ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

কাকে এবং কিভাবে ভালো এবং মহৎ হিসাবে চিহ্নিত করবেন? ভালো মানুষের মুখোশের আড়ালেও থাকে পশুর চরিত্র! আঁতকে উঠতে পারেন, পশুর চরিত্র থাকলে আর ভালো মানুষ হলো কিভাবে?

জীবনে চলার পথে আপনার হাজারো মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে বা হবে। এরি মাঝে হয়তো কারো কারো মধুময় আচরন,বিনয় আর শালীন ব্যবহারে আপনি ধরে নিতে বাধ্য হবেন- উনি আপনার চেয়ে হাজারগুন ভালো এবং মহৎ। আপনি উনার মহত্বে বিগলিত হয়ে জীবনের পরম বন্ধুভেবে কাছে কাছে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেন।

হয়তো উনার মধুময় আচরন, বিনয় আর শালীন ব্যবহারেই মুগ্ধ হয়েই আপনি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করে বসলেন। এতে করে আপনার সামাজিক মান-সম্মানকেও হুমকির মুখে ঠেলে দিলেন! নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারলেন !

জীবনের চরম একটি ভুলের জন্য মানুষ হিসাবে এখন আমি নিজেকে একজন নিরেট বোকা এবং আস্ত একটা গর্ধভ হিসাবে চিহ্নিত করতে লজ্জা পাচ্ছি।

অনেকেই হয়তো বিখ্যাত Scottish লেখক Robert Louis Stevenson-এর Dr Jekyll and Mr Hyde উপন্যাসটি পড়েছেন। যেখানে লন্ডনের উকিল Gabriel John Utterson তার দীর্ঘ্দিনের ভাল বন্ধু Dr Henry Jekyll-এর আশ্চর্যজনক অন্যরুপ ‘শয়তান Edward Hyde’ কে আবিস্কার করেছিলেন।

উপন্যাসটির মূল বিষয়টা ছিল-Dr Jekyll-এর চরিত্রে দু’টা ব্যাক্তিত্ব বা সত্তা একই সাথে বিরাজমান ছিল। নিতান্তই ভাল মানুষ Dr Jekyll-এর চরিত্রের আড়ালে উনি ছিলেন শয়তান Mr Hyde-যা ছিল তার নৈতিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে।

জীবনে চলার পথে আমি প্রায়ই মানুষকে বুঝতে ভুল করে ফেলি, খুব সহজেই বিস্বাস করে বসি। আর এর জন্য মাঝে মাঝে আমার সামাজিক মান-সম্মানে আঘাত আসে বারবার।

এরি মাঝে কোনো একজনের সাথে হটাৎ পরিচয় ঘটে আমার। উনার মধুময় আচরন, বিনয় আর শালীন ব্যবহার আমাকে খুবই বিমুগ্ধ করে। কয়েকদিনের মধ্যেই সে আমাকে তার বড় ভাই হিসাবে ডাকতে শুরু করে। আমাকে জোর করেই তাকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতে বাধ্য করে। আমি তাকে বোন হিসাবে মেনে নেই। চলতে থাকে ভাই-বোনের মধুময় পথচলা। ফোনে কথা বলা এবং সুখ-দু:খের আলাপ করা।

বোন আসল ঢাকায়। পরদিন তাকে লাঞ্চ-এর দাওয়াত দিলাম। সে ছিল গুলশানে। গেলাম আমি সেখানে। সে বলল লাঞ্চ-এর আগে তার একটু কেনাকাটা আছে। গুলশান পিংকসিটি-তে গেলাম দু’জন। একটা ওড়না পছন্দ করল সে। আমিই গিফট হিসাবে মূল্য পরিশোধ করলাম ৭৫০ টাকা। এবার খাবারের পালা। সে আবার ভাল রেস্টুরেন্ট ছাড়া লাঞ্চ করেনা! চলে গেলাম বনানী ১১ নান্বারের সবচেয়ে দামি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট ‘ওহ ক্যালকাটা’য়। খাবারের সাথে চলল গল্প। খাবারের বিল হলো ৩৩০০ টাকা। যাক ভাগ্য ভাল ছিল আমার- ঐ পরিমান টাকা তখন ক্যাশ ছিল, নতুবা Credit Card-এ দিতে হ্ত।

সে ঢাকা ছেড়ে চলে গেল। ফোন আর নেটে চলতে থাকলো ভাই-বোনের মধুর যোগাযোগ। ২/৩ বার আবদার করায় ফোনে ফ্লেক্সি লোডও দিলাম। এরিমাঝে তার এক প্রোগ্রামের জন্য সহযোগীতা চাইলো। মনে মনে ৫০০০ টাকা দেবার চিন্তা করলাম। বিকাশে প্রথমে ১০০০ টাকা পাঠালাম। ভাবলাম পরে আরও ৪০০০ টাকা পাঠিয়ে দেব।

