ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

রিয়েল লাইফ গল্প দিয়ে শুরু করি।২৭বছর বয়সী ৫ফুট৭ লম্বা শ্যামলাবর্নের বাউন্ডুলে টাইপের অর্কের সাথে পরিচয় হয় ৫৫বছর বয়সী এক মহিলার।মহিলার স্বামী একটি গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের একজন অফিসার ছিলেন।হরেকরকম বাটপারি করে যা কামিয়েছে শেষ বয়সে এসে সেসবের মজা লুটতেই ব্যস্ত ভদ্রলোক(?)। বেশীর ভাগ সময় থাকেন বিভিন্ন নাইট ক্লাবে কিংবা কক্সবাজারের এলিটশ্রেনীর কোন হোটেলে কোন পতিতার বুকে আর বউ ব্যস্ত নারী বিষয়ক বিভিন্ন কর্মকান্ডে । ছেলের সাথে বেশ ভাল বন্ধুত্ব হয়ে যায় মহিলাটির।একদিন ছেলেটির সাথে মহিলাটির দেখা হয়।প্রথম দেখাতেই প্রাইভেট কারে ছেলেটির নাক টিপে দেয় মহিলাটি।ছেলেটি আন্টি ডাকে তাই ব্যাপারটাকে হালকা ভাবে নিল।এরপর যখন বিলাস বহুল বাসায় গেল তখনি ঘটল অঘটন।হিন্দী সিরিয়াল কাহিনী ঘর ঘরকির পার্বতীর মত প্রনামের ভংগি করে ছেলেটির সামনে দাঁড়ায় মহিলাটি।কাছে টেনে নিতে চায় ছেলেটিকে ।হাতের ব্যাগটা নিয়ে কোনরকম দৌড়ে পালিয়েছিল ছেলেটি।

***

হয়ে গেল একটি হরতাল।এবং হরতালের আগেরদিন একটা লাশও পড়ল।প্রকাশ্যে দিবা লোকে রাষ্ট্রযন্ত্র ওয়ালাদের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনী হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ল শান্তিপূর্ন প্রতিবাদকারীদের উপর।আমিনীর হরতালের ভিত্তি আরো মজবুত হলো।একজন মানুষকে এভাবে গুলি করে হত্যা করা হল অথচ এই নিয়ে মানবাধিকারের রব উঠলোনা।হুজুররা ১০-টাকা ২০টাকার বিনিময়ে পাবলিকের বাপ-দাদার কবর জেয়ারত করে পেট চালায় বলেই তাদের কোন মানবাধিকার নেই।অথচ সন্ত্রাসীদের মানবাধিকার রক্ষায় প্রতি সপ্তাহে সেমিনার আলোচনা হয়। যে লাশের কারণে হরতাল আরো বেশী জনসমর্থন পেল সে পরিবারের খবর কতজন রেখেছে?খুনের প্রতিবাদে অনেক সংঘটনের বিবৃতি, কিভাবে কি হয়েছে এমন বর্ণনায় পত্রিকার পৃষ্ঠা ভরে গেছে।কিন্তু হুসাইন আহমেদের পরিবারের আর্তনাদের খবর কয় লাইন এসেছে?

***

আরো একটি রিয়েল লাইফের পরকীয়ার গল্প।পাঠক এই ছবিটি দেখে আপনাদের কি কিছু মনে পড়ছে? মনে না পড়াটাই স্বাভাবিক।কারণ,এত কিছু কি মনে রাখা যায়।তাহলে চলুন কাহিনী সংক্ষেপে জেনে নেয়–নারায়ণগঞ্জে পরকীয়া সম্পর্ক জেনে ফেলায় স্বামীকে ১৩টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন পুশ করে অচেতন করে রেখেছিলেন একটি এনজিও’র সভানেত্রী রহিমা খাতুন লিজা। স্বামী আবদুল জলিল ভূঁইয়াকে চার দিন ধরে ঘরের ভেতর শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়। লিজার অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলায় তিনি তার স্বামী আবদুল জলিল ভূঁইয়াকে পরকীয়া প্রেমিক দিপুর সহায়তায় গত ৪ দিন ধরে বাড়ির একটি ঘরে ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে হাত ও পা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন।লিজা নারী কল্যান নামের একটি সংস্থার সভাপতি ।-আমার দেশ।

