঐসব কুখ্যাত খুণি শিবির-রাজাকার’দের বাঁচানোর চেষ্ঠা করে যাচ্ছে। তবে এবার আর ভুল করবেনা বীর বাঙালী, এবার জেগেছে জনতার শাহাবাগ’ ভোর না দেখে ঘুমাবে না আর এ বাংলা। আলোয় ঝলমলে ভোর আসবেই !