ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

দেশের অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্র পুঁজিবাজার। কেননা, কোন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর শুধু কোম্পানির মধ্যে ‘হিসাব’ সীমাবদ্ধ থাকে না। কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে হিসাব দিতে হয়। হিসাব দিতে হয় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ এবং স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে। তখন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির বোর্ড, শেয়ারহোল্ডার এবং স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দিতে হয়। এতে কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পায়। তবে এক্ষেত্রে যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুর্নীতিবাজ হয়, সেটি দেখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু আমরা ১৯৯৬ এবং ২০১০-১১ দুই সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যর্থ হলেও সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং সরকারের উচ্চমহল থেকে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু মন্তব্য করা হয়, যাতে আরও সমালোচনা হয় তাদের নিয়ে।

আমরা কি দেখলাম, টানা দরপতনের কারণ বের করতে ব্যর্থ হয়েছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে সম্পূরক বাজেটের উপর আলোচনার সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদকে বলেন, ‘শেয়ারবাজার নিয়ে তিনি কিছু বলেন না। কারণ, এই শেয়ারবাজার দুষ্টু শেয়ারবাজার।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, এই দুষ্টু বাজারের অনেক সংস্কার তিনি করেছেন। আগামী ডিসেম্বরের পর বাজার নিয়ে কথা বলবেন। এর আগে ডিমিউচুয়াল বা মালিকানা ও ব্যবস্থাপনাকে পৃথক করা হবে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এই শেয়ারবাজার নিয়ে এত উত্তেজনার কারণ হলো, এটা মতিঝিলে অবস্থিত এবং এখানে যুবক, উদ্যমী ও তরুণেরা বিনিয়োগ করেছেন। ১১ লাখ বিনিয়োগকারীর হাতেই শেয়ারবাজার সীমাবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে চিন্তা না করলে আমার অর্থনীতির কোনো ক্ষতিই হবে না।’

অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর একজন সংবাদকর্মী হিসেবে ডিএসইর প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানের কাছে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মন্তব্যের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আন্তরিকভাবে ব্যথিত হয়েছে। রকিবুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রী দেশের শেয়ারবাজার নিয়ে অধৈর্য্য হয়ে পড়েছেন। তাই তিনি এ ধরণে কথা বলছেন। পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যে দেশের সকল বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা ব্যথিত হয়েছেন। পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও ব্যথিত হয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের যে কোন দেশের শেয়ারবাজার সে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের পুঁজিবাজারও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। শেয়ারবাজার থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে। তিনি বলেন, দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ করে থাকে।

ডিএসই প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহামানের এমন বক্তব্য দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। কারণ আপনি যদি মুখ না খূলে বসে থাকেন, তাহলে দেশের সব মানুষ বলত ঠিকই মনে হয় শেয়ারবাজার দুষ্টু শেয়ারবাজার।

অপরদিকে অর্থমন্ত্রীর ওই মন্তব্যে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। মঙ্গলবার দরপতনে বিক্ষুদ্ধ বিনিয়োগকারীরা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।
এ বিষয়ে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদেও সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে দরপতন হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে নিন্দা জানিয়ে তিনি তার পদত্যাগ দাবি করেন।