ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

জাতি হিসেবে আমরা ব্যবসাটা ভাল বুঝিনা । এটা পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে কম্পিউটারের বিরুদ্বে আন্দোলন হয়েছে । টাইপিস্টরা আন্দোলন করে বলেছিল…….. কর্মসংস্থান কমে যাবে । গার্মেন্টস ব্যবসাও প্রথমে এদেশে শিল্পের মর্যাদা পায়নি । শিল্পের মর্যাদা লাভের জন্য… পোশাক শ্রমিক ও মালিকদের রাজপথে নামতে হয়েছিল । বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের সুয়োগ ও আমরা নিতে পারিনি ব্যবসায় আমাদের অজ্ঞতার কারনে । যখন এ প্রস্তাব আসে তখনকার সরকার তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবীদের কাছে পরামর্শ চাইলে তারা এই পরামর্শ দিয়েছিল যে…. সাবমেরিন সংযোগ নিলে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে । তখন সাবমেরিন সংযোগ ভারত মহাসাগর হয়ে স্পর্শ করলো ভারতের ব্যাঙ্গালুর । আজ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সফট্ওয়্যার শিল্প গড়ে উঠেছে সেখানে । ভারতের অর্থনীতির একটা উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এই খাত থেকে।

দেশের এই বিরাট ক্ষতির দায় আজ কে নেবে ? কোন কিছু ভালোভাবে না জেনে সেই সম্পর্কে মতামত দিতে যাওয়ার মত ভণ্ডামী আজ মহামারি আকার ধারন করেছে । টেলিভিশন টকশো’তে প্রায়ই দেখবেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুঁথিগত ও প্রায়োগিক জ্ঞানের চরম দৈন্য নিয়ে ও তারা বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদান করছে অবলীলায় । আর সাংবাদিক বন্ধুদের বলবো কোন বিষয়ে লেখার আগে দয়া করে বিষয়টা একটু ভালভাবে জেনে নেবেন ।

আর ব্যবসাটা ভালো না বোঝার কারনটা কতকটা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্ভরতার জন্য । বৃটিশ আমলে যখন ব্যবসা বাণিজ্যের একচেটিয়া অধিকার ইংরেজদের হাতে ছিল…. তখন হিন্দু সম্প্রদায় অনেকটা এস্টাবলিশমেন্টের কাছাকাছি ছিলো । তারাই ছিলো নায়েবগোমস্তা। ফলে হিন্দু সম্প্রদায় কিছুটা হলেও ব্যবসা বাণিজ্যে দক্ষতা অর্জন করেন। চাকরীর ক্ষেত্রে মুসলমানরা উপেক্ষিত ছিল । সংগত কারনেই মুসলমানরা ব্যবসায়িক অভিজ্ঞানের দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকে । ফলে ইংরেজদের এদেশ ত্যাগের সাথে সাথে ব্যবসাবাণিজ্যের শূণ্যস্থান হিন্দুরা দখল করে নেয় । আবার ৭১ -এ দেশ স্বাধীন হবার পর ব্যবসা বাণিজ্যের অধিকার পেলেও….. পরম্পরাগত জ্ঞানের ঘাটতি আর পূরন হয়নি আজও । তাই যেকোন নতুন বিষয় এলেই আমরা সহজে মেনে নিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারিনি।