ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে বর্বরতম ও আইন অমান্যের জাতি হিসাবে ইসরাইল আজ প্রতিষ্ঠিত। যদিও অবস্থান বিন্যাসে যুক্তরাষ্ট্র সবার উপরে অবস্থান করছে। একটি প্রতিষ্ঠিত ও শান্তিপ্রিয় জাতি ফিলিস্তিনকে দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য পৃথিবীর এহেন কোন আইন নেই যা ইসরাইল অবজ্ঞা করেনি। এমন কোন নৃশংসতা নেই যা ফিলিস্তিনীদের উপর প্রয়োগ করেনি। বিশ্বময় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যাযাবর গৃহহীন এই ইহুদিরা তৎকালীন সব মেরুর বিশ্ব শক্তিগুলোর সহযোগিতায় ফিলিস্তিনে পুনর্বাসিত হয় বিনা বাধায়। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ, আর্তনাদ বিশ্বের কোন শক্তিই আমলে নেয়নি। ১৯৪৭ সালে বৃটেন ইহুদীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ভূমির প্রস্তাব জাতিসংঘে তোলে। যাতে বলা হয় ফিলিস্তিন ভেঙ্গে ৫৫% ইহুদিদের, বাকী ৪৫% ফিলিস্তিনকে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের চাপে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সেই প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়। প্রস্তাব পাশ হওয়ার পরপরই ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ইসরাইল স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেয়। দখলদার রাষ্ট্রটিকে ত্বরিৎ স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বহু পূর্ব হইতেই বিশ্বের ইহুদিরা পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনে জায়গা-জমিন ও বাড়ী-ঘর কিনে বসতি গড়তে থাকে। ৯০% শতাংশ ফিলিস্তিনীর আবাসভূমিতে বর্তমানে ইহুদী আছে ৮০ লক্ষ আর ফিলিস্তিনী আছে ৪০ লক্ষ। বসতি স্থাপনের শুরু হতেই ইহুদীরা ফিলিস্তিনিদের উপর হত্যা-নৃশংসতা চালাতে থাকে। উল্লেখযোগ্য নৃশংস হত্যার কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হইল। ১৯২০ ও ১৯৩০ দশকে ইহুদীরা গণহত্যা চালিয়ে বহু ফিলিস্তিনীকে গুম করে। ১৯৩৮ সালের জুলাই মাসে ফিলিস্তিনিদের সবজির বাজারে ইহুদীরা বোমা হামলা চালিয়ে ৬৫ জন ফিলিস্তিনীকে হত্যা ও শত শত জন ফিলিস্তিনীকে আহত করে। ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসে ফিলিস্তিনীদের বহনকারী বেশ কয়েকটি রেলগাড়ীতে ইহুদীরা হামলা চালিয়ে ১০০ জনের উপর ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও ১৫০ জনাধিককে আহত করে। ১৯৪৮ সারের ৯ এপ্রিল ইসরাইলের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রায় এক মাস পূর্বে ‘‘দিন ইয়াসিন’’ নামক ফিলিস্তিনী গ্রামে ব্যাপক আকারে গণহত্যা চালিয়ে ছিলো। যার উদ্দেশ্য ছিলো বিশ্বকে দেখানো যে, ইহুদী-ফিলিস্তিনী একসাথে থাকা সম্ভব নয়, ইহুদীদের আলাদা রাষ্ট্র দাও। ঐ গণহত্যায় ২৫৪ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করে গ্রামটির কুয়ায় নিক্ষেপ করা হয়েছিলো। এই নৃশংশতা দেখে গ্রামের দশ লক্ষ ফিলিস্তিনী আশপাশের আরব দেশগুলিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সেই সুযোগে ফিলিস্তিনীদের শূন্য বসতিগুলিতে ইহুদীদের পুনর্বাসিত করা হতে থাকে।

