ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে অনেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে এসেছেন। কিন্তু মহিলা পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে দীপু মনির আগে কেউ আসেনি। আজ আমরাও খুশি যে একজন নারী , দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবার যোগ্যতা রাখে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে দেশের গুরুত্বপূর্ন দুই মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব তুলে দেন দেশের দুই জন নারীর হাতে। এই দুই জন মহিলা হল এ্যাড. সাহারা খাতুন এবং ডা. দীপু মনি। ১ম জন দ্বায়িত্ব পালন করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এবং পরের জন দ্বায়িত্ব পালন করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে। আজকের লেখার বিষয় বস্তুতে চলে আসি।

ডা. দীপু মনি যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্ব নিলেন তখন দেশের অনেক মানুষ বলেছিলো, দেশে এবার একজন নারী পররাষ্ট মন্ত্রী হিসেবে এসেছে। এখন দেখি কতটুকু উন্নয়ন হয়। সাংবাদিকতার কাজের খাতিরে অনেক কিছু তখন শুনেছিলাম। কিন্তু দিন যত যেতে থাকে মানুষের আশায় গুড়ে বালি পড়তে থাকে। এই দীপু মনিকে দিয়ে বাংলাদেশের কোন প্রকার কাজ হয়নি। দীপু মনির মন্ত্রীত্বর বয়স হয়েছে তিন বছর । এই তিন বছরে তার উল্লেখযোগ্য অর্জন নেই।

কিন্তু পাঠকগন আপনারা বলতে পারেন,মাত্র তো তিন বছর এখন তার কাছ থেকে কি আশা করা যায়? কিন্তু একজন বাচ্চা তো তিন বছরে যেমন ভাত খেতে পারে আবার তেমনি হাটাচলা করতে পারে। কিন্তু দীপু মনি কেন পারছে না বাংলাদেশের জন্য কোন প্রকার সাফল্য অর্জন করতে? এ প্রশ্নের উওর আপনাদের কাছে আশা করলাম।

কিন্তু আরেকটি মজার তথ্য আপনাদের দিয়ে রাখি। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা.দীপু মনি দেশের জন্য কোন সাফল্য না আনলেও তিনি নিজের জন্য করেছেন একটি বিশ্ব রেকর্ড। সেই রেকর্ডটা হল, তিনি বিদেশ সফরে সেঞ্চুরি করেছেন এবং তার সাথে তার ব্যাক্তিগত ক্যামেরায় তিনি বরেণ্য ব্যাক্তিদের সাথে ছবি তুলে তার নিজের ছবির ভান্ডার সমৃদ্ব করেছে। এছাড়া তিনি নানা ভাবে আলোচিত সমালোচিত হয়েছে। এখন আপনারা বলতে পারেন দেশের একজন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িতে তিনি ,তার বিদেশ সফর বেশী হতে পারে। কিন্তু তার বেশী সফরই অপ্রয়োজনীয়। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাড়িয়েছে যে,বিদেশ থেকে শুধু মাত্র একটি দাওয়াত আসা মাত্র তিনি বিমানের সিটে চড়ে বসেন !

দীপু মনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী হবার পরে ৩৪ মাসের প্রায় ১৩ মাসেই বিদেশের মাটিতে কাটিয়েছেন। বিদেশ সফরের মধ্যে তিনি মাত্র ১৫-১৬ বার গেছেন দ্বিপক্ষীয় সফরে। বাকি সফরে গিয়েছেন তিনি বিভিন্ন সম্মেলন, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে যোগ দিতে। এতে বাংলাদেশের কোন অর্জনই হয়নি। বিদেশ সফর নিয়ে এখন অনেক মহল থেকে এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে যে,দীপু মনির কি বিদেশ সফর ছাড়া আর কোন কাজ নেই। এখন আমাদের সামনে প্রশ্ন ,দীপু মনি কি বিদেশ ঘুরবার জন্য মন্ত্রী হয়েছেন? অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তাই। কারন,কোন দেশ থেকে সাধারণত দাওয়াত পেলে তিনি বিমানের সিটে চড়ে বসেন।

কিন্তু মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন,আপনি যে এই বিদেশ সফর করছেন তাতে কি দেশের কোন লাভ হচ্ছে? দেশের টাকা আপনি কেন এমন ভাবে খরচ করছেন?

দীপু মনির বিদেশ সফরের কিছু হিসাব নিম্নে দেয়া হল।

২০০৯ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৩৪ বার বিদেশ সফর করেন। ১ বছরে বাংলাদেশের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটা ছিল রেকর্ড সংখ্যক বিদেশ সফর। ২০০৯ সালের সফরে তিনি ১২ মাসের মধ্যে ৪মাস বিদেশের মাটিতে কাটান। তাহলে পাঠক আপনারাই বলুন মন্ত্রী বাকি ৮ মাসে দেশে কি কাজ করেছে? আরেকটি মজার তথ্য দিচ্ছি আপনাদের ,সেটা হল, ২০১০ সালেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৩৪ বার বিদেশ সফর করেন। দীপু মনি ২০০৯ সালে বিদেশে ছিলেন ৪ মাস এবং ২০১০ সালে বিদেশে ছিলেন ৫ মাস। দুই বছর অর্থাৎ ২৪ মাসের মধ্যে ৫+৪=৯ মাস ছিলেন বিদেশের মাটিতে ছিলেন মন্ত্রী দীপু মনি। চলতি বছরে দীপু মনি ভারত,চীন,যুক্তরাষ্ট্র,মিয়ানমার,বেলজিয়াম সৌদিআরব,শ্রীলংকা সহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩৩বার সফর করেছেন। পাঠকগন এই হল আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদেশ সফরের নথি।

এবার আসি দীপু মনির ভারত প্রীতির কথায়

ডা.দীপু মনি যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হইলেন,তখন ভারতের সাথে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলার ঘোষনা দেন।এবং পরে তা গড়ে তোলেন। গত তিন বছরে সরকার ভারতকে সব উজাড় করে দিয়েছে। তার কিছু কিছু বিবরন আপনাদের সামনে তুলে ধরছি—

ফ্রি ট্রানজিট, করিডোর সুবিধা, উলফা নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দেয়া, বন্দর ব্যবহারসহ দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ভারত যা যা চেয়ে আসছিল তার সবই পূরণ করা হয়েছে। ভারতের জন্য ট্রানজিট সুবিধা সঠিকভাবে কার্যকরের জন্য অবকাঠামো তৈরি করতে উচ্চ সুদে ১ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিতেও কোনো কুণ্ঠাবোধ করেনি সরকার। যদিও এই ঋণ কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি। সন্ত্রাস দমনে ভারতকে সহায়তা দিতে ভারতের প্রস্তাবিত ৩টি চুক্তিও সই করেছে বাংলাদেশ।

ভারতীয প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারত একটি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট সই করিয়ে নিয়েছে। এতে করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বলতে আর কিছু থাকল না।

অন্যদিকে অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, বারবার আশ্বাস দিয়ে সীমান্ত হত্যা বন্ধের মতো বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোতে ভারত বেঈমানি করেছে।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে রীতিমতো ঢাকার সঙ্গে প্রতারণা করেছে দিল্লি। এরপরও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত বন্দনার শেষ নেই। কোনো ফি ছাড়াাই ভারতের পণ্য এখন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। অথচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেদেশের স্বার্থরক্ষায়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলেছেন, ভারতের কাছ থেকে সব চার্জ আদায় করা হচ্ছে।

পাঠকগন এখন আপনাদের সামনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা.দীপু মনির ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরছি।

দীপু মনির মন্ত্রীত্ব বয়স তিন বছর পার হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে তিনি কোন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু তিনি তার ব্যাক্তিগত ক্যামেরায় বরেণ্য ব্যাক্তিদের সাথে ছবি তুলে ছবির ভান্ডার সমৃদ্ব করেছে। দীপু মনি যখন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হয়েছে তখন ভারত যা যা চেয়েছে তা তা তিনি ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হল, ফ্রি ট্রানজিট, করিডোর সুবিধা , উলফা নেতাদের ভারতের হাতে তুলে দেয়া, দীর্ঘ ৪০ বছরে ভারত যে বন্দর ব্যবহার করতে পারে নাই ,দীপু মনি মন্ত্রী হবার পরে তা পেরেছে। এছাড়াও শুধু ভারতকে খুশি করতে গিয়ে বাংলাদেশে এখন বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। তিনি মন্ত্রীত্ব গ্রহনের পরে জনশক্তি রফতানিতে দারুন ধস নামে। কোন প্রকার নতুন বাজার তো তৈরি করতে পারে নাই উল্টো সৌদি আরব ,মালয়েশিয়া সহ মধ্যেপ্রাচ্যর দেশে গুলো বাংলাদেশী শ্রমিক নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। জনশক্তি রফতানির এই সমস্যা এখন পর্যন্ত ঠিক করতে পারেনি আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী । কিন্তু তিনি বিদেশ সফরে রেকর্ড করতে পেরেছেন।

