ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

কষ্টের টাকা কিভাবে খাটালে ভালো মুনাফা পাওয়া যায় সে বিষয়ে সবাই চিন্তা-ভাবনা করেন। অনেকে নিজের বুদ্ধির পাশাপাশি অন্যের উপর নির্ভর করেন। অনেকে আবারও নির্ভর করেন মিডিয়ার উপর। এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিভাবে সাধারণ মানুষ লাভবান হবেন, সে বিষয়ে কিছু সাধারণ জ্ঞান থাকা দরকার। সাধারণ জ্ঞান থাকলে বিনিয়োগকারীরা লোকসানের পরিবর্তে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করবো-

টাকা ঘরে রাখলে টাকা টাকাই থেকে যাবে। অর্থাৎ ১০০ টাকা ঘরে রাখলে ১০০ টাকাই থেকে যাবে। কিন্তু বছর শেষে মূল্যস্ফীতির কারণে ১০০ টাকার দাম কমে ৯০ টাকা হয়ে যায়। এজন্য টাকার মান কমলেও নিজের টাকাও যাতে বাড়ে সে জন্য আপনাকে বুদ্ধি খাটাতে হবে।

এক্ষেত্রে সঞ্চয় পত্রে বিনিয়োগ করলে বছর শেষে আপনি ১০০ টাকার বিপরীতে ১১০ টাকা পেতে পারেন। তাহলে অন্তত আপনার টাকা কমল না। তাহলে আপনি সমান সমানে থাকলেন। এরচেয়ে একটু বেশি মুনাফা করতে চাইলে আপনি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি সঞ্চয়পত্রে চেয়ে বেশি মুনাফা পাবেন।

এরচেয়ে বেশি মুনাফা করতে চাইলে পুঁজিবাজারে খাটাতে পারেন। তবে পুঁজিবাজারে বেশি ঝুঁকি বেশি রিটার্ন। তবে এখানে যেমন বেশি মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি বেশি লোকসানেরও সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আপনি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। কেননা, মিউচুয়াল ফান্ডগুলো প্রফেশনাল ম্যানেজাররা এটি ম্যানেজ করেন। এখানে বিনিয়োগ করলে একটু বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে কিভাবে বিনিয়োগ করবেন। প্রথমত একটি ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। ব্যাংক হিসাব খুলতে আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ২ কপি ফটো, নমিনির ফটো হলেই আপনার ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে। এরপর আইনি একটি ব্রোকারেজ হাউসে গিয়ে একটি বিও হিসাব খুলবেন। এরপর মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যায়।

এরচেয়ে বেশি মুনাফা করতে চাইলে শেয়ারবাজারে প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগ করা। এক্ষেত্রে লোকসান নেই বললেই চলে। কেননা প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগ করলে শেয়ার না পেলে ব্যাংক হিসাবে আপনার টাকা চলে যাবে। আর শেয়ার পেলে কয়েকগুণ পর্যন্ত মুনাফা করা সম্ভব। এরচেয়ে বেশি মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ। তবে আবারও আসি আগের কথায়, বেশি ঝুঁকি বেশি মুনাফ।
এক্ষেত্রে শেয়ার কেনার পর দাম বাড়লে শেয়ার বিক্রি করে দেবেন। তা না হলে বছর শেষে লভ্যাংশ থেকে আপনি মুনাফা করতে পারবেন। তবে সেটি হবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে। তবে কখনও কখনও পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করে। তখন আপনাকে সজাগ থাকতে হবে। যেমন বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ১৯৯৬ সালে এবং ২০১০-১১ সালে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এ সময়ও চোখ-কান খোলা থাকলে লোকসানের হাত থেকে বাঁচা যায়।

এছাড়াও স্বর্ণে বিনিয়োগেও ভালো লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আপনাকে আপডেটেড থাকতে হবে। না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।