ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

দুঃখভরাক্রান্ত মন নিয়ে লেখাটি লিখছি মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জানি না এ লেখাটি আপনার কাছে পৌঁছাবে কিনা জানিনা। তারপরও লিখছি। আপনি মনে করেন এসএসসি ও এইচএসসির ফলের উপর নির্ভর করে মেডিকেলে ভর্তি করা হবে। প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতিতে দুর্নীতি করা সম্ভব এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতেই এ উদ্যোগ। গতকাল ৭১ টেলিভিশনে আপনার লাইভ টকশো থেকে জানতে পারি। কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী আপনার হয়তো জানা নেই, এসএসসি ও এইসএসইসি দুটি পরীক্ষায় যে পরিমাণ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে তার তুলনায় মেডিকেলে আসন অনেক কম। তাহলে সব জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে না।

যারা ভর্তি হতে পারবে না তাদের কি হবে? একবার কী ভেবে দেখেছেন। এমনকী প্রচলিত পরীক্ষায় অনিয়ম হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম এমন মন্তব্য সবারই। তবে আশংকা প্রশ্নপত্র ফাঁসের। সেটি নিশ্চিত করতে পারলেই হলো। কিন্তু হঠাৎ আপনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামালেন। না নেমেই বা কী করবে?

মাননীয় মন্ত্রী অনেক শিক্ষার্থীই পরীক্ষার সময় ৮০ নম্বর নিশ্চিত করার পর আনসার করেননি। সেই শিক্ষার্থী যখন এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, তখন মেডিকেলে ভর্তির এ নিয়মের কথা তার জানা ছিল না। তাহলে এর দায় নেবে কে?

মাননীয় মন্ত্রী গত রাতের ওই টকশোতে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকের প্রশ্নের সঠিক জবাব দিতে পারেননি। আপনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল-বর্তমান চালু কোচিং সেন্টারগুলো নাম বদলিয়ে যদি এসইসি, এইচএসসির জন্য করা হয়, তাহলে কী আপনি ওই পরীক্ষা বাদ দেবেন? এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেলেন আপনি। আপনার প্রস্তাবিত নিয়মটি ভালো, তবে যারা এবছর ক্লাস নাইনে পড়ে তারা যখন মেডিকেলে ভর্তি হবে, তাদের থেকে কার্যকর হওয়া উচিৎ।

প্রচলিত নিয়মে যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা নেওয়া হয়, তারাও তো কোটিং করছে, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ পেয়েছে, কিন্তু তাদের কেন পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করা হবে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জবাব এড়িয়ে গেলে চলবে না….