আমার লেখা পড়ে অনেকেই নাকি মাথা আওলিয়ে যায়।কারন,আমি নাকি স্পস্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে কিছু ঘটনা সামনে এনে কিছু প্রশ্ন ছুড়েঁ দেয়!তাই আজ পাঠকের উদ্দ্যেশে কোন প্রশ্ন নয়।তিনটি ঘটনা ভাল করে দেখুন।কারা করছে নারী স্বাধীনতা/মুক্তির আন্দোলন? দুই নারী মুক্তি নেত্রীর পরকীয়ার দুটি ঘটনা এবং যেসব পরিচিত মুখ বছর দশেক ধরে নারী স্বাধীনতা/মুক্তির আন্দোলন করে যাচ্ছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান,গেঞ্জির মত ব্লাউজ,পিনপিনে শাড়ি আর তাদের ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে ভাল করে তলিয়ে দেখলে দেখা যায় এদের কাছে নারী স্বাধীনতা মানেই হচ্ছে তারেলাপ্পা হিন্দী সিরিয়ালের নারীদের স্বাধীনতার মত ।ওদের মত করে যেন সব নারী চলতে পারে তেমন স্বাধীনতার জন্যই ওরা কাজ করে যাচ্ছে আর না হয় বিপরীত মতাদর্শের রাজনৈতিক দলকে বাশঁ দিতেই নারী স্বাধীনতার ব্যবসা খুলে বসে আছে। বছর দশেক ধরে নারী স্বাধীনতা/মুক্তির জন্য কাজ করে যাওয়া ৩০জন নারী স্বাধীনতা/মুক্তির আন্দোলনে সোচ্চার নেত্রীকে আপনার পছন্দ মত নির্বাচন করে যে পয়েন্টগুলো আউট করেছি সেগুলো পয়েন্ট টু পয়েন্ট একটু খবর নিন অথবা মনে করার চেস্টা করুন নারী নেত্রীও তাদের সাথে সভা-সেমিনারে বসে থাকা পুরুষ নারীবাদীদের নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের ঘটনাগুলো।

এবার চলুন বিপরীত দিকে।একদল তাদের মত বেহায়া স্বাধীনতার নারীমুক্তি চাইছে বিপরীতে আরেকদল শুধু মাত্র দলীয় স্বার্থে ইসলামকে ব্যবহার করছে।যখনি বাকশালের প্রেতাত্মারা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার নামে কিছু করছে তখনি তাদের ধর্মপ্রেম ইসলাম প্রেম বুকের ভেতর বিদ্রোহ করে উঠছে।এই বিদ্রোহের জোসে তারা সাধরণ হুজুরদের রাজনৈতিক অজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হুজুরদের রাস্তায় নামিয়ে আনে সময় সুযোগ বুঝে। পরিণামে গুলি খেয়ে লাশ হয় হাফেজরা।

আমাদের দেখতে হয় রাষ্ট্রের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীর তান্ডবে কিভাবে গড়াগড়ি খাচ্ছে হাফেজরা কিভাবে দাঁড়ি ধরে রাষ্ট্রীয় গুন্ডাবাহিনী নিয়ে যাচ্ছে সাধরণ আলেমদের। হুসাইন আহমেদরা যাদের জোসে বিভ্রান্ত হয়ে মাঠে নেমে এসে রাষ্ট্রের লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডাবাহিনীর নির্যাতনের স্বীকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে কিন্ত সে জোসওয়ালারা সব সময় ধরা ছোয়াঁর বাইরে থেকে যাচ্ছে।বেশী না বিভিন্ন ইসুৎতে আমিনীর গত ১০বছরের রাজনৈতিক জীবনের খবর নিন।অনেক কিছুই দেখতে পাবেন।সাথে এও দেখবেন পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা ইসলাম নারীর যে অধিকারগুলো দিয়েছে সে অধিকারগুলোর জন্য কয়টা মাহফিল করেছে আমিনীরা? কতটা বই লিখেছে? ইভটিজারদের বিরুদ্ধে কয়বার রাস্তায় নেমে এসেছে?মহামারির মত সমাজে ছড়িয়ে যাওয়া যৌতুক যে সম্পূর্ন ইসলাম বিরোধী সেজন্য কি কাজ করেছে আমিনীরা?

