ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

মধুমাস বলে একটা কথা আমাদের দেশে প্রচলিত আছে । বাঙালি এমনিতেই ফলাহার প্রিয় । ফলের কদর এদেশে অন্যরকম । মধুমাস জৈষ্ঠ্যের তাই আলাদা কদর এখানে । ফল প্রিয় বাঙালি তাই সারা বছর অপেক্ষায় থাকে । এই মাসে তাই জামাইদের ব্যস্ততায় অতি অবশ্যই যে অনুষঙ্গটি যুক্ত হয়….. শ্বশুর বাড়ি ফল প্রেরণ । একজন বাঙ্গালী জামাই হিসেবে এই অধমেরও ফি-বছরের অবশ্য পালনীয় কর্মের তালিকায় এটি সবার উপরেই থাকে। হাজার বছরের বাঙ্গালী ঐতিহ্যের সাথে মিশে গেছে এই সংস্কৃতি। ফল ছাড়া কোন আনুষ্ঠানিকতা অকল্পনীয়।

ইতিহাসের অলিগলি ঘেঁটে যদ্দুর জানা যায়… এদেশ ফলের দেশ। আম-জাম-কাঁঠাল-লিচু সহ কত্ত কত্ত ফল। এ বঙ্গভূমি যেন ফলেরই আঁধার ।তাই পরম্পরাগত ভাবেই ফল-ফলাদির সাথে আমাদের নিত্য দিনযাপন । ঝড়ের দিনে ফল কুঁড়ানো কিংবা ছোট-খাটো চুরির সাথে পরিচয় হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন । বাংলা সাহিত্যের একটা বড় আকাশ জুড়েই তো ফল বন্দনার পুঁথিপাঠ । অথচ সেই আকাশে আজ দুবৃত্ত-বেনিয়াদের শকুন নৃত্য; লোভের লাজহীন নীচতা । নিজের লাভের জন্য গুটিকয় বোধহীন মানুষ আমাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর পথে। বাজারের ফলের দিকে তাকালেই বুকটা কেঁপে ওঠে । রাসায়নিক বিষে আজ জর্জরিত ফলের শরীর । তাই সন্তানকে ফল কিনে দিতেও ভয় হয়।

আমাদের অধিকাংশ সহজিয়া মূল্যবোধেরই মত এই ক্ষেত্রেও ঢুকে পড়েছে দস্যুবৃত্তি । আর সরকার ও সংশ্লিষ্টদের উপর কতটুকু ভরসা করা যায় তা আপনি-আমি ভালো জানি । সওদাগর যদি দেশ চালায় তাহলে এমন ঘটনা মেনে নিতেই হবে । অধিকাংশ রাজনীতিবিদই যে দেশে ব্যবসায়ী সেদেশে এটাই মেনে নিতে হবে । নিয়তির উপর ভরসা করা এবং যথাসাধ্য বাজারি ফল প্রত্যাখ্যান ছাড়া আপাতত কোন ভরসা দেখছিনা । জানিনা আর কতদিন শুনতে হবে এই বিষের বাঁশী ।

পরিশেষে সুমন চট্টোপাধ্যায়ের সেই গান…. ” কত মানুষ মরলে পরে মানবে তুমি শেষে; বড্ড বেশী মানুষ গেছে বানের জলে ভেসে।”