ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

সাগর-রুনির হত্যাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক নেতারা নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। নতুন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-আগামী ২৬ জুন সংবাদ পত্রের সম্পাদক, টেলিভেশনের প্রধান ও প্রবীণ সংবাদিকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা ও এ নিয়ে আলোচনা করা হবে। ৫ জুন জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেটের কাছে স্মারকলিপি পেশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এছাড়া আগামী ২ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত পত্রিকা ও টেলিভিশন কার্যালয়ে সভা করা হবে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ডাকে সাংবাদিকদের ঘেরাও কর্মসূচি অনুষ্ঠানে বিএফইউজের একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী এ কর্মসূূচির ঘোষণা দেন।

কর্মসূচি পরিচালনা করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সেক্রেটারি সাজ্জাদ আলম খান তপু। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, ডিইউজের সভাপতি আবদুস শহীদ, বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জরুল আহসান বুলবুল, ডিআরইউর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এরআগে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সচিবালয় এলাকায় অবস্থান নিয়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনি গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন সাংবাদিকরা। সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দিকে এগোতে থাকলে প্রেসক্লাব, পল্টন পুলিশ বক্স ও সচিবালয় ফটকে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সচিবালয়ের সামনে সাংবাদিক নেতারা বক্তব্য দেন। এরপর মূল বক্তব্য শুরু হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের পূর্ব পাশ্বে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন,এই আন্দোলন আমাদের একার নয় সবার আন্দোলন। নিরাপত্তার সঙ্গে সাংবাদিকতা করার নিশ্চয়তা চাই। সাগর-রুনির হত্যার বিচার চাই। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দুভাবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। কলম এবং মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

রম্নহুল আমীন গাজী বলেন, সাগর-রুনির হত্যা বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এছাড়া যেসব সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তাদেরও বিচার দাবী করেন তিনি।

রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জনগণের ধারণা সরকার সাগর-রুনির হত্যার বিষয় ধামাচাপা দিচ্ছে। স্বাভাবিক নিরাপদ জীবনের গ্যারান্টি চান তিনি। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে সম্পাদকেরা সবসময় পামে থাকবে।

কামাল উদ্দিন সবুজ বলেন, আজকের কর্মসূচি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্তা গ্রহণ করুন। স্বাভাবিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জ্যন আন্দোলন করছি। আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

মাহমুদুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়। পুলিশের আচরেণর সমালোচনা করেন তিনি। সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশব্যাপী সাংবাদিক নির্যাতিত হচ্ছে। এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে। তা না হলে বিপদজনক পরিনতি হবে।

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, রাজপথে সংবাদকর্মীদের নামার কথা নয়। হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সাগর-রুনিকে ফিরে পাবো না কিন্তু তাদের বিচার পেতে হবে। তিনি উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠনের কথাও বলেন।

ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, সরকার ঘোষিত নিখিল ভদ্রের ৫ লাখ টাকা দ্রুত দেওয়া হোক। সাগর-রুনির হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করলে আসল ঘটনা বের হয়ে আসবে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।