ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

অনেক দিন পরে গত ১৮মার্চ জাতীয় সংসদে যোগ দেয় বিরোধী দল বিএনপি। জনগন ওই দিন বেশ উত্তপ্ত সংসদ দেখতে পারে। কিন্তু পরে যে সংসদ অধিবেশন এমন ভাবে রূপ নেয় তা কোন ভদ্র মানুষের দেখার উপায় থাকে না।

এই জাতীয় সংসদে আইন প্রণেতারা বসে বসে আইন প্রণয়ন করেন। আর সেই সংসদে অশ্লীল ভাষায় একে অপরকে নানা ভাবে আঘাত করতে থাকে। ১৮তারিখে বিকাল ৫টা ৫৮মিনিটে বিএনপির মহিলা সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু বক্তব্য শুরু করে প্রায় ১২ মিনিট বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যর এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যর সাথে হাতাহাতিতে লিপ্ত হন বিরোধী দলের মহিলা সাংসদ শাম্মী আক্তার। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে তাদের শান্ত করা হয়।

কিন্তু কেন? আমাদের জাতীয় সংসদে এমন নোংরা ভাষায় কথা বলা হবে কেন? আমাদের আইন প্রণেতারা তো খুব লেখাপড়া করে এসেছে। আমাদের শহুরে লোকেরা জাতীয় সংসদ নিয়ে বেশ খোজ খবর রাখেন । কোন একটি বিল পাশ হলে সেটির বিস্তারিত খুজে তারা বের করেন। আর আমাদের গ্রাম পর্যায়ের লোকদের সংসদ নিয়ে তাদের উচ্ছাস একটু বেশী। আর এই সংসদের অশ্লীলতা নিয়ে তাড়া একটু কথা বেশী বলবে। তাই আমাদের আইন প্রণেতাদের বলছি ,নিজেদের মান সম্মান নিজেরা হারাবেন না। মান সম্মান হারালে আর পাওয়া যায় না,টাকা হারালে পাওয়া যায়।

আমাদের জাতীয় সংসদের মহিলা সাংসদদের উদ্দেশ্য একটি অনুষ্ঠানের কথা তুলে ধরছি। সেই অনুষ্ঠানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আমি উপস্থিত ছিলাম। অনুষ্ঠানটা হলো শিশুদের সংসদ। সেখানে প্রতি জেলা থেকে ২জন করে মোট ৮৪জন শিশু সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। শিশু সাংসদরা তাদের পড়া লেখা, পড়া লেখা উপকরণের দাম বৃদ্ধি,ভর্তি বাণিজ্য,কোচিং বাণিজ্য,গাইড বই,শিক্ষকদের শারিরিক মানসিক নির্যাতন ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেন।

তাদের এই সমস্যার কথা গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ। কিন্তু সেখানে কোন প্রকার অশ্লীল কথা বলা হয় নাই। সাংসদরা সবাই নিজেদের না সারা বাংলাদেশের শিশুদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। শিশু সাংসদদের উল্লেখ যোগ্য বক্তব্য গুলো আমাদের জাতীয় সংসদের সদস্যদের জন্য নিম্নে তুলে ধরা হল

মুন্সিগঞ্জ জেলার শিশু সাংসদ আনিকা আক্তার যুথি বলেন ,আমার এক বোন ২০০০/= টাকার জন্য পরীক্ষা দিতে পারে নাই । কিন্তু এই ২০০০/= টাকা ছিলা অতিরিক্ত। এজন্য মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েছে তিনি। এবং যুথি শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন ,আর কোন শিক্ষার্থী যেন টাকার অভাবে পরীক্ষা দেয়া থেকে বিরত না সেদিকে আপনার দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

বরগুনা জেলার শিশু সাংসদ মহিউদ্দিন রাকিব,কোচিং সেন্টার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, কোচিংয়ে গেলে পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র পাওয়া যায়। তাই অনেকে কোচিংয়ে যায়। এই সাংসদ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন,অবিলম্বে এই কোচিং সেন্টার গুলো বন্ধ করতে ।

এছাড়া বাকি সাংসদরা অনেক সুন্দর করে বক্তব্য রাখেন । যার যা সমস্যা তা মন্ত্রীর নিকট তুলে ধরেন। শিশুদের সংসদে শুধু শিশু সাংসদ দের সমস্যা নয় সেখানে সারা বাংলাদেশের শিশুদের সমস্যা গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

সেখানে কোন প্রকার খারাপ কথা ,অশ্লীল কথা উচ্চারন করা হয় নাই। তাহলে আমাদের জাতীয় সংসদের সদস্যদের মুখ থেকে আমরা কি শুনতে পাই ? আমার পাশে এক সিনিয়র সাংবাদিক বসে ছিল। সে বলল এই শিশুদের সংসদে আমাদের জাতীয় সংসদের মহিলা সদস্যদের বিশেষ অতিথি করা দরকার ছিল। শুধু সেই সাংবাদিক না। আরো অনেকে এই মন্তব্য করেছে। আসলেও তাই করা দরকার ছিল। তাহলে তারা কথা বলতে শিখতো । যখন সংসদে দাড়িয়ে বক্তব্য রাখেন আমাদের বিরোধী দলের সাংসদরা তখন কি কেউ জাতির কোন সমস্যার কথা বলেন বা সমস্যা নিরসনের কথা বলেন ?? তারা সব সময় থাকেন একে অপরকে অশ্লীল কথা দিয়ে আক্রমন করতে।

এই হীনরুচি থেকে আমাদের সাংসদদের বেরিয়ে আসতে হবে । আর যদি তা নাই পারেন আমাদের মহিলা সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য বলছি শিশুদের সংসদে যেয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে বসে বসে শিশুদের বক্তব্য শুনুন। খুব ভালো হবে। আমি শিশুদের সংসদ অনুষ্ঠানের আয়োজক সেভ দ্যা চিলড্রেন কে বলব,আপনারা আগামিতে আমাদের দু,এক জন মহিলা সংসদ সদস্যকে বিশেষ অতিথি হিসেবে নিয়ে আসেবেন।

এতে করে তারা শিশুদের কাছ থেকে ব্যবহার, কিভাবে কথা বলতে হয় এবং সুন্দর সুন্দর কথা শিখতে পারবে। তাতে করে আমাদের সংসদে আর অশ্লীল কথা বলাবলি হবে না।