ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

এক সময় আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য মানুষের জন্য শিক্ষনীয় ছিল। অতি আগ্রহের সাথে সবাই তাদের বক্তব্য শুনত, তবে এখন সে অবস্থা নেই। আত্মপ্রশংসা, আত্মতৃপ্তি, পরনিন্দা, মিথ্যা ও হিংসা ছাড়া মূলত তাদের বক্তব্যে এখন আর কিছু থাকেনা। ক্ষমতায় যাওয়া ও টিকে থাকার কলা কৌশল নিয়েই তারা ব্যস্ত থাকেন। প্রয়োজনে ক্ষমতার জন্য তারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত। সাধারন মানুষের সমস্যা নিয়ে কারো ভাবার সময় থাকেনা। দেশে বিরাজমান চরম আর্থিক সংকটেও “সাধারণ মানুষ সুখে আছে’’ তাদের এমন অনাকাঙ্খিত উক্তি আজ বিবেকবান মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। দেশে অবশ্য এক শ্রেনীর নেতা-ভক্ত লোক আছে যারা সব সময় সুখে থাকে। তাদের চাকরি হয়, টু-পাইস উপায়ের পথ আছে এবং দেহে কখনো রক্ত মাংসের ঘাটতি হয়না। তাদের হাতের পাঁচটি আঙ্গুল সব সময় ঘিয়ে ডোবানো থাকে। একই দেশের নাগরিক হলেও তারা সাধারণ মানুষ হতে আলাদা। কাজেই এ দেশে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে এমন আশা করা ভুল।

দেশে দূর্নীতির কারণে সাধারন মানুষ সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পরিতাপের বিষয়, সরকার সন্ত্রাস দমনে সক্রিয় হলেও দূর্নীতি দমনে সরকারের তেমন ভূমিকা নেই। উপরন্তু, ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি, তাদের সন্তান ও ভবিতব্য নাতি-নাতনীদের জন্য চাকরি সংরক্ষণ ইত্যাদির কারণে সাধারণ মানুষের সন্তানরা সরকারি চাকরি হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এই অভিনব কৌশল চলতে থাকলে শুধু সাধারন মানুষই প্রতারিত হবেনা, একদিন এই ভূয়া মুক্তি যোদ্ধাদের ভীড়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাও হারিয়ে যাবেন। এক মুক্তিযোদ্ধা যখন অন্য মক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বলে আখ্যা দেন, তখন স্বভাবতই মনে হয়, পলাশীর যুদ্ধের মতো হয়ত এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসও লেখা হবেনা। অস্ত্র হাতে যারা রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। শ্রেষ্ঠ সন্তানের সম্মান পাওয়ার যোগ্য কেবল তারাই। কাউকে তাদের আসনে বসানোর অর্থ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করা। তারা ত্যাগের মহিমায় অম্লান থাক, দলীয় স্বার্থে তাদেরকে ভোগ-লালসার দিকে ঠেলে দেওয়া হোক তা কেউ চায়না। তাদের সন্তানরা যোগ্যতার বলেই চাকরিতে আসুক, কোটার মাধ্যমে অযোগ্য বিবেচনায় নয়। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের জন্য এটা বড়ই বেমানান।

মিথ্যা ও হিংসার আশ্রয় নিয়ে মহৎ কিছু সৃষ্টি করা যায়না। পণ্ডিতগণ বলেন, মানুষ মাত্রই জন্মগতভাবে হিংসুক ও স্বার্থপর। দেশের রাজনীতি দেখে মসে হয়, এর প্রবণতা পুরুষের চেয়ে মহিলাদের মাঝে বেশী। সাধারণ মানুষ এই অবস্থার পরিবর্তন দেখতে চায়। অন্যথায় একদিন তারা বজ্রকণ্ঠে বলে উঠবে, “মহিলা নেতৃত্বে আর নয়।” আয়নার সামনে সবাই যেমন নিজেদের সুন্দর ভাবে, ক্ষমতায় এসে সরকারও একই ধারনা পোষন করে। সময় বলছে, সামরিক শাসন আমলেই সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও গণতন্ত্রের স্বাদ পেয়েছিল। প্রকৃত গণতন্ত্রের সূচনা হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। অন্যায় করলে কারো রক্ষা নেই, এর প্রমাণ তারা রেখে গেছেন। মানুষ সেদিন “না ভোটের” অধিকার পেয়েছিল। হাসপাতালে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, পাসপোর্ট অফিসে ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছিল। যোগ্যতার ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের সন্তানদের চাকরি হয়েছিল। এ ছাড়াও জনগণের সাথে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী সদস্যদের সাথে সুসম্পর্কের একটি সেতুবন্ধন তৈরী হয়েছিল। সর্বোপরি সাধারন মানুষ একটি নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু দূ:খের বিষয়, গণতান্ত্রিক সরকার আসার পর সবকিছুই ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। তাই বলতে হয়, দেশ ও মানব প্রেমের স্লোগান দেওয়া সহজ, কিন্তু অন্তরে তা ধারন করা কঠিন। অন্তরের গভীরে দেশপ্রেম না থাকলে দেশ ও মানুষের কল্যাণ করা যায়না। এ জন্য দরকার হয় একজন প্রকৃত নেতার।