ফেসবুকে আমার একটি শখের গ্রুপ আছে যেখানে আমার বোনকে অ্যাডমিন করেছিলাম। কিন্তু সে নিয়মিত থাকত না, কারন এরি মাঝে সে আরেকটি গ্রুপ খুলেছে-যেখানে আমাকেও সে এড করেছিল এবং তার এক প্রবাসি ছেলে-বন্ধুকে অ্যাডমিন করেছিল। নিয়মিত না থাকার পরও বোন হিসাবে তাকে অ্যাডমিন রেখে দেই।

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লাম আমি। তাই আমার গ্রুপটিকে একটু দেখার জন্য তার ঐ প্রবাসি ছেলে-বন্ধুকে খুব সরলমনে দায়িত্ব দিলাম। যাকে দায়িত্ব দিয়েছি সেও আমাকে বড় ভাই হিসাবে রেস্পেক্ট করে।

এর পরই উলটে গেল সব হিসেব-নিকেস। আমার ঐ বোন আমাকে জেরার পর জেরা করে চলল, কেন তাকে না জানিয়ে ঐ ছেলেকে অ্যাডমিন করলাম, কেন ওর বন্ধুকে চুরি করলাম! আমি বললাম, দেখো ওকে চুরি করব কোন দু:খে, আমি তো মেয়ে নই। সে কিছুতেই মানতে নারাজ। আমি বারবার নেটে সরি বললাম। ফোনে অসংখ্যবার সরি বললাম। তবু সে নারাজ। পরিশেষে সে আমার গ্রুপ ছেড়ে চলে যায়। তারপর তার বন্ধুকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিলাম যেন সে মেজাজ ঠা্ন্ডা করে।

এর পর থেকে বোন আর বোন রইল না। সে তার আসল রুপ ধারণ করল। নেটে আমার বিরুদ্ধে বলা শুরু করল আমি ওর বন্ধুকে চুরি করেছি। আমি ওদের বন্ধুত্বকে নস্ট করার ষড়যন্ত্র করেছি। ওর গ্রুপে নোটিশ দেয়, ‘আমাকে না জানিয়ে আমার গ্রুপের অ্যাডমিনকে চুরি করা এবং আমাদের বন্ধুত্বকে নস্ট করার ষড়যন্ত্র করার অপরাধে মি, অমুককে(আমাকে) আমাদের গ্রুপ থেকে বের করে দিলাম।”

ঐ পোস্টে চলতে থাকল তার এবং অন্যান্য সাংগ-পাংগদের কমেন্ট-এর বন্যা- যা আমার সরলতাকে করেছে কলংকিত। শুধু তার নিজের গ্রুপেই নয় অন্য একটি গ্রুপেও সে আজেবাজে এমন কিছু বলছে। এরি মাঝে তার এই গালাগালি’তে হাত তালি দেবার লোকও জোটে গেছে অনেক।

আমি ক’দিন ধরে এমনিতেই অসুস্থ,তার ওপর আমার ঐ বোনের অপবাদ,অপপ্রচার,গালাগালি আর অপমানে আমি মর্মাহত! আমি ভাবতেও পরিনি, যে বোন মুসলমান হয়েও আমার হাতে রাখি পড়ানোর কথা বলেছিল, যার মধুময় আচরন, বিনয় আর শালীনতায় আমি নিজের বোনের চেয়ে বেশী ভালবেসেছিলাম, হাজার হাজার টাকা খরচ করেছিলাম সে এভাবে হঠাৎ রুপ পাল্টে ফেলবে ! আমি ভাবতেও পরিনি তার ঐ মধুময় আচরন,বিনয় আর শালীনতা ছিল কুৎসিত এবং কালো মনের মুখোশ মাত্র !

ফেসবুকের মত একটা জায়্গায় কুৎসিতভাবে গালাগালি আর অপমান করে চলছে। আমি পারিনি তার ভাষায় জবাব দিতে। কারন সে মেয়ে-তার শুভাকাংখীর অভাব নেই! খুব ছোটবেলায় সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত’র ‘অধম ও উত্তম’ কবিতা’র শেষ চার লাইন আমাকে প্রতিবাদ করতে দেয়্নি-শুধু নীরবে চোখের জলে মনে পড়েছে Robert Louis Stevenson-এর Dr. Jekyll and Mr. Hyde উপন্যাসটির কথা।

আসলে মানুষের সাথে না চললে বা ভালো করে Observe না করলে মানুষের ভিতরের আসল রুপটা ধরা যায়না। হুম, আজকাল বিশেষ করে ইন্টারনেটের এই যুগে, মানুষ কয়েকটি রুপ ধারন করে। কারো কারো চরি্ত্রে খুজে পাওয়া যায় Double standard- যেমন Dr. Jekyll -এর ভেতর ছিল শয়তান Edward Hyde ।

আমাদের এই সোনার বাংলাদেশে কারোর মধুময় আচরন, বিনয় আর শালীনতায় মুগ্ধ হয়ে বি্শ্বাস করে আপন ভাবলেন তো নিজের পায়ে কুড়াল মারলেন!