ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

অপ্রিয় হলেও সত্য, প্রায় অর্ধ শতাব্দী পূর্বে পাকিস্তানের তদানিন্তন প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শেল আইয়ূব খানের আমলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশী নাগরিক অধিকার ভোগ করতো। আইয়ূব খান রাজনীতিবিদ না হয়েও, মানুষের জন্য নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর আমলে নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরণের খাদ্য দ্রব্যের সঠিক মূল্য নির্ধারনের ব্যবস্থা ছিল। দ্রব্যের মূল্য প্রতিটি প্যাকেটের উপর লেখা থাকতো এবং সকল দোকান/ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতা মূলক ছিল। মিলে উৎপাদিত কাপড়ের প্রতি গজে মূল্যের ছাপ থাকতো। যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার্থে বাসে ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখা হতো। বাসের স্টাফদের জন্য নির্ধারিত পোষাকের ব্যবস্থা ছিল এবং তাদের আচার আচরণের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে তাদেরকে প্রশিক্ষন দেওয়া হতো। সর্বোপরি দেশে আইনের শাসন কায়েম ছিল এবং জনগণের জন্য আইনের সহায়তা পাওয়া ছিল সহজ লভ্য। তাঁর আমলে ৩০৩ জন অসৎ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল। সাধারন মানুষকে দূর্নীতির ছোবল হতে রক্ষা করার এটা ছিল একটি দৃষ্টান্ত মুলক পদক্ষেপ । এক কথায়, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন জীবন যাপনের জন্য যে নাগরিক অধিকার প্রয়োজন তার সব কিছুই তিনি নিশ্চিত করেছিলেন।

দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু পরাধীন আমলে সাধারণ মানুষ যে নাগরিক অধিকার ভোগ করতো তারা তা হতে বঞ্চিত হয়েছে। হাতল বিহীন চেয়ারে বসতেন এমন অনেকের কপালে দোল চেয়ার জুটলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যে কোন পরিবর্তন আসেনি। দূঃখের সাথে বলতে হয়, এ দেশে সামরিক শাসন আমলে সাধারন মানুষ, যে নাগরিক সুবিধা ভোগ করেছে, গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে তারা তা পায়নি। বিশেষ করে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্দলীয় কর্মকান্ড সাধারণ মানুষকে যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল এখন তা স্বপ্নই রয়ে গেছে। বস্তুত গণতন্ত্র নামক দলীয়তন্ত্র তথা, ক্ষমতায় আসা ও ক্ষমতায় টিকে থাকার যুদ্ধ দেশকে চরম অনিশ্চয়তা ও দূর্নীতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। পাকিস্তান আমলে ৩০৩ জন ঊচ্চ পদস্থ অসাধু কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা গিয়েছিল। কিন্তু এ দেশে এখন হয়ত ৩০৩ জন সৎ কর্মকর্তা খুঁজে পাওয়া দুস্কর। দেশ ও রাজনৈতিক দলের জন্য এর চেয়ে বেশী লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারেনা। মহাত্মা গান্ধী ও মওলানা ভাসানীর আগমন ঘটবেনা, তবে কেউ তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরন করবেন না এমন তো হতে পারেনা। স্বাধীনতা কি মানুষকে শুধু যুদ্ধ করতে শিখিয়েছে, ভালবাসতে শেখায়নি? বিষয়টি ভেবে দেখার সময় এখনি।