এই নৃশংসতার একটি প্রতিবেদন জাতিসংঘে পেশ করেন জেরুজালেমে অবস্থানকারী জাতিসংঘের মধ্যস্থতাকারী কাউন্ট বার্নাডোট। এই প্রতিবেদন প্রকাশের দায়ে ইহুদীরা কাউন্ট বার্নাডোট ও তার ফরাসী সহকারী কর্নেল সেরুতকে জেরুজালেমে হত্যা করে। ইহুদিদের পুনর্বাসনে বিশ্ব এতই মগ্ন ছিলো যে, নিজ দেশের নাগরিক হত্যায়ও তাদের অনুভূতি জাগতো না। ১৯৪৮ সালের এপ্রিল মাসে ‘‘টেল লিট ফানাস্কি’’ নামক পরিত্যাক্ত বৃটিশ সেনা শিবিরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের উপর বর্বরোচিত কায়দায় হামলা চালিয়ে ৯০ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইহুদিরা। ১৯৪৮ সালের ২২ এপ্রিল ফিলিস্তিনী বসতি ‘‘হাইফা’’ শহরে হামলা চালিয়ে ৫০০ ফিলিস্তিনীকে হত্যা করে এবং পলায়নরত নারী ও শিশুদের উপর কাপুরুষের ন্যায় হামলা চালিয়ে আরো ১০০ ফিলিস্তিনীকে হত্যা ও ২০০ জনকে অঙ্গহানী করে। ইসরাইল স্বাধীন হওয়ার পর যেন ফিলিস্তিনী হত্যার বৈধ লাইসেন্স পেয়ে যায় ইহুদিরা। স্বাধীনতার দুই মাস পর ১১ ও ১২ জুলাই ইহুদী নরঘাতকরা ফিলিস্তিনের ‘‘লাদ’’ শহরের ঘরে ঘরে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে ২৫০ জনকে হত্যা ও বহু ফিলিস্তিনীকে পঙ্গুত্ব বরণে বাধ্য করে।১৯৫২ সালের জানুয়ারী মাসে বায়তুল মোকাদ্দাসের কাছাকাছি তিনটি গ্রামে একযোগে হামলা চালিয়ে ইহুদিরা বহু নারী ও শিশুদের হত্যা করে ঘুমন্ত অবস্থায়। ১৯৫৩ সারের ২৮ আগস্ট গাজার শরনার্থী শিবিরে গ্রেনেডের মাধ্যমে হামলা চালায় এবং পলায়নপর নারী-শিশুদের উপর গুলি বর্ষনের মাধ্যমে ২০ জনকে হত্যা করে ও ৬৫ জনকে আহত করে। ১৯৫৩ সালের ১৫ অক্টোবর জর্দানের ‘‘ক্বিবিয়া’’ গ্রামে হামলা চালিয়ে ইসরাইল থেকে পালিয়ে আসা ফিলিস্তিনীদের ৪১টি বাসভবন ও একটি স্কুল মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয় ভিতরে ফিলিস্তিনিরা থাকা অবস্থায়। ১৯৫৬ সালের ৩ নভেম্বর খান ইউনুস শরনার্থী শিবিরে হামলা চালিয়ে ৫০০ জনের অধিক ফিলিস্তিনীকে হত্যা করে দখলদার ইহুদীরা। ১৯৫৬ সালের ১২ নভেম্বর গাজার দক্ষীণে ‘‘খান ইউনুস’’ ও ‘‘রাফাহ’’ শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়ে ৩৭৫ জন ফিলিস্তিনী নারী ও শিশুদের হত্যা করে। ১৯৬৭ সালের জুন মাসে আরব দেশগুলির বিরুদ্ধে ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করে-মাত্র ছয়দিনে চেতনাহীন আরবদের পরাজিত করে দখল করে নেয় পুরো ফিলিস্তিন, মিশরের সিনাই উপত্যকা, জর্দান নদীর পশ্চিম তীর এবং সিরিয়ার গোলান মালভূমি। আরবরা রণে ভঙ্গ দিলেও ফিলিস্তিনীরা মরণপণ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। ১৯৬৭ সালের নভেম্বর মাসে ও ১৯৬৮ সালের ফেব্রম্নয়ারী মাসে যথাক্রমে জর্দানের ‘‘কারাম’’ শরণার্থী শিবির ও জর্দান নদীর আশপাশের শিবিরগুলিতে নাপাম বোমা দিয়ে হামলা চালিয়ে ৮০ জন ফিলিস্তিনীকে হত্যা ও শত শত জনকে আহত করে।

