ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

সম্প্রতি ড. মোহাম্মদ ইউনুসকে নিয়ে দেশে একটি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর কর্মকান্ড সম্পর্কেও অনেকে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব বক্তব্যের কোন বাস্তবতা না থাকলেও, ড. ইউনুসকে খাটো করাই যে এসব বক্তব্যের একটি অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে সত্য এটাই যে, তাঁকে নিয়ে যতই টানা-হ্যাঁচড়া করা হোক না কেন, তাতে কোনভাবেই তাঁর সম্মান খাটো হবেনা। কেননা তাঁর সম্মান আকাশ ছোঁয়া, নিন্দুকদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শান্তি পুরস্কার একটি তালপাতার বাঁশি নয়,যা ইচ্ছা করলেই যে কেউ মেলা থেকে কিনতে পারবে।এ দেশে রাজনীতি করে নেতা হওয়া যত সহজ, শান্তি পুরষ্কারের স্বপ্ন দেখা তার চেয়ে অনেক কঠিন। এই দূর্লভ পুরষ্কার তলা বিহীন ঝুড়ি ও দূর্নীতির আখড়া নামে পরিচিত দেশের জন্য পর্বত সমান সম্মান বয়ে এনেছে, যে কৃতিত্ব ড.ইউনুসের। তিনি এ দেশের গৌরব, এ দেশের মাথার মুকুট। কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে এই মহান ব্যক্তিকে যথাযথ সম্মান না দিলেও,তিনি একজন বিশ্ব স্বীকৃত সম্মানি ব্যক্তি, নিজের মহিমায় আলোকিত।সব ঈর্ষা ও পরনিন্দার ঊর্ধ্বে তাঁর অবস্থান।

দেশের নির্বাচিত সরকার অদ্যাবধি কথার বুলি দিয়ে নারী ও গরীব জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে পুতুল খেলে আসছে। নারীরা এখনো ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে রাস্তায় মাটি কাটে, কারণ তারা দুঃস্থ ও নিরীহ।গরীব বেকার যুবকদের চাকরি হয়না, কেননা তাদের নাম নেতাদের পকেটে থাকেনা। কয়েকজন নারীকে মন্ত্রীত্ব দেওয়া কিংবা নেতাদের পরিচিত ব্যক্তিদের চাকরি দেওয়া কখনোই এ দেশের নারী ও গরীব জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা প্রমাণ করেনা। কেবলমাত্র ড.ইউনুসই এ দেশের লাখো দূঃস্থ নারী ও বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন যা আজ বিশ্ব স্বীকৃত এবং তিনি নিজেও এজন্য বিশ্ব নন্দিত। আমরা তাঁকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনে ব্যার্থ হলেও বিশ্ববাসীর নিকট তিনি সম্মানিত। এ দেশে অনেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত রাজনীতি করেন, ৬০ বছর পেরিয়ে গেলেও মন্ত্রী হন এবং অসুস্থ শরীরে নিয়েও মন্ত্রীত্বে বহাল থাকেন। কিন্তু সুস্থ-সবল শরীরের অধিকারী ড,ইউনুসকে ৬০ বছরের অধিক বয়সের অজুহাতে তাঁর নিজ প্রতিষ্ঠান হতে পদচ্যুত হতে হবে এমন তো হতে পারেনা। এহেন একটি ভুল সিদ্ধান্ত দেশের লাখো গরীব জনগোষ্ঠীর জন্য নিশ্চিত ক্ষতির কারণ হতে পারে। গ্রামীন ব্যাংকে সরকারি হস্তক্ষেপের অর্থই হবে এই প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের রাজত্ব গড়া।কেননা এটাই হলো এ দেশের দলীয় রাজনীতির ঐতিহ্য,যার প্রমাণ বিগত দিনের ইতিহাস।