ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। তা না হলে লোকসান গুণতে হবে। শেয়ারবাজার এর বাইরে নয়। একটি প্রবাদ আছে, কেনার সময় বেশি দামে কিনলে, বেচার সময় লাভ করা যায় না। এজন্য শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার সময় কোম্পানির অবস্থান, পিই রেশিও, দেখে বিনিয়োগ করতে হবে। না হলে লোকসান গুনতে হবে।

এজন্য যে কোম্পানির প্রবৃদ্ধি ভালো সে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে মুনাফা পাওয়া যাবে। আরেকটি কথা মনে রাখতে হবে- ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম খুব বেশি কমে না বা বাড়েনা। তবে বছর শেষে ভালো কোম্পানি ভালো লভ্যাংশ দেন বিনিয়োগকারীদের। আর খারাপ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে অল্প সময়ে ভালো লাভ হতে পারে আবার বেশি লোকসান হতে পারে। তবে খারাপ কোম্পানি বছর শেষে ভালো লভ্যাংশ দেয় না। এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বেশিরভাগ সময়ই বলে থাকেন, ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগে লোকসানের আশংকা কম থাকে।
উদ্যেক্তা পরিচালকের শেয়ার কেনার বিষয়ই অবশ্যই ইতিবাচক। তবে ভালো বাজারেও অনেক বিনিয়োগকারী লোকসান দিয়ে থাকে নিজের অসতর্কতার কারণে। আবার সচেতনতার কারণে অনেকে খারাপ সময়েও মুনাফা করে থাকেন।

কোর্টের রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার সময় ডিএসইর প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমানও বললেন, আজকে রায় ইতিহাসের বড় বিজয়। তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে বলে মনে করেন ডিএসই প্রেসিডেন্ট। এতে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। তবে বিনিয়োগকারীদের ভালো কোম্পানি, যে সব কোম্পানির মৌল ভিত্তি ভালো, যেসব কোম্পানির পরিচালকেরা ভালো, যে সব কোম্পানির ইপিএস বেশি, পিই রেশিও কম সে সব কোম্পানিতে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা, পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে গত ২২ নভেম্বর ওই আদেশ জারি করে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এতে বলা হয়, কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ওই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ এবং প্রত্যেক পরিচালকের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে।

পুঁজিবাজারে সূচকের উল্লম্ফন

উদ্যোক্তা পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে এসইসির প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে রিট আবেদন খারিজ করে দেওয়ার খবরে পুঁজিবাজারে সূচকের উল্ফণ দেখা গেছে। সূচকের ঊর্ধ্বগতির মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১২টা বিশ মিনিট পর্যন্ত মাত্র ৫ মিনিটে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ১০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। পরবর্তীতে বড় ধরণের বিক্রি আদেশে সূচকের নিম্নগতি দেখা দেয়।

তবে দিনশেষে ৫০ পয়েন্ট বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৫৯ কোম্পানির মধ্যে ১৭৮টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৬৫টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬ কোম্পানির শেয়ারের দাম। আজ মোট ৪৭৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১৯৯ কোটি টাকা বেশি। জ্বালানি খাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১ দশমিক ৩০ শতাংশ, ব্যাংকের শেয়ারের দাম দশমিক ৮৮ শতাংশ, ওষুধ খাতের দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম বেড়েছে দশমিক ৪৩ শতাংশ।