ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

রক্তে রঞ্জিত বিডিনিউজ২৪.কম

এই সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সাংবাদিক নির্যাতন অতিমাত্রায় বেড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাবার পথ অনুসরন করে চলেছে। তার বাবা মরহুম শেখ মুজিবর রহমান ১৯৭১সালের ১৬ই জুন চারটি সংবাদ পত্র রেখে বাকি সব সংবাদ পত্র বন্ধ করে দেয় এবং সাংবাদিকদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠায়। তার কন্যা এবার তার পথ অনুসরন করা শুরু করেছে। ক্ষমতায় আসার পরে আমার দেশ বন্ধ করে সম্পাদককে গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে জেলের ঘানি টানায়। তার পর একে একে চ্যানেল ওয়ান ,যমুনা টেলিভিশন ,অনলাইন সংবাদ মাধ্যম শীর্ষ নিউজ এবং শীর্ষ কাগজ বন্ধ করে তার সম্পাদক একরামুল হককে গেফতার করে নির্যাতন করেছে এই সরকার,সংগ্রামের সম্পাদক বয়োজোষ্ঠ্য সাংবাদিক আবুল আসাদকে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালায়। এখন আপনারা বলুন ৬৬বছরের একজন লোক কিভাবে গাড়ি পোড়াতে যাবে? আর তিনি হলেন সাংবাদিক তিনি গাড়ি পোড়ানোর মত কাজ কেন করবে ?

এই সরকারের আমলে আরেকটি বেদনাদায়ক ঘটনা হল সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকান্ড। এখন পর্যন্ত এই হত্যাকান্ডের কোন প্রকার ক্লু উদ্ধার হয়নি। ১০৯দিন র‌্যাবের হাতে ভিসেরা রিপোর্ট এসেছে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে তা প্রকাশ করা হয়নি। তাদের বিচার পাবার আশা সবাই ছেড়ে দিয়েছে। সাগর রুনী মারা যাবার পরে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন ৪৮ঘন্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করা হবে। কতদিন গেলে ৪৮ঘন্টা পার হবে তা আমরা জানি না। কিন্তু আমাদের সরকারের মহল থেকে বলা হচ্ছে এই হত্যাকান্ড নিয়ে তদন্ত চলছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কবে শেষ হবে এই লোকদেখানো তদন্ত?

এই সরকার ছিলো পুরোপুরি মিডিয়া বান্ধব। বাংলাদেশের ৪০বছরে কোন সময় এমন মিডিয়া বান্ধব সরকার দেখা যায়নি। সরকারের গুনগান বর্তমান আমলের মিডিয়া গুলো খুুব ভালো ভাবে প্রচার করে যাচ্ছে। যেমন: বর্তমান সরকার দীর্ঘ ৪০বছরের পরে যুদ্বপরাধীদের বিচার শুরু করছে। এই বিচার নিয়ে সরকার যতটুকু না করছে আমাদের মিডিয়া গুলো তার চেয়ে বেশী করছে। গত ১২মার্চ বিরোধী দল বিএনপি চলো চলে ঢাকা চলো কর্মসূচি পালন করে। হাতে গোনা ২-৩ ্িট টিভি চ্যানেল এ কর্মসূচি প্রচার করলেও পরে ওই সব টিভি চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। অন্যসব মিডিয়া প্রচার করে নাই। এছ্ড়াা জনগনের টাকায় পরিচালিত বিটিভি, সরকারের নসিহত প্রথম থেকে খুব ভালো ভাবে প্রচার করে আসছে। এই থেকে বোঝা যায় সরকার কতটুকু মিডিয়া বান্ধব ছিলো।

পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি উল্টো । সরকারের পুলিশ বাহীনির প্রধান টার্গেটে পরিনত হয়েছে সাংবাদিকরা। সাম্প্রতিক সময় বেশ কিছু ঘটনা দেখলে তাই মনে হয়। বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের পেটাতে থাকা পুলিশ এখন প্রতিদিন সাংবাদিক নির্যাতন করে যাচ্ছে। তাদের বিচার পর্যন্ত হচ্ছে না। এর কারন কি? গনতান্ত্রিক দেশে গনমাধ্যম হল ৪র্থ খুটি। এই ৪র্থ খুটির মধ্যে আঘাত আসলে সাধারন মানুষ কোথায় যাবে? এখন শুধু সাংবাদিক নির্যাতন হচ্ছে না,সাংবাদিকদের অফিসে ঢুকে সাংবাদিক জখম করে অফিস রক্তে লাল হচ্ছে।

ঢাকা শহরের আবাসিক এলাকার বাড়ি গুলোর সামনে লেখা থাকে ”কুকুর থেকে দূরে থাকুন” ঠিক সে রকম করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু ২৯মে রির্পোটাস ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য বলেছেন, পুলিশ থেকে নিরাপথ দুরুত্বে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করুন ।

গত ২৬শে মে ঢাকার আগারগাওয়ে মহিলা পলিটেকনিকেলের ছাত্রীরা রাস্তা অবরোধ করে মিছিল সমাবেশ করছিলো। এ সময় সাংবাদিকরা সমাবেশের ছবি তুলেছিলো। বিনা উষ্কানিতে পুলিশ প্রথম আলোর তিন জন ফটো সাংবাদিককে বেদম পেটায়। পেটাতে পেটাতে তাদের শুইয়ে ফেলে। এমন ভাবে সেদিন পিটিয়েছিলো ফটো সাংবাদিকদের পায়ের হাড্ডি মাংশ থেতলে গিয়েছি। সাংবাদিক পেটানোর সময় তেজগাও জোনের এসি শহিদুল ইসলাম যা বলেছিলেন এখানে উল্লেখ করলাম না।

ঘটনার পরে তাকে রাঙ্গামাটি বদলি করা হয়েছিলো। সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। কিন্তু এই পুলিশকে কেন গ্রেফতার করা হলো না? তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে আবার তিনি চাকরিতে জয়েন করবে। তখন কি হবে? এছাড়া এই পেটানোর পরে সাংবাদিকদের মামলা নেয়নি কেন পুলিশ তার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এই এসি শহিদুল হক ছাত্রঅবস্থায় ছাত্রলীগ করতো। তারপর সে পুলিশের চাকরিতে প্রবেশ করে। এজন্য কি তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না? সাংবাদিকদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হবে আর সে জন্য পুলিশ শাস্তি পাবে না,তাহলে এটা কোন দেশে বাস করছি আমরা?

গত ২৮মে মধ্যে রাতে জনপ্রিয় বার্তা সংস্থা বিডিনিউজ২৪.কমের অফিসে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসি। সন্ত্রাসি হামলায় বিডিনিউজের ৩সাংবাদিক ও একজন মানবসম্পদ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছে। বিডিনিউজের অফিস রক্তে লাল হয় । কোন স্বাধীন দেশে সংবাদমাধ্যম অফিস রক্তে লাল আছে? শুধু বাংলাদেশে আছে।

বিডিনিউজ সন্ত্রাসি হামলায় যারা আহত হয়েছে তাদের কি কোন দোষ ছিল? প্রধানমন্ত্রী গত২২শে ফ্রেব্রুয়ারি গনভবনে এক সভায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর রুনীর হত্যাকান্ডের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, সরকারের পক্ষে কারও বেডরুম পাহারা দেয়া সম্ভব না। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলছি,ম্যাডাম আপনার আইনশৃঙ্গলা বাহীনির আমাদের বেডরুম পাহারা দেয়ার দরকার নাই। আমাদের অফিস তারা পাহারা দিবে না? এটা কি তাদের দ্বায়িত্ব না? বিডিনিউজের হামলার ঘটনায় আমি এই লেখার মধ্যে দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি এবং বিচার দাবি করছি।