ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

রাত ১২টা..

সায়েদাবাদে শ্যামলীর কাউন্টারের একদম শেষ চেয়ারে বসে মোবাইলে চোখ বুঝে গান শুনছিলাম।গন্তব্য কক্সবাজার।সাপ্তাহিক ছুটির কারণে রাত ১২টায়ও কাউন্টারে বেশ ভিড়।হঠাৎ উচ্চ হাসি শুনে সামনের দিকে তাকালাম।দেখলাম ৮-৯ বছরের একটা পিচ্চি ১ টাকার জন্য কাউন্টারে বসা এক যাত্রীর পা ধরে বসে আছে।এই নিয়ে লোকজন হাসাহাসি করছে।উঠে গিয়ে দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।ভাবলাম ছেলেটিকে ডেকে এনে ১০টা টাকা দেয়।কিন্তু লোকজনের বাঁকা চাহনির কথা ভেবে কেন জানি পারলাম না পিচ্চিটাকে ডাকতে।এই দৃশ্য অসহ্য লাগছিল তাই কাউন্টারের সামনে বামপাশে চা বিক্রি করছিল এক চাচা।এককাপ চা নিয়ে আনমনেই আবার কাউন্টারের সামনে এলাম।বাহির থেকে দেখলাম এবার পিচ্চিটা অন্য আরেকজনের পা ধরে বসে আছে ১ টাকার জন্য। ছেলেটার বয়স ২২-২৫ হবে। ছেলেটা টাকা দেবে না । কাউন্টারে বসা অন্য যাত্রীদের উৎসাহ পেয়ে পিচ্চিটাও টাকা না দিলে পা ছাড়বে না। হঠ্যাৎ ছেলেটি উঠে দাড়িঁয়ে বেশ জোরে একটা লাথি দিল পিচ্চিটাকে। এতক্ষন যারা উৎসাহ দিচ্ছিল ছেলেটিকে তাদের সবাই চুপ করে গিয়ে এমন ভাব ধরল যেন কিছুই দেখেনি।আমি যাদের কাজ করে খাওয়ার সামর্থ্য আছে তাদের কখনো ভিক্ষা দেয় না।কিন্তু বৃদ্ধ,বাচ্চা ভিক্ষা চাইলে কখনো না করিনি এটা হলফ করে বলতে পারব। ৫০ পয়সা, ১ টাকা, ২ টাকা, ৫ টাকা যা পারি দিয়ে আসছি বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই ।মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির ছেলে হিসেবে অভাব কি জিনিস আমি জানি।পিচ্ছি ছেলেটাকে এমন করে লাথি মারতে দেখে সহ্য করতে না পেরে ছেলেটির সামনে গিয়ে দাড়িঁয়ে বললাম,লাথি মেরে কাজটা কি ঠিক করলেন?

ছেলেটির উওর-এইসব ফকিরনির পোলারা লাথি খাওয়ারই যোগ্য।তাই লাথি দিয়ে ঠিক কাজই করেছি। পিচ্চিটা ভয়ে জড়সড় হয়ে ফ্লোরে বসে আছে। পিচ্চিটাকে তুলে হাত ধরে বের হয়ে আসলাম।যে রাগ নিয়ে গিয়েছিলাম সে রাগ কেন জানি হারিয়ে গেল।পারলামনা একটা লাথি দিয়ে ছেলেটিকে বোঝাতে লাথির স্বাদ কেমন।নিজেকে কাপুরুষ মনে হল। ৬৭টাকা খুচরা ছিল । পিচ্চিটাকে দিয়ে বললাম,যা ভাই বাসায় গিয়ে ঘুমাগা। করুন হাসি দিয়ে পিচ্চিটা বলল,ভাই এই খালি রাস্তায় আমাদের বাসা।তারপর সামনের দিকে হেটেঁ চলে গেল। মাত্র ২টাকার জন্য পিচ্চিটা যে লাথিটা হজম করেছে সেই কষ্টের সাথে আমার কাপুরুষতা মিশে একাকার হয়ে গেল। মাসদুয়েক আগের কাপুরুষতা গত কিছুদিন ধরে ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু গতকালকের একটি ছবি আমাকে আমার কাপুরষতার ক্ষত আবার জাগিয়ে তুলেছে। সেদিন যদি একটি লাথি দিতে পারতাম তাহলে হয়ত একটি হায়েনা লাথির ব্যাথা বুঝত।

