ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

ইভ টিজিং নামক যন্ত্রণাময় উৎপাত পৃথিবীর সর্বস্তরে ও সমাজে যুগ যুগ ধরে বহমান বা চলে আসছে। রাষ্ট্রের বা সমাজের শাসনের শিথিলতা ও কঠোরতা এবং সমাজের সামাজিক শৃংখলা, পরিবেশ ও নৈতিকতাবোধের উপর এই ইভটিজিং ভাইরাস নামক অত্যাচারের হ্রাস-বৃদ্ধি নির্ভর করে। সায়েন্টিফিক ও প্রযুক্তির বদৌলতে বর্তমানে ইভটিজিং ভাইরাস অত্যাচারের শিক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি ও প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পূর্ণ ডিজিটাল ক্যাটাগরির। আর পূর্ব যুগের ইভটিজিং ভাইরাসের শিক্ষা ও প্রয়োগ ধরণ ছিলো প্রত্যক্ষ দেখা ও করা এবং অন্যের বর্ণনায় শোনা থেকে, যা ছিলো ম্যানুয়াল বা এনালগ ক্যাটাগরির। পূর্বের এনালগ ক্যাটাগরির ইভটিজিং ভাইরাসটি ছিলো বংশ বিস্তারে ও কর্মে শ্লথগতির এবং ঘটনা ঘটিয়ে নিস্তার পেয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক শেল্টারের প্রতিরোধ বর্মটিও ছিলো দুর্বল। যার কারণে তৎকালীন সময়ে ভাইরাসটি বর্তমানের মতো মহামারীর আকারে ব্যাপকতা পায়নি, কোনমতে প্রতিক্রিয়া আবহাওয়ার ধরনের উপর কম-বেশী টিকে ছিলো।

কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর অক্সিজেন সমৃদ্ধ মুক্ত (প্রযুক্তি) আবহাওয়ায় চিত্র জগতের ছায়াছবি, নাটক, যাত্রাপালা, ডিস, ইন্টারনেট ও মোবাইলের কল্যাণে এনালগ মশকারা, টিটকারি, ফাইজলামি নামক ভাইরাসটি খোলস ভেঙ্গে ডিজিটাল ‘‘ইভটিজিং ভাইরাস’’ নাম ধারণ করেছে। ইদানিং দেশীয় ছায়াছবি, টিভি নাটক ও ডিসের কিছু চ্যানেলে বাল্যকাল থেকে বা শিশু বয়স থেকেই স্কুলে, স্কুলের টেবিলে পাশাপাশি বসা থেকে, আম কুড়াতে গিয়ে, গাছ থেকে ফুল আনতে গিয়ে, শহুরে পরিবার গ্রামে শিশু বাচ্চা নিয়ে বেড়াতে গেলে খেলাচ্ছলে বিপরীত লিঙ্গের কোন শিশুর সাথে পরিচয়ের সুত্র ধরে , এমনকি বাস, ট্রেন, বা নৌকায় দুইটি অপরিচিত পরিবার ছেলে-মেয়ে নিয়ে পাশাপাশি বসে কোন ভ্রমণে যাওযার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের কোলের চিত্রকে নিয়ে ভালোবাসার চিত্রায়িত যে ইভটিজিং নামক ভাইরাসের চিত্র আমরা টিভি,পিসি বা মোবাইলে দেখতে পাই সেই উৎপত্তিস্থলে আগে আঘাত হানতে হবে। সিনেমা হলে রুচিশীল সমাজ ছবি দেখা ছেড়েই দিয়েছে। কিন্তু ঘরে বসে বাচ্চা নিয়ে যখন টিভি অন করি তখন বেশীর ভাগ তথাকথিত প্রগতিশীল ‘‘টিভি চ্যানেলগুলোতে যে নাট্য আমরা দেখতে পাই তখন শিশুদের কোমলমতি মনকে বাচানোর জন্য চোখ চেঁপে ধরতে হয় বা টিভি সেটটি অফ করে দিতে হয়। অফ করে দিতে হয় এই কারণে যে- যদি পরবর্তী চ্যানেলে গিয়ে একই রকম দৃশ্য দেখতে পাই।’’ তাই ইভটিজার ভাইরাসদের (উভয়লিঙ্গ) ধরার ও শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ভাইরাস উৎপত্তিস্থলে হানা দিতে হবে। এই ইভটিজিং নামক ‘ভাইরাসটি’ যাতে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অক্সিজেন পেয়ে জীবন ধারণ বা টিকে থাকতে না পারে এবং সিনেমা ও টিভিতে যাতে মানসম্মত, শিক্ষামূলক ও গঠনমূলক ইভটিজিং এন্টিভাইরাস ছবি ও নাটক বা অনুষ্ঠানমালা তৈরী হয় সেদিকে খেয়াল ও তদারকি বহাল রাখতে হবে জাতির কর্ণধার সরকারকে। ডিসের যেই চ্যানেলটির মাধ্যমে ইভটিজিং ভাইরাসটি অক্সিজেন পাচ্ছে ও বিস্তার লাভ করছে সেইগুলি বন্ধ করে দিতে হবে। তাহলেই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ভাইরাসটির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাবে।

জেড.এ. বাবুল পাঠান
সাংবাদিক ও কলামিষ্ট