ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

ব্লগার বন্ধুরা শুভেচ্ছা নেবেন। বিডিনিউজ ব্লগে এটাই আমার প্রথম ব্লগ। ভুল হলে ভাষাগত এ বানান ভুল হলে ক্ষমা করবেন।

২০০৮ সালের শেষের দিকে এলাকার সাংবাদিকদের দেখে মনে কেন যেন এ পেশাটার প্রতি একটা আগ্রহের সৃষ্টি হল। তবে অনেক ব্যক্তি মফস্বলে যারা গণমাধ্যেমর প্রতিনিধিত্ব করে তাদের কে সাংবাদিক বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। কারন সাংবাদিক হতে হলে নাকি সাংবাদিকতায় অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করতে হয়। জানিনা। তবে আমি সাংবাদিকই মনে করি।
যাই হোক মুল কথায় আসি। আমার বড় ভাইও তখন দৈনিক দেশবাংলার আখাউড়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। সেই সুবাধে এলাকার সাংবাদিকরা সবাই ছোট ভাইয়ের মত স্নেহ করত। সেই আগ্রহ থেকে নিজে নিজে ইন্টানেটে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার ঠিকানা সার্চ করি। চোখে পড়ে কিছু অনলাইন নিউজ পেপার। ক্লিক করি নিউজনেটবিড.কমে। সেখানে থাকা একটা কন্ট্রাক নাম্বারে ফোন করতে কথা হয় সোহাগ ভাইয়ের সাথে।উনার পরামর্শে তাদের ওই সাইটে নিউজ পাঠাতে শুরু করি। বেশ কিছু টুকরো নিউজও প্রকাশ হয়। সত্যিই আনন্দের। এর কিছুদিন পর ২০০৯ সালের মার্চের দিকে সোহাগ ভাই একদিন সন্ধ্যায় ফোন করে বললেন ভাই, আমরা ক’জন মিলে একটা নতুন নিউজ পোর্টাল চালু করছি। আপনি ইচ্ছে করলে কাজ করতে পারেন। তারপর থেকে কাজ শুরু রেডটাইমসবিডি.কম নামের একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে। যদিও আমি জেলার একটা উপজেলায় বাস করতাম। স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় তাদের সাথে কাজ করি দীর্ঘ দুই বছর। এর মধ্যে কোন জাতীয় দৈনিকে আর চেষ্টা করা হল না। এরইমধ্যে শুনতে পাই সকালের খবর নামে একটা পত্রিকা আসতেছে। চিন্তা করলাম উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার। সে হিসেবে সকালের খবরের অফিসে যাওয়া, কথা হয় মফস্বলের দায়িত্বে থাকা তারেক নামে একজন বিশিষ্ট সাংবাদিকের সাথে। প্রথমেই বেশ চাপা স্বরে নিউজ পাঠান দেখি। তবে আমরা এত তাড়াতাড়ি উপজেলা প্রতিনিধি দেবনা। জেলা প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করবেন। (গণমাধ্যেমর বিশিষ্ট সাংবাদিকদের মুখে এ ধরণের কথা শুনে ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করে। কারন আমি আমার যোগ্যতায় প্রতিনিধিত্ব করব তবে কেন জেলা প্রতিনিধির সুপারিশ ?)
ফিরে এসে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকচেষ্টা করলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি এইচ.এম.সিরাজের সাথে কথা বলার। উনি আরো বড় সাংবাদিক। সেটা লিখে লাভ নেই। তবে একটা কথা উনাকে বলতে ইচ্ছে করেছিল, ” উনার আগেই আমি কোনা একটি গণমাধ্যেম জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছি দুই বছর। কিন্তু এখন চাইছি উপজেলা প্পতিনিধি হতে ” যাই হোক সেই সকালের খবর সত্যিই এখনও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়নি। সাংবাদিকতা চালাতে থাকলাম রেডটাইমসবিডি.কম। যদিও তাদের কাছ থেকে নূন্যতম আর্থিক সুবিধা পাইনি তবুও কাজ করেছি কারন নিউজপোর্টালটির প্রধান সম্পাদক কবি সৌমিত্র দেব। এরই মধ্যে রেডটাইমস থেকে বিধায় নেয় সোহাগ ভাই পরিচয় রহিম ভাইয়ের সাথে। তিনিও বতর্মানে নেই। এর মধ্যে দৈনিক আজকালের খবর নামে একটি নামি দামি পত্রিকায় ফোন করে আখাউড়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার ইচ্ছা জানাই। তাদের এক জবাব- ” জেলা প্রতিনিধির সাথে আলাপ করুন ” ছি: ছি: ছি:। আমি আর আলাপ করার প্রয়োজন মনে করিনি। আবার মাথায় ফন্দি আটতে থাকি কি করা যায়। কোন পত্রিকায় কাজ করা যায়। ভাল কথা বলতে ভুলে গেছি বন্ধুরা। এর আগে বসুন্ধরা গ্রুপের পত্রিকা “বাংলাদেশ প্রতিদিন” মাঠে আসে। একজন স্থানীয় সাংবাদিকের পরামর্শে তাদের অনুমতি ছাড়াই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নিউজ পাঠাতে শুরু করি। বেশ ক’দিন যাওয়ার পর হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় পত্রিকাটির অফিস থেকে একটা ফোন আসে। ” হ্যালো- জিয়াউল ইসলাম বলছেন? জি হ্যা। আপনি বাংলাদেশ প্রতিদিনে নিউজ পাঠান ? জি হ্যা। আপনাকে নিউজ পাঠাতে কে বলেছে ? জি কেউ না। তাহলে নিউজ পাঠান কেন ? প্রশ্নের উত্তর আমার জানা ছিল না। তাই নিশ্চুপ। কিছুক্ষণ পর অপর প্রান্ত থেকে- আর কখনো নিউজ পাঠাবেন না। বন্ধ করে দিলাম নিউজ পাঠানো। যাই হোক কিছুদিন পর শুনতে পারি তারা তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছেন। যার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কোন গণমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল না। যাই হোক এভাবে অনেক দিন থাকার পর আমি এখন একটি টিভি চ্যানেল এর আখাউড়া প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছি। সত্যিই আমার জন্য আনন্দের। এখন এ চ্যানেলে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা মাত্র দু’মাস। তবে জাতীয় দৈনিকে কাজ করার ইচ্ছা আমার রয়েই গেল।