ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

 

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ গতকাল মঙ্গলবার রাতে ল্যাবএইড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। এমন অর্থনীতিবিদের মৃত্যুতে দেশ একজন গর্বিত সন্তানকে হারালো। আর আমরা সংবাদকর্মীরা হারালাম একজন সচেতন অভিভাবকে। বিশেষ করে আমরা যারা অর্থনীতি বীটে কাজ করি তাদের খুব কাছের একজন লোককে হারালাম। অনেক সময় একজন অর্থনীতিবিদের কমেন্ট এর জন্য নিউজ আটকে যেতো, কিন্তু যখনই স্যারের কমেন্ট দরকার হতো তিনি নির্দ্বিধায় কমেন্ট করতেন। ফলে আমরা এমন একজন অর্থনীতিবিদকে হারালাম, যার অভাব অপূরণীয়। দোয়া করি তার আত্মা প্রশান্তি পাক।
তিনি একজন সমাজ সচেতন ব্যক্তি, অর্থনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, শিক্ষক ও গবেষক ছিলেন। একইসঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। এছাড়াও তিনি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। এজন্য তিনি ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে গেছেন এ মহান শিক্ষক। এজন্য তিনি দীর্ঘদিন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন।

এ মহান অর্থনীতিবিদ ১৯৩৬ সালের ২৭ মার্চ জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৫ সালে তিনি অনার্স এবং ১৯৫৬ সালে মাস্টার্স করেন। পিএইচডি সম্পন্ন করেন ১৯৬৫ সালে, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী বব লুকাস তার সহপাঠী ছিলেন। আটজন শিক্ষক পেয়েছিলেন, যাঁরা ছিলেন নোবেল বিজয়ী।

তখনো মাস্টার্সের রেজাল্ট হওয়ার আগে হরগঙ্গা কলেজে স্বল্প সময়ের জন্য অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর পিএইচডি করতে যাওয়ার আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগদান করেছিলেন। পিএইচডি শেষ করে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যোগদান করলেও কিছুদিন পর পদত্যাগ করেন। এরপর কিছুদিন করাচিতে ইউনাইটেড ব্যাংকে কাজ করে ঢাকায় ফিরে আসেন। যোগ দেন ইপিআইডিসিতে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে পরিকল্পনা কমিশনে যোগ দেন। ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে পরিকল্পনা কমিশন ছেড়ে দেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ) যোগদান করেন অধ্যাপক হিসেবে। দীর্ঘ ৩০ বছর এখানে অধ্যাপনা করে ২০০৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অধ্যাপক মোজাফফর ২০০৮ সালে একুশে পদক পান। দেশ-বিদেশে তার একাধিক বই ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া কাজ করেছেন ইউনেসকোসহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে।