ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

দেশের অর্থনীতির অভিভাবক অর্থমন্ত্রী। কিন্তু গত কয়েক দিনে তিনি অর্থনীতি নিয়ে কি ধরণের মন্তব্য করছেন। এতে অর্থনীতিবিদ হওয়ার দরকার নেই। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে রিক্সাওয়ালা, চা স্টলের কর্মচারীরাও বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।

আমি শেয়ারবাজারের রিপোর্ট করি। সংসদে অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজারকে দুষ্টু বলার পরের দিন সংবাদ সংগ্রহে মতিঝিলে গেলাম। ডিএসইর সামনে চা স্টলে চা পানের সময়, চা স্টলে কর্মরত চা দোকানদার বল্লেন, স্যার মনটা খুবই খারাপ। জিজ্ঞেস করলাম কেন? দোকানদার বললেন, অর্থমন্ত্রী যদি শেয়ারবাজারকে দুষ্টু বলেন তাহলে এই বাজারে ভদ্র লোকজন আসবেন না। দেখেন না, বেলা সাড়ে ১১টা দোকানে লোকজনের ভীর নেই। কিন্তু শেয়ারবাজার যখন ভালো ছিলো- দোকানে ভীর সামলাতে লোক নিয়োগ দিয়েছিলাম। এখন আমাকে অলস সময় কাটাতে হয়। এরপর যদি অর্থমন্তী এমন মন্তব্য করেন, তাহলে দোকান তুলে দেশের বাড়ি যেতে হবে।

এরপর চা পান করে একটি ব্রোকারেজ হাউসে যাই। দেখা যায়, একসময়ের জমজমাট ব্রোকারেজ হাউস জনশূণ্য। প্রবেশ করতেই ব্রোকারেস হাউসে কর্মরত জুনিয়র অফিসার বললেন, ভাই বাজার খারাপ, তাই গত তিন মাসে দুইবার বেতন পেয়েছি। র্থমন্ত্রীর বক্তব্যের পর মনে হচ্ছে- নতুন চাকরি খঁজতে হবে।

নিচে নেমে দেখি সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে। এরপর ডিএসইর মূল ভবনে ঢুকি। ডিএসইর প্রেসিডেন্ট আমাদের (সংবাদকর্মীদের) কাছে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানালেন এভাবে- পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মন্তব্যের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আন্তরিকভাবে ব্যথিত হয়েছে। রকিবুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রী দেশের শেয়ারবাজার নিয়ে অধৈর্য্য হয়ে পড়েছেন। তাই তিনি এ ধরণে কথা বলছেন। পুঁজিবাজার নিয়ে অর্থমন্ত্রীর মন্তব্যে দেশের সকল বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টরা ব্যথিত হয়েছেন। পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও ব্যথিত হয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের যে কোন দেশের শেয়ারবাজার সে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের পুঁজিবাজারও অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। শেয়ারবাজার থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে। তিনি বলেন, দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজার থেকে টাকা তুলে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও অবকাঠামো উন্নয় কাজ করে থাকে।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী আপনি সংসদে ওই বক্তব্য নিয়ে যখন দেশ-বিদেশে সমালোচনা হচ্ছে। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার শেয়ারবাজারকে দুষ্টু বললেন।

দুষ্টু হলে নিয়ন্ত্রণ করুন। নয়তো পদত্যাগ করুন। মানুষকে কষ্ট দিবেন না মাননীয় অর্থমন্ত্রী। আপনার কাছে প্রশ্ন- শেয়ারবাজার নিয়ে আপনি বিরক্ত প্রকাশ কেন? আপনি বললেন, ‘বাজার ভালোভাবে চলছে না। আই অ্যাম একদম ফেড আপ।’ ব্যবস্থা নিন। ব্যবস্থা না নিয়ে এমন মন্তব্য করে বসে থাকবেন না মাননীয় অর্থমন্ত্রী।

ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত কমিটির সুপারিশে দুষ্টুদের শেয়ারবাজার থেকে বের করে নতুন এসইসি গঠন করলেন। তারাও যদি দুষ্টু হয়, তাদেরও বের করে দিন।বাজার নিয়ে আপনি হতাশ। বিনিয়োগকারীদের মতো হতাশ হলে চলবে না। আপনাকে সাহসী হতে হবে। তা না হলে দেশ চলবে না মাননীয় অর্থমন্ত্রী।

আপনি সংসদে বললেন, দেশের বাজার নিয়ে কথা না বললে দেশের কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু তার একদিন পরই আবার বললেন, ‘দেশের প্রকৃত বার্ষিক মোট বিনিয়োগের এক শতাংশ শেয়ারবাজার।’ যদি এক শতাংশও হয়। তাহলে সেটির দিকে নজর আপনাকে দিতেই হবে।

শুধু মন্তব্য নয়, ব্যবস্থা নিন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। ইব্রাহীম খালেদ স্যারের সুপারিশে এসইসির পুনর্গঠন হলেও ডিএসই হয়নি। ইব্রাহীম খালেদ বলেছিলেন, কোন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রকিবুর রহমান ও সালমান এফ রহমান থেকে দূরে থাকতে কিন্তু আমরা দেখলাম উল্টো।