ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

এই গরমে শিশুরা সামনে শীতল কিচু পেলে তা সাধরে গ্রহর করবে এটাই স্বাভাবিক। তাতে অভিবাবকরা বাধা দিবেন না আমরা জানি। কিন্তু এর মধ্যে তাদের জীবনের ক্ষতী হচ্ছে তা আমদের অভিবাবকরা জানছে না। এ রকম ক্ষতিকারক জিনিষ হচ্ছে গোলা আইসক্রিম। এই আইসক্রিম তৈরি হয় বরফের ছোট ছোট টুকরা, ঘনচিনি আর রাসায়নিক রং। শিশুদের কাছে এটা জনপ্রিয়।

জানা গেছে, এই গোলা আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাছের বাজারের বরফ, চিনির তৈরি ঘন রস এবং ক্ষতিকারক রং। আইসক্রিমটি তৈরির জন্য প্রথমে বড় বরফ কুচি করা হয়। এরপর বরফকুচির ওপর বিভিন্ন রঙের চিনির রস দিয়ে তৈরি করা হয় গোলা আইসক্রিম।

বিক্রেতাদের মাধ্যমে জানা যায় এই চিনির রস রাজধানীর বিভিন্ন মিষ্টির দোকান থেকে সংগ্রহ করা হয়। (রসগোল্লা বিক্রি শেষ হলে যে অবশিষ্ট রস থাকে) না পাওয়া গেলে নিজেরাই চিনির রস তৈরি করেন।

তবে আইসক্রিমে যে রঙ ব্যবহার করা হয়, এর কোনটিই খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার উপযোগী ফুড কালার নয় বলে জানা গেছে।

তবে ব্যতিক্রমী এই আইসক্রিম ব্যবসা এখন অনেক লাভজনক বলে জানা গেছে। আর বাহারি রঙের আইসক্রিমের ক্ষতির কথা না জেনে অভিভাবকদের কাছ থেকেই কোনো আপত্তি ছাড়াই কিনে খাচ্ছে শিশুরা।

রাজধানীর মিরপুর বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সায়ীদ এই ব্লগারকে জানায়, তাদের স্কুলের সামনে প্রতিদিন ২-৩টি গোলা আইসক্রিমের দোকান বসে। একটি আইসক্রিমের দাম ৩০ টাকা। তাদের সামনেই আইসক্রিম তৈরি করা হয়। খেতেও দারুণ মজা। তবে এটি যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা তারা জানে না।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গোলা আইসক্রিমে ব্যবহৃত প্রতিটি উপকরণই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এ ধরণের বিষাক্ত খাবার খেলে কিডনি, লিভার, ফুসফুস ও পাকস্থলী ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এক্ষেত্রে শিশুদের বেশি ক্ষতির আশংকা রয়েছে। তাই তারা শিশুদের এই আইসক্রিম থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

বন্ধুরা, তোমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনেও হয়তো প্রতিদিনই এরকম গোলা আইসক্রিমের দোকান বসে। সুস্থ থাকতে চাইলে কখনোই এই বিষাক্ত গোলা আইসক্রিম খেয়ো না কিন্তু।