ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,”সোনার বাংলা গড়তে হলে সোনার মানুষের প্রয়োজন”। বিগত ৪০ বছরে দেশে সোনার মানুষ তৈরি হয়নি, দেশও সোনার বাংলা হয়নি। তবে রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদপুষ্ট অনেকের জন্য এ দেশ ইতিমধ্যে ¯স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। অবৈধ অর্থ উপার্জন করে সম্পদের পাহাড় গড়লেও তারা রক্ষকের পদেই অধিষ্টিত থাকেন। চাকরির বয়স গেলেও তাঁদের চাকরি থাকে। ডিগবাজি দিয়ে দু‘একজনকে ডিঙ্গিয়ে পদোন্নতি পান। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অনেকে মালিক হন জমা-জমি,ঘরবাড়ি, হোটেল-রেস্বরাঁ ও বাগ-বাগিচার। কালক্রমে তাঁরাই হয়ে যান সমাজের সেবক ও ত্রাণকর্তা। অনেকেই খেতাব পান জাতীয় নেতা হিসাবে। পর্বত প্রমাণ অপরাধ করলেও তাঁদের কোন জবাবদিহিতা থাকেন না। রাজনীতির এই বেহাল অবস্থা সমাজকে সার্বিকভাবে কলুষিত করছে। সমাজে এমন কোন স্তর নেই যেখানে দূর্নীতি প্রবেশ করেনি। একজন ভদ্র নীতিবান লোককেও বাঁচার তাগিদে দুর্নীতিপরায়ণ লোকের হাতে হাত মেলাতে হচ্ছে। দুঃখের বিষয়, সরকার সন্ত্রাস দমনে সচেষ্ট হলেও, দূর্নীতি দমনে সরকারের কোন ভূমিকা নেই। অথচ এই দুর্নীতিই সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবতনের ক্ষেত্রে মূল অন্তরায়। সামরিক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ যে গণতান্ত্রিক সুবিধা ভোগ করে, নির্বাচিত সরকারের সময় তারা তা পায়না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের যে স্বপ্ন দেখেছিল, নির্বাচিত সরকার আসার পর এখন তা হতাশায় পরিণত হয়েছে। এতে প্রমান হয়,”দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু দেশে কোন যোগ্য নেতার আগমন ঘটেনি”। এই শূন্যতা দেশকে বার বার সামরিক শাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে যা কখনো কারো কাম্য ছিলনা।

উন্নত দেশে গণতন্ত্র বলতে যেমন সরকারকে বোঝায়, বাংলাদেশের সরকার তেমনটি নয়। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যতই কৃতিত্বের দাবি করুক না কেন, তাঁদের সৃষ্ট রাজনীতি এখন জনগণের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৃষ্টি হচ্ছে মানুষের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ। সূত্রপাত হচ্ছে শত্রুতার। দূরত্ব বাড়ছে শ্রেণীগত পারস্পরিক সম্পর্কের। গ্রামে-গঞ্জে ও শহরের অলিতে গলিতে দলীয় অফিস নির্মাণ, ক্লাব ঘর স্থাপন ও বাড়ীতে বাড়ীতে দলীয় মিটিং ইত্যাদি প্রতিবেশীদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে, এমনকি ধর্মীয় কর্মকান্ডে। আজ যারা জন্ম নেবে, তারাও একদিন জেনে নেবে তাদের দলের নাম এবং দলীয় পরিচিতি। রাজনৈতিক দলের সৃষ্ট এই অশুভ কর্মকান্ড দেশকে ঠেলে দিচ্ছে প্রায় দেড় হাজার বছরের পূর্বের অন্ধকার যুগের গোত্র ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার দিকে, যা দেশের জন্য একটি অশুভ সংকেত।