১৯৭০ সালের ১২ই মে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের হত্যার উদ্দ্যেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে হামলা চালায় লেবাননে অবস্থিত ফিলিস্তিনী শরণার্থী শিবিরগুলিতে। এই হামলায় বহু ফিলিস্তিনী ও লেবাননী মারা যায়। বিশ্বের শক্তিধর ও আরব রাষ্ট্রগুলোর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ইসরাইল তার ফিলিস্তিনী হত্যাযজ্ঞ তৎপরতা ফিলিস্তিন, মিশর, জর্দানের সীমানা ছাড়িয়ে লেবানন, সিরিয়া এমনিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী ফিলিস্তিনী নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে তার হাত প্রসারিত করেছে।

১৯৭৩ সালের পর ইসরাইল তার অর্থায়নে পরিচালিত ও দোসর লেবাননী খৃস্টানদের মাধ্যমে বৈরুতের পূর্বাঞ্চলে ‘‘তালজায়াতার’’ শরণার্থী শিবিরে ফিলিস্তিনীদের দুই মাস অবরুদ্ধ করে রাখে। শিবিরের পানি খাওয়ার একমাত্র উৎস কুয়াটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। অতঃপর চালানো হয় গণহত্যা। অবরুদ্ধের কারণে অর্ধমৃত অসহায় শরণার্থীদের উপর বর্বর হামলা চালিয়ে দুই হাজার পাঁচশত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয় বিভিন্ন নৃশংস কায়দায় ও গলা কেটে।

১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ইসরাইল লেবাননে সরাসরি হামলা চালায় ফিলিস্তিনী প্রতিরোধকে ভেঙ্গে দেওয়ার উদ্দেশ্যে। ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের তৎকালীন যুদ্ধমন্ত্রী এ্যারিয়েল শ্যারনের নির্দেশে ‘‘সাবরা’’ ও ‘‘শাতিলা’’ নামক শরনার্থী শিবিরে হামলা চালায় ইসরাইল ও লেবাননী খৃস্টান সহযোগীরা। এই হামলায় চার হাজার ফিলিস্তিনী নারী, পুরুষ ও শিশুদের নিকট ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস কায়দায় হত্যা করা হয়। ৪৮ ঘন্টা ব্যাপী বিরামহীন এই হত্যাযজ্ঞে তারা আগ্নেয়াস্ত্রের চেয়ে ধারালো ছুরিই বেশী ব্যবহার করে। গলা কেটে, চোখ উপড়িয়ে, জীবন্ত অবস্থায় চামড়া তুলে, পালাক্রমে নারীদের ধর্ষণ করে, ধর্ষনের পর স্তন কেটে, পেট ফেড়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। শিশুদেরকে মাঝ বরাবর দ্বিখন্ডিত করে ও মাথা আছড়িয়ে মগজ বের করে হত্যা করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য নির্দেশদাতা ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এ্যারিয়েল শ্যারনকে ‘‘সাবরা ও শাতিলার কসাই’’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

এ রকম উলঙ্গ বর্বরতম হত্যাযজ্ঞোর পরও জাতিসংঘ শুধু নিন্দায় আবদ্ধ ছিলো। পাশ্চাত্যের দেশগুলি সিগারেটে সুখটান দিয়েছে আর আরব দেশগুলো ডিমে তা দেওয়ায় ব্যস্ত ছিলো।

১৯৮৭ সালে শুরু হয় ফিলিস্তিনী মুক্তি সংগ্রাম ‘‘ইন্তিফাদা’’ নামক গণ আন্দোলন। ইহুদিরা এই গণআন্দোলন ঠেকাতেও বেছে নেয় জঘন্য নৃশংসতা। গণহত্যা, গুপ্ত হত্যা, হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়া, মহিলাদের গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার মত পন্থাও অবলম্বন করে ইহুদীরা। এমনকি মসজিদে বোমা হামলা চালিয়েও নামাজরত মুসুল্লীদের হত্যা করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর মাজার সংলগ্ন মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জন মুসুল্লীকে হত্যা করা হয়। আর আহত করা হয় শতাধিক জনকে। উল্লেখ্য, এই মসজিদে হযরত ইসহাক (আঃ) ও হযরত ইয়াকুব (আঃ) এর মাজার শরীফ অবস্থিত আছে। ১৯৭০ সালে ইসরাইল তার পদলেহী জর্দানের বাদশা শাহ হোসেনকে উস্কে দেয় তার দেশে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তিনী হত্যায়। মুসলিম দেশগুলির মধ্যে জর্দানের এই অথর্ব রাজতান্ত্রিক বাদশাই ইসরাইলকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় ও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। জর্দানে আশ্রয় নেওয়া অসহায় ফিলিস্তিনিদের উপর অথর্ব বাদশা তার ইহুদী সহযোগীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যা করে ২০ (বিশ) হাজার ফিলিস্তিনীকে।

যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের সহযোগিতায় যুগের পর যুগ লাগামহীন ঘোড়ার ন্যায় লম্ফঝম্ফ দিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ইহুদী রাষ্ট্রটি। সর্বশেষ চলতি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ হতে গাজায় আবার স্বৈারাচারী কায়দায় হামলা চালিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সম্মুখ লড়াই ব্যতীত কাপুরুষোচিত ভাবে ২১ জন ফিলিস্তিনীকে হত্যা করে ও বহু আহত করে। আবার বিশ্বকে, জাতিসংঘকে ও সমগ্র বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়ে বলেন- ইসরাইল যতদিন মনে করবে ততদিন ফিলিস্তিনীদের উপর বিমান হামলা চালিয়ে যাবে। ইহুদীদের আরো ভয়াবহ বর্বরতার গোপন কর্মকান্ড অতি সম্প্রতি প্রকাশ হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে তিনজন ইহুদী পাদ্রী মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সহ ধরা পড়ার পর। অনুসন্ধানে জানা যায় ইহুদীরা ফিলিস্তিনীদের আহত করে ও নিহত করে তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশ্বে বিক্রি করে যাচ্ছে বহু পূর্ব হতে। এই কর্মকান্ড সম্বন্ধে পুরো রাষ্ট্র অবগত ও সহযোগী। আরও প্রকাশ পায় শিশুদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে কেটে টুকরো টুকরো করে অঙ্গ-প্রতঙ্গ বিক্রীতেও সিদ্ধহস্ত তারা। ইহুদীদের আদিকাল হইতে বর্তমান পর্যন্ত কর্মকান্ড পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় তারা সমগ্র বিশ্বের জন্য বিষফোঁড়া ও পয়জন। তাদের সমস্ত কর্মকান্ড মুসলিম বিদ্বেষ কেন্দ্রিক। তা স্বত্ত্বেও বিশ্বের ৫০টি মুসলিম দেশের মধ্যে ২০টি চেতনাহীন,মেরুদন্ডহীন মুসলিম রাষ্ট্র ইসরাইলকে স্বীকার করে নিয়েছে। মানবাধিকারের ধ্বজাধারী যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সমস্ত কর্মকাণ্ডের অংশীদার । যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারের বুলি ইসরাইলের ক্ষেত্রে অন্ধ। ইসরাইলের পারমানবিক অস্ত্র সামর্থ্যতার ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্রসহ পাশ্চাত্য অন্ধ। যুক্তরাষ্ট্র, পাশ্চাত্য ও ইসরাইল এক দেহ, এক আত্মা। তাই ইসরাইলের বর্বরতার সমাধান যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যকে দিয়ে হবে না এটা পরিষ্কার ও পরীক্ষীত। যারা ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান পাশ্চাত্যকে দিয়ে আশাবাদী তারা বোকাদের দলভূক্ত বা অন্ধ স্বার্থবাদী বা পদলেহী সেবাদাস। ইসরাইলের লাগাম ধরতে হলে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরী করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষীণ আফ্রিকা, তুরষ্ক, আর্জেন্টিনা, পাকিস্তান, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, উত্তর কোরিয়া, মিশর, মধ্য এশিয়া ও ল্যাটিন আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তিগুলিকে। ইসরাইলের লাগাম ধরতে হলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকেও পরমাণু শক্তির অধিকারী হতে হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরী হবে এবঙ ইসরাইলের আস্ফালন-দম্ভ, নৃশংসতা, ভাবলেশহীন আগ্রাসন ও হত্যা বন্ধ হবে। ফিলিস্তিনিরা ফিরে পাবে অধিকার ও স্বাধিকার।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট
zabpathan@gmail.com