নারী স্বাধীনতায় সোচ্চার নারীরা দলীয় মতাদর্শ ভুলে সবাই হাতে হাত রেখে কতবার সংসদ ভবনের সামনে কিংবা প্রেসক্লাবের সামনে দাঁড়িয়েছে?হিন্দী সিরিয়ালের আগ্রাসনের কারণে আমাদের নারীরা যে কুটনী দ্যা গ্রেট হয়ে যাচ্ছে,দেশীয় সংস্কৃতি বর্জন করে পাশ্ববর্তী দেশের সংস্কৃতি কে আপন করে নিচ্ছে এসব থেকে মুক্ত করতে কি কাজ করেছে এই তথাকথিত নারীবাদীরা?

এইসব নিয়ে ভাবতে গিয়ে আপনি যদি তথাকথিত নারী নেত্রীদের ব্যাপারে পজেটিভ কিছু আপনার চিন্তায় আসে তাহলে আসুন কথা বলতে রাজী আছি।তবে তার আগে প্রশ্ন রাখছি যে নারী নীতি নিয়ে এতকিছু সে নারী নীতি কতজন পড়েছেন? আমার তো মনে হয় বৃহৎ একটা অংশই পড়েনি।এক ব্লগারের সৌজন্যে পাওয়া নারীনীতির কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে আমার মনে হয়েছে আমি বিটিভির খবরের স্ক্রিপ্ট হাতে নিয়ে বসে আছি।যে হারে নারী নীতির পয়েন্টে পয়েন্টে মুজিব,আওয়ামীলীগ শাসনামল ,মুজিবের পরিবারে সুনাম আর বিএনপি শাসনামলের দুর্নাম আর কৌশলে জিয়াকে বাশঁ দেওয়ার যে চেষ্টা করা হয়েছে তাতে বিটিভির খবরের স্ক্রিপট ছাড়া কিচুই মনে হয়নি।মনে হচ্চে সরকারও চাইছে এই নারী নীতি গন্ডগোল হউক।কারণ যেখানে যত বেশী ক্যাচাল ম্যাংগো পাবলিকের সেখানে তত বেশী আগ্রহী। ক্যাচালের কারণে পাবলিকের আগ্রহ নিয়ে নারী নীতি পড়বে। যতবেশী পড়বে ততবেশী মুজিব প্রেমী হবে।সাথে সাথে ইউনুস ইস্যু রাষ্ট্রপতি কতৃক খুনীদের ক্ষমা,ভারতকে বিনামূল্যে পরিবহন সুবিধা সহ সমালোচিত ইস্যুগুলো চাপা পড়বে। এবং সরকার সমালোচিত ইস্যু গুলোর ক্ষোভ চাপা দিতে অনেকটা সফলও।

চারদিকে এত ক্যাচাল নারী স্বাধীনতা নিয়ে।কিন্তু,আমার বোনের,মায়ের নারী স্বাধীনতার দরকার হচ্ছেনা কেন?কারণ,ইসলাম এবং ইসলামের কারণে প্রাপ্ত মানসিকতা মা-বোনদের যে শ্রদ্ধা,সম্মান করার যে মানসিকতা দিয়েছে সেটা কোন নারী নীতিই দিতে পারবেনা।ছোট ছেলে বলে খেতে বসলে ডিম ভাজি শুধু আমার প্লেটে এলে সেই ডিমভাজি থেকে বোনকে মাকে এমনকি কাজের মেয়েটাকেও ভাগ দেওয়া ছাড়া আমি খাইনা।আমার ভাই বাবা এখনো খেতে বসলে সবার জন্য তরকারী আছে কিনা আগে সেটা জেনে নেয়। ঈদে কিংবা অনুষ্ঠানে বোন ভাগিনীর জন্য আমাদের যত বাজেট থাকে আমি ভাইয়া আব্বুর জন্য তার একভাগও থাকেনা। নারীদের জন্য কোন নীতির দরকার নেই।মনুষ্যত্ব,মানবিকতা,ভালবাসা বলে যে শব্দগুলো আছে সেগুলো ভিতর থেকে জাগাতে পারলেই প্রকৃত নারী স্বাধীনতা আসবে। নারীরা মাতাল স্বামীর হাতে নির্যাতন হবেনা,যৌতুকের কারণে গলায় ফাঁস দিবেনা,ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয়ে হালি হালি কিশোরী আত্মহত্যা করবেনা।এসব নারী নীতি পীতি নিয়ে আজাইরা সময় নষ্ট না করে এর একভাগও যদি মনুষ্যত্ব,মানবিকতা,ভালবাসা,সহমর্মিতা এসব জাগ্রত করার কাজে লাগানোর অনুরোধ করাটা যদি অন্যায় হয়ে থাকে সেই অন্যায়টা স্ব-ইচ্ছায় করলাম।