ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সম্প্রতি কেউ কেউ ধর্মকে রাষ্ট্র হতে পৃথকীকরণের কথা বলছেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হোক এটা তাঁদের কাম্য নয়। তাঁরা অবশ্য গণতন্ত্রের কথা বলেন, কিন্তু রাষ্ট্রধর্মের প্রসঙ্গটি এলেই গণতন্ত্র ছেড়ে ধর্মনিরপেক্ষতার আশ্রয় নেন। যে যাই বলুক, এ দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে এটাই বাস্তবতা। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে যে কেউ তার যুক্তি খাড়া করতে পারে। বিবেচ্য বিষয়, মানুষ যে যুক্তির কথা বলে, তা তার নিজস্ব জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই মনগড়া যুক্তির মধ্যে ধর্মীয় জ্ঞান আবদ্ধ থাকতে পারেনা। ব্যক্তি বিশেষের মনগড়া কোন যুক্তির উপর মতৈক্য স্থাপন করা কুসংস্কার। আজ যাঁরা ধর্ম সম্বন্ধীয় গোঁড়ামির কথা বলছেন, তাঁদেরকে অবশ্যই বিজ্ঞান সম্বন্ধীয় গোঁড়ামির কথাও বিবেচনায় নিতে হবে। কোন কোন অজ্ঞ মোল্লা-মাওলানারা যেমন ধর্ম সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন,তেমনি অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তিও তাঁদের মনগড়া যুক্তি খাড়া করে ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানছেন। এই দুই শ্রেণীর মাঝে তেমন কোন প্রভেদ নেই। তবে অজ্ঞ ব্যক্তির চেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তির ভ্রান্ত ধারণা সমাজ ও দেশের জন্য বেশী ক্ষতিকর। ধর্মীয় অনুভূতি, তথা ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের হৃদয়ের অন্তস্থল হতে উদ্ভূত, যা অবশ্যই আধ্যাত্মিক। মানবিক কোন কর্মকান্ড হতে একে বিচ্ছিন্ন করার কোন অবকাশ নেই। ইসলাম এমন একটা বিষয় নয়,যা ইচ্ছা করলেই দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত কোন বস্তুর ন্যায় যখন তখন পরিবর্তন করা যাবে কিংবা কারো সন্তুষ্টির জন্য একে ভিন্নভাবে আখ্যায়িত করা যাবে। পদার্থ বিদ্যা, দর্শন, চারুকলা যার কথাই আমরা বলি না কেন, এ সবের অবস্থান কখনোই ধর্মের উপর হতে পারেনা। ধর্মকে রাষ্ট্র হতে পৃথকীকরণের ধারণা ইউরোপ হতে ধার করা। অতীতের একটি ভ্রান্ত ধারণা টেনে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই এই অপপ্রচারের মূল লক্ষ্য। প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্র ইসলাম ধর্মের একটি ভিন্ন রূপ ও দৃষ্টিভঙ্গির ফল, যা পৃথক দুইটি বস্তু নয়,একটি মুদ্রার এপিঠ্ ওপিঠ।কাজেই ধর্মকে রাষ্ট্র হতে পৃথকীকরণের অপপ্রচার, ভবিষ্যতেও অপপ্রচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

প্রসঙ্গত, এর সাথে ধর্ম নিরপেক্ষতার বিষয়টি এসে যায়। নিরপেক্ষ শব্দের আভিধানিক অর্থ অনেকটা অস্পষ্ট। স্থান ও কাল বিভিন্ন ভাবে ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে। কাজেই ব্যক্তির কোন আচরণ পূর্ণ নিরপেক্ষ হতে পারেনা। কোন ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম থাকলেও তা সাধারণ বিবেচনায নেওয়া যায়না। গণতন্ত্রের কথা বলে নিরীহ মানুষের অধিকার হরণ করা হবে, দুর্বলকে হত্যা করা হবে এবং নিরপেক্ষতার অজুহাতে মানুষ নীরব থাকবে, তা তো হতে পারেনা। এমন নিরপেক্ষতার অর্থ আদর্শহীনতা,যা ইসলামের দৃষ্টিকোণে ধর্মহীনতা।কাজেই নিরপেক্ষতা নয়, কর্ম সাধনে ও ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতাই সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে এবং ইসলাম একেই সমর্থন করে।