কতই বা বয়স হবে মেয়ে দুটির?ওদের অপরাধ কি জানেন? ওরা ক্ষুধার তাড়নায় চুরি করেছিল।তাই তাদের ওপর একদল হায়েনা ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এডাল্ট মুভি দেখার উত্তেজনায় যেমন গোপনাঙ্গ দাঁড়িয়ে যায় তেমনি চুরি দেখে বিবেক জেগে উঠেছে পুরুষের। না ……..চুরি মেনে নেওয়া যায়না..চুরি করা পাপ..ফকিরনির বাচ্চাদের চুরির কারণেই দেশের উন্নতি হচ্চে না।সুতরাং মারো। আমরা যে প্রতিবাদী জাতি অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করে ঝাঁপিয়ে পড়া আমাদের অভ্যাস ।আমরা যদি এই দুই চোরের উপর ঝাঁপিয়ে না পড়ি তাতে যদি ৫২,৭১ এর প্রতিবাদীদের অপমান করা হয়?

আচ্ছা,মেয়ে দুটো কি মনে মনে একবারও বলেনি, ভাতের নিশ্চয়তা দে হারামজাদারা; চুরি করুম না। আচ্ছা, মেয়ে দুটো কি জানে,যে হায়েনার দল ওদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে সে হায়েনার দল প্রতি ৫ বছর পর পর চা-বিস্কুট-লুঙ্গির বিনিময়ে একদল চোরের কাছে নিজেদের বিক্রি করে।

***

দিন পনের ধরে রাতে ব্লগ পড়তে বেশ ভাল লাগে । ব্লগ বেশ শান্ত থাকে।আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জামাত,ভারত-পাকিস্তান নিয়ে দিনভর ক্যাচাল করা আমজনতা কিবোর্ড টিপতে টিপতে ক্লান্তরা এই সময়ে থাকেনা।কিন্তু চৈতির ভিডিও বের হওয়ার পর থেকে এই শান্তি বিব্রতকর অবস্থায় পরিণত হয়েছে। রাতে মডারেটর না থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু ব্লগার কয়েকদিন ধরে চৈতির ভিডিও এর লিংক দিয়ে যাচ্ছে সামহোয়্যার ইন ব্লগে।

একদল বিদ্রোহী রাস্তায় চোর(?) পিঠিয়ে প্রতিবাদী বাঙালীর সুনাম অক্ষুনু রাখার সবরকম চেষ্টা করে যাচ্ছে আর একদল পুরুষ নিজেদের বিকৃত যৌবনের স্বাদ সবার মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় আছে।কেউ মাতাল হয়ে ঘরে এসে বউ মারছে বিপরীতে নারী স্বাধীনতার দাবীতে সোচ্চার কোন সুশীল ঘরে বউ রেখে অন্য নারীর বুক থেকে উঠে এসে গোসল না করেই নারী বিষয়ক সেমিনারে দৌড় দিচ্ছে;একদল বিধবার জমি দখলকারীদের প্রশ্রয় দিয়ে নারীদের জন্য হরেকরকম নীতিমালা প্রণয়ন করছে একদল ইসলামের রক্ষক এই নারীনীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করেছে।অথচ ইসলাম নারীদের যে অধিকার দিয়েছে সে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এদের রাস্তায় কখনো দেখা যায়না।

চৈতির ভিডিও প্রচারণারত এক জানোয়ারের পোস্টে বলেছি-আপনি প্রতি রাতেই কাজটা করছেন..আজ যদি আপনার বোনের সাথে এমন হত তাহলে আপনি কি আপনার বোনের যৌনাঙ্গ দেখানোর প্রচারণায় মেতে থাকতেন?? জানি বলবেন ,আমার বোন এমন করতেই পারেনা। মনে রাখবেন যা ভাবতে পারেননি কখনো এখন তা অহরহ হচ্ছে । বেশ কয়েকজন ব্লগার এই কাজটি করছেন এবং অনেক ব্লগার এই নিয়ে বেস রসালো পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। সবার উদ্যেশ্যে আমি কমেন্টটি ছুঁড়ে দিলাম।