ডা.দীপু মনি ভারত বন্দনায় এমন অবস্থা হয়েছে যে,শুধু মাত্র ড.ইউনুসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক অবনতিশীল সম্পর্ক তৈরি হয় বাংলাদেশের । পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানের সাথে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে বাংলাদেশ। অপর বন্ধু দেশ চীনও বাংলাদেশকে আস্থায় নিতে পারছে না। বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানের ঘোষনা দিয়েছিলো চীন। কিন্তু গত তিন বছরেও এই রকম কোন প্রকার চুক্তি করেনি বলে জানা যায়।

ভারত বন্দনায় যে দপিু মনি উম্মাদ হয়ে থাকতো সেই ভারত আর মন্ত্রীত্বর মধ্যে শেষ পেরেক ঢুকিয়ে দিয়েছে তিস্তা চুক্তি না করে এবং টিপাই বাধ বাস্তবায়ন শুরু করে। তার পরেও তিনি ভারতের কাছে নত হচ্ছেন। আর বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুদেশ গুলোর (মধ্যেপ্রাচ্য) সাথে সম্পর্ক নষ্ট করছেন।

পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত এতো ঘোরাঘুরি করেও বাংলাদেশের ইমেজ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী। পদ্মা সেতু নির্মানে দূর্ণীতির অভিযোাগে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক এডিপি এবং জাইকা। দূর্নীতির কড়া সতর্কবানী উচ্চারন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মানবাধিকার লঙ্গনের ব্যাপারে আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থা গুলো অব্যাহত ভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদশের বদনাম বাড়ছে।

দীপু মনির অর্জনহীন কূটনীতি এবং বিদেশ সফরের রেকর্ডের পাশাপাশি তিনি সব সময় ছিলেন আলোচনা সমালোচার মধ্যে। বিদেশ ভ্রমন আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পাশাপাশি উদ্ভট সব মন্তব্য এবং কাজের জন্য সব সময় তিনি সংবাদ পত্রের শিরোনাম হচ্ছে। এবার পাঠক গন আপনাদের বলছি দীপু মনির সেই সমব উদ্ভট মন্তব্য এবং উদ্ভট কাজ গুলো।

* ডা. দীপু মনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান ২০০৯ সালে। সে সময় ঢাকা সফরে আসেন ভারতীয় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী। তখন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এক ভারতীয় সাংবাদিক বাংলাদেশকে পাকিস্তানের বাফার স্টেট বলে মন্তব্য করেন। সেদিন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সেদিন বলেছিলেন, ভারতীয় সাংবাদিকদের মন্তব্যের গুরুত্ব বোঝেননি দীপু মনি।

* এই বছরের ১৯শে অক্টোবর আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা.দীপু মনিকে ফটো গ্রাফার হিসেবে দেখা গেছে। তিনি ছবি তুলেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনবিঘা করিডোর দিয়ে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যান। প্রধানমন্ত্রী সেখানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন কার্যক্রম, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল উদ্বোধন করেন। এছাড়া তিনি তিনবিঘা করিডোরে ১৫ মিনিটের এক চা-চক্র অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ছবি তুলছেন। এই ঘটনা পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে।

*এর আগে একবার বিদেশের মাটিতে তিনি সবার নজর দৃষ্টি আকর্ষন করেন অটোগ্রাফ শিকারি হিসেবে। ২০১০ সালে জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরে যান। তখন প্রধানমন্ত্রীকে ইন্দিরা গান্ধী পুরষ্কার দেয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে দীপু মনিকে দেখা গেল অটোগ্রাফ শিকারি হিসেবে। সেই ভরা মজলিসে সবাই দেখলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিভা পাতিল, সোনিয়া গান্ধী এবং ড. মনমোহন সিংয়ের অটোগ্রাফ সংগ্রহ করছেন।

*এছাড়া সম্প্রতি তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি গণক নই। এই গণক নিয়ে এখনও আলোচনা হচ্ছে। তবে তিনি গণক না হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি যে ব্যর্থ তা বিভিন্ন মহল থেকে উচ্চারিত হচ্ছে। অনেকে তাকে ভ্রমণপ্রিয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন।

এভাবে চলতে থাকলে আমাদের দেমের অবস্থা কি দাড়াবে? এর পরিনতি কি হবে? আমাদের ভবিষ্যত কোথায় ? এভাবে আর চলবে কত দিন?