ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

এ ছবিই শুধুই স্মৃতি

সাগর রুনি মারা মারা যাবার পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ৪৮ ঘন্টার পরে আজ আড়াই মাস পার হতে চলল। খুনিদের টিকিটা পর্যন্ত ধরা হয়নি। উল্টো যারা এই মামলা নিয়ে তদন্ত করেছিলো তারা হাইকোর্টে গিয়ে তাদের ব্যর্থতা শিকার করেছে। তারপরে এই মামলা তদন্ত করতে দেয়া হয় র‌্যাবকে। তারা ভিসেরা পরীক্ষার জন্য আজ ২৬.০৪.২০১২ তারিখে সাগর রুনির লাশ কবর থেকে তুলছে। তাহলে এত দিন আমাদের কেন মিথ্য আশ্বাস দেয়া হল। প্রশাসনের সবাই বলল তদন্ত চলছে, প্রণিধান যোগ্য তদন্ত হয়েছে, অপরাধীদের ধরা হবে ইত্যাদি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই।

এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে ২০ বছরের বিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়ন এক হয়। তারা একযোগে আন্দোলন শুরু করেছিল। কিন্তু তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চায়ের দাওয়াত করে আন্দোলন থেকে ধীরে ধীরে সরে আসতে শুরু করে। এখন পুরাই সরে এসেছে।

এখন লেখার বিষয় আশা যাক

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনী ছিল মেধাবী সাংবাদিক। নিরাপদ বিদেশ জীবন ছেড়ে দেশে চলে আসে। অনেকের হত্যার বিচার হয়। কিন্তু তাদের হত্যার বিচার হবে কিনা তা নিয়ে আমরা আজও সংকিত। কারন তারা বেডরুমে মারা গিয়েছিলো। তাদের হত্যার পরে সবাই একবাক্য বলেছিলো তদন্ত চলছে, প্রনিধানযোগ্য তদন্ত হয়েছে এবং যে কোন সময় খুনিদের গ্রেফতার করা হবে। সাগর রুনী মারা যাবার পরে যারা এই কথা গুলো বলেছিলো তাদের কথা গুলো আবার তুলে ধরছি।

১০ ফেব্রুয়ারি : সাগর ও রুনী মধ্যরাতের পর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ ফ্লাটে খুন হন। পুলিশ ধারণা করে রাতের শেষভাগে দু-জনই বেডরুমে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান।

১১ ফেব্রুয়ারি : খবর পেয়ে সাংবাদিক দম্পতির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি : সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ – আতঙ্ক বিরাজ করে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলছে তদন্ত চলছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি : পুলিশ সদর দফতরে ব্রিফিংয়ে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার সাংবাদিকদের হতাশ করে জানালেন কেউ গ্রেফতার হয়নি, আটকও নেই। তবে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কি ধরনের অগ্রগতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে আর কিছু বলা যাবে না।

১৪ ফেব্রুয়ারি : পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি ইমাম হোসেন জানান, পুলিশ কাউকে গ্রেফতার , আটক কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। তবে নজরদারি করছে অনেককে।

১৫ ফেব্রুয়ারি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেন, ৪৮ ঘন্টার সময় বেধে দেওয়া ছিলো কৌশল মাত্র। এ ধরণের বক্তব্য প্রচার হওয়ামাত্র সাধারণ মানুষসহ গণমাধ্যম কর্মীরা হতভম্ব হয়ে পড়েন।

১৫ ফেব্রুয়ারি: ডিবি ডিসি মনিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ কাউকে নজরদারি করছে না। কোন গণমাধ্যম কর্মীকেও না। ডিসি বলেন, তদন্তে যথেষ্ঠ অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের
স্বার্থে কিছু বলা যাচ্ছে না।

১৬ ফেব্রুয়ারি : ডিসি মনিরুল পুনরায় জানান তদন্ত চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাবে না।

১৭ ফেব্রুয়ারি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাচ্ছে না।

১৮ ফেব্রুয়ারি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপর এক অনুষ্ঠানে বলেন সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার তদারক করছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।

১৯ ফেব্রুয়ারি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন স্বীকার করেছেন, প্রকাশ করার মতো কোন তথ্য নাই।

২১ ফেব্রুয়ারি: ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমদ শহীদ মিনার পরিদর্শনকালে বলেন, ডেটলাইন দিয়ে তদন্ত সম্ভব না।

২১ ফেব্রুয়ারি : সিআইডি প্রধান মোখলেসুর রহমান জানান, সিআইডির ফরেনসিক শাখায় জনবল সংকট রয়েছে।

২২ ফেব্রুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের পক্ষে সবার বেডরুম পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়।

২৬ ফেব্রুয়ারি : ডিএমপির মুখপাত্র ডিসি মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, খুনের কারণ স্পষ্ট এবং খুনিও সনাক্ত হয়েছে। এখনই খুনের কারণ ও খুনির পরিচয় বলা যাবে না।

সেসময় তারা এই সব ঘটনা বলেছিল। কিন্তু তারা এখন নিজেদের ব্যর্থ দাবি করে কিভাবে?? আমাদের সাংবাদিক নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চায়ের দাওয়াত এর আগে দেশের নানা জায়গায় সাগর রুনী হত্যার বিচারের ব্যপারে আন্দোলন করেছে। এখন তারা করে না কেন?? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার চায়ের দাওয়াতে তাদের বলেছে,,তদন্ত চলেছে। আপনারা শান্ত হউন। সাথে সাথে সাংবাদিক নেতারা শান্ত হয়ে গেলেন। তারা এত বোকা হলেন কিভাবে??? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চায়ের দাওয়াতের পরে ভাটারা থানা উদ্বোধন করতে এসেছিলেন,সে সময় তিনি বলেছিলেন এই বিষয় নিয়ে আর কি বলব। যা হবার হয়ে গেছে। কথা গুলো খুবই রাগান্বিত স্বরে বলেছিল। তাহলে সাংবাদিক নেতারা কিসের আশ্বাসে শান্ত হলেন???

আজকে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে র‌্যাব। এর মাধ্যমে ভিসেরা পরীক্ষা করা হবে। এই ভিসেরা পরীক্ষার রির্পোট পাওয়া যাবে ৩ মাস পরে। এই তিন মাস আমাদের মুখ চুপ করালো তারা। যখন সাগর ও রুনী মারা যায় তখন এই পরীক্ষা করানো হয় নাই কেন?? আড়াই মাস পরে লাশের কিছু থাকে?? এখন এই পরীক্ষা করে কিছু পাওয়া সম্ভব?? নাকি র‌্যাবের এই তদন্ত নতুন নাটক শুরু হল??