ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

যে কিশোর কোনো দিন রাজপথে নামেনি, যে তরুণ কোনো দিন মিছিল করেননি, যে যুবক কোনো দিন স্লোগান দেননি তাঁরাই আজ মিছিল-স্লোগানের অগ্রভাগে রাজপথে। মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে, সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে তাঁরা বলছেন, ‘জয় বাংলা’। দাবি জানাচ্ছেন মানবতাবিরোধীদের ফাঁসির। স্বপ্ন দেখাচ্ছেন নতুন এক বাংলাদেশের যেখানে রাজাকার থাকবে না, সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না।

দেশের উন্নয়নে এক হয়ে কাজ করলে দেশ অবশ্যই প্রথম শ্রেনীতে উন্নীত হবে। কিন্তু এজন্য সরকার বা বিরোধী দলের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে যেতে হবে। তবে এেেত্র নিজস্ব রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। গত কয়েকদিন কয়েক রাত ধরেই শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে কর্মসূচি পালন করছে যুব-তরুনেরা। তবে তার ব্যাপ্তী ছাড়িয়ে গেছে। বিচারের দাবীতে বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা এমনকি প্রতিবন্ধরিাও অংশ নিয়েছে। অংশ নিয়েছে ছোট স্কুল শিার্থীরাও। তারা কোন রাজনীতি বোঝে না। কথা হয়, এমনই দশ বন্ধুর সঙ্গে। তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর শিার্থী। কোনদিন তারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেননি। কিন্তু কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবীতে শাহবাগে এসেছেন। তারা জানান, আমরা রাজনীতি বুঝি না। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। এ সময় সাঈদা আক্তারের বাবা জানান, আমার মেয়ে জীবনেও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেনি। কিন্তু সে নিজেই তার বন্ধুদের সঙ্গে শাহবাগে এসেছে। তিনি নিজেই অবাক তার মেয়ে শাহবাগের কর্মসূচিতে এসেছেন। এ বিষয়ে তার মেয়ের কাছে জানতে চান, তোমাকেতো কখনোই কোন রাজনৈতিক আলোচনা করতে দেখিনি। কিন্তু কেন তুমি শাহবাগের কর্মসূচি অংশ নিলে। তখন সে জানিয়েছে, ব্লগের মাধ্যমে সে জানতে পেরেছে, যুদ্ধাপরাীদের বিচারের দাবীতে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সেখান থেকেই শাহবাগে এসেছি।

বিদেশে অবস্থারত বন্ধুদেরও এ কর্মসূচির কথা জানিয়েছে সাঈদা আক্তার।

সাঈদা আক্তারের বাবা জানান, তার বাড়ির কাজের মেয়েও শাহবাগে কি হচ্ছে, তার খবর রাখছে, টেলিভশনে লাইভ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান সেভাবে ফুলে ওঠেনি। যুব সমাজ যেভাবে স্বতস্ফূর্ত অংশ নিয়েছে, তা থেকে আমাদের রাজনীতিবিদদের শিা নেওয়া উচিৎ।