ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

প্রবাদ আছে,“ঘর পোড়া গরু“ সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়”। ফারাক্কা বাঁধ, তালপট্টি, বেরুবাড়ী ও সীমান্ত এলাকায় সকাল-সন্ধায় বি.এস.এফ. দ্বারা এ দেশের মানুষকে শৃগাল- কুকুরের মতো হত্যার ইতিহাস ভারত সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে এটাই স্বাভাবিক। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান যেমন ভোলার নয়, তেমনি যুদ্ধ শেষে বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এলে কোন আলোচনা ছাড়াই গঙ্গার পানি বন্ধ করার বিষয়টিও খাটো করে দেখার মতো নয়। মুক্তিযুদ্ধের সাথে ফারাক্কা বাঁধ চালুর একটি যোগসূত্র ছিল যা একদিন ইতিহাস নিশ্চয়ই প্রমাণ করবে। আসল কথা,স্বার্থ ছাড়া কোন শক্তিশালী দেশ দুর্বল দেশের বন্ধু হয়না। পানি চুক্তি, শান্তি চুক্তি এমন কি ভবিষ্যতের সব চুক্তিও এর স্বাক্ষ্য দেবে। স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কোন শক্তিশালী দেশের পক্ষে দুর্বল দেশের সরকারকে মুঠোয় নেওয়া কোন কঠিন বিষয় নয়। এক সময পশ্চিম পাকিস্তান, এ দেশের অনেক নেতা-মন্ত্রীদের সহায়তা নিয়ে এ দেশকে শোষণ করেছিল।

১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময কংগ্রেসের কয়েকজন প্রথম সারীর নেতা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে,পূর্ব পাকিস্তান একদিন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে যাবে। পশ্চিম পাকিস্তানের বৈরী ও বর্বরোচিতভাবে কর্মকান্ডের কারণে গত ১৯৭১ সালে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঐ ভবিষ্যত বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে। এ ছাড়াও, ভারতের স্বার্থেই বাংলা দেশের স্বাধীনতার প্রয়োজন ছিল, সম্ভবত ঐ ভবিষ্যৎ বাণীতে তারই ইঙ্গিত ছিল। ভারতে যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁরা প্রকৃত রাজনীতিবীদ এবং তাঁদের পক্ষে এমন কিছু অনুধাবন করা মোটেও অস্বাভাবিক নয়। শুধু রাজনৈতিক নেতাদের কারণে ভারত আজ পর্বতশৃঙ্গ ছূঁতে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ পাহাড়ের পাদদেশে ঘুরপাক খাচ্ছে। এক শেণীর পাকিস্তানি ও ভারতি দরদ পুষ্ট ব্যক্তিদের পারস্পরিক কোন্দল দেশের এই অবস্থার জন্য অনেকটা দায়ী। তাই বলতেই হয়, শুধু পাকিস্তান দরদি নয়, ভারত দরদিরাও দেশের জন্য ক্ষতিকর। দেশকে পাশ কাটিয়ে, শুধু নির্দিষ্ট কোন দলের সাথে অন্য দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠুক জনগণ তা চায়না।