ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বিজয়ের এই মাসে আজকাল নিজেকে খুবই অসহায় লাগে! চারিদিকের পরিবেশ কেমন জানি অস্বস্তিকর এবং অনিরাপদ মনে হয়! বিজয়ের এই মাসে কেন জানি নিজেকে খুবই পরাধীন মনে হয়! স্বাধীন দেশে আজ সাধারণ এবং নিরীহ নাগরিকদের জন্য এই নারকীয় এবং ভয়ংকর পরাধীন অবস্থা তৈরী করেছে কারা?

কেন নিরীহ পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে ঘাতকদের চাপাতির কোপে করুন মৃত্যুবরণ করতে হোল প্রকাশ্য দিবালোকে? স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও রাজপথে আমরা কেন পরাধীন? কেন নেই আমাদের স্বাভাবিকভাবে বেচেঁ থাকা এবং স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি?

এসব প্রশ্নের জবাব কারা দিবে? প্রকাশ্য দিবালোকে বিশ্বজিৎ দাসের খুনের বিচার যেমন হবে না, বরাবরের মত খুনীদেরকে যেভাবে রক্ষা করবে ক্ষমতাসীন দল- তেমনি আমার উপরোক্ত প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে যাবে ক্ষমতাসীন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। কারন একটাই, জনগনের নিরাপত্তা জাহান্নামে যাক, প্রয়োজনে শত শত লাশের বুকে পা রেখে ক্ষমতায় গিয়ে হালুয়া-রুটি খাওয়া চাই!

আজকাল হরতাল অবরোধের কর্মসূচীর কথা শুনলেই হলো- চোখের সামনে ভেসে উঠে রাজপথে হরতাল পালন আর ঠেকানোকে কেন্দ্র করে চলে ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াও, আর কোপাকুপি’র সংঘর্ষ, আর জীবন্ত মানুষের বুকে পিঠে গুলি অথবা চাপাতির কোপে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে শুয়ে পড়ে নিজের জীবন ভিক্ষে চাওয়া আর অপরদিকে ঐ আহত মানুষটিকে মধ্যযুগীয় বর্বরোচিত কায়দায় নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশের উপর নৃত্য করার দৃশ্য।

হরতাল-অবরোধ বিরোধীদলগুলির দাবী আদায়ের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকার? কিন্তু আমাদের দেশে যারাই ক্ষমতায় থাকে তারা যেন তা মানতে নারাজ। হরতাল-অবরোধ চলাকালীন সময়ে ক্ষমতাসীন দলগুলি রাজপথ দখল করে হরতাল-অবরোধে বিরোধীদলগুলির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে দেশকে ঠেলে দেয় আরও সংঘাতের দিকে। সাধারন জনগন হয়ে যায় জিম্মি।

হরতাল-অবরোধে সাধারন জনগনের রাজপথে চলাচল করাটাও তো সাংবিধানিক অধিকার! কিন্তু সেই অধিকারটুকু কেড়ে নেয় রাজনৈতিক দলগুলো! আজকাল হরতাল-অবরোধ হলে নিরাপত্তাহীনতার কারনে সাধারন নিরীহ আমজনতার মতো আমিও হয়ে যাই স্বেচ্ছায় গৃহবন্ধী,কারন আমিও যদি আবার জীবন্ত না ফিরি! রাজনৈতিক হায়েনারা যদি আমাকে লাশ বানিয়ে আমার মৃত দেহের উপর নাচে!

মা-বাবা, ভাই-বোন আর স্ত্রী-সন্তানের কথা ভেবে প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম ফেলে কাপুরুষের মত ঘরে বসে টিভিতে আর ইন্টারনেটে দেখি শুধু হরতাল-অবরোধে দেশে কেমন সংঘর্ষ হলো আর কতটা লাশ পড়লো আর মনে মনে শুধু ধি্ক্কার দেই ঐসব রাজনৈতিক নেতা আর হায়েনাদের যারা জীবন্ত মানুষকে রাজপথে প্রকাশ্য দিবালোকে খুন করে লাশের উপর নাচে আর মানবতাকে কবর দেয়!

নিরীহ জনগনের মত আমিও একটা কাপুরুষই বটে-কারন রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের মত আমর যে নেই ততটুকু হায়েনা হবার মত সৎসাহস। রাজপথে সংঘর্ষে লি্প্ত হয়ে ককটেল ফাটানো আর রড এবং চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে মানুষ হত্যা করার মত দু:সাহস যে নেই আমার!

আপসোস দুর্ভাগা এদেশ বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে, আপসোস মানুষ নামক কাপুরুষ একটা মস্ত জানোয়ার হয়ে জন্ম নিয়ে!