ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। দেশের প্রধান বিরোধী বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জেলে রয়েছেন। এ পরিস্থিতি সামনে রেখে আগামী ৭ জুন ২০১২-১৩ অর্থবছরের নতুন বাজেট দেবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াও অর্থনীতির শ্লথ গতি, নির্বাচনী চাপ, আইএমএফের কঠিন শর্ত রয়েছে। অথচ রাজস্ব আদায় বাড়ানো ছাড়া অর্থমন্ত্রীর হাতে ভালো তেমন কিছু আর নেই। এ কারণে নানামুখী চাপের মধ্যেই নতুন বাজেট তৈরি করছেন তিনি। এরমধ্যে যদি বিরোধী দল বাজেট অধিবেশনে যোগ না দেন তাহলে অনেক বিষয় সমালোচনাই হবে না। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি একটি সুন্দর বাজেট উপহার দেওয়ার লক্ষে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারি দলের একটি সুন্দর সমঝোতা দরকার। এক্ষেত্রে বিরোধী দলকে সংসদে আনতে সরকারি দলকেই উদ্যোগ নিতে হবে ।

কেননা শুধু সরকার দলের উপস্থিতিতে বাজেট পেশ হলে অনেক ক্ষেত্রে অসামাঞ্জ্যতা দেখা দেবে। যদি বিরোধী দল সংসদে বাজেট অধিবেশনে যোগদান করে তাহলে অনেক বিষয়ই উঠে আসবে। এতে দেশ এবং দেশের জনগণের উপকার হবে। এজন্য আমরা বিরোধী দলের প্রতি অনুরোধ করব তারা যেনো দেশ এবং দেশের জনগণের কথা বিবেচনা করে সংদের বাজেট অধিবেশনে যোগদান করেন।

অপরদিকে বিরোধী দলকে সংসদে উপস্থিত করার জন্য সরকারি দলের সার্বিক সহযোগিতা করা দরকার। এক্ষেত্রে বিরোধী দলের চেয়ে সরকারি দলেরই বেশি নমনীয় হওয়া উচিৎ। তাদের দলের স্বার্থেই। সরকারি দল এটিই শেষবারের মতো পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবেন।

সরকারি দলের খেয়াল রাখতে হবে, এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ভাবনার বাজেট। যদিও অর্থমন্ত্রীকে থাকতে হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নীতি-কাঠামোর আওতায়। তাই নিতে হবে অনেক অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত। তাই এক্ষেত্রে বিরোধী দলকে বাজেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।

দেশের জনগণ রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখতে চায় না। তারা দেশের সার্বিক উন্নয়ন দেখতে চায়। একইসঙ্গে তারা দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরাজমান দূরত্ব সংলাপের মাধ্যমে সমাধান দেখতে চান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকা না-থাকা নিয়ে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সরকারি দলের ভাষ্য হচ্ছে, সংসদের বাইরে আলোচনা করা যাবে না। আর বিরোধী দল বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানলেই সরকারের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। দুই পক্ষকেই এই অনড় অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। বিরোধী দলের কথা অনুযায়ী সরকার যদি তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনেই নেয়, তাহলে আলোচনার কী প্রয়োজন?

আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদের বাইরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কোনো আলোচনা হতে পারবে না, তা-ও যুক্তিসংগত নয়। এক্ষেত্রে সংলাপ সংসদে বা সংসদের বাইরেও হতে পারে। দেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থেই তা করা উচিৎ। কেননা আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষই তাদের যুক্তি তুলে ধরতে পারে। আলোচনার বিকল্প হলো সংঘাত। আমরা অতীতের রাজনৈতিক তিক্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, উভয় পক্ষ অনড় অবস্থানে থাকায় সে সময়ে সংলাপ সফল হয়নি, রাজপথে ফয়সালা হয়েছে। এতে চূড়ান্ত বিচারে কেউ লাভবান হয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দেশ ও জনগণ।

এবারও সেই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশবাসী চায় না বলেই সরকার ও বিরোধী দলকে আলোচনায় বসতে হবে। এবং সংসদের আগামী বাজেট অধিবেশনে তার সূচনা হতে পারে। আর সংলাপের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদেরই যে এগিয়ে আসতে হবে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। সংসদ অধিবেশনের আগে বিরোধী দলের নেতাদের নামে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ায় আলোচনার পরিবেশ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্থ করবে সন্দেহ নেই।

দমন-পীড়ন বা জ্বালাও-পোড়াও নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।